ঢাকা ১২:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আইজিপি: চাঁদাবাজির অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করার ক্ষমতা পাচ্ছে পুলিশ জাপান সফরে তারেক রহমান: অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন গতির আশা রাষ্ট্রদূতকে আনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়: শামা ওবায়েদ সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক চলছে স্মরণকালের সেরা দুর্গাপূজা উপহার দিলেন দেশনায়ক  তারেক রহমান ঢাকার বাস টার্মিনাল ও অটোরিকশা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সোহেল গরিবের বিচার, ধনীর বিচার এক করতে হবে —এটাই তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশ আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ বাংলাদেশ কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহাসিক বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি দ্বিগুণ যাত্রী সামলাতে হিমশিম দেশের বিমানবন্দরগুলো

জাপান সফরে প্রধানমন্ত্রী: অবকাঠামো ও বিনিয়োগে ১৩.৮ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে আজ রাতে টোকিওর উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার, ২৬ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত তিনি জাপানে অবস্থান করবেন। প্রধানমন্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় কৌশলগত সম্পর্ক, অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয় ও ঋণের সুদের হার কমানো এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রসারের মতো বিষয়গুলো আলোচনায় প্রাধান্য পাবে। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানো, বিনিয়োগসংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং ব্যবসায়িক আস্থা জোরদারের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাবে।

সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে। সেখানে জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা তাকে স্বাগত জানাবেন। প্রধানমন্ত্রী তার সফরের পুরো সময় টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে অবস্থান করবেন।

সোমবার প্রথম দিনেই প্রধানমন্ত্রী ব্যস্ত সময় পার করবেন। বিকালে তিনি জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগের সভাপতি তারো আসোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এ সময় জাপানের ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী তাতসুনোরি ইবায়াশিও উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া তিনি জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি এবং জাইকা প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করবেন। সন্ধ্যায় নিপ্পন ফাউন্ডেশন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের সম্মানসূচক চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়ার দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেবেন তিনি। কর্মকর্তা ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা জাপান যাবেন।

সফরের দ্বিতীয় দিন, ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হবে। বৈঠকের পর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর যৌথ সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে এবং এরপর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। আলোচনার প্রধান এজেন্ডার মধ্যে রয়েছে মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যয় কমানো এবং জাপান থেকে নেওয়া ঋণের সুদের হার হ্রাস করা।

একই দিন তিনি জাপানের চিবা প্রিফেকচারের ফুতসু শহরে জেরা (JERA)-এর এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করবেন। এরপর ইচিকাওয়া শহরে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করার কথা রয়েছে।

তৃতীয় দিন ২৮ অক্টোবর, প্রধানমন্ত্রী জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (JBIC) গভর্নর কাজুহিকো আমাকাওয়ার সঙ্গে বৈঠক করবেন। পরে তিনি ইউনিক্লোর সদর দপ্তরে প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এছাড়া জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো)-এর প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকার সঙ্গে বৈঠক ও মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন। এছাড়া মিৎসুই, সুমিতোমোসহ ১৪টি বিশিষ্ট কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার গ্রুপ মিটিংয়ের কর্মসূচি রয়েছে।

২৮ অক্টোবর বিকেলে টোকিওতে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী। সন্ধ্যায় দূতাবাসের শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গেও দেখা করবেন তিনি। গত ২০ অক্টোবর বাংলাদেশ ও জাপান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ সফরের ঘোষণা দেয়।

