ঢাকা ১০:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্মরণকালের সেরা দুর্গাপূজা উপহার দিলেন দেশনায়ক  তারেক রহমান ঢাকার বাস টার্মিনাল ও অটোরিকশা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সোহেল গরিবের বিচার, ধনীর বিচার এক করতে হবে —এটাই তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশ আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ বাংলাদেশ কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহাসিক বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি দ্বিগুণ যাত্রী সামলাতে হিমশিম দেশের বিমানবন্দরগুলো মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল দলিল পেশ করলো তুরস্ক সাইবার আইনে মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হুমকিতে ফাঁসের ঘটনায় বিএআরসির সহকারী পরিচালক আটক: যুব উন্নয়নের ৪৫তম বিসিএসে গেজেট থেকে বাদ: অনিশ্চিত জীবনে ৫৬ মেধাবী

স্মরণকালের সেরা দুর্গাপূজা উপহার দিলেন দেশনায়ক  তারেক রহমান

শরতের স্নিগ্ধ বাতাসে যখন কাশফুল দোলে, শিউলির গন্ধে যখন ভরে ওঠে ভোরের আকাশ, তখনই বাঙালির হৃদয়ে বেজে ওঠে আগমনীর সুর। এবারের সেই সুর ছিল অন্য যেকোনো বারের চেয়ে ভিন্ন, অন্য যেকোনো বারের চেয়ে বেশি আনন্দের, বেশি আশার। কারণ এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব ছিল নতুন বাংলাদেশের প্রথম দুর্গোৎসব। জননন্দিত প্রধানমন্ত্রী, বিএনপির চেয়ারপার্সন, দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত এই দুর্গাপূজা কেবল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় আচার ছিল না, এটি ছিল ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ১৮ কোটি মানুষের মিলনের মহোৎসব। জমিদারি আমল থেকে থিম পুজো পর্যন্ত বহু ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে বাংলাদেশের দুর্গাপূজা আজ যে সর্বজনীন সম্প্রীতির চিরন্তন বার্তা বহন করছে, তার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হয়ে থাকবে ২০২৬ সালের এই পূজা।
সংখ্যার খাতায় নজিরবিহীন এক উৎসব : আবেগের পাশাপাশি পরিসংখ্যানও এবারের পূজার বিশালতাকে তুলে ধরে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এবার সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা স্বাধীনতার ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ২০২২ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী দেশে হিন্দু জনগোষ্ঠী প্রায় ৮ শতাংশ, সংখ্যায় প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর প্রাণের উৎসবকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সর্বোচ্চ মর্যাদা দিতে সরকারি অনুদান ৪ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এই ১ কোটি টাকা বৃদ্ধি কেবল অর্থের বৃদ্ধি নয়, এটি রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া এক ঐতিহাসিক সংকেত – এই রাষ্ট্র সবার, এই উৎসব সবার। এই সিদ্ধান্তে দেশের প্রতিটি মণ্ডপে আনন্দের বন্যা বয়ে গেছে।
ছুটির ইতিহাসে যুগান্তকারী অধ্যায় : এবারের পূজায় সবচেয়ে বড় চমক ছিল ছুটির সিদ্ধান্ত। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল দুর্গাপূজায় তিন দিনের ছুটি। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তা দুই দিন করা হয়েছিল। কিন্তু দেশনায়ক তারেক রহমান সেই দাবিকে হৃদয় দিয়ে অনুভব করেছেন। বাংলাদেশ সরকারি সংবাদ সংস্থা বাসসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০, ২১ ও ২২ অক্টোবর তিন দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। এর সঙ্গে ২৩ ও ২৪ অক্টোবরের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হয়ে টানা পাঁচ দিনের দীর্ঘ অবকাশে পরিণত হয়। এই পাঁচ দিন ছিল যেন ঈদের মতো আনন্দের। মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে নির্বিঘ্নে এক মণ্ডপ থেকে আরেক মণ্ডপে ঘুরেছে। এই একটি সিদ্ধান্ত কোটি মানুষের হৃদয় জয় করে নিয়েছে এবং প্রমাণ করেছে, এই সরকার মানুষের মনের ভাষা বোঝে।
