ঢাকা ০২:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারও করবে পুলিশ: আইজিপি ব্যবসায়ীকে আটকে চাঁদা দাবি: ডিজিএফআই সদস্যসহ কারাগারে ৬

ইস! হাওরের এ সড়ক দেখতে যে কবে যাব?

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

কিশোরগঞ্জের হাওরের দৃষ্টিনন্দন অলওয়েদার সড়ক উদ্বোধনকালে হাওরবাসীর উদ্দেশে কথা বলার এক ফাঁকে হাওরের বিস্ময় খ্যাত পর্যটন সম্ভাবনার এ অলওয়েদার সড়কপথ দেখতে নিজের ব্যাকুল আগ্রহের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভিডিওচিত্রে হাওর উপজেলা ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামের গভীর হাওর ও দিগন্ত বিস্তৃত পানির বুক চিড়ে সরীসৃপের মতো এঁকেবেঁকে চলা এ অলওয়েদার সড়কের ভিডিওচিত্র দেখানো হয় প্রধানমন্ত্রীকে।

এ সময় বিস্ময়কর এ সড়ক ও সড়কপথের অপরূপ নৈসর্গিক সৌন্দর্য দেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলে উঠলেন, ‘ইস! কবে যে যাব এ সড়ক দেখতে? আমার মনটা পড়ে থাকল। এ সড়ক দিয়ে গাড়িতে কবে যাব। রাষ্ট্রপতিও চান আমি যেন সরাসরি যাই’। করোনা পরিস্থিতি উন্নতি হলে এ সড়ক দেখতে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, হাওরে যে এমন সড়কপথ করা যায় সেটাও মহামান্য রাষ্ট্রপতি শিখিয়েছেন। মহামান্য রাষ্ট্রপতির ইচ্ছানুযায়ীই হাওরবাসীর এ স্বপ্ন পূরণে আমরা কাজ শুরু করি।

২০১৬ সালের ২১ এপ্রিল ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রামের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপনকারী এ সড়ক প্রকল্পের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের তত্ত্বাবধানে এ সড়কপথ নির্মাণে ব্যয় হয় ৮৭৪.০৮ কোটি টাকা। এ সড়কপথের বাউলাই ও ধনু নদীতে ৩টি দৃষ্টিনন্দন সেতুসহ ও অসংখ্য বক্সকালভার্ট নির্মাণ হয়েছে।

এ অলওয়েদার সড়কপথের তৈরি শেষ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী সরেজমিনে গিয়ে উদ্বোধনের কথা ছিল। কিন্তু বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাব ঘটার কারণে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক উদ্বোধনের অপেক্ষায় ছিল।

এ করোনা মহামারীর দীর্ঘ স্থায়ীত্বের কারণে শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমেই এ সড়ক উদ্বোধনের পথ বেছে নেন।

এবার বর্ষার শুরু থেকেই হাওরের বিস্ময় খ্যাত এ অলওয়েদার সেতু ও চারপাশে দিগন্ত বিস্তৃত অপরূপ নৈসর্গিক সৌন্দর্য দেখতে করোনা ভীতিকে উপেক্ষা করে ভিড় করে দেশ-বিদেশের হাজারো নারী-পুরুষ দর্শনার্থী-পর্যটক।

ইতিমধ্যেই অনির্ধারিত সফরে এসে হাওরের বিস্ময় খ্যাত এ দৃষ্টিনন্দন অলওয়েদার সড়কপথ ও দু’পাশের দিগন্তবিস্তৃত জলরাশির অপরূপ নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করে গেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা।

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত বৃহত্তর হাওরাঞ্চলের গেটওয়ে হিসেবে পরিচিত কিশোরগঞ্জের পশ্চাৎপদ এ হাওর জনপদের আগের মধ্যযুগীয় যোগাযোগ ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব নির্বাচনের সময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লঞ্চ ও নৌকায় এ হাওরাঞ্চলে এসে প্রত্যেকটা এলাকায় রাতযাপন করে সভা-সমাবেশ করেছেন। আমিও এই এলাকার সে রূপ দেখেছি।

আর এ কারণে মহামান্য রাষ্ট্রপতির অভিপ্রায় এবং হাওরবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণে আওয়ামী লীগ সরকার এ অঞ্চলের ব্যাপক উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নেয়।

এ সময় করোনা দূর হলে প্রধানমন্ত্রী হাওরের এ অলওয়েদার সড়কপথ ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সরেজমিন পরিদর্শনেরও ইচ্ছা ব্যক্ত করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

বটিয়াঘাটায় গুলির ঘটনার পর বিতর্কের মুখে ওসি প্রত্যাহার

ইস! হাওরের এ সড়ক দেখতে যে কবে যাব?

