রংপুরে কৃষক মোকছেদুল ইসলাম বাচ্চু মিয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সব আসামিকে গ্রেপ্তার, মামলার পুনঃতদন্ত এবং জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও সড়ক অবরোধ করেছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে পীরগাছা উপজেলার কল্যাণী ইউনিয়নের নব্দীগঞ্জ বাজারে ব্যানার-ফেস্টুন হাতে নিয়ে এ প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভকারীরা বাজারে মিছিল নিয়ে ঘুরে বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন।
বিক্ষোভের একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করলে সড়কের দুই প্রান্তে বহু যানবাহন আটকে পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রংপুর নগরীর কলাপাড়ার বাসিন্দা ৬৫ বছর বয়সী মোকছেদুল ইসলাম বাচ্চু মিয়ার সাথে তার ভাইদের পৈতৃক জমি ভাগাভাগি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গত ২০ অক্টোবর তিনি কুড়িগ্রামের উলিপুরে গ্রামের বাড়িতে যান এবং সেখানে বড় ভাই একাব্বর আলীর অনুরোধে তার ঘরে রাতে থাকার সিদ্ধান্ত নেন।
পরিবারের অভিযোগ, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ওই রাতেই খাবারের সাথে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে বাচ্চু মিয়াকে অচেতন করা হয়। পরে একাব্বর আলী, তার নাতি রাব্বিসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা তাকে হত্যা করেন এবং মরদেহ তিন টুকরো করে গুম করার চেষ্টা চালান। মধ্যরাতে বস্তায় ভরে মরদেহ নিয়ে বের হওয়ার সময় প্রতিবেশীরা হাতেনাতে রাব্বিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। ওই রাতেই পুলিশ একাব্বর আলী ও রাব্বিসহ তিনজনকে আটক করে। আন্দোলনকারীদের দাবি, রাব্বি পুলিশের কাছে নিজের দায় স্বীকার করলেও বাকি দুজনকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।
স্বজনদের অভিযোগ, তারা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য রাব্বিকে রিমান্ডে নেওয়ার এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের অনুরোধ জানালেও পুলিশ তা উপেক্ষা করে নিজেদের মতো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বাচ্চু মিয়ার ছেলে রবিউল ইসলাম ও মোত্তাবেল মিয়া জানান, ময়নাতদন্তকারী কর্মকর্তা তাদের স্পষ্ট জানিয়েছেন যে একাব্বর আলী একা এই হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারেন না। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে প্রধান আসামিরা পার পেয়ে যাচ্ছেন দাবি করে পরিবারটি অবিলম্বে পুরো ঘটনার পুনঃতদন্ত ও আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে। ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এ কর্মসূচিতে স্থানীয় প্রচুর মানুষ অংশ নেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 






