নিরাপত্তার মহাকাব্য: ৩৩ হাজার মণ্ডপে নিশ্ছিদ্র প্রহরা :
উৎসবের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন মনে থাকে নির্ভয়। এবারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল স্বাধীনতার পর সবচেয়ে নজিরবিহীন। বাসসের ১২ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপকে কেন্দ্র করে ছিল সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা। প্রতিটি মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা, পুলিশের নিয়মিত টহল, আনসার বাহিনী, স্বেচ্ছাসেবক কমিটি, গোয়েন্দা নজরদারি এবং প্রয়োজনে আকাশপথে নজরদারির প্রস্তুতি রাখা হয়েছিল। দ্য ডেইলি স্টারের ১৬ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সীমান্তবর্তী ও দুর্গম এলাকার ২ হাজার ৭৮৭টি মণ্ডপের নিরাপত্তায় বিশেষভাবে নিয়োজিত ছিল বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ। অতীতে পূজার সময় যে উদ্বেগ, যে আতঙ্কের কালো মেঘ দেখা দিত, তারেক রহমানের দৃঢ় নেতৃত্বে তা সম্পূর্ণভাবে দূর হয়ে গেছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি, যা ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর তিন শহরে ছুটে চলা: ইতিহাসের নতুন পাতা :
বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর বাইরে গিয়ে একাধিক বিভাগীয় শহরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রামে ছুটে গিয়ে ভক্তদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন এবং সম্প্রীতি ও সমানাধিকারের দৃঢ় বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে সবার সমমর্যাদা ও সমানাধিকার সংবিধানস্বীকৃত। তাঁর এই উপস্থিতি ছিল শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি ছিল অভিভাবকের মতো আশ্বাস। একজন প্রধানমন্ত্রী যখন নিজে মণ্ডপে দাঁড়িয়ে বলেন “আপনারা নির্ভয়ে উৎসব করুন, রাষ্ট্র আপনাদের পাশে আছে”, তখন তার চেয়ে বড় নিরাপত্তা আর কী হতে পারে? এই ঘটনা সবার নজর কেড়েছে এবং দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে।
ঢাকার বনানী থেকে জগন্নাথ হল: শিল্প ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন : এবারের পূজার সৌন্দর্য ছিল তার বৈচিত্র্যে। ঢাকার অভিজাত বনানীর মণ্ডপে ছিল থিম পূজার আধুনিক শিল্পভাবনা – বাঁশ, বেত, মাটি ও ঝিনুক-মুক্তোর কারুকাজে সজ্জিত মণ্ডপ দেখতে সপ্তমীর সন্ধ্যায় কয়েকশো মিটার লম্বা লাইন পড়েছিল। অন্যদিকে রামকৃষ্ণ মিশনে ছিল শান্ত, স্নিগ্ধ, আধ্যাত্মিক একচালা প্রতিমার আরাধনা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের পূজায় ছিল তারুণ্যের উচ্ছ্বাস ও আলোকসজ্জার বর্ণিল রূপ। ঐতিহাসিক ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গভীর রাত পর্যন্ত ছিল ভক্তের ঢল। জগন্নাথ হলের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবরের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার স্মৃতিও, ফলে উৎসবের আলোর পাশাপাশি এই স্থান অতীতকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
নারায়ণগঞ্জের শতবর্ষী পূজা ও বাবা-মা-কন্যার গল্প :
ঢাকার পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জের পূজা ছিল অন্যরকম বৈচিত্র্যে ভরা। আমলাপাড়া সর্বজনীন পূজা তার ১৪৪ বছরের দীর্ঘ ঐতিহ্যের জন্য উল্লেখযোগ্য। তানবাজারের সর্বজনীন পূজা ৮৫ বছরের পুরনো। রামকানাই আখড়ার পূজায় মণ্ডপসজ্জার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে বাবার সঙ্গে সন্তানের সম্পর্ক, অন্য একটি মণ্ডপে মাতৃত্বের মহিমা, আর নিতাইগঞ্জের পূজায় কন্যাকে ঘিরে বাবার হাত ধরে হাঁটতে শেখা থেকে কন্যাদানের সামাজিক ভাবনা। এই তিনটি বিষয় – বাবা, মা এবং কন্যা – নারায়ণগঞ্জের পূজাগুলির মধ্যে এক আকর্ষণীয় যোগসূত্র তৈরি করেছে। দেবীর আরাধনার পাশাপাশি মানুষের সম্পর্ক, ভালোবাসা ও পারিবারিক মূল্যবোধকে শিল্পের মাধ্যমে প্রকাশ করার