ঢাকা ০৬:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারও করবে পুলিশ: আইজিপি ব্যবসায়ীকে আটকে চাঁদা দাবি: ডিজিএফআই সদস্যসহ কারাগারে ৬

জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে জাপানি ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। টোকিওতে জেট্রো হলে আয়োজিত বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরাম সংলাপে মূল বক্তব্যে তিনি এই প্রস্তাব তুলে ধরেন। পারস্পরিক সুবিধাজনক ব্যবসায়িক সম্পর্কের মাধ্যমে আগামী কয়েক দশকের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও দৃঢ় করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৮ কোটিরও বেশি মানুষের বাজার, ২৭ বছরের মধ্যম বয়সের উদ্যমী তরুণ শ্রমশক্তি এবং ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণি বাংলাদেশের বড় সম্পদ। এতে জাপানি কোম্পানি, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিনিয়োগকারীদের সম্পৃক্ততায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস ও ইলেকট্রনিকস উৎপাদনকেন্দ্রিক একটি উদ্ভাবনমুখী তথ্যপ্রযুক্তি পার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। জাপানি কোম্পানিগুলো দেশে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধান করতে পারে। সুমিতোমো করপোরেশন জাপানি মানদণ্ড অনুসরণ করে এ অর্থনৈতিক অঞ্চলটি গড়ে তুলছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তিতে তিনি আগামী ৩০ থেকে ৫০ বছরের সমন্বিত অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে আগ্রহী। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আসুন, দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী অংশীদারত্বে রূপান্তর করি।

১৯৭২ সালে জাপান যে প্রথম দেশগুলোর একটি হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল, তা তিনি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়কালে গড়ে ওঠা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের কথা তিনি গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন।

বিনিয়োগের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত পাঁচটি খাত

  • মোটরযান উৎপাদন
  • জ্বালানি অবকাঠামো ও প্রযুক্তি
  • মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তি
  • রেলপথ ও সরবরাহ ব্যবস্থা
  • কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদন শিল্প

জাপানি কোম্পানিগুলোর জন্য বিনিয়োগের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে প্রায় ৩৫০টি জাপানি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে সফলভাবে কাজ করছে।

তবে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগের পরিমাণ এখনো ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের নিচে রয়েছে।

সর্বশেষ অর্থবছরে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জাপানে বাংলাদেশ ১৩৬ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, বিপরীতে জাপান থেকে আমদানি হয়েছে ২১৬ কোটি ডলারের পণ্য।

এই বাণিজ্য ব্যবধান কমিয়ে বিনিয়োগের মাধ্যমে সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি। উন্নয়ন সহযোগিতার গণ্ডি পেরিয়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, দু’দেশের সম্পর্ককে আরও উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে। তিনি এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে টয়োটাকে সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, এ বছরই দুই দেশের মধ্যে প্রথম কোনো দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর আওতায় বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানি বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুযোগ পাবে, যা রপ্তানি বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে। অন্যদিকে, ইস্পাত, মোটরযানের যন্ত্রাংশ ও ইলেকট্রনিক উপাদানসহ জাপানি পণ্য বাংলাদেশে অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা পাবে।

বিনিয়োগের গুরুত্ব সম্পর্কে তিনি জানান, টয়োটা মোটরস চলতি মাসে বাংলাদেশে একটি উৎপাদন কারখানা স্থাপনের প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে, যা ২০২৯ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে। জ্বালানি খাতে জেরা (JERA)-এর সঙ্গে বাংলাদেশের চলমান সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে তিনি এলএনজি অবকাঠামো ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে নতুন বিনিয়োগের আহ্বান জানান। এছাড়াও, প্রযুক্তি পার্ক ও মহাকাশ গবেষণায় যৌথ সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। ২০২৯ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন শুরুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সামগ্রিক জ্বালানি খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে।

