ঢাকা ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আইজিপি: চাঁদাবাজির অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করার ক্ষমতা পাচ্ছে পুলিশ জাপান সফরে তারেক রহমান: অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন গতির আশা রাষ্ট্রদূতকে আনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়: শামা ওবায়েদ সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক চলছে স্মরণকালের সেরা দুর্গাপূজা উপহার দিলেন দেশনায়ক  তারেক রহমান ঢাকার বাস টার্মিনাল ও অটোরিকশা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সোহেল গরিবের বিচার, ধনীর বিচার এক করতে হবে —এটাই তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশ আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ বাংলাদেশ কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহাসিক বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি দ্বিগুণ যাত্রী সামলাতে হিমশিম দেশের বিমানবন্দরগুলো

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে শামা ওবায়েদের আহ্বান

আসন্ন জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩১ সামনে রেখে উন্নত বিশ্বকে তাদের জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশ। তাই আন্তর্জাতিক মহলের উচিত ঋণের বোঝা না চাপিয়ে অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন নিশ্চিত করা। শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘জনবান্ধব জলবায়ু নীতি: কপ-৩১ এ বাংলাদেশের অবস্থান’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বাংলাদেশে জলবায়ু বিষয়ে কর্মরত ৩৩টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং নাগরিক সমাজের সমন্বয়ে এ সংলাপের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল আসন্ন বৈশ্বিক সম্মেলনে বাংলাদেশের দাবি ও সুপারিশগুলো স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা। প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম উল্লেখ করেন, প্যারিস জলবায়ু চুক্তির এক দশক পেরিয়ে গেলেও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজের গতি ধীর। এখন কেবল অঙ্গীকার নয়, বরং এর বাস্তব অগ্রগতি নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। জলবায়ু অর্থায়নের স্বচ্ছতা বাড়ানোর পাশাপাশি অভিযোজন ও প্রশমন কার্যক্রমে ভারসাম্য বজায় রাখার ওপরও তিনি জোর দেন।

এ ধরনের আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। সেই সঙ্গে তিনি জলবায়ু বিষয়ে সচেতন তরুণ প্রজন্মকে এই আলোচনার মূলধারায় যুক্ত করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। কপ-৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশের পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্যের সম্ভাবনা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে বিশেষ ‘জুট প্যাভিলিয়ন’ তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। এর মাধ্যমে পাটের বৈশ্বিক বাজার প্রসারিত হলে স্থানীয় কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মির্জা শওকত আলী জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি হ্রাসে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করেন। ন্যাচার কনজার্ভেশন ম্যানেজমেন্টের (ন্যাকম) নির্বাহী পরিচালক ড. এস. এম. মঞ্জুরুল হান্নান খান তার স্বাগত বক্তব্যে একটি সমন্বিত ও শক্তিশালী জাতীয় পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সমাপনী বক্তব্যে একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, বাংলাদেশের মতো ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর ওপর ঋণের বোঝা চাপিয়ে জলবায়ু মোকাবিলা সম্ভব নয়। তাই বিশ্বনেতাদের প্রতি তার আহ্বান, সহজশর্তের অনুদান প্রদানের মাধ্যমে জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহতা থেকে উত্তরণে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে সংলাপটি শেষ হয়।

আপলোডকারীর তথ্য

শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে ৩৫ দিনে ৮৯ লাখ টাকা

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে শামা ওবায়েদের আহ্বান

আপডেট সময় ১০:৩০:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

আসন্ন জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩১ সামনে রেখে উন্নত বিশ্বকে তাদের জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশ। তাই আন্তর্জাতিক মহলের উচিত ঋণের বোঝা না চাপিয়ে অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন নিশ্চিত করা। শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘জনবান্ধব জলবায়ু নীতি: কপ-৩১ এ বাংলাদেশের অবস্থান’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বাংলাদেশে জলবায়ু বিষয়ে কর্মরত ৩৩টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং নাগরিক সমাজের সমন্বয়ে এ সংলাপের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল আসন্ন বৈশ্বিক সম্মেলনে বাংলাদেশের দাবি ও সুপারিশগুলো স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা। প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম উল্লেখ করেন, প্যারিস জলবায়ু চুক্তির এক দশক পেরিয়ে গেলেও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজের গতি ধীর। এখন কেবল অঙ্গীকার নয়, বরং এর বাস্তব অগ্রগতি নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। জলবায়ু অর্থায়নের স্বচ্ছতা বাড়ানোর পাশাপাশি অভিযোজন ও প্রশমন কার্যক্রমে ভারসাম্য বজায় রাখার ওপরও তিনি জোর দেন।

এ ধরনের আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। সেই সঙ্গে তিনি জলবায়ু বিষয়ে সচেতন তরুণ প্রজন্মকে এই আলোচনার মূলধারায় যুক্ত করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। কপ-৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশের পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্যের সম্ভাবনা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে বিশেষ ‘জুট প্যাভিলিয়ন’ তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। এর মাধ্যমে পাটের বৈশ্বিক বাজার প্রসারিত হলে স্থানীয় কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মির্জা শওকত আলী জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি হ্রাসে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করেন। ন্যাচার কনজার্ভেশন ম্যানেজমেন্টের (ন্যাকম) নির্বাহী পরিচালক ড. এস. এম. মঞ্জুরুল হান্নান খান তার স্বাগত বক্তব্যে একটি সমন্বিত ও শক্তিশালী জাতীয় পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সমাপনী বক্তব্যে একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, বাংলাদেশের মতো ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর ওপর ঋণের বোঝা চাপিয়ে জলবায়ু মোকাবিলা সম্ভব নয়। তাই বিশ্বনেতাদের প্রতি তার আহ্বান, সহজশর্তের অনুদান প্রদানের মাধ্যমে জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহতা থেকে উত্তরণে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে সংলাপটি শেষ হয়।