ঢাকা ১২:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আইজিপি: চাঁদাবাজির অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করার ক্ষমতা পাচ্ছে পুলিশ জাপান সফরে তারেক রহমান: অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন গতির আশা রাষ্ট্রদূতকে আনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়: শামা ওবায়েদ সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক চলছে স্মরণকালের সেরা দুর্গাপূজা উপহার দিলেন দেশনায়ক  তারেক রহমান ঢাকার বাস টার্মিনাল ও অটোরিকশা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সোহেল গরিবের বিচার, ধনীর বিচার এক করতে হবে —এটাই তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশ আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ বাংলাদেশ কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহাসিক বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি দ্বিগুণ যাত্রী সামলাতে হিমশিম দেশের বিমানবন্দরগুলো

হিউ জ্যাকম্যানের অভিনয় জীবনের অদ্ভুত সেই মোড়

বিশ্ববিখ্যাত অভিনেতা হিউ জ্যাকম্যান নিয়মিতই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তৃতার আমন্ত্রণ পান। তবে দীর্ঘদিন তিনি সেসব ফিরিয়ে দিয়েছেন। কারণ হিসেবে তিনি মনে করতেন, নিজেকে কখনোই ওই ধরনের বক্তৃতার জন্য যথেষ্ট প্রস্তুত মনে হয়নি। জ্যাকম্যানের মতে, দশ মিনিটের এমন সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ জীবনে একবারই আসে, তাই সেই প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি রাখতে চাননি তিনি। তবে এবার তিনি কেন রাজি হলেন, সে বিষয়ে তার কাছে স্পষ্ট কোনো উত্তর নেই। তার ভাষায়, আজকের এই বক্তৃতার শিরোনাম হতে পারত, ‘আমি জানি না!’ এ ধরনের বক্তৃতায় আমাকে বহুবার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সব সময়ই না করে এসেছি, কারণ টাকাপয়সা খুব একটা পাওয়া যায় না (হাসি)। নিজেই নিজেকে বলতাম, ‘আর কটা বছর যেতে দাও। কারণ, ১০ মিনিটের এমন একটা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখার সুযোগ জীবনে একবারই মেলে। আমার জীবনের সিংহভাগ সময়ে আমি নিজেই কিচ্ছু জানতাম না। আমি অভিনয়ে কীভাবে এলাম, সেই গল্পটা শুনতে চাও। কারণ, জানতাম যে নিয়ম অনুযায়ী তিনটা ক্লাস মিস করলেও পাসে কোনো সমস্যা হবে না। শোনামাত্র আমার প্রায় টেবিলের নিচে ঢুকে পড়ার দশা।

অনেকে হয়তো ভাবছেন, হিউ জ্যাকম্যান সাফল্যের কোনো আটটি সহজ পয়েন্ট বা স্বপ্নের ক্যারিয়ার গড়ার কোনো গোপন ফর্মুলা ধরিয়ে দেবেন। তবে বাস্তবতা হলো, জীবনের হিসাব অতটা সহজ নয়। তার নিজের ক্যারিয়ারের পথচলাও কোনো পূর্বপরিকল্পিত ছকে চলেনি। এমনকি ছয় মাস বা গতকালের ঘটনাপ্রবাহ নিয়েও তিনি নিশ্চিত থাকতে পারেননি। ছয় বছর বয়স থেকেই তিনি থিয়েটার বা কনসার্টের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, কিন্তু কখনোই অভিনয়কে পেশা হিসেবে নেবেন বলে ভাবেননি। বানিয়ে বানিয়ে আমিও হয়তো কয়েকটা চমৎকার গল্প বলে দিতে পারি। ‘কঠিন লক্ষ্য, কঠোর পরিশ্রম, আর একটুখানি ভাগ্য সঙ্গ দিলেই আপনিও এভাবেই একদম শীর্ষে পৌঁছে যাবেন। থিয়েটার করেছি, মিউজিক্যাল করেছি, কনসার্ট করেছি। কিন্তু কখনো কি ভেবেছিলাম, এটাকেই পেশা বানাব।