এই প্রচেষ্টা উৎসবকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসার জোয়ার ও দুই বাংলার সেতুবন্ধন : এবারের পূজা কেমন কেটেছে, তার সবচেয়ে বড় সাক্ষ্য দিচ্ছে সাধারণ মানুষ। ২১ অক্টোবর ‘প্রথম কলকাতা’র ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বাংলাদেশের পূজার ছবি দিয়ে লেখা হয়, “সীমান্ত আলাদা কিন্তু দুর্গাপূজার আনন্দ কি আলাদা হয়?” সেই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে হাজারো মানুষ লিখেছেন – বিশনু শীল লিখেছেন “স্বাধীনতার পর এই তারেক রহমান সরকারের আমলেই সনাতনীরা পূর্ণ আনন্দ নিয়ে পূজা করছে”, অনুপম বিশ্বাস লিখেছেন “আমার চোখে বিগত ২০ বছরের সেরা পূজা”, রণবীর বণিক লিখেছেন “বাপের জন্মে এরচেয়ে ভালো, সুন্দর, সুশৃঙ্খল পূজা দেখি নাই”। ভারতীয় হাইকমিশনার বনানীর মণ্ডপ পরিদর্শন করে বাংলাদেশের সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের প্রশংসা করেছেন। এটি দুই বাংলার সাংস্কৃতিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করেছে।
জিয়া পরিবারের রক্তে প্রবাহিত সম্প্রীতির ঐতিহ্য : তারেক রহমানের এই অসাম্প্রদায়িক চেতনা হঠাৎ গজিয়ে ওঠা কোনো রাজনৈতিক কৌশল নয়, এটি তাঁর পরিবারের রক্তে প্রবাহিত ঐতিহ্য। মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের দর্শন দিয়েছিলেন, তার মূলমন্ত্রই ছিল ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমমর্যাদা। তাঁর সেই আদর্শকে বুকে ধারণ করে গণতন্ত্রের মা, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজীবন সকল ধর্মের মানুষকে আপন করে নিয়েছেন। আজ তাঁদেরই সুযোগ্য উত্তরসূরি, দেশনায়ক তারেক রহমান সেই একই আলোর মশাল হাতে নিয়ে এগিয়ে চলেছেন। তাঁর সহধর্মিণী বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমানের মানবিকতা ও মানবসেবা এবং তাঁর কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের আধুনিক, উদার, প্রগতিশীল ও শিক্ষিত ভাবনা এই সরকারের সম্প্রীতির দর্শনকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। এই পরিবারটি বারবার প্রমাণ করেছে, তারা ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের ভালোবাসার জন্য রাজনীতি করে।
বিভেদের রাজনীতির অবসান : অতীতে একটি চিহ্নিত গোষ্ঠী প্রতিবার দুর্গাপূজা এলেই অশান্তি সৃষ্টি করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চাইত। মণ্ডপে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর, গুজব ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক বিভাজন তৈরিই ছিল তাদের হাতিয়ার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুষ্পিতা নামে একজন যথার্থই লিখেছেন, “হাসিনার সরকার এত বছর বিভিন্ন পূজা মণ্ডপে হামলা ভাঙচুর করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতো। তারেক রহমানের সরকার এবার এর শক্ত জবাব দিয়ে দিলো শান্তিপূর্ণ পূজা উদযাপনের মাধ্যমে।” এবার তারেক রহমানের সরকার কঠোর হাতে সেই অপচেষ্টা রুখে দিয়েছে। সরকার প্রমাণ করে দিয়েছে, সদিচ্ছা থাকলে জটিল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতেও দেশজুড়ে এত বড় উৎসব নির্বিঘ্নে করা সম্ভব।
বিজয়া দশমী ও শান্তিজলের বার্তা : আনন্দ, উচ্ছ্বাস আর বিদায়ের করুণ সুরের মধ্য দিয়ে ২১ অক্টোবর শেষ হয়েছে দুর্গাপূজা। ষষ্ঠী থেকে শুরু হয়ে দশমীতে বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী মর্ত্য থেকে কৈলাসে ফিরে গেছেন। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির যৌথ উদ্যোগে ঢাকেশ্বরী থেকে পলাশী, শহীদ মিনার হয়ে সদরঘাট পর্যন্ত বর্ণাঢ্য বিজয়া শোভাযাত্রা বের হয়। প্রথা অনুযায়ী, বিসর্জনের পর শান্তিজল এনে মঙ্গলঘটে রাখা হয়। এই শান্তিজলই হলো সম্প্রীতির প্রতীক, যা আগামী বছর আবার প্রতিমায় প্রাণ প্রতিষ্ঠা করবে। এই শান্তিজলই তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশের প্রতীক।
