যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) সোমবার ভোরে নিউ ইংল্যান্ড রেভোল্যুশনের মুখোমুখি হবে ইন্টার মায়ামি। এই ম্যাচে খেলার অপেক্ষায় থাকা লিওনেল মেসির চলতি মৌসুমে পাঁচটি হলুদ কার্ড দেখে ফেলার পরও নিষেধাজ্ঞা না পাওয়ার বিষয়টি অনেকের কাছেই বিস্ময়ের। তবে এমএলএসের শৃঙ্খলাবিধির বিশেষ নিয়মের সুবাদে আর্জেন্টাইন তারকা এই ম্যাচে খেলার অনুমতি পাচ্ছেন। আইনের ভেতরে থেকেই ম্যাচটি খেলার সুযোগ পাচ্ছেন আর্জেন্টাইন এ কিংবদন্তি। মৌসুমের শুরুতে কোনো হলুদ কার্ড দেখা ছাড়াই আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি প্রথম পাঁচটির বেশি ম্যাচ খেলেন।
লিগের নিয়ম অনুযায়ী, নিয়মিত মৌসুমে কোনো খেলোয়াড় পাঁচটি হলুদ কার্ড দেখলে তাঁকে পরবর্তী ম্যাচে নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ২৫০ ডলার জরিমানা করা হয়। মেসি গত বুধবার সিনসিনাটির বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচের ৪৪ মিনিটে হলুদ কার্ডটি দেখেন, যা এই মৌসুমে তাঁর পঞ্চম কার্ড। এর আগে অষ্টম, একাদশ, বিংশ, একত্রিশতম ও তেত্রিশতম ম্যাচে তিনি কার্ড দেখেছিলেন।
তবে এমএলএসে ‘ভালো আচরণের প্রণোদনা’ নামে একটি নিয়ম রয়েছে। যদি কোনো খেলোয়াড় টানা পাঁচ ম্যাচ কার্ড ছাড়া খেলতে পারেন, তবে তাঁর নামের পাশে জমা হওয়া হলুদ কার্ডের সংখ্যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি কমে যায়। মৌসুমে তিনবার এই সুবিধা পাওয়া সম্ভব। মেসি পাঁচ নম্বর হলুদ কার্ডটি দেখার আগেই টানা পাঁচটি করে ম্যাচ একাধিকবার পার করেছেন, ফলে নিয়ম অনুযায়ী তাঁর আগের কার্ডগুলো মওকুফ হয়ে গেছে। কার্ডটি মেসির শৃঙ্খলাজনিত রেকর্ডে থেকে গেলেও নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ার মতো কার্ডের সংখ্যায় এটি আর যোগ হবে না। নিয়মানুযায়ী এই সমন্বিত কার্ডের সংখ্যা কোনোভাবেই ঋণাত্মক বা শূন্যের নিচে নামতে পারে না।
চলতি মৌসুমে মেসি কার্ড না দেখে তিনবার পাঁচ ম্যাচের ধারা বজায় রেখেছেন। বর্তমানে তাঁর রেকর্ডে কার্যকর কার্ডের সংখ্যা মাত্র দুটি। এর মধ্যে কোনো কার্ড না দেখে টানা ১০ ম্যাচে মাঠ দাপিয়ে বেড়ানোয় কার্যকর কার্ডের সংখ্যা শূন্যে নেমে এসেছিল, কিন্তু শেষ তিন ম্যাচের দুটিতে কার্ড দেখায় সেটি আবার দুইয়ে এসে ঠেকেছে।
ইন্টার মায়ামির প্রধান কোচ ক্রিস্টিয়ান গঞ্জালেস জানিয়েছেন, কনক্যাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপের টিকিট পাওয়ার লড়াইয়ে তাঁরা কোনো ভুল করার সুযোগ নেই। পয়েন্ট তালিকায় ইস্টার্ন কনফারেন্সে ৩২ ম্যাচে ৫৬ পয়েন্ট নিয়ে তিনে আছে ইন্টার মায়ামি। সমান ম্যাচে ৫৮ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে নিউ ইংল্যান্ড এবং ৭১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে ন্যাশভিল।
মায়ামি ও নিউ ইংল্যান্ড এরই মধ্যে ২০২৬ এমএলএস প্লে-অফ নিশ্চিত করেছে। তবে আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস কাপে জায়গা করে নেওয়ার ক্ষেত্রে এই ম্যাচটি দুই দলের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইস্টার্ন কনফারেন্সের দ্বিতীয় দল হিসেবে চ্যাম্পিয়নস কাপে সরাসরি খেলার সুযোগ থাকায় জয় পেতে মরিয়া হয়ে আছে মায়ামি। এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে টাকা খরচের ভোটে মেসিকে পেছনে ফেলে ‘ব্যালন ডি’অর অব অলটাইম’ জিতেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। এমএলএস কাপ, লিগস কাপ, ইউএস ওপেন কাপ, এমএলএস সাপোর্টার্স শিল্ড এবং লিগের ইস্টার্ন ও ওয়েস্টার্ন কনফারেন্সের চ্যাম্পিয়ন দলগুলো সরাসরি চ্যাম্পিয়নস কাপে জায়গা পায়।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 






