সফরের শেষ দিন, ২৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শিনকানসেন বা বুলেট ট্রেনে করে টোকিও থেকে নাগোয়া সফর করবেন। সেখানে তিনি টয়োটা মোটর করপোরেশনের মটোমাচি কারখানা পরিদর্শন করবেন এবং টয়োটা সুসো করপোরেশনের প্রধান নির্বাহীর দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেবেন। এরপর টয়োটা কমেমোরেটিভ মিউজিয়াম পরিদর্শনের পর বুলেট ট্রেনে টোকিও ফিরে সেখান থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ঢাকার পথে রওনা দেবেন। বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে তার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ সরকার ২০২৬-৩১ মেয়াদে জাপানের সঙ্গে ১৩.৮ বিলিয়ন ডলারের একটি বিনিয়োগ প্যাকেজের প্রস্তাব প্রস্তুত করেছে। এর মধ্যে পরিবহণ ও নগর উন্নয়নে ৩.৪৫ বিলিয়ন, মাতারবাড়ীসহ শিল্প বন্দর উন্নয়নে ৩.১৪ বিলিয়ন, উৎপাদন ও ইলেকট্রনিকস খাতে ১.৫৭ বিলিয়ন এবং জ্বালানি ও সবুজ রূপান্তরে ১.২৬ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া কৃষি, ওষুধ, আইসিটি ও পর্যটন খাতে ৩.৪৫ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এসব বৈঠকে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পায়ন, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশ, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ডিজিটাল উদ্ভাবন ও গবেষণার মতো নতুন ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া কৃষি, ওষুধশিল্প, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, ব্লু ইকোনমি, পর্যটন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পসহ অন্যান্য খাতে ৩.৪৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত প্যাকেজের কিছু উদ্যোগ বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয় (বিআইজি-বি) উদ্যোগের আওতাভুক্ত। এতে পরিবহণ ও নগর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ৩.৪৫ বিলিয়ন ডলার, মাতারবাড়ীসহ সমন্বিত শিল্প, বন্দর ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র গড়ে তুলতে ৩.১৪ বিলিয়ন ডলার, উৎপাদন ও ইলেকট্রনিকস খাতে ১.৫৭ বিলিয়ন ডলার, জ্বালানি ও সবুজ রূপান্তরে ১.২৬ বিলিয়ন ডলার এবং জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো। 3, 45, 14, 1, 57, 26, 940.

পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে কৃষি, মৎস্য, বিমান পরিবহণ ও সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষাসহ আটটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে কাজ চলছে। গত ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) দুই দেশের বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এ সফর জাপানি ব্যবসায়ীদের আস্থা আরও সুসংহত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মধ্যে তিন থেকে চারটি স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

স্বাধীনতার পর থেকেই জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। মেট্রোরেল, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের মতো প্রকল্পগুলো জাপান-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের প্রতীক। এর আগে ১৯৭৮ ও ১৯৮০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯৪ ও ২০০৫ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাপান সফর করেছিলেন। মেট্রোরেল ছাড়াও অন্যান্য অবকাঠামো প্রকল্পের বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পগুলো সম্পন্ন করার বিষয়েও আলোচনা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।

আপলোডকারীর তথ্য

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভূমিমন্ত্রীকে দেখতে গেলেন রাষ্ট্রপতি

জাপান সফরে প্রধানমন্ত্রী: অবকাঠামো ও বিনিয়োগে ১৩.৮ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব

আপডেট সময় ১২:০৪:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে আজ রাতে টোকিওর উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার, ২৬ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত তিনি জাপানে অবস্থান করবেন। প্রধানমন্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় কৌশলগত সম্পর্ক, অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয় ও ঋণের সুদের হার কমানো এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রসারের মতো বিষয়গুলো আলোচনায় প্রাধান্য পাবে। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানো, বিনিয়োগসংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং ব্যবসায়িক আস্থা জোরদারের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাবে।

সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে। সেখানে জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা তাকে স্বাগত জানাবেন। প্রধানমন্ত্রী তার সফরের পুরো সময় টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে অবস্থান করবেন।

সোমবার প্রথম দিনেই প্রধানমন্ত্রী ব্যস্ত সময় পার করবেন। বিকালে তিনি জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগের সভাপতি তারো আসোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এ সময় জাপানের ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী তাতসুনোরি ইবায়াশিও উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া তিনি জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি এবং জাইকা প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করবেন। সন্ধ্যায় নিপ্পন ফাউন্ডেশন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের সম্মানসূচক চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়ার দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেবেন তিনি। কর্মকর্তা ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা জাপান যাবেন।

সফরের দ্বিতীয় দিন, ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হবে। বৈঠকের পর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর যৌথ সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে এবং এরপর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। আলোচনার প্রধান এজেন্ডার মধ্যে রয়েছে মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যয় কমানো এবং জাপান থেকে নেওয়া ঋণের সুদের হার হ্রাস করা।

একই দিন তিনি জাপানের চিবা প্রিফেকচারের ফুতসু শহরে জেরা (JERA)-এর এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করবেন। এরপর ইচিকাওয়া শহরে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করার কথা রয়েছে।

তৃতীয় দিন ২৮ অক্টোবর, প্রধানমন্ত্রী জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (JBIC) গভর্নর কাজুহিকো আমাকাওয়ার সঙ্গে বৈঠক করবেন। পরে তিনি ইউনিক্লোর সদর দপ্তরে প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এছাড়া জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো)-এর প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকার সঙ্গে বৈঠক ও মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন। এছাড়া মিৎসুই, সুমিতোমোসহ ১৪টি বিশিষ্ট কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার গ্রুপ মিটিংয়ের কর্মসূচি রয়েছে।

২৮ অক্টোবর বিকেলে টোকিওতে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী। সন্ধ্যায় দূতাবাসের শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গেও দেখা করবেন তিনি। গত ২০ অক্টোবর বাংলাদেশ ও জাপান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ সফরের ঘোষণা দেয়।

সফরের শেষ দিন, ২৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শিনকানসেন বা বুলেট ট্রেনে করে টোকিও থেকে নাগোয়া সফর করবেন। সেখানে তিনি টয়োটা মোটর করপোরেশনের মটোমাচি কারখানা পরিদর্শন করবেন এবং টয়োটা সুসো করপোরেশনের প্রধান নির্বাহীর দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেবেন। এরপর টয়োটা কমেমোরেটিভ মিউজিয়াম পরিদর্শনের পর বুলেট ট্রেনে টোকিও ফিরে সেখান থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ঢাকার পথে রওনা দেবেন। বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে তার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ সরকার ২০২৬-৩১ মেয়াদে জাপানের সঙ্গে ১৩.৮ বিলিয়ন ডলারের একটি বিনিয়োগ প্যাকেজের প্রস্তাব প্রস্তুত করেছে। এর মধ্যে পরিবহণ ও নগর উন্নয়নে ৩.৪৫ বিলিয়ন, মাতারবাড়ীসহ শিল্প বন্দর উন্নয়নে ৩.১৪ বিলিয়ন, উৎপাদন ও ইলেকট্রনিকস খাতে ১.৫৭ বিলিয়ন এবং জ্বালানি ও সবুজ রূপান্তরে ১.২৬ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া কৃষি, ওষুধ, আইসিটি ও পর্যটন খাতে ৩.৪৫ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এসব বৈঠকে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পায়ন, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশ, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ডিজিটাল উদ্ভাবন ও গবেষণার মতো নতুন ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া কৃষি, ওষুধশিল্প, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, ব্লু ইকোনমি, পর্যটন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পসহ অন্যান্য খাতে ৩.৪৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত প্যাকেজের কিছু উদ্যোগ বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয় (বিআইজি-বি) উদ্যোগের আওতাভুক্ত। এতে পরিবহণ ও নগর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ৩.৪৫ বিলিয়ন ডলার, মাতারবাড়ীসহ সমন্বিত শিল্প, বন্দর ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র গড়ে তুলতে ৩.১৪ বিলিয়ন ডলার, উৎপাদন ও ইলেকট্রনিকস খাতে ১.৫৭ বিলিয়ন ডলার, জ্বালানি ও সবুজ রূপান্তরে ১.২৬ বিলিয়ন ডলার এবং জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো। 3, 45, 14, 1, 57, 26, 940.

পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে কৃষি, মৎস্য, বিমান পরিবহণ ও সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষাসহ আটটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে কাজ চলছে। গত ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) দুই দেশের বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এ সফর জাপানি ব্যবসায়ীদের আস্থা আরও সুসংহত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মধ্যে তিন থেকে চারটি স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

স্বাধীনতার পর থেকেই জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। মেট্রোরেল, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের মতো প্রকল্পগুলো জাপান-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের প্রতীক। এর আগে ১৯৭৮ ও ১৯৮০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯৪ ও ২০০৫ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাপান সফর করেছিলেন। মেট্রোরেল ছাড়াও অন্যান্য অবকাঠামো প্রকল্পের বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পগুলো সম্পন্ন করার বিষয়েও আলোচনা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।