রেলখাত আধুনিকায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের প্রধান শহরগুলোর মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনে একটি সমন্বিত রেল মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নে জাপানকে অংশীদার হিসেবে চায় সরকার। দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে জাপানি ভাষায় শিক্ষিত করার ওপর বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ ১০টি ভোক্তা অর্থনীতির একটি হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ উদ্যোগের জন্য জাতীয় রেল নেটওয়ার্কের মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন, যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের চাহিদা বিশ্লেষণ, রুটের অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর কারিগরি ও বিনিয়োগ স। এ ক্ষেত্রে মহাকাশবিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও স্যাটেলাইট প্রকৌশলে জাপানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতার সুযোগ অনুসন্ধানে বাংলাদেশ আগ্রহী।

বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্বেগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়তা দিয়ে বলেন, ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় আস্থা ও নির্ভরযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে তার সরকার কাজ করছে। জ্বালানি সরবরাহ এবং করব্যবস্থার সংস্কারে নেয়া উদ্যোগগুলো বিনিয়োগ সহজতর করবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি পুরোপুরি বুঝতে পারি, ব্যবসা পরিচালনার জন্য নিশ্চয়তা প্রয়োজন।

ফোরামে অংশগ্রহণকারী গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ

  • জেট্রোর প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকা: উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন।
  • শিনজি ওয়াকায়ামা: জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পবিষয়ক সংসদীয় উপমন্ত্রী হিসেবে বক্তব্য দেন।
  • আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী: অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশের বিনিয়োগবান্ধব অর্থনীতির চিত্র তুলে ধরেন।
  • রেহান আসিফ আসাদ: প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞান বিষয়ক উপদেষ্টা প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাময় খাত নিয়ে আলোচনা করেন।
  • চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন: ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে বিনিয়োগ সংস্কারের বিষয়টি উপস্থাপন করেন।

অনুষ্ঠানে দুই দেশের ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে নতুন বিনিয়োগ ও সহযোগিতামূলক প্রকল্পের বিষয়ে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বিনিময় হয়েছে। আড়াইহাজারে অবস্থিত জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও মজবুত হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

আপলোডকারীর তথ্য

জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৫:০৩:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে জাপানি ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। টোকিওতে জেট্রো হলে আয়োজিত বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরাম সংলাপে মূল বক্তব্যে তিনি এই প্রস্তাব তুলে ধরেন। পারস্পরিক সুবিধাজনক ব্যবসায়িক সম্পর্কের মাধ্যমে আগামী কয়েক দশকের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও দৃঢ় করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৮ কোটিরও বেশি মানুষের বাজার, ২৭ বছরের মধ্যম বয়সের উদ্যমী তরুণ শ্রমশক্তি এবং ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণি বাংলাদেশের বড় সম্পদ। এতে জাপানি কোম্পানি, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিনিয়োগকারীদের সম্পৃক্ততায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস ও ইলেকট্রনিকস উৎপাদনকেন্দ্রিক একটি উদ্ভাবনমুখী তথ্যপ্রযুক্তি পার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। জাপানি কোম্পানিগুলো দেশে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধান করতে পারে। সুমিতোমো করপোরেশন জাপানি মানদণ্ড অনুসরণ করে এ অর্থনৈতিক অঞ্চলটি গড়ে তুলছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তিতে তিনি আগামী ৩০ থেকে ৫০ বছরের সমন্বিত অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে আগ্রহী। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আসুন, দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী অংশীদারত্বে রূপান্তর করি।

১৯৭২ সালে জাপান যে প্রথম দেশগুলোর একটি হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল, তা তিনি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়কালে গড়ে ওঠা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের কথা তিনি গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন।

বিনিয়োগের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত পাঁচটি খাত

  • মোটরযান উৎপাদন
  • জ্বালানি অবকাঠামো ও প্রযুক্তি
  • মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তি
  • রেলপথ ও সরবরাহ ব্যবস্থা
  • কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদন শিল্প

