ঢাকা ০২:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

পশ্চিমবঙ্গে নতুন ৪টি বিমানবন্দরে ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ

আগামী দুই বছরের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের চারটি বিমানবন্দর থেকে যাত্রীবাহী ফ্লাইট চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া কলকাতা থেকে সরাসরি ইউরোপে ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।

পশ্চিমবঙ্গে বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত করতে আগামী দুই বছরের মধ্যে রাজ্যের চারটি বিমানবন্দর থেকে যাত্রীবাহী ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সোমবার কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং রাজ্য পরিবহন দপ্তরের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। কলকাতার নবান্নে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমানমন্ত্রী কিনজারাপ্পু রামমোহন নায়ডু উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রীর মতে, গত কয়েক বছরে রাজ্যে নতুন বিমানবন্দরের সংখ্যা আশানুরূপ না বাড়লেও বর্তমান সরকারের অধীনে কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। এর ফলে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের বিমান যোগাযোগ আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে।

নতুন এই প্রকল্পের অধীনে পুরুলিয়ার ছড়রা, বালুরঘাট এবং ভারতীয় বিমানবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন পশ্চিম মেদিনীপুরের কলাইকুন্ডা ও আলিপুরদুয়ারের হাসিমারা বিমানঘাঁটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বর্তমানে হাসিমারা ও কলাইকুন্ডায় নিয়মিতভাবে বিমানবাহিনীর উড়োজাহাজ চলাচল করে এবং এগুলোর রানওয়েতে বোয়িং বা এয়ারবাসের মতো বড় বিমান ওঠানামার সক্ষমতা রয়েছে। বেসামরিক ফ্লাইট পরিচালনার সুবিধার্থে রাজ্য সরকার ইতোমধ্যে হাসিমারায় ২৫ একর এবং কলাইকুন্ডায় ৩৭ একর জমি হস্তান্তর করেছে। সেখানে টার্মিনাল ভবনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করা হবে। এদিকে বালুরঘাট বিমানবন্দরের বিদ্যমান ছোট রানওয়ে সম্প্রসারণ এবং পুরুলিয়ার ছড়রায় নতুন বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এই প্রকল্পের মধ্যে। রাজ্য সরকারও বিমানবন্দরগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নে জমি হস্তান্তরসহ বিভিন্ন সহযোগিতা করছে।

প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়নে পশ্চিমবঙ্গকে ‘উড়ান ২.০’ প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। এই কর্মসূচির ফলে বালুরঘাট ও হাসিমারাসহ অন্যান্য ছোট বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইট পরিচালনা করলে কেন্দ্রীয় সরকার সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় ভর্তুকি প্রদান করবে, যা নতুন রুটে উড়ান পরিচালনায় বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে আগ্রহী করে তুলবে। এর পাশাপাশি কলকাতার ক্রমবর্ধমান যাত্রীচাপ সামলাতে শহরের অদূরে একটি দ্বিতীয় বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। ইতিমধ্যে কল্যাণীতে দ্বিতীয় বিমানবন্দরের জন্য জমি চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেখানে মাটি পরীক্ষা ও প্রাথমিক কারিগরি কাজ চলছে। এ ছাড়া ‘উড়ান ২.০’ প্রকল্পেও পশ্চিমবঙ্গকে যুক্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী কলকাতা থেকে লন্ডনসহ ইউরোপের বিভিন্ন শহরে সরাসরি ফ্লাইট চালুর জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে বিশেষ আবেদন জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, অতীতে সরাসরি ফ্লাইট চালু থাকলেও যাত্রীস্বল্পতার কারণে তা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর এই দাবির প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় বিমানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন যে, ইউরোপের প্রধান শহরগুলোতে সরাসরি উড়ান যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করবেন। একসময় কলকাতা থেকে লন্ডনে সরাসরি ফ্লাইট চললেও পর্যাপ্ত যাত্রী না থাকায় কয়েক বছর আগে তা বন্ধ হয়ে যায়।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পশ্চিমবঙ্গে নতুন ৪টি বিমানবন্দরে ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ

আপডেট সময় ০১:৩৩:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত করতে আগামী দুই বছরের মধ্যে রাজ্যের চারটি বিমানবন্দর থেকে যাত্রীবাহী ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সোমবার কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং রাজ্য পরিবহন দপ্তরের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। কলকাতার নবান্নে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমানমন্ত্রী কিনজারাপ্পু রামমোহন নায়ডু উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রীর মতে, গত কয়েক বছরে রাজ্যে নতুন বিমানবন্দরের সংখ্যা আশানুরূপ না বাড়লেও বর্তমান সরকারের অধীনে কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। এর ফলে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের বিমান যোগাযোগ আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে।

নতুন এই প্রকল্পের অধীনে পুরুলিয়ার ছড়রা, বালুরঘাট এবং ভারতীয় বিমানবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন পশ্চিম মেদিনীপুরের কলাইকুন্ডা ও আলিপুরদুয়ারের হাসিমারা বিমানঘাঁটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বর্তমানে হাসিমারা ও কলাইকুন্ডায় নিয়মিতভাবে বিমানবাহিনীর উড়োজাহাজ চলাচল করে এবং এগুলোর রানওয়েতে বোয়িং বা এয়ারবাসের মতো বড় বিমান ওঠানামার সক্ষমতা রয়েছে। বেসামরিক ফ্লাইট পরিচালনার সুবিধার্থে রাজ্য সরকার ইতোমধ্যে হাসিমারায় ২৫ একর এবং কলাইকুন্ডায় ৩৭ একর জমি হস্তান্তর করেছে। সেখানে টার্মিনাল ভবনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করা হবে। এদিকে বালুরঘাট বিমানবন্দরের বিদ্যমান ছোট রানওয়ে সম্প্রসারণ এবং পুরুলিয়ার ছড়রায় নতুন বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এই প্রকল্পের মধ্যে। রাজ্য সরকারও বিমানবন্দরগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নে জমি হস্তান্তরসহ বিভিন্ন সহযোগিতা করছে।

প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়নে পশ্চিমবঙ্গকে ‘উড়ান ২.০’ প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। এই কর্মসূচির ফলে বালুরঘাট ও হাসিমারাসহ অন্যান্য ছোট বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইট পরিচালনা করলে কেন্দ্রীয় সরকার সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় ভর্তুকি প্রদান করবে, যা নতুন রুটে উড়ান পরিচালনায় বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে আগ্রহী করে তুলবে। এর পাশাপাশি কলকাতার ক্রমবর্ধমান যাত্রীচাপ সামলাতে শহরের অদূরে একটি দ্বিতীয় বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। ইতিমধ্যে কল্যাণীতে দ্বিতীয় বিমানবন্দরের জন্য জমি চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেখানে মাটি পরীক্ষা ও প্রাথমিক কারিগরি কাজ চলছে। এ ছাড়া ‘উড়ান ২.০’ প্রকল্পেও পশ্চিমবঙ্গকে যুক্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী কলকাতা থেকে লন্ডনসহ ইউরোপের বিভিন্ন শহরে সরাসরি ফ্লাইট চালুর জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে বিশেষ আবেদন জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, অতীতে সরাসরি ফ্লাইট চালু থাকলেও যাত্রীস্বল্পতার কারণে তা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর এই দাবির প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় বিমানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন যে, ইউরোপের প্রধান শহরগুলোতে সরাসরি উড়ান যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করবেন। একসময় কলকাতা থেকে লন্ডনে সরাসরি ফ্লাইট চললেও পর্যাপ্ত যাত্রী না থাকায় কয়েক বছর আগে তা বন্ধ হয়ে যায়।