মডেলিংয়েও তার অভিজ্ঞতা ছিল তিক্ত। ১৯ বছর বয়সে এক বন্ধুর পরামর্শে যখন মডেলিং এজেন্সিতে ছবি জমা দেন, তখন সেখানকার প্রধান ব্যক্তি তাকে সোজাসাপটা জানিয়ে দিয়েছিলেন যে ক্যামেরা তাকে একদমই পছন্দ করে না। তিনি দেখতে ফটোজেনিক নন—এই মন্তব্যটি তাকে দীর্ঘ সময় হীনম্মন্যতায় ভুগিয়েছিল। ধাতব–ধূসর শাড়ি এবং সাদামাটা সাজে রানির আভিজাত্য, দেখুন ৬টি ছবি।

তার অভিনয় জগতে আসার পেছনে রয়েছে অদ্ভুত এক ঘটনা। কমিউনিকেশনসে পড়ার সময় সাংবাদিকতা ছিল তার মেজর বিষয়। গ্র্যাজুয়েশনের শেষ বর্ষে ২৪ ক্রেডিটের জায়গায় ভুল করে ২২ ক্রেডিট নেওয়া হয়েছিল। পড়া শেষ করার জন্য তাকে একটি ঐচ্ছিক বিষয় বা ইলেকটিভ সাবজেক্ট নিতে বলা হয়। এক বন্ধুর পরামর্শে সবচেয়ে সহজ মনে করে তিনি ‘থিয়েটার অ্যাপ্রিসিয়েশন’ ক্লাসে ভর্তি হন। ধারণা ছিল, এতে কোনো হোমওয়ার্ক বা পরীক্ষা নেই, শুধু ক্লাসে উপস্থিত থাকলেই পাস। ২২ কিংবা ২৭ বছর বয়সের কথা কিন্তু বলছি না। কমিউনিকেশনসে লিবারেল আর্টস ডিগ্রি নিয়েছিলাম।

অলসতার কারণে প্রথম তিন সপ্তাহ তিনি ক্লাসই করেননি। পড়ালেখার ব্যাপারে আমি এতই উদাসীন ছিলাম যে প্রথম তিন সপ্তাহ ক্লাসেই যাইনি।

চতুর্থ সপ্তাহে ক্লাসে গিয়ে জানতে পারেন, এবারই প্রথম শিক্ষক শিক্ষার্থীদের নিয়ে নাটক মঞ্চস্থ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তো ৪ নম্বর সপ্তাহে ক্লাসে গিয়ে হাজির হলাম।

দৈবচয়নের মাধ্যমে প্রধান চরিত্রের দায়িত্ব পড়ে তার ওপর। কিন্তু কী কপাল, দৈবচয়নের মধ্য দিয়ে আমিই পেয়ে গেলাম প্রধান চরিত্র।

প্রফেসরের কাছে গিয়ে বারবার অনুরোধ করেও কোনো লাভ হয়নি, তিনি ছিলেন নিজের সিদ্ধান্তে অটল। অগত্যা ফাইনাল ইয়ারের ৯০ শতাংশ সময় তিনি সেই নাটকের পেছনেই ব্যয় করেন। স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ প্রযোজনায় অভিনয় করতে গিয়েই তিনি জীবনের লক্ষ্য খুঁজে পান। সেদিন তার শরীরের প্রতিটি কোষ তাকে জানান দিয়েছিল, তিনি তার সগোত্রীয় মানুষ খুঁজে পেয়েছেন। এতদিন ভুল পড়াশোনায় সময় নষ্ট করার আক্ষেপ জেঁকে বসেছিল মনে। যখনই ওই বাড়িতে পা রাখলাম, অভিনয়শিল্পীরা আমাদের স্বাগত জানাল, আচমকা শরীরের প্রতিটা কোষ যেন জানান দিল—আমি আমার সগোত্রীয় মানুষ খুঁজে পেয়েছি।