জাপানি কোম্পানিগুলোর জন্য বিনিয়োগের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে প্রায় ৩৫০টি জাপানি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে সফলভাবে কাজ করছে।

তবে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগের পরিমাণ এখনো ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের নিচে রয়েছে।

সর্বশেষ অর্থবছরে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জাপানে বাংলাদেশ ১৩৬ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, বিপরীতে জাপান থেকে আমদানি হয়েছে ২১৬ কোটি ডলারের পণ্য।

এই বাণিজ্য ব্যবধান কমিয়ে বিনিয়োগের মাধ্যমে সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি। উন্নয়ন সহযোগিতার গণ্ডি পেরিয়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, দু’দেশের সম্পর্ককে আরও উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে। তিনি এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে টয়োটাকে সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, এ বছরই দুই দেশের মধ্যে প্রথম কোনো দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর আওতায় বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানি বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুযোগ পাবে, যা রপ্তানি বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে। অন্যদিকে, ইস্পাত, মোটরযানের যন্ত্রাংশ ও ইলেকট্রনিক উপাদানসহ জাপানি পণ্য বাংলাদেশে অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা পাবে।

বিনিয়োগের গুরুত্ব সম্পর্কে তিনি জানান, টয়োটা মোটরস চলতি মাসে বাংলাদেশে একটি উৎপাদন কারখানা স্থাপনের প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে, যা ২০২৯ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে। জ্বালানি খাতে জেরা (JERA)-এর সঙ্গে বাংলাদেশের চলমান সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে তিনি এলএনজি অবকাঠামো ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে নতুন বিনিয়োগের আহ্বান জানান। এছাড়াও, প্রযুক্তি পার্ক ও মহাকাশ গবেষণায় যৌথ সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। ২০২৯ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন শুরুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সামগ্রিক জ্বালানি খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে।

রেলখাত আধুনিকায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের প্রধান শহরগুলোর মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনে একটি সমন্বিত রেল মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নে জাপানকে অংশীদার হিসেবে চায় সরকার। দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে জাপানি ভাষায় শিক্ষিত করার ওপর বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ ১০টি ভোক্তা অর্থনীতির একটি হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ উদ্যোগের জন্য জাতীয় রেল নেটওয়ার্কের মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন, যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের চাহিদা বিশ্লেষণ, রুটের অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর কারিগরি ও বিনিয়োগ স। এ ক্ষেত্রে মহাকাশবিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও স্যাটেলাইট প্রকৌশলে জাপানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতার সুযোগ অনুসন্ধানে বাংলাদেশ আগ্রহী।

বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্বেগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়তা দিয়ে বলেন, ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় আস্থা ও নির্ভরযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে তার সরকার কাজ করছে। জ্বালানি সরবরাহ এবং করব্যবস্থার সংস্কারে নেয়া উদ্যোগগুলো বিনিয়োগ সহজতর করবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি পুরোপুরি বুঝতে পারি, ব্যবসা পরিচালনার জন্য নিশ্চয়তা প্রয়োজন।

ফোরামে অংশগ্রহণকারী গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ

  • জেট্রোর প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকা: উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন।
  • শিনজি ওয়াকায়ামা: জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পবিষয়ক সংসদীয় উপমন্ত্রী হিসেবে বক্তব্য দেন।
  • আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী: অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশের বিনিয়োগবান্ধব অর্থনীতির চিত্র তুলে ধরেন।
  • রেহান আসিফ আসাদ: প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞান বিষয়ক উপদেষ্টা প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাময় খাত নিয়ে আলোচনা করেন।
  • চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন: ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে বিনিয়োগ সংস্কারের বিষয়টি উপস্থাপন করেন।

অনুষ্ঠানে দুই দেশের ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে নতুন বিনিয়োগ ও সহযোগিতামূলক প্রকল্পের বিষয়ে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বিনিময় হয়েছে। আড়াইহাজারে অবস্থিত জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও মজবুত হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।