যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দিয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছেন ক্যাথলিক খ্রিষ্টান ধর্মের সর্বোচ্চ ধর্মীয় গুরু পোপ চতুর্দশ লিও। মার্কিন সাধারণ নির্বাচনে কোনো পোপের ভোট দেওয়ার এটাই প্রথম ঘটনা। তিনি নিজের শিকাগো শহরের ঠিকানায় ডাকযোগে বা মেইল-ইন ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। গত শুক্রবার ভ্যাটিকান কর্তৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি আগেই ভোট দেন। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণকে পোপ সবসময়ই গুরুত্ব দিয়ে আসছেন বলে জানিয়েছে ভ্যাটিকান। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ভ্যাটিকান কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নাগরিকদের অংশগ্রহণের প্রতি দীর্ঘদিনের বিশ্বাস থেকেই তিনি ভোট দিয়েছেন বলে জানিয়েছে ভ্যাটিকান। যোগ্যতা থাকা সাপেক্ষে তিনি আগেও প্রতিবার ভোট দিয়েছেন।
ভ্যাটিকান প্রেস অফিসের প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ নাগরিক হিসেবে পোপ লিও তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
নাগরিক অধিকারের পাশাপাশি ভোটদানকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করেন তিনি। তবে তিনি ব্যালটে কোন প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়েছেন বা ভোট দিয়েছেন, সে বিষয়ে কিছু প্রকাশ করেনি ভ্যাটিকান। অন্যদিকে মার্কিন ক্যাথলিক বিশপ সম্মেলন জানিয়েছে, পোপের এই ভোটদান সাধারণ মানুষকে তাদের নাগরিক কর্তব্য পালনে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করবে। সম্মেলনের জনসংযোগ পরিচালক চিয়েকো নোগুচি বলেন, রাজনীতি ও বিভাজনের ঊর্ধ্বে মানবিক মর্যাদা রক্ষায় পোপ একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
জন্মসূত্রে পোপ লিওর নাম রবার্ট প্রেভোস্ট। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি পেরু ও ভ্যাটিকানেরও নাগরিকত্ব বহন করছেন। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় তিনি পেরুতে পুরোহিত ও বিশপের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ভ্যাটিকানের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে কর্মরত আছেন। মার্কিন ফেডারেল আইন অনুযায়ী, প্রবাসী নাগরিকরা ডাকযোগে ভোট দিতে পারেন এবং বিদেশি সরকারের অধীনে কাজ করলেও এই আইনি অধিকার বজায় থাকে। যদিও দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো মার্কিন নাগরিক সরাসরি বিদেশি রাষ্ট্রের প্রধান বা সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নিলে তার নাগরিকত্ব বিশেষ পর্যালোচনার আওতায় আসার বিধান রয়েছে। পুরোহিত ও বিশপ হিসেবে তিনি পেরুতে ২০ বছরের বেশি সময় কাটিয়েছেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 





