এই প্রসঙ্গে বিএনপির গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক, শিক্ষক সংগঠন সাদা দলের আহ্বায়ক ও ইউট্যাব এর মহাসচিব এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্য, মার্কেটিং বিভাগের সিনিয়র অধ্যাপক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষক অধ্যাপক ড. মোঃ মোর্শেদ হাসান খান যেমন বলেন, “এবারের শারদীয় দুর্গাপূজা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। আমি একজন শিক্ষক হিসেবে অত্যন্ত দায়িত্ব নিয়ে বলছি – স্বাধীনতার পর এত সুন্দর, এত সুশৃঙ্খল, এত নিরাপদ ও এত উৎসবমুখর দুর্গাপূজা আমি দেখিনি। ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা, ৫ কোটি টাকার অনুদান এবং টানা পাঁচ দিনের ছুটি রাষ্ট্রনায়কোচিত দূরদর্শিতার প্রমাণ। জননন্দিত প্রধানমন্ত্রী, দেশনায়ক তারেক রহমানের সরকার প্রমাণ করে দিয়েছে, সদিচ্ছা থাকলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বাস্তবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। এটি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের দর্শন – সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের সমমর্যাদা – তারই বাস্তব প্রতিফলন। আমি এই সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।”
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব ও বিএনপির মিডিয়া সেল এর সদস্য মোঃ আতিকুর রহমান রুমন বলেন, “এবারের দুর্গাপূজা ছিল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক তারেক রহমানের সরাসরি তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত একটি ঐতিহাসিক উৎসব। তিনি প্রতিদিন, প্রতি ঘণ্টায় প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে মাঠ পর্যায় পর্যন্ত সার্বক্ষণিক মনিটরিং করেছেন। তিনি স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছিলেন – একটি মণ্ডপেও যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। তাঁর নির্দেশনায় পুলিশ, প্রশাসন, আনসার, বিজিবি ও স্বেচ্ছাসেবকরা একযোগে কাজ করেছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে তিনটি বিভাগীয় শহরে গিয়ে যে সাহস ও ভরসা দিয়েছেন, তাতে সনাতনী ভাই-বোনেরা নতুন করে আস্থা ফিরে পেয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে প্রশংসার জোয়ার, তা-ই প্রমাণ করে, মানুষ সত্য ও শান্তির পক্ষে। এটি কেবল পূজা উদযাপন নয়, এটি তারেক রহমানের নতুন, নিরাপদ ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারের বাস্তবায়ন।”
সকল ধর্মের মানুষের মিলনমেলা : দুর্গাপূজা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এবারের পূজায় হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশাপাশি মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ অন্য ধর্মের মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছে। ঢাকার বনানীর মণ্ডপে মানুষের দীর্ঘ সারি, জগন্নাথ হলের তরুণদের উপস্থিতি, ঢাকেশ্বরী মন্দিরের গভীর রাতের উৎসব এবং নারায়ণগঞ্জের পাড়ায় পাড়ায় আলোকসজ্জা সেই অংশগ্রহণের নানা রূপ তুলে ধরেছে। রবিন সরকারের ভাষায়, “এই উৎসব ছিল সারা বাংলাদেশের সব শ্রেণীর মানুষের। ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার, আমরা সবাই বাংলাদেশী – এটাই আমাদের পরিচয়।” এই চেতনাই এবারের পূজার সবচেয়ে বড় অর্জন।
পরিশেষে, আমরা গভীর স্বস্তি ও আনন্দের সঙ্গে বলতে চাই, তারেক রহমানের সরকার যে নজিরবিহীন উৎসবমুখর, নিরাপদ ও আনন্দঘন পূজা উপহার দিয়েছে, তা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। একটি গণতান্ত্রিক সমাজে অবশ্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে কোনো উৎসবকে নিরাপদ করতে হয় না, স্বাভাবিক পরিবেশই সবার জন্য নিরাপদ থাকার কথা। কিন্তু অতীতের ক্ষত সারাতে যে বিশেষ উদ্যোগ এবার নেওয়া হয়েছে, আমরা চাই সেই উদ্যোগের অন্তর্নিহিত চেতনাটি স্থায়ী হোক। প্রতি বছর, প্রতিটি উৎসবে, প্রতিটি দিন যেন সকল নাগরিক সমমর্যাদা ও নির্ভয়ে বাঁচতে পারে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে সম্প্রীতির যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা শুরু হয়েছে, তার এই ধারা বহাল থাকুক, আরও সুদৃঢ় হোক – কোটি মানুষের এটাই আজ একমাত্র প্রার্থনা।