এরপর সিডনির অ্যাক্টরস সেন্টারে অভিনয়ের প্রশিক্ষণ নিতে অডিশন দিলেন তিনি। মাত্র ২০টি আসনের জন্য লড়ছিলেন অনেকে। শেষ মুহূর্তে একজনের সুযোগ বাতিল হলে আটজনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি জায়গা করে নেন। কিন্তু চিঠির শেষ লাইনটি দেখে তার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে—প্রথম দিনই সাড়ে তিন হাজার ডলারের চেক জমা দিতে হবে। তখন সেই অর্থ ছিল তার কাছে আকাশচুম্বী। বাবা সাংবাদিকতায় ডিগ্রি শেষ করতে এমনিতেই অনেক খরচ করেছেন, তাই আর নতুন করে চাওয়ার সাহস ছিল না। সব আশা ছেড়ে চিঠিটা ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছিলেন তিনি। আহা, এই কথায় তালি দিয়ো না, মা-বাবা কিন্তু পাশেই বসে আছেন।

ভাগ্যের কী পরিহাস, তার পরের দিনই ডাকযোগে একটি চেক হাতে পান তিনি। এটি ছিল তার দাদির উইলের মাধ্যমে পাওয়া অর্থ, আর সেই চেকটির অংক ঠিক সাড়ে তিন হাজার ডলারই ছিল। সিনেমার গল্পের মতো সেই চেকটি দেখে তিনি স্থবির হয়ে গিয়েছিলেন। এরপর ডাস্টবিন থেকে সেই ছেঁড়া চিঠি উদ্ধার করে শুরু হয় তার অভিনয়জীবন। এরপর চার বছর একটানা পড়াশোনা করেছেন, একটি ক্লাসও মিস করেননি। এই আকস্মিক সংকেত বা অলৌকিক ঘটনা যেভাবেই দেখা হোক না কেন, জীবনের অনেক সংকেতই অনেক সময় ব্যর্থতার ছদ্মবেশে আসে বলে মনে করেন জ্যাকম্যান। শেষ পর্যন্ত নিজের হৃদয় আর ভেতরের কণ্ঠস্বর শোনার পরামর্শ দিয়ে তিনি সবাইকে আহ্বান জানিয়েছেন নিজেদের জীবন নিজের মতো করে যাপন করতে। হ্যাঁ, কোনোমতে ডিগ্রি পাওয়ার জন্য যতটুকু পড়াশোনা দরকার, ঠিক ততটুকুই করতাম। আচ্ছা ঠিক আছে, মানছি, এতটাও অলস হওয়া ঠিক না। হাতে–পায়ে ধরে আকুতি জানালাম, এবারের মতো ছেড়ে দিন।

আপলোডকারীর তথ্য

জাপান সফরে প্রধানমন্ত্রী: অবকাঠামো ও বিনিয়োগে ১৩.৮ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব

হিউ জ্যাকম্যানের অভিনয় জীবনের অদ্ভুত সেই মোড়

আপডেট সময় ১০:১৪:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্ববিখ্যাত অভিনেতা হিউ জ্যাকম্যান নিয়মিতই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তৃতার আমন্ত্রণ পান। তবে দীর্ঘদিন তিনি সেসব ফিরিয়ে দিয়েছেন। কারণ হিসেবে তিনি মনে করতেন, নিজেকে কখনোই ওই ধরনের বক্তৃতার জন্য যথেষ্ট প্রস্তুত মনে হয়নি। জ্যাকম্যানের মতে, দশ মিনিটের এমন সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ জীবনে একবারই আসে, তাই সেই প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি রাখতে চাননি তিনি। তবে এবার তিনি কেন রাজি হলেন, সে বিষয়ে তার কাছে স্পষ্ট কোনো উত্তর নেই। তার ভাষায়, আজকের এই বক্তৃতার শিরোনাম হতে পারত, ‘আমি জানি না!’ এ ধরনের বক্তৃতায় আমাকে বহুবার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সব সময়ই না করে এসেছি, কারণ টাকাপয়সা খুব একটা পাওয়া যায় না (হাসি)। নিজেই নিজেকে বলতাম, ‘আর কটা বছর যেতে দাও। কারণ, ১০ মিনিটের এমন একটা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখার সুযোগ জীবনে একবারই মেলে। আমার জীবনের সিংহভাগ সময়ে আমি নিজেই কিচ্ছু জানতাম না। আমি অভিনয়ে কীভাবে এলাম, সেই গল্পটা শুনতে চাও। কারণ, জানতাম যে নিয়ম অনুযায়ী তিনটা ক্লাস মিস করলেও পাসে কোনো সমস্যা হবে না। শোনামাত্র আমার প্রায় টেবিলের নিচে ঢুকে পড়ার দশা।

