স্বাধীনতার ৫৫ বছরের বাংলাদেশ আজ এক কঠিন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে। আমরা প্রতিদিন খবরের কাগজ খুলি, আর দেখি – কোথাও চোর সন্দেহে পিটিয়ে মারা হয়েছে একজন মানুষকে, কোথাও বস্তিতে আগুন, কোথাও ব্যাংকের হাজার কোটি টাকা উধাও। প্রশ্ন জাগে, আমরা আসলে কাকে অপরাধী বলছি? একজন ক্ষুধার্ত মানুষ পেটের দায়ে তিন লাখ টাকা চুরি করলে আমরা তাকে ‘চোর’ বলে ঘেরাও করি, তার চোখ তুলে নিতে চাই, তার ব্যথাকে আর ব্যথা বলে মনে করি না। অথচ যে শিক্ষিত, ক্ষমতাবান মানুষটি কলমের খোঁচায়, টেলিফোনের ইশারায় হাজার কোটি টাকা লুট করে দেশকে ফোকলা করে দেয়, তার নামের আগে আমরা ‘স্যার’ বসাই, তার জন্য লাল গালিচা বিছাই। এই দুই আইনের দেশ কি আমরা চেয়েছিলাম? এই লেখা কোনো প্রতিহিংসার লেখা নয়। এই লেখা আত্মজিজ্ঞাসার। আমরা যে সমাজে বাস করি, তাকে ‘নৈতিক বাস্তুসংস্থান’ বলছি। সেই বাস্তুসংস্থান আজ ছিন্নভিন্ন। রাষ্ট্র যখন দীর্ঘ দেড় দশক ধরে বিরোধীকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, শত্রু বানাতে শিখিয়েছে, যখন গুম, মামলা, ভয় আর নজরদারি টিকে থাকার কৌশল হয়েছে, তখন সেই সহিংসতার ভাষা রাস্তায় নেমে এসেছে। শাসক বদলালেও সেই ব্যাকরণ বদলায়নি – তাই বাংলাদেশ পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১৯৭২ সালে দায়েরকৃত মামলা ছিল প্রায় ৬২ হাজার, ২০২৫ সালে তা ৩ লাখ ৮০ হাজারের বেশি। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাবে ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত গুমের অভিযোগ ৬৫০টির বেশি, বিচারবহির্ভূত হত্যা ২৬০০-এর বেশি। ২০২৪ সালে ১২৮ জন, ২০২৫ সালে ১৯৭ জন মানুষকে পিটিয়ে মারার পরও আমাদের হুঁশ ফেরে না। এই অন্ধকার সময়ে আলোর মতোই প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে জননন্দিত প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক তারেক রহমান-এর রাজনীতি। আমি নিজে বিএনপি পরিবারের সন্তান হিসেবে দেখেছি, ক্ষমতা মানে দখল নয়, দায়িত্ব – এই শিক্ষাই আমার পরিবার দিয়েছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়ে শিখিয়েছিলেন রাষ্ট্র প্রতিপক্ষ নয়, আস্থার প্রতীক। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তিনবার প্রধানমন্ত্রী হয়েও প্রতিহিংসা করেননি। সেই উত্তরাধিকারই আজ বহন করছেন তারেক রহমান তিনি বলছেন – প্রতিহিংসা নয়, ন্যায়বিচার। তিনি বলছেন – গরিবের চুরির বিচার যেমন হবে, ক্ষমতাবানের লুটের বিচারও তেমনই হতে হবে। এই লেখার প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই আমরা ফিরব সেই নতুন ন্যায়বোধের রাজনীতির কাছে।
নৈতিক বাস্তুসংস্থান : আমাদের প্রতিদিনের বিচারালয় :
লেখক যাকে ‘নৈতিক বাস্তুসংস্থান’ বলছেন, তা আদালত নয়, আমাদের ঘর। আমরা ঘরে কী করি, রাস্তায় কী করি, সন্তানকে কী শেখাই, কর্মচারীকে কীভাবে দেখি, ফেসবুকে কাকে গালি দিই, নিজের দলের অন্যায়কে কী নামে ডাকি – সব মিলেই সমাজের নৈতিকতা তৈরি হয়। আমরা প্রতিদিন ঠিক করছি কার মৃত্যুতে শোক করব, আর কার ওপর সহিংসতা হলে বলব ‘ঠিকই হয়েছে’।
আমরা প্রতিদিন যেভাবে বিচার করি : মোটরসাইকেল ফুটপাতে উঠে পথচারীকেই হর্ন দেয়। নিজের শিশুর ছবি অনলাইনে দিয়ে দিই তার সম্মতি ছাড়াই। আমরা বলি ‘সবাই তো করে’। এই ছোট অনৈতিকতাই বড় সহিংসতার জমি তৈরি করে। সহিংসতা সবসময় লাঠি হাতে শুরু হয় না, শুরু হয় নীরবতায়, বেছে বেছে প্রতিবাদে।
