১৯৯৩ সালের ১২ নভেম্বর মুক্তি পাওয়া ‘বাজিগর’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে যাত্রা শুরু করেছিলেন শিল্পা শেঠি। মাত্র ১৭-১৮ বছর বয়সে অভিষেকের সুযোগ পাওয়া এই সিনেমাটিই তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ৩ কোটি রুপি বাজেটের এই সিনেমা বক্স অফিসে দারুণ সাফল্য দেখিয়ে ৩২ কোটি রুপি আয় করেছিল। তবে এই জনপ্রিয়তার পেছনে ছিল শিল্পার প্রচুর পরিশ্রম ও ত্যাগ। লিকলিকে গড়নের শিল্পাকে দেখে কে বলবে তার বয়স একান্ন। ৩৩ বছর আগে ‘বাজিগর’ দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন, যা তার জীবনের গ্রাফই বদলে দিয়েছে। সিনেমাটি এই তিনজনকে তারকা বানিয়েছে। অভিষেক সিনেমায় শিল্পার বিশেষ কিছু ঘটনা নিয়ে এই প্রতিবেদন। তবে এই সিনেমা আগের ফ্লপের ব্যথা দূর করে দেয়। শটটি ছিল—আমাকে ফ্রেম থেকে বের হতে হবে, আর পেছনে একটি বেবি লাইট ছিল, সেখানে আমার পিঠ লেগে যায়। পুড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাপারটি ততটা বোঝা যায়নি; কিছুক্ষণ পর যখন জ্বালা শুরু হয়, তখন বুঝতে পারি। ”। এক সাক্ষাৎকারে শিল্পা জানান—তার এই সাফল্য সহজে ধরা দেয়নি।
শিল্পার অভিনয়ের শুরুর গল্পটি বেশ নাটকীয়।
পরিচালক জুটি আব্বাস-মাস্তান শুরুতে এই ছবির দুই বোনের চরিত্রে শ্রীদেবীকে নিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে তারা মত বদলান। ফলে তারা নতুন মুখ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু পোড়া থাকার কারণে তা ঠিকভাবে পরতে পারছিলাম না।
এরপর জুহি চাওলা ও মাধুরী দীক্ষিতের মতো তারকাদের ‘সীমা চোপড়া’ চরিত্রটির জন্য প্রস্তাব দেওয়া হলেও, চরিত্রটি ছোট হওয়ায় তারা রাজি হননি। সেই সুযোগেই শিল্পা শেঠি ক্যারিয়ারের প্রথম সুযোগটি পান। উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের ৮ জুন কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুতে জন্মগ্রহণকারী শিল্পা পরে মুম্বাইয়ে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করেন। কারণ তারা ভাবেন—একই নায়িকাকে পর্দায় দুইবার মরতে দেখা এবং শাহরুখের মতো একজন খলনায়কের হাতে খুন হতে দেখতে পছন্দ করবেন না দর্শকরা।
শুটিংয়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে শিল্পা জানান, ওই সময় ভিএফএক্স-এর সুবিধা না থাকায় প্রতিটি দৃশ্য বাস্তবসম্মতভাবে ফুটিয়ে তুলতে হতো। সিনেমার একটি দৃশ্যে বিল্ডিংয়ের ছাদ থেকে ফেলে দেওয়ার দৃশ্যটির জন্য তাকে কোমরে হারনেস বেঁধে ঝুলে থাকতে হয়েছিল, যার দাগ তিনি পরবর্তী ৮-১০ বছর বয়ে বেড়িয়েছেন। এছাড়া দৃশ্যটির নিখুঁত রূপায়ণের জন্য তাকে প্রায় ১৫ বার মরার দৃশ্য শুট করতে হয়েছিল বলে জানান অভিনেত্রী। বিতর্ক-সংগ্রামের পর বয়সকে সংখ্যায় আটকে রেখে কেবলই ছুটে চলেছেন এই অভিনেত্রী। মজার ব্যাপার হলো—দৃশ্যটির জন্য আমি ১৫ বার মরেছি। ”। তার ভাষায়—“এ ঘটনার পরের দিনও আমি শুটিংয়ে যাই। আমরা ওই দৃশ্যটি পাঁচবার শুট করেছিলাম। কিন্তু নির্মাতারা দৃশ্যটি ভালোভাবে চিত্রায়িত করতে চাচ্ছিলেন।
শুটিং সেটে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন শিল্পা। তিনি জানান, একটি শটের সময় এইচএমআই লাইটের সংস্পর্শে তার পিঠ পুড়ে গিয়েছিল। পোড়া ক্ষত নিয়েই পরের দিন শুটিং চালিয়ে যেতে হয়েছিল তাকে। এমনকি পোশাকের জিপার লাগানোর মতো অবস্থা না থাকায় তিনি পোশাকটি উল্টো করে পরে পেছনটা সেলাই করে নিতে বাধ্য হয়েছিলেন। অ্যাকশন ডিরেক্টর আকবর ভাইয়ের তত্ত্বাবধানে কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে কাজটি সম্পন্ন করতে হয়েছিল তাকে। তাই পোশাকটি সামনের দিক দিয়ে পরে পেছনটা সুতো দিয়ে সেলাই করে দিতে বলি।
অভিনয়ের পাশাপাশি সিনেমার গানগুলোও সেসময় দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। বিশেষ করে ‘বাজিগর ও বাজিগর’ এবং ‘ইয়ে কালি কালি আখি’ গান দুটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। সেসময় হিন্দি ভাষায় খুব একটা দক্ষ না হওয়ায় গানের ঠোঁট মেলানোর ক্ষেত্রেও শিল্পা সমস্যায় পড়েছিলেন। সেই সংকটময় মুহূর্তে সহশিল্পী শাহরুখ খান তাকে গানের সঠিক টেকনিক শিখিয়ে সহযোগিতা করেছিলেন। তখনো হিন্দি বা উর্দু ভাষায় খুব একটা পারদর্শী হয়ে ওঠেননি। ‘বাজিগর’ সিনেমার ‘অ্যায় মেরে হামসাফার’ গানের শুটিংয়ের সময় বিপত্তি বাঁধে।
পরবর্তীতে শিল্পা শেঠি তার অভিনয় দক্ষতায় হিন্দি ছাড়াও কন্নড়, তামিল ও তেলেগু ভাষার চলচ্চিত্রে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। কাজের বাইরেও তিনি বিভিন্ন দাতব্য কর্মকাণ্ডে জড়িত। তার অভিনীত ‘ফির মিলেঙ্গে’ সিনেমার অর্জিত আয় তিনি একজন এইচআইভি পজিটিভ রোগীকে চিকিৎসার জন্য অনুদান হিসেবে দিয়েছিলেন। ছোট চরিত্র দিয়ে শুরু করলেও শিল্পা আজ ইন্ডাস্ট্রির একজন নির্ভরযোগ্য অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলেছেন। শিল্পা শেঠি প্রায়ই নানা রকম দাতব্য কাজ করে থাকেন। টাইমস অব ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, টমরো অবলম্বনে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 