অনেকে হয়তো ভাবছেন, হিউ জ্যাকম্যান সাফল্যের কোনো আটটি সহজ পয়েন্ট বা স্বপ্নের ক্যারিয়ার গড়ার কোনো গোপন ফর্মুলা ধরিয়ে দেবেন। তবে বাস্তবতা হলো, জীবনের হিসাব অতটা সহজ নয়। তার নিজের ক্যারিয়ারের পথচলাও কোনো পূর্বপরিকল্পিত ছকে চলেনি। এমনকি ছয় মাস বা গতকালের ঘটনাপ্রবাহ নিয়েও তিনি নিশ্চিত থাকতে পারেননি। ছয় বছর বয়স থেকেই তিনি থিয়েটার বা কনসার্টের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, কিন্তু কখনোই অভিনয়কে পেশা হিসেবে নেবেন বলে ভাবেননি। বানিয়ে বানিয়ে আমিও হয়তো কয়েকটা চমৎকার গল্প বলে দিতে পারি। ‘কঠিন লক্ষ্য, কঠোর পরিশ্রম, আর একটুখানি ভাগ্য সঙ্গ দিলেই আপনিও এভাবেই একদম শীর্ষে পৌঁছে যাবেন। থিয়েটার করেছি, মিউজিক্যাল করেছি, কনসার্ট করেছি। কিন্তু কখনো কি ভেবেছিলাম, এটাকেই পেশা বানাব।

মডেলিংয়েও তার অভিজ্ঞতা ছিল তিক্ত। ১৯ বছর বয়সে এক বন্ধুর পরামর্শে যখন মডেলিং এজেন্সিতে ছবি জমা দেন, তখন সেখানকার প্রধান ব্যক্তি তাকে সোজাসাপটা জানিয়ে দিয়েছিলেন যে ক্যামেরা তাকে একদমই পছন্দ করে না। তিনি দেখতে ফটোজেনিক নন—এই মন্তব্যটি তাকে দীর্ঘ সময় হীনম্মন্যতায় ভুগিয়েছিল। ধাতব–ধূসর শাড়ি এবং সাদামাটা সাজে রানির আভিজাত্য, দেখুন ৬টি ছবি।

তার অভিনয় জগতে আসার পেছনে রয়েছে অদ্ভুত এক ঘটনা। কমিউনিকেশনসে পড়ার সময় সাংবাদিকতা ছিল তার মেজর বিষয়। গ্র্যাজুয়েশনের শেষ বর্ষে ২৪ ক্রেডিটের জায়গায় ভুল করে ২২ ক্রেডিট নেওয়া হয়েছিল। পড়া শেষ করার জন্য তাকে একটি ঐচ্ছিক বিষয় বা ইলেকটিভ সাবজেক্ট নিতে বলা হয়। এক বন্ধুর পরামর্শে সবচেয়ে সহজ মনে করে তিনি ‘থিয়েটার অ্যাপ্রিসিয়েশন’ ক্লাসে ভর্তি হন। ধারণা ছিল, এতে কোনো হোমওয়ার্ক বা পরীক্ষা নেই, শুধু ক্লাসে উপস্থিত থাকলেই পাস। ২২ কিংবা ২৭ বছর বয়সের কথা কিন্তু বলছি না। কমিউনিকেশনসে লিবারেল আর্টস ডিগ্রি নিয়েছিলাম।

অলসতার কারণে প্রথম তিন সপ্তাহ তিনি ক্লাসই করেননি। পড়ালেখার ব্যাপারে আমি এতই উদাসীন ছিলাম যে প্রথম তিন সপ্তাহ ক্লাসেই যাইনি।

চতুর্থ সপ্তাহে ক্লাসে গিয়ে জানতে পারেন, এবারই প্রথম শিক্ষক শিক্ষার্থীদের নিয়ে নাটক মঞ্চস্থ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তো ৪ নম্বর সপ্তাহে ক্লাসে গিয়ে হাজির হলাম।