লেখক : জুবাইয়া বিন্তে কবির
অর্থনীতিবিদ, গবেষক,  সাংবাদিক ও কলামিস্ট
Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

যুক্তরাজ্যে মানব পাচারকারী চক্রের ২১ সদস্যের কারাদণ্ড

স্মরণকালের সেরা দুর্গাপূজা উপহার দিলেন দেশনায়ক  তারেক রহমান

আপডেট সময় ০৯:৩৬:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
শরতের স্নিগ্ধ বাতাসে যখন কাশফুল দোলে, শিউলির গন্ধে যখন ভরে ওঠে ভোরের আকাশ, তখনই বাঙালির হৃদয়ে বেজে ওঠে আগমনীর সুর। এবারের সেই সুর ছিল অন্য যেকোনো বারের চেয়ে ভিন্ন, অন্য যেকোনো বারের চেয়ে বেশি আনন্দের, বেশি আশার। কারণ এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব ছিল নতুন বাংলাদেশের প্রথম দুর্গোৎসব। জননন্দিত প্রধানমন্ত্রী, বিএনপির চেয়ারপার্সন, দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত এই দুর্গাপূজা কেবল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় আচার ছিল না, এটি ছিল ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ১৮ কোটি মানুষের মিলনের মহোৎসব। জমিদারি আমল থেকে থিম পুজো পর্যন্ত বহু ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে বাংলাদেশের দুর্গাপূজা আজ যে সর্বজনীন সম্প্রীতির চিরন্তন বার্তা বহন করছে, তার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হয়ে থাকবে ২০২৬ সালের এই পূজা।
সংখ্যার খাতায় নজিরবিহীন এক উৎসব : আবেগের পাশাপাশি পরিসংখ্যানও এবারের পূজার বিশালতাকে তুলে ধরে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এবার সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা স্বাধীনতার ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ২০২২ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী দেশে হিন্দু জনগোষ্ঠী প্রায় ৮ শতাংশ, সংখ্যায় প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর প্রাণের উৎসবকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সর্বোচ্চ মর্যাদা দিতে সরকারি অনুদান ৪ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এই ১ কোটি টাকা বৃদ্ধি কেবল অর্থের বৃদ্ধি নয়, এটি রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া এক ঐতিহাসিক সংকেত – এই রাষ্ট্র সবার, এই উৎসব সবার। এই সিদ্ধান্তে দেশের প্রতিটি মণ্ডপে আনন্দের বন্যা বয়ে গেছে।
ছুটির ইতিহাসে যুগান্তকারী অধ্যায় : এবারের পূজায় সবচেয়ে বড় চমক ছিল ছুটির সিদ্ধান্ত। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল দুর্গাপূজায় তিন দিনের ছুটি। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তা দুই দিন করা হয়েছিল। কিন্তু দেশনায়ক তারেক রহমান সেই দাবিকে হৃদয় দিয়ে অনুভব করেছেন। বাংলাদেশ সরকারি সংবাদ সংস্থা বাসসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০, ২১ ও ২২ অক্টোবর তিন দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। এর সঙ্গে ২৩ ও ২৪ অক্টোবরের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হয়ে টানা পাঁচ দিনের দীর্ঘ অবকাশে পরিণত হয়। এই পাঁচ দিন ছিল যেন ঈদের মতো আনন্দের। মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে নির্বিঘ্নে এক মণ্ডপ থেকে আরেক মণ্ডপে ঘুরেছে। এই একটি সিদ্ধান্ত কোটি মানুষের হৃদয় জয় করে নিয়েছে এবং প্রমাণ করেছে, এই সরকার মানুষের মনের ভাষা বোঝে।
নিরাপত্তার মহাকাব্য: ৩৩ হাজার মণ্ডপে নিশ্ছিদ্র প্রহরা :
