ঢাকা ০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আইজিপি: চাঁদাবাজির অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করার ক্ষমতা পাচ্ছে পুলিশ জাপান সফরে তারেক রহমান: অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন গতির আশা রাষ্ট্রদূতকে আনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়: শামা ওবায়েদ সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক চলছে স্মরণকালের সেরা দুর্গাপূজা উপহার দিলেন দেশনায়ক  তারেক রহমান ঢাকার বাস টার্মিনাল ও অটোরিকশা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সোহেল গরিবের বিচার, ধনীর বিচার এক করতে হবে —এটাই তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশ আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ বাংলাদেশ কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহাসিক বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি দ্বিগুণ যাত্রী সামলাতে হিমশিম দেশের বিমানবন্দরগুলো

বিবাহবিচ্ছেদের পর খোরপোশ না নেওয়ার কারণ জানালেন মাহি ভিজ

জনপ্রিয় টিভি তারকা মাহি ভিজ ও জয় ভানুশালি কয়েক মাস আগে দীর্ঘ ১৪ বছরের সংসার জীবনের আনুষ্ঠানিক ইতি টেনেছেন। ২০১১ সালে পারিবারিকভাবে ঘর বাঁধার পর তাদের দীর্ঘ পথচলায় বিচ্ছেদ এলেও ব্যক্তিগত সম্পর্কে কোনো তিক্ততা নেই। বিবাহবিচ্ছেদের এই কঠিন সময়ে খোরপোশ বা ভরণপোষণের কোনো অর্থই গ্রহণ করেননি মাহি, যা নিয়ে তিনি খোলামেলা কথা বলেছেন রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস’-এর বিশতম আসরে। ভালোবেসে ঘর বাঁধেন তারকা দম্পতি জয়-মাহি। একসঙ্গে ১৪ বছর বিবাহিত জীবন কাটিয়েছেন তারা। খোরপোশ বাবদ টাকা না নেওয়া, প্রাক্তন স্বামী ও সন্তান তারাকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এই অভিনেত্রী। মাহি-জয়ের বিববাহবিচ্ছেদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে খবর রটেছিল—৫ কোটি রুপি খোরপোশ চেয়েছেন মাহি ভিজ।

মাহি জানান, আদালতে দাঁড়িয়ে বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সময় বিচারক তাকে চারবার অনুরোধ করেছিলেন যেন তিনি খোরপোশের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করেন। কিন্তু মাহি নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন। তার ভাষ্যমতে, “জয় ১৬ ঘণ্টা পরিশ্রম করে এই অর্থ উপার্জন করে। ও কারো কাছে অর্থ চাইতে আমাকে বাধা দেয় না এবং ওর লকার আমার জন্য সবসময় খোলা। কিন্তু আমি মনে করি, নিজের যোগ্যতায় অর্জিত এই অর্থের ওপর আমার অধিকার নেই। আমি কারো ওপর নির্ভরশীল হতে চাই না।” আমি চাই, আমার মেয়ের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত থাকুক। এমন নয় যে, জয় আমাকে সাহায্য করতে চায় না। জয় বলে, তারার জন্য আমার কেবল ঘরে বসে থাকা উচিত নয়। কিন্তু আমার পুরো জীবনটা আমার সন্তানকে ঘিরেই আবর্তিত হয়। আমি কোনো খোরপোশ (অ্যালিমোনি) নিইনি, বরং সন্তানের ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবকিছু নিজেই সামলেছি। ”।

বিচ্ছেদের আগে গুঞ্জন উঠেছিল যে, মাহি মোটা অংকের খোরপোশ দাবি করেছেন। এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “একজন নারী যদি কর্মক্ষম হন এবং কাজ করার সুযোগ থাকে, তবে বিচ্ছেদের পর পুরুষের উপার্জিত অর্থের ওপর দাবি জানানো যুক্তিহীন। খোরপোশ মূলত তাদের জন্যই প্রয়োজনীয় যারা সারাজীবন গৃহবধূ হিসেবে কাটিয়েছেন এবং কখনো কাজ করেননি।”

চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি এক যৌথ বিবৃতিতে জয় ও মাহি তাদের বিচ্ছেদের খবরটি জানান। সেখানে তারা লেখেন, “আমরা জীবন নামক যাত্রায় আজ আলাদা পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে কাগজে-কলমে স্বামী-স্ত্রী না থাকলেও আমরা বন্ধু হিসেবে একে অপরের পাশে থাকব।” তারা আরও উল্লেখ করেন, বিচ্ছেদের এই সিদ্ধান্তে কোনো তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ নেই এবং এই গল্পে কোনো খলনায়ক নেই। এ তথ্য জানিয়ে বিবৃতিতে বলেন, “আমাদের সন্তান তারা, খুশি ও রাজবীরের স্বার্থে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। জয়-মাহির বিবাহবিচ্ছেদে তৃতীয় কোনো ব্যক্তির প্রভাব নেই।

সন্তানদের বিষয়ে মাহি ও জয় আগের মতোই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাদের সংসারে ‘তারা’ নামে এক কন্যা ছাড়াও ২০১৭ সালে দত্তক নেওয়া রাজবীর ও খুশি নামে দুই সন্তান রয়েছে। জয় সবসময়ই মাহিকে ব্যক্তিগত জীবন উপভোগ করতে উৎসাহ দেন এবং সিঙ্গেল মাদার হিসেবে তার চ্যালেঞ্জগুলোর প্রতি সহানুভূতিশীল। মাহি বলেন, “আমি আমার সন্তান ও তাদের ভবিষ্যতের নিরাপত্তাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিই। এজন্যই আমি নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পথে এগিয়েছি।”

বিচ্ছেদের ঘোষণা দেওয়ার সময় তারা পরিষ্কার করে বলেছিলেন, “আমরা একে অপরকে সম্মান করব এবং সবকিছুর ঊর্ধ্বে মানসিক সুস্থতাকে প্রাধান্য দিচ্ছি।

সন্তানদের সেরা বাবা-মা ও বন্ধু হিসেবে থাকতে আমরা বদ্ধপরিকর।

ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই ‘বালিকা বধূ’সহ বিভিন্ন টিভি ধারাবাহিকে অভিনয়ের পাশাপাশি মালায়লাম, তেলেগু ও কন্নড় সিনেমায় কাজ করে মাহি নিজের আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছেন। বিচ্ছেদ পরবর্তী জীবনেও মাহি ও জয় একে অপরের প্রতি সম্মান ও বন্ধুত্ব অটুট রেখেছেন। ‘বালিকা বধূ’-এর মতো টিভি ধারাবাহিক যেমন উপহার দিয়েছেন, তেমনই মালায়ালাম, তেলেগু ও কন্নড় ভাষার সিনেমায়ও অভিনয় করেছেন মাহি ভিজ। বিবাহবিচ্ছেদ হলেও অভিনেতা জয়ের সঙ্গে এখনো অটুট মাহি ভিজের বন্ধুত্ব।

আপলোডকারীর তথ্য

সৌদি আরবের মক্কা-মদিনায় হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: ধ্বংসাবশেষের আঘাতে আতঙ্ক

বিবাহবিচ্ছেদের পর খোরপোশ না নেওয়ার কারণ জানালেন মাহি ভিজ

আপডেট সময় ০৮:৩৬:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

জনপ্রিয় টিভি তারকা মাহি ভিজ ও জয় ভানুশালি কয়েক মাস আগে দীর্ঘ ১৪ বছরের সংসার জীবনের আনুষ্ঠানিক ইতি টেনেছেন। ২০১১ সালে পারিবারিকভাবে ঘর বাঁধার পর তাদের দীর্ঘ পথচলায় বিচ্ছেদ এলেও ব্যক্তিগত সম্পর্কে কোনো তিক্ততা নেই। বিবাহবিচ্ছেদের এই কঠিন সময়ে খোরপোশ বা ভরণপোষণের কোনো অর্থই গ্রহণ করেননি মাহি, যা নিয়ে তিনি খোলামেলা কথা বলেছেন রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস’-এর বিশতম আসরে। ভালোবেসে ঘর বাঁধেন তারকা দম্পতি জয়-মাহি। একসঙ্গে ১৪ বছর বিবাহিত জীবন কাটিয়েছেন তারা। খোরপোশ বাবদ টাকা না নেওয়া, প্রাক্তন স্বামী ও সন্তান তারাকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এই অভিনেত্রী। মাহি-জয়ের বিববাহবিচ্ছেদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে খবর রটেছিল—৫ কোটি রুপি খোরপোশ চেয়েছেন মাহি ভিজ।

মাহি জানান, আদালতে দাঁড়িয়ে বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সময় বিচারক তাকে চারবার অনুরোধ করেছিলেন যেন তিনি খোরপোশের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করেন। কিন্তু মাহি নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন। তার ভাষ্যমতে, “জয় ১৬ ঘণ্টা পরিশ্রম করে এই অর্থ উপার্জন করে। ও কারো কাছে অর্থ চাইতে আমাকে বাধা দেয় না এবং ওর লকার আমার জন্য সবসময় খোলা। কিন্তু আমি মনে করি, নিজের যোগ্যতায় অর্জিত এই অর্থের ওপর আমার অধিকার নেই। আমি কারো ওপর নির্ভরশীল হতে চাই না।” আমি চাই, আমার মেয়ের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত থাকুক। এমন নয় যে, জয় আমাকে সাহায্য করতে চায় না। জয় বলে, তারার জন্য আমার কেবল ঘরে বসে থাকা উচিত নয়। কিন্তু আমার পুরো জীবনটা আমার সন্তানকে ঘিরেই আবর্তিত হয়। আমি কোনো খোরপোশ (অ্যালিমোনি) নিইনি, বরং সন্তানের ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবকিছু নিজেই সামলেছি। ”।

বিচ্ছেদের আগে গুঞ্জন উঠেছিল যে, মাহি মোটা অংকের খোরপোশ দাবি করেছেন। এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “একজন নারী যদি কর্মক্ষম হন এবং কাজ করার সুযোগ থাকে, তবে বিচ্ছেদের পর পুরুষের উপার্জিত অর্থের ওপর দাবি জানানো যুক্তিহীন। খোরপোশ মূলত তাদের জন্যই প্রয়োজনীয় যারা সারাজীবন গৃহবধূ হিসেবে কাটিয়েছেন এবং কখনো কাজ করেননি।”

চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি এক যৌথ বিবৃতিতে জয় ও মাহি তাদের বিচ্ছেদের খবরটি জানান। সেখানে তারা লেখেন, “আমরা জীবন নামক যাত্রায় আজ আলাদা পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে কাগজে-কলমে স্বামী-স্ত্রী না থাকলেও আমরা বন্ধু হিসেবে একে অপরের পাশে থাকব।” তারা আরও উল্লেখ করেন, বিচ্ছেদের এই সিদ্ধান্তে কোনো তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ নেই এবং এই গল্পে কোনো খলনায়ক নেই। এ তথ্য জানিয়ে বিবৃতিতে বলেন, “আমাদের সন্তান তারা, খুশি ও রাজবীরের স্বার্থে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। জয়-মাহির বিবাহবিচ্ছেদে তৃতীয় কোনো ব্যক্তির প্রভাব নেই।

সন্তানদের বিষয়ে মাহি ও জয় আগের মতোই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাদের সংসারে ‘তারা’ নামে এক কন্যা ছাড়াও ২০১৭ সালে দত্তক নেওয়া রাজবীর ও খুশি নামে দুই সন্তান রয়েছে। জয় সবসময়ই মাহিকে ব্যক্তিগত জীবন উপভোগ করতে উৎসাহ দেন এবং সিঙ্গেল মাদার হিসেবে তার চ্যালেঞ্জগুলোর প্রতি সহানুভূতিশীল। মাহি বলেন, “আমি আমার সন্তান ও তাদের ভবিষ্যতের নিরাপত্তাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিই। এজন্যই আমি নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পথে এগিয়েছি।”

বিচ্ছেদের ঘোষণা দেওয়ার সময় তারা পরিষ্কার করে বলেছিলেন, “আমরা একে অপরকে সম্মান করব এবং সবকিছুর ঊর্ধ্বে মানসিক সুস্থতাকে প্রাধান্য দিচ্ছি।

সন্তানদের সেরা বাবা-মা ও বন্ধু হিসেবে থাকতে আমরা বদ্ধপরিকর।

ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই ‘বালিকা বধূ’সহ বিভিন্ন টিভি ধারাবাহিকে অভিনয়ের পাশাপাশি মালায়লাম, তেলেগু ও কন্নড় সিনেমায় কাজ করে মাহি নিজের আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছেন। বিচ্ছেদ পরবর্তী জীবনেও মাহি ও জয় একে অপরের প্রতি সম্মান ও বন্ধুত্ব অটুট রেখেছেন। ‘বালিকা বধূ’-এর মতো টিভি ধারাবাহিক যেমন উপহার দিয়েছেন, তেমনই মালায়ালাম, তেলেগু ও কন্নড় ভাষার সিনেমায়ও অভিনয় করেছেন মাহি ভিজ। বিবাহবিচ্ছেদ হলেও অভিনেতা জয়ের সঙ্গে এখনো অটুট মাহি ভিজের বন্ধুত্ব।