ঢাকা ১২:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আইজিপি: চাঁদাবাজির অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করার ক্ষমতা পাচ্ছে পুলিশ জাপান সফরে তারেক রহমান: অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন গতির আশা রাষ্ট্রদূতকে আনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়: শামা ওবায়েদ সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক চলছে স্মরণকালের সেরা দুর্গাপূজা উপহার দিলেন দেশনায়ক  তারেক রহমান ঢাকার বাস টার্মিনাল ও অটোরিকশা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সোহেল গরিবের বিচার, ধনীর বিচার এক করতে হবে —এটাই তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশ আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ বাংলাদেশ কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহাসিক বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি দ্বিগুণ যাত্রী সামলাতে হিমশিম দেশের বিমানবন্দরগুলো

সাঈদীর মামলার বাদীর দাফন সম্পন্ন পুলিশের কড়া নিরাপত্তায়

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী মানিক পশারীর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের নিজ বাড়িতে রবিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে কঠোর পুলিশি পাহারায় তার দাফন সম্পন্ন হয়। ৮৭ বছর বয়সী মানিক পশারী গত শনিবার সকালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের জামাইয়ের আশ্রয়ে থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর থেকে তিনি সেখানেই আত্মগোপনে ছিলেন এবং গত দুই মাস ধরে অসুস্থ ছিলেন। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী মানিক পশারীর লাশ তোপের মুখে ১৭ ঘণ্টা পর গভীর রাতে পরিবারের সদস্যদের খোড়া কবরে দাফন করা হয়েছে। এ সময় কিছু এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। মানিক পশারী (৮৭) পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। ২০২৪ সালে আগস্টে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পরে তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তার মেয়ের জামাইয়ের কাছে আশ্রয় নেন।

মৃতদেহ শনিবার দুপুর ১২টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে আনা হলে স্থানীয়রা ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়েন তার স্বজনরা। প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে জেলা পুলিশ লাইনসে নিয়ে যায়। সেখানে বিকাল ৫টার দিকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয় এবং নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্যে মরদেহ রাখা হয়। পরবর্তী সময়ে জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সহায়তায় রাত ১টার দিকে লাশটি শংকরপাশা গ্রামে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।

দাফন প্রক্রিয়ার বর্ণনা দিয়ে মানিকের বোন জানান, লাশ গ্রামে আনার পর স্থানীয়দের বাধার মুখে একবার খোঁড়া কবর ভরাট করে ফেলা হয়েছিল। পরে পরিবারের নারী সদস্যরা পুনরায় কবর খনন করেন এবং পুলিশি সহায়তায় লাশ বাড়িতে পৌঁছালে তারাই দাফন সম্পন্ন করেন। এতে কোনো পুরুষ আত্মীয়কে অংশ নিতে দেখা যায়নি। পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তারা লাশের রাজনীতির বিপক্ষে এবং দলের পক্ষ থেকে দাফনে কোনো প্রকার বাধা সৃষ্টি করা হয়নি বরং পুলিশকে সহায়তা করা হয়েছে। মানিকের বোন বলেন, ‘আমার ভাইরে টুঙ্গিপাড়া দিয়া পিরোজপুর আনার পর ওখানে ধস্তাধস্তি হইছে। একবার মোরা কবর খুঁড়ছি সেই কবর লোকজনে আবার ভরাট করে ফেলছে।

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে, পুলিশের কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দাফন কাজ শেষ করা হয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কবরস্থানের আশেপাশে এখনো অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর মামলার বাদী হিসেবে মানিক পশারী রাষ্ট্রপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ছিলেন, যা স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দেয়।

আপলোডকারীর তথ্য

জাপান সফরে প্রধানমন্ত্রী: অবকাঠামো ও বিনিয়োগে ১৩.৮ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব

সাঈদীর মামলার বাদীর দাফন সম্পন্ন পুলিশের কড়া নিরাপত্তায়

আপডেট সময় ১১:০১:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী মানিক পশারীর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের নিজ বাড়িতে রবিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে কঠোর পুলিশি পাহারায় তার দাফন সম্পন্ন হয়। ৮৭ বছর বয়সী মানিক পশারী গত শনিবার সকালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের জামাইয়ের আশ্রয়ে থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর থেকে তিনি সেখানেই আত্মগোপনে ছিলেন এবং গত দুই মাস ধরে অসুস্থ ছিলেন। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী মানিক পশারীর লাশ তোপের মুখে ১৭ ঘণ্টা পর গভীর রাতে পরিবারের সদস্যদের খোড়া কবরে দাফন করা হয়েছে। এ সময় কিছু এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। মানিক পশারী (৮৭) পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। ২০২৪ সালে আগস্টে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পরে তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তার মেয়ের জামাইয়ের কাছে আশ্রয় নেন।

মৃতদেহ শনিবার দুপুর ১২টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে আনা হলে স্থানীয়রা ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়েন তার স্বজনরা। প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে জেলা পুলিশ লাইনসে নিয়ে যায়। সেখানে বিকাল ৫টার দিকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয় এবং নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্যে মরদেহ রাখা হয়। পরবর্তী সময়ে জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সহায়তায় রাত ১টার দিকে লাশটি শংকরপাশা গ্রামে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।

দাফন প্রক্রিয়ার বর্ণনা দিয়ে মানিকের বোন জানান, লাশ গ্রামে আনার পর স্থানীয়দের বাধার মুখে একবার খোঁড়া কবর ভরাট করে ফেলা হয়েছিল। পরে পরিবারের নারী সদস্যরা পুনরায় কবর খনন করেন এবং পুলিশি সহায়তায় লাশ বাড়িতে পৌঁছালে তারাই দাফন সম্পন্ন করেন। এতে কোনো পুরুষ আত্মীয়কে অংশ নিতে দেখা যায়নি। পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তারা লাশের রাজনীতির বিপক্ষে এবং দলের পক্ষ থেকে দাফনে কোনো প্রকার বাধা সৃষ্টি করা হয়নি বরং পুলিশকে সহায়তা করা হয়েছে। মানিকের বোন বলেন, ‘আমার ভাইরে টুঙ্গিপাড়া দিয়া পিরোজপুর আনার পর ওখানে ধস্তাধস্তি হইছে। একবার মোরা কবর খুঁড়ছি সেই কবর লোকজনে আবার ভরাট করে ফেলছে।

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে, পুলিশের কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দাফন কাজ শেষ করা হয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কবরস্থানের আশেপাশে এখনো অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর মামলার বাদী হিসেবে মানিক পশারী রাষ্ট্রপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ছিলেন, যা স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দেয়।