স্পেনের টোলেডো প্রদেশের উরদা শহরের কাছে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। সংঘর্ষে ১০৭ জনেরও বেশি যাত্রী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। উদ্ধারকর্মীরা দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনের লাইনচ্যুত বগিগুলোতে এখনো তল্লাশি চালাচ্ছেন। কাস্তিয়া-লা মাঞ্চা অঞ্চলের প্রধান এমিলিয়ানো গার্সিয়া-পেজ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, বগির নিচ পর্যন্ত উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে না পারায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে জানিয়েছেন, বুধবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে সিগন্যাল ব্যবস্থায় যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়, যার ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেশ কয়েকটি ট্রেন থেমে যায়। এরপর মাদ্রিদের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে রেনফে কোম্পানির একটি ট্রেনকে স্বাভাবিক গতিতে চলার ভুল নির্দেশনা দেয়া হয়, যদিও সেখানে থামার সংকেত ছিল। এই নির্দেশ পাওয়ার পর রেনফের ট্রেনটি প্রায় ২৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ইরিও কোম্পানির অন্য একটি ট্রেনের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। পরিবহনমন্ত্রী বিষয়টিকে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের অকল্পনীয় ভুল বলে অভিহিত করেছেন।
দুর্ঘটনার সময় দুটি ট্রেনে মোট ৫৪৪ জন যাত্রী ছিলেন। ঘটনার শুরুতেই একজন কর্মীর ভুলে এটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হলেও, সাম্প্রতিক তথ্যে কমান্ড সেন্টারের গাফিলতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। চলতি বছর স্পেনে এটি দ্বিতীয় বড় ট্রেন দুর্ঘটনা। এর আগে গত জানুয়ারিতে একই রুটে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে ৪৬ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। পর পর দুটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর দেশজুড়ে রেল নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
সামনে সাধারণ নির্বাচন থাকায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপও বাড়ছে। বিরোধী দলের নেতা আলবার্তো নুনেজ ফেইজো স্পেনের পুরো রেল নেটওয়ার্ক ব্যবস্থার স্বাধীন পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন। এই মর্মান্তিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন তাদের নির্ধারিত সব ফুটবল ম্যাচ স্থগিত করেছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 