সাহিত্য কেন সমাজকে চেনায় : দিলারা হাশেম, রিজিয়া রহমান, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, সেলিনা হোসেন, হুমায়ুন আজাদ, আকিমুন রহমান, শাহীন আখতার – তারা সবাই দেখিয়েছেন মানুষ একরঙা নয়। প্রান্তিক মানুষকে ইতিহাসের কেন্দ্রে আনতে হয়। সাহিত্য না পড়লে আমরা বুঝব না কেন একজন মানুষ চুরি করে, আর কেন আরেকজন লুট করেও সম্মানিত থাকে।
রাষ্ট্রের উল্লম্ব সহিংসতা ও তার দীর্ঘ ছায়া : ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত দীর্ঘ দেড় দশক ধরে ভিন্নমতকে মামলা, গুম, ডিজিটাল নজরদারিতে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তর ২০২৪-এর জুলাই-আগস্টের ঘটনায় বলেছে, তৎকালীন সরকার ও তার সহযোগী অংশগুলো পদ্ধতিগত গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনে জড়িত ছিল। যখন রাষ্ট্র দীর্ঘদিন শেখায় বিরোধী মানেই শত্রু, তখন সেই ভাষা সমাজের শরীরেও জমা হয়। সরকার বদলালেই সেই অভ্যাস মুছে যায় না।
মব জাস্টিস : অক্ষম মানুষের ভুয়া শক্তি : ছোট অপরাধীকে ধরা যায়, বড় ক্ষমতার সামনে মানুষ নিজেকে অক্ষম দেখে। এই অক্ষমতাই মব বোঝার দরজা। যে মানুষ বড় লুটেরার সামনে কিছু করতে পারে না, সে রাস্তায় ‘চোর’ বলে ঘেরাও করা দুর্বল একজন মানুষের সামনে হঠাৎ শক্তিমান হয়ে ওঠে। জনতা তাকে সংখ্যা দেয়, শত্রু দেয়, বিচার করার অনুভূতি দেয়। ১৯৭ জনের মৃত্যু তাই শুধু পুলিশের ব্যর্থতা নয়, আমাদের সম্মিলিত নৈতিক পরাজয়।
শ্রেণি কীভাবে ন্যায়ের চোখ বদলে দেয় : ঢাকার বস্তিতে যান। যে মানুষগুলো গুলশান-বনানীর বাড়ি পরিষ্কার করেন, গাড়ি চালান, নির্মাণকাজ করেন, তারাই থাকেন অনিরাপদ আবাসে। ২০২৫ সালে কড়াইলে চার বছরে চতুর্থ বড় আগুন। আমরা বলি ‘বস্তি তো আগুন লাগবেই’। কিন্তু একই শ্রেণিকে বারবার ঝুঁকিতে রাখা কি দুর্ঘটনা, নাকি আমাদের নৈতিক অভ্যাস? আগুন বস্তিতে আটকে থাকেনি, বেইলি রোডেও পৌঁছেছে। সমাজের আগুনও তাই।
দরিদ্রের চুরি ও ক্ষমতাবানের লুট : দুই আইন? দরিদ্র মানুষ তিন লাখ টাকা নিলে চোর। কিন্তু ব্যাংক, শেয়ারবাজার, প্রকল্পের নামে হাজার কোটি টাকা লুট হলে তাকে আমরা ‘অনিয়ম’ বলি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী ২০১০ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ৩০ হাজার কোটি থেকে বেড়ে ১ লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকা হয়েছে। এই টাকা কারা নিয়েছে? তাদের কি আমরা কোনোদিন ‘চোর’ বলেছি? এখানেই আমাদের নৈতিক বাস্তুসংস্থানের ছেড়া জায়গা।
বিশ্ব কীভাবে দেখে : উন্নত দেশের দৃষ্টান্ত : জাপানে ২০২৩ সালে আত্মহত্যা ২১ হাজারের বেশি, কিন্তু হত্যা মাত্র ৯১টি। জাপান বুঝেছে সহিংসতা শুধু খুন নয়, সামাজিক বিচ্ছিন্নতাও সহিংসতা। নরওয়েতে কারাগার মানে শাস্তি নয়, সংশোধন – ফলে পুনরায় অপরাধের হার ২০%। আমেরিকায় ২০২২ সালে ‘হোয়াইট কলার ক্রাইমে’ ক্ষতি ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি, যা রাস্তার চুরি-ডাকাতির চেয়ে ২০ গুণ বেশি। ব্রিটেনে ‘ইকুয়ালিটি বিফোর ল’ নীতি মানে সাবেক প্রধানমন্ত্রীও জরিমানা দেন। তারা শিখিয়েছে, বড় অপরাধকে ছোট করে দেখলে সমাজ টেকে না।
