ঢাকা ০৯:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

মঙ্গলে প্রাণের সন্ধানে উড়ছে নাসার ‘পারসিভিয়ারেন্স’

আকাশ আইসিটি ডেস্ক : 

সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বৃহস্পতিবার লাল গ্রহের উদ্দেশে উড়ে যাচ্ছে নাসার মঙ্গলযান ‘পারসিভিয়ারেন্স’। গ্রিনউইচ মিন টাইম অনুসারে সকাল ৭টার দিকে ফ্লোরিডা থেকে রওনা দেবে ছ’চাকাবিশিষ্ট এক টন ওজনের যানটি। মঙ্গলের মাটিতে নামবে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে।

পারসিভিয়ারেন্সের যাত্রা উপলক্ষে এরই মধ্যে ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরালে ভিড় জমিয়েছেন বিজ্ঞানী এবং উত্‍সাহী মানুষজন। নাসার এমন এক গুরুত্বপূর্ণ অভিযানের সাক্ষী থাকতে চান সকলে। এর আগে তিনবার বাতিল হয়েছে পারসিভিয়ারেন্সের যাত্রা।

আসলে পারসিভিয়ারেন্সকে নিয়ে কৌতূহল তুঙ্গে মহাকাশবিজ্ঞানীদের। বলা হচ্ছে, মঙ্গল অভিযানের জন্য এত উন্নত প্রযুক্তি দিয়ে আর কোনো যানই তৈরি হয়নি এর আগে। সেদিক থেকে নাসার আগের মঙ্গলযান ‘কিউরিওসিটি’র খামতিগুলো পূরণ করে দিয়েছে পারসিভিয়ারেন্স। এতে যেমন ২৩ টি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন ক্যামেরা আছে, তেমনই রয়েছে মাইক্রোফোন, প্রচুর ছোটখাটো যন্ত্র। যা মঙ্গলের নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে কোনো নমুনা সংগ্রহের পর নিজেই প্রাথমিক বিশ্লেষণ করে রিপোর্ট পাঠাবে নাসার দপ্তরে। অর্থাত্‍ বিজ্ঞানীদের গবেষণার কাজ অনেকটা এগিয়ে দেবে পারসিভিয়ারেন্স।

এই মঙ্গলযানে একসঙ্গে তেইশ ক্যামেরা লাগানোটাই একটা বড়সড় কাজ ছিল। গোটা অপারেশনের নাম দেওয়া হয় ‘মাস্টক্যামজেড’। আর এই দায়িত্ব যিনি সামলেছেন, সেই বিজ্ঞানী জিম বেল বলছেন, ‘এই যানটি উড়বে, মঙ্গলের মাটিতে নামবে, সেখানে কাজ করবে – এই সমস্তটা আমরা যে শুধু ক্যামেরার সাহায্য এখানে বসে দেখতে পাব তাইই নয়। পারসিভিয়ারেন্সে অনেকগুলো মাইক্রোফোন থাকায় আমাদের কাছে শব্দও এসে পৌঁছবে। সেই শব্দও গবেষণার একটা অঙ্গ হয়ে ওঠবে।’

পারসিভিয়ারেন্সের অন্যতম মুখ্য কাজ হবে, লাল গ্রহের নিরক্ষীয় অঞ্চলের বিভিন্ন নমুনার জৈব বিশ্লেষণ। জানা গেছে, মঙ্গলের ‘জেজেরো ক্রেটর’, সহজ ভাষায় যা হ্রদ, সেখানে একসময়ে বিপুল জলধারা বয়ে যেত। তার জন্য পার্শ্ববর্তী এলাকায় পলির মতো একটা স্তরও আছে।

পারসিভিয়ারেন্স নামবে ঠিক এই অংশের পাশেই। এখানকার নমুনা সংগ্রহ করে তার জৈব ও রাসায়নিক বিশ্লেষণ করবে। আর সেখানেই প্রাণের অস্তিত্ব আছে না নেই, তার অনেকটা স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা। যদি ওই পলিস্তরের মধ্যে কোনো অনুজীবীর বেঁচে থাকারও কোনো উপকরণ মেলে, তাহলে বুঝতে হবে, একদা এই প্রতিবেশী গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব ছিল। এছাড়া এই অংশের পাথরের গঠন নিয়েও পরীক্ষা করবে পারসিভিয়ারেন্স।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