দৈবচয়নের মাধ্যমে প্রধান চরিত্রের দায়িত্ব পড়ে তার ওপর। কিন্তু কী কপাল, দৈবচয়নের মধ্য দিয়ে আমিই পেয়ে গেলাম প্রধান চরিত্র।

প্রফেসরের কাছে গিয়ে বারবার অনুরোধ করেও কোনো লাভ হয়নি, তিনি ছিলেন নিজের সিদ্ধান্তে অটল। অগত্যা ফাইনাল ইয়ারের ৯০ শতাংশ সময় তিনি সেই নাটকের পেছনেই ব্যয় করেন। স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ প্রযোজনায় অভিনয় করতে গিয়েই তিনি জীবনের লক্ষ্য খুঁজে পান। সেদিন তার শরীরের প্রতিটি কোষ তাকে জানান দিয়েছিল, তিনি তার সগোত্রীয় মানুষ খুঁজে পেয়েছেন। এতদিন ভুল পড়াশোনায় সময় নষ্ট করার আক্ষেপ জেঁকে বসেছিল মনে। যখনই ওই বাড়িতে পা রাখলাম, অভিনয়শিল্পীরা আমাদের স্বাগত জানাল, আচমকা শরীরের প্রতিটা কোষ যেন জানান দিল—আমি আমার সগোত্রীয় মানুষ খুঁজে পেয়েছি।

এরপর সিডনির অ্যাক্টরস সেন্টারে অভিনয়ের প্রশিক্ষণ নিতে অডিশন দিলেন তিনি। মাত্র ২০টি আসনের জন্য লড়ছিলেন অনেকে। শেষ মুহূর্তে একজনের সুযোগ বাতিল হলে আটজনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি জায়গা করে নেন। কিন্তু চিঠির শেষ লাইনটি দেখে তার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে—প্রথম দিনই সাড়ে তিন হাজার ডলারের চেক জমা দিতে হবে। তখন সেই অর্থ ছিল তার কাছে আকাশচুম্বী। বাবা সাংবাদিকতায় ডিগ্রি শেষ করতে এমনিতেই অনেক খরচ করেছেন, তাই আর নতুন করে চাওয়ার সাহস ছিল না। সব আশা ছেড়ে চিঠিটা ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছিলেন তিনি। আহা, এই কথায় তালি দিয়ো না, মা-বাবা কিন্তু পাশেই বসে আছেন।

ভাগ্যের কী পরিহাস, তার পরের দিনই ডাকযোগে একটি চেক হাতে পান তিনি। এটি ছিল তার দাদির উইলের মাধ্যমে পাওয়া অর্থ, আর সেই চেকটির অংক ঠিক সাড়ে তিন হাজার ডলারই ছিল। সিনেমার গল্পের মতো সেই চেকটি দেখে তিনি স্থবির হয়ে গিয়েছিলেন। এরপর ডাস্টবিন থেকে সেই ছেঁড়া চিঠি উদ্ধার করে শুরু হয় তার অভিনয়জীবন। এরপর চার বছর একটানা পড়াশোনা করেছেন, একটি ক্লাসও মিস করেননি। এই আকস্মিক সংকেত বা অলৌকিক ঘটনা যেভাবেই দেখা হোক না কেন, জীবনের অনেক সংকেতই অনেক সময় ব্যর্থতার ছদ্মবেশে আসে বলে মনে করেন জ্যাকম্যান। শেষ পর্যন্ত নিজের হৃদয় আর ভেতরের কণ্ঠস্বর শোনার পরামর্শ দিয়ে তিনি সবাইকে আহ্বান জানিয়েছেন নিজেদের জীবন নিজের মতো করে যাপন করতে। হ্যাঁ, কোনোমতে ডিগ্রি পাওয়ার জন্য যতটুকু পড়াশোনা দরকার, ঠিক ততটুকুই করতাম। আচ্ছা ঠিক আছে, মানছি, এতটাও অলস হওয়া ঠিক না। হাতে–পায়ে ধরে আকুতি জানালাম, এবারের মতো ছেড়ে দিন।