ঢাকা ১০:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী যে ভাষায় কথা বলেন, তা রাজনৈতিক সংস্কৃতি নয়: প্রতিমন্ত্রী পরীক্ষা দিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স নিলেন জাইমা রহমান ‘এক দফা’ ঘোষণার নেপথ্য ঘটনা তুলে ধরে বিস্ফোরক পোস্ট আব্দুল কাদেরের হাসিনা দেশে আসলে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, জানালেন নাহিদ গুমে শাস্তি যাবজ্জীবন, মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন গুজব প্রতিরোধে এফবিআইয়ের সহযোগিতা চাইলেন আইজিপি

বিশ্বের বৃহত্তম ডিজিটাল ক্যামেরায় মহাকাশের গভীরতম দৃশ্য ধারণ

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

মহাকাশের অসীম রহস্য উন্মোচনে ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছেন বিজ্ঞানীরা। চিলিতে অবস্থিত ভেরা সি রুবিন অবজারভেটরির ৩.২ গিগাপিক্সেল শক্তিসম্পন্ন বিশ্বের বৃহত্তম ডিজিটাল ক্যামেরা ব্যবহার করে মহাকাশের গভীরে থাকা ৫ লাখেরও বেশি গ্যালাক্সি এবং ৫০ হাজারেরও বেশি নক্ষত্রের অত্যন্ত স্পষ্ট ছবি তোলা হয়েছে। এই চিত্রে প্যাঁচানো বা স্পাইরাল গ্যালাক্সি, ডিম্বাকৃতি গ্যালাক্সি, একে অপরের সাথে ধাক্কা খাওয়া গ্যালাক্সি এবং মহাবিশ্বের শুরুর দিকের সুদূর লালচে গ্যালাক্সিগুলো অবিশ্বাস্য নিখুঁতভাবে ফুটে উঠেছে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, রুবিন পর্যবেক্ষণাগারের ৮.৪ মিটার দূরবীক্ষণ যন্ত্রে থাকা এই বিশেষ এলএসএসটি ক্যামেরা দিয়ে ধারণ করা চমৎকার দৃশ্যটি মূলত একটি একক স্ন্যাপশট নয়। ক্যামেরায় ধারণ করা শত শত আলাদা ছবির নিখুঁত সমন্বয়ে এই অসাধারণ দৃশ্য তৈরি করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে এক্সপোজার দেওয়ার ফলেই অত্যন্ত দূরবর্তী ও ক্ষীণ আলোর মহাজাগতিক বস্তুগুলো এমন স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।

বিজ্ঞানীরা মহাকাশের যে নির্দিষ্ট অংশটির ছবি তুলেছেন, তা জ্যোতির্বিজ্ঞানে কসমস ফিল্ড নামে পরিচিত। ২০০৩ সালে হাবল টেলিস্কোপের মাধ্যমে প্রথম কাজ শুরু হওয়ার পর গত দুই দশক ধরে পর্যবেক্ষণ করা এই অঞ্চলটি আমাদের নিজস্ব ছায়াপথের সমতল ও ধূলিমেঘ থেকে অনেকটা দূরে অবস্থিত। ফলে খুব সহজেই কোটি কোটি আলোকবর্ষ দূরের দৃশ্য ক্যামেরা বন্দি করা সম্ভব হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন ও জ্বালানি বিভাগের অর্থায়নে পরিচালিত এই উদ্যোগটি মূলত রুবিন পর্যবেক্ষণাগারের ১০ বছর মেয়াদি ‘লেগাসি সার্ভে অব স্পেস অ্যান্ড টাইম’ প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রুবিন পর্যবেক্ষণাগারের পরিচালক বব ব্লাম জানান, এই অঞ্চলের পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম কেবল শুরু হয়েছে এবং আগামী দিনে একই অঞ্চলে বারবার নজর রেখে মহাকাশের নক্ষত্র বিস্ফোরণ বা সুপারনোভা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ

বিশ্বের বৃহত্তম ডিজিটাল ক্যামেরায় মহাকাশের গভীরতম দৃশ্য ধারণ

আপডেট সময় ০৯:১০:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

মহাকাশের অসীম রহস্য উন্মোচনে ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছেন বিজ্ঞানীরা। চিলিতে অবস্থিত ভেরা সি রুবিন অবজারভেটরির ৩.২ গিগাপিক্সেল শক্তিসম্পন্ন বিশ্বের বৃহত্তম ডিজিটাল ক্যামেরা ব্যবহার করে মহাকাশের গভীরে থাকা ৫ লাখেরও বেশি গ্যালাক্সি এবং ৫০ হাজারেরও বেশি নক্ষত্রের অত্যন্ত স্পষ্ট ছবি তোলা হয়েছে। এই চিত্রে প্যাঁচানো বা স্পাইরাল গ্যালাক্সি, ডিম্বাকৃতি গ্যালাক্সি, একে অপরের সাথে ধাক্কা খাওয়া গ্যালাক্সি এবং মহাবিশ্বের শুরুর দিকের সুদূর লালচে গ্যালাক্সিগুলো অবিশ্বাস্য নিখুঁতভাবে ফুটে উঠেছে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, রুবিন পর্যবেক্ষণাগারের ৮.৪ মিটার দূরবীক্ষণ যন্ত্রে থাকা এই বিশেষ এলএসএসটি ক্যামেরা দিয়ে ধারণ করা চমৎকার দৃশ্যটি মূলত একটি একক স্ন্যাপশট নয়। ক্যামেরায় ধারণ করা শত শত আলাদা ছবির নিখুঁত সমন্বয়ে এই অসাধারণ দৃশ্য তৈরি করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে এক্সপোজার দেওয়ার ফলেই অত্যন্ত দূরবর্তী ও ক্ষীণ আলোর মহাজাগতিক বস্তুগুলো এমন স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।

বিজ্ঞানীরা মহাকাশের যে নির্দিষ্ট অংশটির ছবি তুলেছেন, তা জ্যোতির্বিজ্ঞানে কসমস ফিল্ড নামে পরিচিত। ২০০৩ সালে হাবল টেলিস্কোপের মাধ্যমে প্রথম কাজ শুরু হওয়ার পর গত দুই দশক ধরে পর্যবেক্ষণ করা এই অঞ্চলটি আমাদের নিজস্ব ছায়াপথের সমতল ও ধূলিমেঘ থেকে অনেকটা দূরে অবস্থিত। ফলে খুব সহজেই কোটি কোটি আলোকবর্ষ দূরের দৃশ্য ক্যামেরা বন্দি করা সম্ভব হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন ও জ্বালানি বিভাগের অর্থায়নে পরিচালিত এই উদ্যোগটি মূলত রুবিন পর্যবেক্ষণাগারের ১০ বছর মেয়াদি ‘লেগাসি সার্ভে অব স্পেস অ্যান্ড টাইম’ প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রুবিন পর্যবেক্ষণাগারের পরিচালক বব ব্লাম জানান, এই অঞ্চলের পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম কেবল শুরু হয়েছে এবং আগামী দিনে একই অঞ্চলে বারবার নজর রেখে মহাকাশের নক্ষত্র বিস্ফোরণ বা সুপারনোভা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে।