ঢাকা ১১:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারও করবে পুলিশ: আইজিপি ব্যবসায়ীকে আটকে চাঁদা দাবি: ডিজিএফআই সদস্যসহ কারাগারে ৬

বুয়েটে রিনিউয়েবল এনার্জি ফেস্ট থেকে ১২ দফা সুনির্দিষ্ট ঘোষণা প্রকাশ

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে তিন দিনব্যাপী ‘রিনিউয়েবল এনার্জি ফেস্ট ২০২৬’ সম্পন্ন হয়েছে। ‘একটি ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সবুজ জ্বালানি রূপান্তর’ প্রতিপাদ্যকে কেন্দ্র করে দেশে দ্বিতীয়বারের মতো এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। আয়োজনে যৌথ ভূমিকা রাখে একশনএইড বাংলাদেশ, বুয়েট, জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (জেটনেট-বিডি) এবং বুয়েটের ইনস্টিটিউট অব এনার্জি অ্যান্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট (আইইএসডি)। সহ-আয়োজক হিসেবে যুক্ত ছিল বাংলাদেশ এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার রিসার্চ কাউন্সিল (বিইপিআরসি), বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) ও বাংলাদেশ সোলার অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন। মেলা থেকে পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিত করে জলবায়ু ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে জ্বালানি খাত রূপান্তরের আহ্বান জানানো হয়। ন্যায্য রূপান্তরের জন্য জ্বালানি নীতি ও সুশাসন নিশ্চিত করা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো তৈরিতে গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। এছাড়াও, তাপমাত্রা বৃদ্ধি মোকাবিলায় সৌরচালিত সেচব্যবস্থা ও আইওটি প্রযুক্তির মতো উদ্ভাবনী সমাধান ব্যবহারের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস (আইইইএফএ), অক্সফাম ইন বাংলাদেশ ও দ্য আর্থ সোসাইটি।

উৎসবের সমাপনী দিনে ১২-দফা সমৃদ্ধ একটি সমন্বিত ঘোষণাপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। এতে স্বতন্ত্র নবায়নযোগ্য জ্বালানি আইন প্রণয়ন, সৌরশক্তির ব্যাপক প্রসার, অ্যাগ্রিভোল্টেইক্স বিকাশ, ব্যাটারি স্টোরেজ ও স্মার্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডের আধুনিকায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি রেয়াতি ঋণ, গ্রিন বন্ড ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিআইপি) মাধ্যমে গ্রিন ফাইন্যান্স নিশ্চিত করা, দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি, তরুণদের কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন এবং মূল শিল্পখাতগুলোতে কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের সুপারিশ উঠে আসে। আয়োজকরা জানান, ঘোষণাপত্রে প্রযুক্তি ও আর্থিক কাঠামোর পাশাপাশি সামাজিক ন্যায্যতা ও জবাবদিহিতাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এতে নারী, আদিবাসী জনগোষ্ঠী, শ্রমিক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিতের দাবি জানানোর পাশাপাশি জলবায়ু অর্থায়নে স্বচ্ছতা, স্বাধীন পর্যবেক্ষণ ও বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া আঞ্চলিক প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বের আহ্বান জানানো হয়।

মেলার শেষদিনে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত ছিল দেশীয় উদ্ভাবকদের নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ক অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও ধারণার স্টলসমূহ। যেখানে করপোরেট খাতের বিভিন্ন সবুজ পণ্য ও সেবা প্রদর্শিত হয়। এর পাশাপাশি আয়োজন করা হয় একাধিক প্লেনারি সেশন ও আঞ্চলিক সংলাপ। এসব সেশনে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত থেকে নিজ নিজ দেশের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশে টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার বিকাশে করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন। তরুণদের অংশগ্রহণে আয়োজিত ‘ফ্রম কমিউটমেন্ট টু কমিউনিটিঃ অ্যাডভান্সিং এ জাস্ট এনার্জি ট্রান্সজিশন থ্রু বাংলাদেশ এনডিসি ৩.০’ শীর্ষক সংলাপে সঞ্চালনা করেন শায়লা শবনম রিচি। এতে বক্তারা বায়ুদূষণ কমানো, সৌরচালিত সেচব্যবস্থা এবং আইওটিভিত্তিক সমাধানের ওপর জোর দেন। আগামী ১২ মাসে তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি ও দক্ষতা উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরির দাবিও জানানো হয়। শায়লা শবনম রিচির সঞ্চালনায় এই প্যানেল আলোচনায় বক্তারা বলেন, বায়ুদূষণ ও ধুলাবালি কমাতে কার্যকর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। আগামী ১২ মাসে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব উদ্যোক্তা তৈরি এবং সবুজায়নে তরুণদের সম্পৃক্ত করতে কার্যকর রোডম্যাপ প্রণয়ন জরুরি বলে দাবি জানান তারা। এই উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি তৈরির সুযোগ, সম্ভাবনা ও উপকারিতা তুলে ধরা হয়।