উৎসবের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন মনে থাকে নির্ভয়। এবারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল স্বাধীনতার পর সবচেয়ে নজিরবিহীন। বাসসের ১২ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপকে কেন্দ্র করে ছিল সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা। প্রতিটি মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা, পুলিশের নিয়মিত টহল, আনসার বাহিনী, স্বেচ্ছাসেবক কমিটি, গোয়েন্দা নজরদারি এবং প্রয়োজনে আকাশপথে নজরদারির প্রস্তুতি রাখা হয়েছিল। দ্য ডেইলি স্টারের ১৬ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সীমান্তবর্তী ও দুর্গম এলাকার ২ হাজার ৭৮৭টি মণ্ডপের নিরাপত্তায় বিশেষভাবে নিয়োজিত ছিল বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ। অতীতে পূজার সময় যে উদ্বেগ, যে আতঙ্কের কালো মেঘ দেখা দিত, তারেক রহমানের দৃঢ় নেতৃত্বে তা সম্পূর্ণভাবে দূর হয়ে গেছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি, যা ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর তিন শহরে ছুটে চলা: ইতিহাসের নতুন পাতা :
বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর বাইরে গিয়ে একাধিক বিভাগীয় শহরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রামে ছুটে গিয়ে ভক্তদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন এবং সম্প্রীতি ও সমানাধিকারের দৃঢ় বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে সবার সমমর্যাদা ও সমানাধিকার সংবিধানস্বীকৃত। তাঁর এই উপস্থিতি ছিল শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি ছিল অভিভাবকের মতো আশ্বাস। একজন প্রধানমন্ত্রী যখন নিজে মণ্ডপে দাঁড়িয়ে বলেন “আপনারা নির্ভয়ে উৎসব করুন, রাষ্ট্র আপনাদের পাশে আছে”, তখন তার চেয়ে বড় নিরাপত্তা আর কী হতে পারে? এই ঘটনা সবার নজর কেড়েছে এবং দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে।
ঢাকার বনানী থেকে জগন্নাথ হল: শিল্প ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন : এবারের পূজার সৌন্দর্য ছিল তার বৈচিত্র্যে। ঢাকার অভিজাত বনানীর মণ্ডপে ছিল থিম পূজার আধুনিক শিল্পভাবনা – বাঁশ, বেত, মাটি ও ঝিনুক-মুক্তোর কারুকাজে সজ্জিত মণ্ডপ দেখতে সপ্তমীর সন্ধ্যায় কয়েকশো মিটার লম্বা লাইন পড়েছিল। অন্যদিকে রামকৃষ্ণ মিশনে ছিল শান্ত, স্নিগ্ধ, আধ্যাত্মিক একচালা প্রতিমার আরাধনা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের পূজায় ছিল তারুণ্যের উচ্ছ্বাস ও আলোকসজ্জার বর্ণিল রূপ। ঐতিহাসিক ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গভীর রাত পর্যন্ত ছিল ভক্তের ঢল। জগন্নাথ হলের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবরের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার স্মৃতিও, ফলে উৎসবের আলোর পাশাপাশি এই স্থান অতীতকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
নারায়ণগঞ্জের শতবর্ষী পূজা ও বাবা-মা-কন্যার গল্প :
ঢাকার পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জের পূজা ছিল অন্যরকম বৈচিত্র্যে ভরা। আমলাপাড়া সর্বজনীন পূজা তার ১৪৪ বছরের দীর্ঘ ঐতিহ্যের জন্য উল্লেখযোগ্য। তানবাজারের সর্বজনীন পূজা ৮৫ বছরের পুরনো। রামকানাই আখড়ার পূজায় মণ্ডপসজ্জার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে বাবার সঙ্গে সন্তানের সম্পর্ক, অন্য একটি মণ্ডপে মাতৃত্বের মহিমা, আর নিতাইগঞ্জের পূজায় কন্যাকে ঘিরে বাবার হাত ধরে হাঁটতে শেখা থেকে কন্যাদানের সামাজিক ভাবনা। এই তিনটি বিষয় – বাবা, মা এবং কন্যা – নারায়ণগঞ্জের পূজাগুলির মধ্যে এক আকর্ষণীয় যোগসূত্র তৈরি করেছে। দেবীর আরাধনার পাশাপাশি মানুষের সম্পর্ক, ভালোবাসা ও পারিবারিক মূল্যবোধকে শিল্পের মাধ্যমে প্রকাশ করার এই প্রচেষ্টা উৎসবকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসার জোয়ার ও দুই বাংলার সেতুবন্ধন : এবারের পূজা কেমন কেটেছে, তার সবচেয়ে বড় সাক্ষ্য দিচ্ছে সাধারণ মানুষ। ২১ অক্টোবর ‘প্রথম কলকাতা’র ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বাংলাদেশের পূজার ছবি দিয়ে লেখা হয়, “সীমান্ত আলাদা