আপডেট সময় ১০:৫৪:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

কিশোরগঞ্জের হাওরের দৃষ্টিনন্দন অলওয়েদার সড়ক উদ্বোধনকালে হাওরবাসীর উদ্দেশে কথা বলার এক ফাঁকে হাওরের বিস্ময় খ্যাত পর্যটন সম্ভাবনার এ অলওয়েদার সড়কপথ দেখতে নিজের ব্যাকুল আগ্রহের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভিডিওচিত্রে হাওর উপজেলা ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামের গভীর হাওর ও দিগন্ত বিস্তৃত পানির বুক চিড়ে সরীসৃপের মতো এঁকেবেঁকে চলা এ অলওয়েদার সড়কের ভিডিওচিত্র দেখানো হয় প্রধানমন্ত্রীকে।

এ সময় বিস্ময়কর এ সড়ক ও সড়কপথের অপরূপ নৈসর্গিক সৌন্দর্য দেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলে উঠলেন, ‘ইস! কবে যে যাব এ সড়ক দেখতে? আমার মনটা পড়ে থাকল। এ সড়ক দিয়ে গাড়িতে কবে যাব। রাষ্ট্রপতিও চান আমি যেন সরাসরি যাই’। করোনা পরিস্থিতি উন্নতি হলে এ সড়ক দেখতে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, হাওরে যে এমন সড়কপথ করা যায় সেটাও মহামান্য রাষ্ট্রপতি শিখিয়েছেন। মহামান্য রাষ্ট্রপতির ইচ্ছানুযায়ীই হাওরবাসীর এ স্বপ্ন পূরণে আমরা কাজ শুরু করি।

২০১৬ সালের ২১ এপ্রিল ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রামের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপনকারী এ সড়ক প্রকল্পের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের তত্ত্বাবধানে এ সড়কপথ নির্মাণে ব্যয় হয় ৮৭৪.০৮ কোটি টাকা। এ সড়কপথের বাউলাই ও ধনু নদীতে ৩টি দৃষ্টিনন্দন সেতুসহ ও অসংখ্য বক্সকালভার্ট নির্মাণ হয়েছে।

এ অলওয়েদার সড়কপথের তৈরি শেষ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী সরেজমিনে গিয়ে উদ্বোধনের কথা ছিল। কিন্তু বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাব ঘটার কারণে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক উদ্বোধনের অপেক্ষায় ছিল।

এ করোনা মহামারীর দীর্ঘ স্থায়ীত্বের কারণে শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমেই এ সড়ক উদ্বোধনের পথ বেছে নেন।

এবার বর্ষার শুরু থেকেই হাওরের বিস্ময় খ্যাত এ অলওয়েদার সেতু ও চারপাশে দিগন্ত বিস্তৃত অপরূপ নৈসর্গিক সৌন্দর্য দেখতে করোনা ভীতিকে উপেক্ষা করে ভিড় করে দেশ-বিদেশের হাজারো নারী-পুরুষ দর্শনার্থী-পর্যটক।

ইতিমধ্যেই অনির্ধারিত সফরে এসে হাওরের বিস্ময় খ্যাত এ দৃষ্টিনন্দন অলওয়েদার সড়কপথ ও দু’পাশের দিগন্তবিস্তৃত জলরাশির অপরূপ নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করে গেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা।

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত বৃহত্তর হাওরাঞ্চলের গেটওয়ে হিসেবে পরিচিত কিশোরগঞ্জের পশ্চাৎপদ এ হাওর জনপদের আগের মধ্যযুগীয় যোগাযোগ ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব নির্বাচনের সময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লঞ্চ ও নৌকায় এ হাওরাঞ্চলে এসে প্রত্যেকটা এলাকায় রাতযাপন করে সভা-সমাবেশ করেছেন। আমিও এই এলাকার সে রূপ দেখেছি।

আর এ কারণে মহামান্য রাষ্ট্রপতির অভিপ্রায় এবং হাওরবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণে আওয়ামী লীগ সরকার এ অঞ্চলের ব্যাপক উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নেয়।

এ সময় করোনা দূর হলে প্রধানমন্ত্রী হাওরের এ অলওয়েদার সড়কপথ ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সরেজমিন পরিদর্শনেরও ইচ্ছা ব্যক্ত করেন।