জীবনের দাম : নয় লাখ বনাম ত্রিশ লাখ : বারিধারায় ২৪ বছরের নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসানের মৃত্যুতে আপস নয় লাখ টাকা। জুলাই অভ্যুত্থানে শহিদ পরিবারের জন্য রাষ্ট্রের সহায়তা ৩০ লাখ। ক্ষতিপূরণ দরকার, কিন্তু কোনো টাকাই মানুষের দাম নয়, বিচারও নয়। সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির চিঠিতে যেমন বেকারত্ব ও অসুস্থতার যন্ত্রণা ছিল, তেমনি বোঝা যায় কাজ, মর্যাদা ও নিরাপত্তা না থাকলে মানুষ ভেঙে পড়ে।
বিএনপি পরিবারের সন্তান হিসেবে আমার উপলব্ধি :
আমি নিজে একজন বিএনপি পরিবারের সন্তান। ছোটবেলা থেকে দেখেছি, রাজনীতি মানে প্রতিশোধ নয়, মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখা। আমার পরিবার শিখিয়েছে, ক্ষমতা মানে দখল নয়, দায়িত্ব। এই শিক্ষা থেকেই আজকের লেখার প্রশ্নগুলো আরও তীব্র হয়।
শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার নৈতিক উত্তরাধিকার :
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এই দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও বিচার বিভাগের মর্যাদা ফিরিয়েছিলেন। তিনি শিখিয়েছিলেন, রাষ্ট্র প্রতিপক্ষ নয়, আস্থার প্রতীক। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হয়েও প্রতিহিংসার রাজনীতি করেননি। ১৯৯১-৯৬ সালে তিনিই তো সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন। তাদের রাজনীতিতে ‘চোর’ বানানোর আগে ‘মানুষ’ বানানোর চেষ্টা ছিল।
জননন্দিত নেতা তারেক রহমানের দৃষ্টিভঙ্গি : আজকের প্রেক্ষাপটে জননন্দিত প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক তারেক রহমান যে রাজনীতির কথা বলছেন, তা এই নৈতিক বাস্তুসংস্থান মেরামতের রাজনীতি। তিনি বারবার বলছেন – প্রতিহিংসা নয়, ন্যায়বিচার; দলীয়করণ নয়, সংস্কার। তার ঘোষিত ৩১ দফা রাষ্ট্র মেরামতের রূপরেখায় আছে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করা, গুম-খুনের বিচার এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক সমাজ। তিনি বলেছেন, “বাংলাদেশে কেউ যেন ন্যূনতম বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়”। এটাই তো মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখার রাজনীতি।
তারেক রহমান পরিবারের মানবিক শিক্ষা : তারেক রহমান-এর সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমান – তাদের নীরব মানবিক কাজ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য নিয়ে ভাবনা আমাদের শেখায় ক্ষমতা মানে প্রচার নয়, সেবা। একটি পরিবার দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, মামলা, অপপ্রচার সহ্য করেও প্রতিশোধের কথা বলেনি, বরং বলেছে – দেশকে গড়তে হবে। এই সহনশীলতাই আজকের হিংস্র সমাজে সবচেয়ে বড় শিক্ষা।
কেন তারেক রহমানের নেতৃত্ব জরুরি : যখন ১৯৭ জন মানুষ গণপিটুনিতে মারা যায়, যখন বস্তির মানুষকে বারবার আগুনে পুড়তে হয়, তখন দরকার এমন নেতৃত্ব যে বলবে – থামুন, আগে মানুষটাকে মানুষ হিসেবে দেখি। তারেক রহমান বারবার মব জাস্টিসের বিরুদ্ধে বলেছেন, বলেছেন আইনের শাসনের কথা। তিনি বলেছেন, গরিবের চুরির বিচার যেমন হবে, ক্ষমতাবানের লুটের বিচারও তেমনই হতে হবে। এই সমতার বোধই তো নৈতিক বাস্তুসংস্থানের সেলাই।