কিন্তু দুর্গাপূজার আনন্দ কি আলাদা হয়?” সেই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে হাজারো মানুষ লিখেছেন – বিশনু শীল লিখেছেন “স্বাধীনতার পর এই তারেক রহমান সরকারের আমলেই সনাতনীরা পূর্ণ আনন্দ নিয়ে পূজা করছে”, অনুপম বিশ্বাস লিখেছেন “আমার চোখে বিগত ২০ বছরের সেরা পূজা”, রণবীর বণিক লিখেছেন “বাপের জন্মে এরচেয়ে ভালো, সুন্দর, সুশৃঙ্খল পূজা দেখি নাই”। ভারতীয় হাইকমিশনার বনানীর মণ্ডপ পরিদর্শন করে বাংলাদেশের সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের প্রশংসা করেছেন। এটি দুই বাংলার সাংস্কৃতিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করেছে।
জিয়া পরিবারের রক্তে প্রবাহিত সম্প্রীতির ঐতিহ্য : তারেক রহমানের এই অসাম্প্রদায়িক চেতনা হঠাৎ গজিয়ে ওঠা কোনো রাজনৈতিক কৌশল নয়, এটি তাঁর পরিবারের রক্তে প্রবাহিত ঐতিহ্য। মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের দর্শন দিয়েছিলেন, তার মূলমন্ত্রই ছিল ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমমর্যাদা। তাঁর সেই আদর্শকে বুকে ধারণ করে গণতন্ত্রের মা, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজীবন সকল ধর্মের মানুষকে আপন করে নিয়েছেন। আজ তাঁদেরই সুযোগ্য উত্তরসূরি, দেশনায়ক তারেক রহমান সেই একই আলোর মশাল হাতে নিয়ে এগিয়ে চলেছেন। তাঁর সহধর্মিণী বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমানের মানবিকতা ও মানবসেবা এবং তাঁর কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের আধুনিক, উদার, প্রগতিশীল ও শিক্ষিত ভাবনা এই সরকারের সম্প্রীতির দর্শনকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। এই পরিবারটি বারবার প্রমাণ করেছে, তারা ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের ভালোবাসার জন্য রাজনীতি করে।
বিভেদের রাজনীতির অবসান : অতীতে একটি চিহ্নিত গোষ্ঠী প্রতিবার দুর্গাপূজা এলেই অশান্তি সৃষ্টি করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চাইত। মণ্ডপে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর, গুজব ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক বিভাজন তৈরিই ছিল তাদের হাতিয়ার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুষ্পিতা নামে একজন যথার্থই লিখেছেন, “হাসিনার সরকার এত বছর বিভিন্ন পূজা মণ্ডপে হামলা ভাঙচুর করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতো। তারেক রহমানের সরকার এবার এর শক্ত জবাব দিয়ে দিলো শান্তিপূর্ণ পূজা উদযাপনের মাধ্যমে।” এবার তারেক রহমানের সরকার কঠোর হাতে সেই অপচেষ্টা রুখে দিয়েছে। সরকার প্রমাণ করে দিয়েছে, সদিচ্ছা থাকলে জটিল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতেও দেশজুড়ে এত বড় উৎসব নির্বিঘ্নে করা সম্ভব।
বিজয়া দশমী ও শান্তিজলের বার্তা : আনন্দ, উচ্ছ্বাস আর বিদায়ের করুণ সুরের মধ্য দিয়ে ২১ অক্টোবর শেষ হয়েছে দুর্গাপূজা। ষষ্ঠী থেকে শুরু হয়ে দশমীতে বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী মর্ত্য থেকে কৈলাসে ফিরে গেছেন। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির যৌথ উদ্যোগে ঢাকেশ্বরী থেকে পলাশী, শহীদ মিনার হয়ে সদরঘাট পর্যন্ত বর্ণাঢ্য বিজয়া শোভাযাত্রা বের হয়। প্রথা অনুযায়ী, বিসর্জনের পর শান্তিজল এনে মঙ্গলঘটে রাখা হয়। এই শান্তিজলই হলো সম্প্রীতির প্রতীক, যা আগামী বছর আবার প্রতিমায় প্রাণ প্রতিষ্ঠা করবে। এই শান্তিজলই তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশের প্রতীক।