বিরতির পর নতুন রূপ নিয়ে ফিরছেন রাইমা সেন

মঙ্গলে প্রাণের সন্ধানে উড়ছে নাসার ‘পারসিভিয়ারেন্স’

আপডেট সময় ০৬:২৫:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২০

আকাশ আইসিটি ডেস্ক : 

সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বৃহস্পতিবার লাল গ্রহের উদ্দেশে উড়ে যাচ্ছে নাসার মঙ্গলযান ‘পারসিভিয়ারেন্স’। গ্রিনউইচ মিন টাইম অনুসারে সকাল ৭টার দিকে ফ্লোরিডা থেকে রওনা দেবে ছ’চাকাবিশিষ্ট এক টন ওজনের যানটি। মঙ্গলের মাটিতে নামবে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে।

পারসিভিয়ারেন্সের যাত্রা উপলক্ষে এরই মধ্যে ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরালে ভিড় জমিয়েছেন বিজ্ঞানী এবং উত্‍সাহী মানুষজন। নাসার এমন এক গুরুত্বপূর্ণ অভিযানের সাক্ষী থাকতে চান সকলে। এর আগে তিনবার বাতিল হয়েছে পারসিভিয়ারেন্সের যাত্রা।

আসলে পারসিভিয়ারেন্সকে নিয়ে কৌতূহল তুঙ্গে মহাকাশবিজ্ঞানীদের। বলা হচ্ছে, মঙ্গল অভিযানের জন্য এত উন্নত প্রযুক্তি দিয়ে আর কোনো যানই তৈরি হয়নি এর আগে। সেদিক থেকে নাসার আগের মঙ্গলযান ‘কিউরিওসিটি’র খামতিগুলো পূরণ করে দিয়েছে পারসিভিয়ারেন্স। এতে যেমন ২৩ টি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন ক্যামেরা আছে, তেমনই রয়েছে মাইক্রোফোন, প্রচুর ছোটখাটো যন্ত্র। যা মঙ্গলের নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে কোনো নমুনা সংগ্রহের পর নিজেই প্রাথমিক বিশ্লেষণ করে রিপোর্ট পাঠাবে নাসার দপ্তরে। অর্থাত্‍ বিজ্ঞানীদের গবেষণার কাজ অনেকটা এগিয়ে দেবে পারসিভিয়ারেন্স।

এই মঙ্গলযানে একসঙ্গে তেইশ ক্যামেরা লাগানোটাই একটা বড়সড় কাজ ছিল। গোটা অপারেশনের নাম দেওয়া হয় ‘মাস্টক্যামজেড’। আর এই দায়িত্ব যিনি সামলেছেন, সেই বিজ্ঞানী জিম বেল বলছেন, ‘এই যানটি উড়বে, মঙ্গলের মাটিতে নামবে, সেখানে কাজ করবে – এই সমস্তটা আমরা যে শুধু ক্যামেরার সাহায্য এখানে বসে দেখতে পাব তাইই নয়। পারসিভিয়ারেন্সে অনেকগুলো মাইক্রোফোন থাকায় আমাদের কাছে শব্দও এসে পৌঁছবে। সেই শব্দও গবেষণার একটা অঙ্গ হয়ে ওঠবে।’

পারসিভিয়ারেন্সের অন্যতম মুখ্য কাজ হবে, লাল গ্রহের নিরক্ষীয় অঞ্চলের বিভিন্ন নমুনার জৈব বিশ্লেষণ। জানা গেছে, মঙ্গলের ‘জেজেরো ক্রেটর’, সহজ ভাষায় যা হ্রদ, সেখানে একসময়ে বিপুল জলধারা বয়ে যেত। তার জন্য পার্শ্ববর্তী এলাকায় পলির মতো একটা স্তরও আছে।

পারসিভিয়ারেন্স নামবে ঠিক এই অংশের পাশেই। এখানকার নমুনা সংগ্রহ করে তার জৈব ও রাসায়নিক বিশ্লেষণ করবে। আর সেখানেই প্রাণের অস্তিত্ব আছে না নেই, তার অনেকটা স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা। যদি ওই পলিস্তরের মধ্যে কোনো অনুজীবীর বেঁচে থাকারও কোনো উপকরণ মেলে, তাহলে বুঝতে হবে, একদা এই প্রতিবেশী গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব ছিল। এছাড়া এই অংশের পাথরের গঠন নিয়েও পরীক্ষা করবে পারসিভিয়ারেন্স।