মহাকাশ গবেষণায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে রকেট ও স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ প্রযুক্তির আধুনিকায়ন। রকেট বুস্টার পুনরায় ব্যবহারযোগ্য করে তোলার এই কৌশল মহাকাশ ভ্রমণকে অনেক বেশি সহজ ও সাশ্রয়ী করে তুলেছে। সর্বশেষ গত ৩০ আগস্ট নাসার পরবর্তী প্রজন্মের রোমান স্পেস টেলিস্কোপটি স্পেসএক্সের শক্তিশালী ফ্যালকন হেভি রকেটের সাহায্যে সফলভাবে মহাশূন্যে প্রেরণ করা হয়। রকেট ট্যাক্সি হিসেবে পরিচিত প্রায় ২৩০ ফুট দীর্ঘ এই যানটি নিম্ন কক্ষপথে প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার পাউন্ড ওজন বা পেলোড বহন করতে সক্ষম। মহাকাশ স্টেশনে নাসা ও আন্তর্জাতিক মহাকাশচারীদের নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া এবং ফিরিয়ে আনাই এই বাণিজ্যিক পরিবহনব্যবস্থার মূল লক্ষ্য।
উৎক্ষেপণের পর ফ্যালকন হেভি রকেটের বুস্টারগুলো অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পৃথিবীতে ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছে। নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টারে উপস্থিত উৎসুক দর্শকেরা সরাসরি বুস্টারের এই বিস্ময়কর অবতরণ প্রত্যক্ষ করেছেন। এই মিশনে অংশ নেওয়া বুস্টারগুলোর একটি তার প্রথম মিশনে থাকলেও অন্যটির জন্য এটি ছিল তৃতীয়বার ব্যবহারের অভিজ্ঞতা। একটি বুস্টার ল্যান্ডিং জোন টু এবং অন্যটি ল্যান্ডিং জোন ওয়ান-এ অবতরণ করে, যা পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তির এক অসাধারণ সাফল্য।
বাণিজ্যিক মহাকাশ যাত্রায় স্পেসএক্সের এই রকেট ট্যাক্সি মূলত ক্রু ড্রাগন মহাকাশযান ও ফ্যালকন নাইন রকেটের সমন্বয়ে গঠিত। ২০২০ সালের শেষ দিকে প্রথমবারের মতো মানববাহী বেসরকারি মহাকাশ ভ্রমণের সুযোগ তৈরি করে দিয়ে এই প্রযুক্তি ইতিহাস গড়েছিল। এই ধরনের বাণিজ্যিক ফ্লাইট নিয়মিত পরিচালনা করার মাধ্যমে মহাকাশ গবেষণার বিশাল ব্যয়ভার কমিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে। বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানীরা মহাকাশবিজ্ঞানের প্রসারে এই বাণিজ্যিক উদ্যোগের ব্যাপক প্রশংসা করছেন। সফলভাবে ফিরে আসা এই বুস্টারগুলো প্রমাণ করে যে, মহাকাশ অভিযানে নিয়মিত যাতায়াত এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তির প্রয়োগ আধুনিক মহাকাশবিজ্ঞানকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 






