এই প্রসঙ্গে বিএনপির গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক, শিক্ষক সংগঠন সাদা দলের আহ্বায়ক ও ইউট্যাব এর মহাসচিব এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্য, মার্কেটিং বিভাগের সিনিয়র অধ্যাপক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষক অধ্যাপক ড. মোঃ মোর্শেদ হাসান খান যেমন বলেন, “এবারের শারদীয় দুর্গাপূজা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। আমি একজন শিক্ষক হিসেবে অত্যন্ত দায়িত্ব নিয়ে বলছি – স্বাধীনতার পর এত সুন্দর, এত সুশৃঙ্খল, এত নিরাপদ ও এত উৎসবমুখর দুর্গাপূজা আমি দেখিনি। ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা, ৫ কোটি টাকার অনুদান এবং টানা পাঁচ দিনের ছুটি রাষ্ট্রনায়কোচিত দূরদর্শিতার প্রমাণ। জননন্দিত প্রধানমন্ত্রী, দেশনায়ক তারেক রহমানের সরকার প্রমাণ করে দিয়েছে, সদিচ্ছা থাকলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বাস্তবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। এটি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের দর্শন – সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের সমমর্যাদা – তারই বাস্তব প্রতিফলন। আমি এই সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।”
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব ও বিএনপির মিডিয়া সেল এর সদস্য মোঃ আতিকুর রহমান রুমন বলেন, “এবারের দুর্গাপূজা ছিল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক তারেক রহমানের সরাসরি তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত একটি ঐতিহাসিক উৎসব। তিনি প্রতিদিন, প্রতি ঘণ্টায় প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে মাঠ পর্যায় পর্যন্ত সার্বক্ষণিক মনিটরিং করেছেন। তিনি স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছিলেন – একটি মণ্ডপেও যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। তাঁর নির্দেশনায় পুলিশ, প্রশাসন, আনসার, বিজিবি ও স্বেচ্ছাসেবকরা একযোগে কাজ করেছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে তিনটি বিভাগীয় শহরে গিয়ে যে সাহস ও ভরসা দিয়েছেন, তাতে সনাতনী ভাই-বোনেরা নতুন করে আস্থা ফিরে পেয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে প্রশংসার জোয়ার, তা-ই প্রমাণ করে, মানুষ সত্য ও শান্তির পক্ষে। এটি কেবল পূজা উদযাপন নয়, এটি তারেক রহমানের নতুন, নিরাপদ ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারের বাস্তবায়ন।”
সকল ধর্মের মানুষের মিলনমেলা : দুর্গাপূজা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এবারের পূজায় হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশাপাশি মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ অন্য ধর্মের মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছে। ঢাকার বনানীর মণ্ডপে মানুষের দীর্ঘ সারি, জগন্নাথ হলের তরুণদের উপস্থিতি, ঢাকেশ্বরী মন্দিরের গভীর রাতের উৎসব এবং নারায়ণগঞ্জের পাড়ায় পাড়ায় আলোকসজ্জা সেই অংশগ্রহণের নানা রূপ তুলে ধরেছে। রবিন সরকারের ভাষায়, “এই উৎসব ছিল সারা বাংলাদেশের সব শ্রেণীর মানুষের। ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার, আমরা সবাই বাংলাদেশী – এটাই আমাদের পরিচয়।” এই চেতনাই এবারের পূজার সবচেয়ে বড় অর্জন।
পরিশেষে, আমরা গভীর স্বস্তি ও আনন্দের সঙ্গে বলতে চাই, তারেক রহমানের সরকার যে নজিরবিহীন উৎসবমুখর, নিরাপদ ও আনন্দঘন পূজা উপহার দিয়েছে, তা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। একটি গণতান্ত্রিক সমাজে অবশ্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে কোনো উৎসবকে নিরাপদ করতে হয় না, স্বাভাবিক পরিবেশই সবার জন্য নিরাপদ থাকার কথা। কিন্তু অতীতের ক্ষত সারাতে যে বিশেষ উদ্যোগ এবার নেওয়া হয়েছে, আমরা চাই সেই উদ্যোগের অন্তর্নিহিত চেতনাটি স্থায়ী হোক। প্রতি বছর, প্রতিটি উৎসবে, প্রতিটি দিন যেন সকল নাগরিক সমমর্যাদা ও নির্ভয়ে বাঁচতে পারে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে সম্প্রীতির যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা শুরু হয়েছে, তার এই ধারা বহাল থাকুক, আরও সুদৃঢ় হোক – কোটি মানুষের এটাই আজ একমাত্র প্রার্থনা।
লেখক : জুবাইয়া বিন্তে কবির
অর্থনীতিবিদ, গবেষক,  সাংবাদিক ও কলামিস্ট