নতুন বাংলাদেশের জন্য ন্যূনতম যৌথ সীমা : আমাদের এখন পাঁচটি যৌথ সীমা মানতে হবে – ১) কাউকে পিটিয়ে মারা যাবে না, ২) নারীর পোশাক সহিংসতার অনুমতি নয়, ৩) শিশুর শরীর কারও সম্পত্তি নয়, ৪) বস্তির মানুষের জীবন কম মূল্যবান নয়, ৫) গরিবের চুরি অপরাধ হলে ক্ষমতাবানের লুটও অপরাধ। এই সীমা না মানলে কোনো সংস্কার টিকবে না।
রাষ্ট্র মেরামত মানে মানুষ মেরামত : রাষ্ট্র মেরামত মানে শুধু সংবিধান সংশোধন নয়, মানুষের মন মেরামত। পুলিশকে জনগণের প্রতিপক্ষ নয়, আস্থার প্রতীক হতে হবে। বিচারপ্রবণ বা দোষ সন্ধানী মানসিকতা নয়, ন্যায়বিচারের মানসিকতা লাগবে। শিশুরা যেন কোনো অন্ধকার অরণ্যে হারিয়ে না যায়, সেজন্য পরিবার, স্কুল ও রাষ্ট্রকে একসাথে কাজ করতে হবে।
পরিশেষে, প্রিয় বাংলাদেশ, আমাদের নৈতিক বাস্তুসংস্থানের ছেড়া জায়গাটি ঠিক এখানেই – কেউ কাঁটা হাতে দাঁড়িয়ে, কেউ দেখছে, কেউ ভিডিও করছে, কেউ আবার সেই দৃশ্যে ‘ঠিকই হয়েছে’ বলে উল্লাস করছে। আমরা ভুলে যাচ্ছি, চোর সন্দেহে ঘেরাও করা মানুষটিও কারও সন্তান, কারও বাবা। তারও চোখ আছে, ব্যথা আছে। ১৯৭২ থেকে ২০২৬ – আমরা অনেক আইন বানিয়েছি, প্রায় ৪৫০টির বেশি বিশেষ আইন। কিন্তু আইন দিয়ে কি নৈতিকতা বানানো যায়? জাপান শিখিয়েছে, সহিংসতা শুধু খুন নয়, একজন মানুষকে বছরের পর বছর অপমান করে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়াও সহিংসতা। নরওয়ে শিখিয়েছে, জেল মানে প্রতিশোধ নয়, সংশোধন। আর ব্রিটেন শিখিয়েছে, আইনের চোখে প্রধানমন্ত্রী আর রিকশাওয়ালা এক। আমরা কবে শিখব? আজ যখন বারিধারায় ২৪ বছরের নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসানের জীবনের দাম ধরা হয় নয় লাখ টাকা, আর ব্যাংক লুটেরারা বহাল তবিয়তে থাকে, তখন বুঝতে হয় আমাদের দাঁড়িপাল্লাটাই বাঁকা হয়ে গেছে। এই বাঁকা দাঁড়িপাল্লা সোজা করার জন্যই দরকার রাষ্ট্র মেরামত। আর রাষ্ট্র মেরামত মানে শুধু সংবিধান নয়, মানুষের মন মেরামত। সেই মন মেরামতের ডাকই দিয়েছেন দেশনায়ক তারেক রহমান। দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসন, মিথ্যা মামলা, পরিবারের ওপর নির্যাতন, মায়ের অসুস্থতা, অপপ্রচার – সব সয়েও তিনি একবারও প্রতিশোধের কথা বলেননি। তিনি ৩১ দফায় বলেছেন বিচার বিভাগ স্বাধীন হবে, মানবাধিকার কমিশন শক্তিশালী হবে, গুম-খুনের বিচার হবে, কর্মসংস্থান হবে। তিনি বলেছেন, “বাংলাদেশে কেউ যেন ন্যূনতম বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়।” তার সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমান – এই পরিবারটি আমাদের শেখায় ক্ষমতা মানে প্রচার নয়, নীরবে সেবা। এই সহনশীলতা, এই মানবিকতাই আজকের বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় শিক্ষা। তাই এই ছিন্ন পতাকার সেলাইয়ের জন্য আমাদের আর অন্য কোথাও তাকাতে হবে না। যে মানুষটি নিজে নির্যাতিত হয়েও বলতে পারেন – থামুন, আগে মানুষটাকে মানুষ হিসেবে দেখি, তারপর বিচার – তিনিই পারেন নতুন বাংলাদেশ গড়তে। তারেক রহমান -এর নেতৃত্বাধীন সরকারের হাত ধরেই সম্ভব সেই বাংলাদেশ, যেখানে দরিদ্রের চুরি ও ক্ষমতাবানের লুট – দুটোকেই একই দাঁড়িপাল্লায় মাপা হবে, যেখানে কাউকে পিটিয়ে মারা যাবে না, যেখানে বস্তির মানুষের জীবনও গুলশানের মানুষের জীবনের মতোই মূল্যবান হবে। সেদিনই আমরা সত্যিকার অর্থে স্বাধীন হব।
লেখক : জুবাইয়া বিন্তে কবির
অর্থনীতিবিদ, গবেষক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট
আকাশ নিউজ ডেস্ক 





