অর্থায়ন বিষয়ক প্যানেল আলোচনা ‘বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অর্থায়ন ও বিনিয়োগ’-এ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন খান। একশনএইড বাংলাদেশের হেড অব প্রোগ্রাম অ্যান্ড এনগেজমেন্ট কাজী মোর্শেদ আলমের সঞ্চালনায় এতে অংশ নেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি তানজিনা দিলশাদ, গ্রিনার গার্মেন্টস ইনিশিয়েটিভের (জিজিআই) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নুরে আলম এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স বিভাগের পরিচালক একেএম নুরুননবী। আলোচনায় জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন, সমন্বিত ট্যারিফ কাঠামো, গবেষণা ও দেশীয় প্রযুক্তির সক্ষমতা বাড়ানোর জোর তাগিদ দেওয়া হয়।

উৎসবের শেষভাগে ‘রিনিউয়েবল এনার্জি ইনোভেশন, টেকনোলজি অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার’, ‘সোশ্যাল-ইনভায়রনমেন্টাল সেফগার্ড অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি অব রিনিউয়েবল এনার্জি’ এবং ‘এনার্জি পলিসি অ্যান্ড গভরন্যান্স ফর এ জাস্ট ট্রানজিশন’ বিষয়ক পৃথক সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এসব সেশনে সোলার প্যানেল স্থাপন অধ্যাদেশের মতো নীতিগত বিষয়সহ স্থানীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়। পাশাপাশি কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটার নাটিকা পরিবেশনের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানির গুরুত্ব তুলে ধরে।

অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে অসামান্য অবদানের জন্য তরুণ নেতৃত্ব ও উদ্ভাবকদের পুরস্কৃত করা হয়। প্রতিযোগিতায় ‘ফেলাইট’ প্রকল্প প্রথম, ‘কার্বন ক্রেডিট বিডি’ দ্বিতীয় এবং ‘আইইউবি ফর্মুলা-ই’ প্রকল্প তৃতীয় স্থান অর্জন করে বিজয়ীরা সনদ ও সিডমানি লাভ করেন। পাশাপাশি সেরা পোস্টার ক্যাটাগরিতে আইইউবি, বুয়েট ও ইস্টওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পোস্টার পুরস্কৃত হয়। তাদেরকে স্বীকৃতি সনদ ও সিডমানি প্রদান করা হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারপার্সন জাহরাত আদিব চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন একশনএইড ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ সোসাইটির বোর্ড চেয়ার ইব্রাহিম খলিল আল জায়াদ। এতে একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির সমাপনী বক্তব্য দেন এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বুয়েটের অধ্যাপক এমএএ শওকত চৌধুরী ও একশনএইড বাংলাদেশের ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ। অনুষ্ঠানে বিআইআইএসএস প্রতিনিধি সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এদিকে সমাপনী দিনের অনুষ্ঠানে সকাল থেকেই দর্শনার্থীরা উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিসের (বিআইআইএসএস) প্রতিনিধি ড. বেনুকা ফেরদৌসী, পরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চের প্রতিনিধি কুদরত ই খুদা, একশনএইড বাংলাদেশের মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশনস ম্যানেজার শাব্বীর রহমান প্রমুখ।

আপলোডকারীর তথ্য

বেগমগঞ্জকে গ্যাং ও মাদকমুক্ত করার প্রত্যয় সামীমা বরকত লাকীর

বুয়েটে রিনিউয়েবল এনার্জি ফেস্ট থেকে ১২ দফা সুনির্দিষ্ট ঘোষণা প্রকাশ

আপডেট সময় ১০:০৭:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে তিন দিনব্যাপী ‘রিনিউয়েবল এনার্জি ফেস্ট ২০২৬’ সম্পন্ন হয়েছে। ‘একটি ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সবুজ জ্বালানি রূপান্তর’ প্রতিপাদ্যকে কেন্দ্র করে দেশে দ্বিতীয়বারের মতো এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। আয়োজনে যৌথ ভূমিকা রাখে একশনএইড বাংলাদেশ, বুয়েট, জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (জেটনেট-বিডি) এবং বুয়েটের ইনস্টিটিউট অব এনার্জি অ্যান্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট (আইইএসডি)। সহ-আয়োজক হিসেবে যুক্ত ছিল বাংলাদেশ এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার রিসার্চ কাউন্সিল (বিইপিআরসি), বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) ও বাংলাদেশ সোলার অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন। মেলা থেকে পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিত করে জলবায়ু ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে জ্বালানি খাত রূপান্তরের আহ্বান জানানো হয়। ন্যায্য রূপান্তরের জন্য জ্বালানি নীতি ও সুশাসন নিশ্চিত করা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো তৈরিতে গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। এছাড়াও, তাপমাত্রা বৃদ্ধি মোকাবিলায় সৌরচালিত সেচব্যবস্থা ও আইওটি প্রযুক্তির মতো উদ্ভাবনী সমাধান ব্যবহারের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস (আইইইএফএ), অক্সফাম ইন বাংলাদেশ ও দ্য আর্থ সোসাইটি।

উৎসবের সমাপনী দিনে ১২-দফা সমৃদ্ধ একটি সমন্বিত ঘোষণাপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। এতে স্বতন্ত্র নবায়নযোগ্য জ্বালানি আইন প্রণয়ন, সৌরশক্তির ব্যাপক প্রসার, অ্যাগ্রিভোল্টেইক্স বিকাশ, ব্যাটারি স্টোরেজ ও স্মার্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডের আধুনিকায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি রেয়াতি ঋণ, গ্রিন বন্ড ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিআইপি) মাধ্যমে গ্রিন ফাইন্যান্স নিশ্চিত করা, দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি, তরুণদের কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন এবং মূল শিল্পখাতগুলোতে কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের সুপারিশ উঠে আসে। আয়োজকরা জানান, ঘোষণাপত্রে প্রযুক্তি ও আর্থিক কাঠামোর পাশাপাশি সামাজিক ন্যায্যতা ও জবাবদিহিতাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এতে নারী, আদিবাসী জনগোষ্ঠী, শ্রমিক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিতের দাবি জানানোর পাশাপাশি জলবায়ু অর্থায়নে স্বচ্ছতা, স্বাধীন পর্যবেক্ষণ ও বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া আঞ্চলিক প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বের আহ্বান জানানো হয়।

মেলার শেষদিনে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত ছিল দেশীয় উদ্ভাবকদের নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ক অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও ধারণার স্টলসমূহ। যেখানে করপোরেট খাতের বিভিন্ন সবুজ পণ্য ও সেবা প্রদর্শিত হয়। এর পাশাপাশি আয়োজন করা হয় একাধিক প্লেনারি সেশন ও আঞ্চলিক সংলাপ। এসব সেশনে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত থেকে নিজ নিজ দেশের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশে টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার বিকাশে করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন। তরুণদের অংশগ্রহণে আয়োজিত ‘ফ্রম কমিউটমেন্ট টু কমিউনিটিঃ অ্যাডভান্সিং এ জাস্ট এনার্জি ট্রান্সজিশন থ্রু বাংলাদেশ এনডিসি ৩.০’ শীর্ষক সংলাপে সঞ্চালনা করেন শায়লা শবনম রিচি। এতে বক্তারা বায়ুদূষণ কমানো, সৌরচালিত সেচব্যবস্থা এবং আইওটিভিত্তিক সমাধানের ওপর জোর দেন। আগামী ১২ মাসে তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি ও দক্ষতা উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরির দাবিও জানানো হয়। শায়লা শবনম রিচির সঞ্চালনায় এই প্যানেল আলোচনায় বক্তারা বলেন, বায়ুদূষণ ও ধুলাবালি কমাতে কার্যকর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। আগামী ১২ মাসে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব উদ্যোক্তা তৈরি এবং সবুজায়নে তরুণদের সম্পৃক্ত করতে কার্যকর রোডম্যাপ প্রণয়ন জরুরি বলে দাবি জানান তারা। এই উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি তৈরির সুযোগ, সম্ভাবনা ও উপকারিতা তুলে ধরা হয়।

অর্থায়ন বিষয়ক প্যানেল আলোচনা ‘বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অর্থায়ন ও বিনিয়োগ’-এ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন খান। একশনএইড বাংলাদেশের হেড অব প্রোগ্রাম অ্যান্ড এনগেজমেন্ট কাজী মোর্শেদ আলমের সঞ্চালনায় এতে অংশ নেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি তানজিনা দিলশাদ, গ্রিনার গার্মেন্টস ইনিশিয়েটিভের (জিজিআই) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নুরে আলম এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স বিভাগের পরিচালক একেএম নুরুননবী। আলোচনায় জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন, সমন্বিত ট্যারিফ কাঠামো, গবেষণা ও দেশীয় প্রযুক্তির সক্ষমতা বাড়ানোর জোর তাগিদ দেওয়া হয়।

উৎসবের শেষভাগে ‘রিনিউয়েবল এনার্জি ইনোভেশন, টেকনোলজি অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার’, ‘সোশ্যাল-ইনভায়রনমেন্টাল সেফগার্ড অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি অব রিনিউয়েবল এনার্জি’ এবং ‘এনার্জি পলিসি অ্যান্ড গভরন্যান্স ফর এ জাস্ট ট্রানজিশন’ বিষয়ক পৃথক সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এসব সেশনে সোলার প্যানেল স্থাপন অধ্যাদেশের মতো নীতিগত বিষয়সহ স্থানীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়। পাশাপাশি কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটার নাটিকা পরিবেশনের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানির গুরুত্ব তুলে ধরে।

অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে অসামান্য অবদানের জন্য তরুণ নেতৃত্ব ও উদ্ভাবকদের পুরস্কৃত করা হয়। প্রতিযোগিতায় ‘ফেলাইট’ প্রকল্প প্রথম, ‘কার্বন ক্রেডিট বিডি’ দ্বিতীয় এবং ‘আইইউবি ফর্মুলা-ই’ প্রকল্প তৃতীয় স্থান অর্জন করে বিজয়ীরা সনদ ও সিডমানি লাভ করেন। পাশাপাশি সেরা পোস্টার ক্যাটাগরিতে আইইউবি, বুয়েট ও ইস্টওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পোস্টার পুরস্কৃত হয়। তাদেরকে স্বীকৃতি সনদ ও সিডমানি প্রদান করা হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারপার্সন জাহরাত আদিব চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন একশনএইড ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ সোসাইটির বোর্ড চেয়ার ইব্রাহিম খলিল আল জায়াদ। এতে একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির সমাপনী বক্তব্য দেন এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বুয়েটের অধ্যাপক এমএএ শওকত চৌধুরী ও একশনএইড বাংলাদেশের ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ। অনুষ্ঠানে বিআইআইএসএস প্রতিনিধি সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এদিকে সমাপনী দিনের অনুষ্ঠানে সকাল থেকেই দর্শনার্থীরা উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিসের (বিআইআইএসএস) প্রতিনিধি ড. বেনুকা ফেরদৌসী, পরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চের প্রতিনিধি কুদরত ই খুদা, একশনএইড বাংলাদেশের মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশনস ম্যানেজার শাব্বীর রহমান প্রমুখ।