ঢাকা ০৯:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারও করবে পুলিশ: আইজিপি ব্যবসায়ীকে আটকে চাঁদা দাবি: ডিজিএফআই সদস্যসহ কারাগারে ৬

আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র কখনো একসঙ্গে চলে না: গোলাম পরওয়ার

আওয়ামী লীগ এবং গণতন্ত্র কখনোই একসঙ্গে চলতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। জাতীয় প্রেস ক্লাবে পল্টন ট্র্যাজেডি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর শাখা আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

গোলাম পরওয়ার বলেন, ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমান এক দিনের ব্যবধানে সংসদে বিল পাস করে সমস্ত রাজনৈতিক দল ও সংবাদমাধ্যম নিষিদ্ধ করেছিলেন এবং বাকশাল কায়েম করেছিলেন। সে সময় রক্ষীবাহিনী গঠন করে দেশে কর্তৃত্ববাদী একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে সম্পূর্ণভাবে হত্যা করা হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, পরবর্তী সময়ে শেখ হাসিনাও পল্টন ট্র্যাজেডির রক্তাক্ত পথ ধরে সেনাশাসন ফিরিয়ে এনেছিলেন। মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দীনের সঙ্গে গোপন সমঝোতার মাধ্যমে পাতানো নির্বাচনে ক্ষমতায় এসে তারা একের পর এক ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি চালিয়েছেন। পিলখানা হত্যাকাণ্ড এবং তথাকথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। বিগত ১৫-১৬ বছর ধরে নিষ্ঠুর দমনপীড়ন ও রক্তপাতের মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষকে প্রাণ হারাতে হয়েছে। এমনকি সরকারি নির্দেশে হেলিকপ্টার থেকে সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালিয়ে বহু মানুষকে হত্যা করা হয়েছে এবং মৃতদেহগুলো পর্যন্ত পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। শেখ হাসিনা যখন কোনোভাবেই ক্ষমতা ছাড়তে চাননি এবং একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে গণতন্ত্রের সব পথ বন্ধ করে দিয়েছিলেন, তখন ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে তাকেও অস্বাভাবিকভাবে ক্ষমতা ত্যাগ করতে হয়েছে। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, শেখ মুজিবুর রহমানের ক্ষেত্রে যেমন ক্ষমতায় আসা-যাওয়ার গণতান্ত্রিক রীতি অনুসরণের সুযোগ ছিল না, তেমনি শেখ হাসিনাকেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট অস্বাভাবিকভাবে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। তারা ছাড়া আর কেউ থাকবে না, তারা যা বলবে, তাই বলতে হবে, এটাই ফ্যাসিজম।

বিএনপির সমালোচনা করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের অতীত কর্মকাণ্ড থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দেশের জনগণ বিএনপিকে যে দায়িত্ব দিয়েছিল, একটি মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার সেই অঙ্গীকার তারা রক্ষা করছে না। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর লগি-বৈঠার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। সে সময় রক্ত ঝরিয়ে মানুষ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন দেখেছিল। অথচ বর্তমান সময়ে এসেও বিএনপির একটি অংশ সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে এবং বিচারের পথ রুদ্ধ করে আবার ফ্যাসিবাদের পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জাতি বিএনপিকে যে ম্যান্ডেট দিয়েছিল, বাংলাদেশকে মানবিক, ইনসাফপূর্ণ নতুন বাংলাদেশে রূপান্তরিত করার সেই দায়িত্ব তারা ভুলে গেছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২৮ অক্টোবরের আত্মত্যাগের মাধ্যমে শহীদরা যে মুক্ত দেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, আওয়ামী লীগ জোরপূর্বক তা বাস্তবায়ন হতে দেয়নি। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমেই সেই ফ্যাসিবাদের চূড়ান্ত পতন ঘটেছে এবং মানুষ এখন নতুন একটি গণতান্ত্রিক দেশের প্রত্যাশা করছে। তিনি আরও বলেন, ২৮ অক্টোবরের রক্তদানের মধ্য দিয়ে শহীদরা বাংলাদেশকে যে পথে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন, আওয়ামী লীগ তা হতে দেয়নি; বরং ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটিয়েছিল।

আপলোডকারীর তথ্য

বুধবার থেকেই শুরু হতে পারে ঢাকা-রিয়াদ ফ্লাইট

আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র কখনো একসঙ্গে চলে না: গোলাম পরওয়ার

আপডেট সময় ০৮:১৮:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

আওয়ামী লীগ এবং গণতন্ত্র কখনোই একসঙ্গে চলতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। জাতীয় প্রেস ক্লাবে পল্টন ট্র্যাজেডি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর শাখা আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

গোলাম পরওয়ার বলেন, ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমান এক দিনের ব্যবধানে সংসদে বিল পাস করে সমস্ত রাজনৈতিক দল ও সংবাদমাধ্যম নিষিদ্ধ করেছিলেন এবং বাকশাল কায়েম করেছিলেন। সে সময় রক্ষীবাহিনী গঠন করে দেশে কর্তৃত্ববাদী একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে সম্পূর্ণভাবে হত্যা করা হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, পরবর্তী সময়ে শেখ হাসিনাও পল্টন ট্র্যাজেডির রক্তাক্ত পথ ধরে সেনাশাসন ফিরিয়ে এনেছিলেন। মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দীনের সঙ্গে গোপন সমঝোতার মাধ্যমে পাতানো নির্বাচনে ক্ষমতায় এসে তারা একের পর এক ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি চালিয়েছেন। পিলখানা হত্যাকাণ্ড এবং তথাকথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। বিগত ১৫-১৬ বছর ধরে নিষ্ঠুর দমনপীড়ন ও রক্তপাতের মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষকে প্রাণ হারাতে হয়েছে। এমনকি সরকারি নির্দেশে হেলিকপ্টার থেকে সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালিয়ে বহু মানুষকে হত্যা করা হয়েছে এবং মৃতদেহগুলো পর্যন্ত পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। শেখ হাসিনা যখন কোনোভাবেই ক্ষমতা ছাড়তে চাননি এবং একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে গণতন্ত্রের সব পথ বন্ধ করে দিয়েছিলেন, তখন ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে তাকেও অস্বাভাবিকভাবে ক্ষমতা ত্যাগ করতে হয়েছে। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, শেখ মুজিবুর রহমানের ক্ষেত্রে যেমন ক্ষমতায় আসা-যাওয়ার গণতান্ত্রিক রীতি অনুসরণের সুযোগ ছিল না, তেমনি শেখ হাসিনাকেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট অস্বাভাবিকভাবে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। তারা ছাড়া আর কেউ থাকবে না, তারা যা বলবে, তাই বলতে হবে, এটাই ফ্যাসিজম।

বিএনপির সমালোচনা করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের অতীত কর্মকাণ্ড থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দেশের জনগণ বিএনপিকে যে দায়িত্ব দিয়েছিল, একটি মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার সেই অঙ্গীকার তারা রক্ষা করছে না। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর লগি-বৈঠার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। সে সময় রক্ত ঝরিয়ে মানুষ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন দেখেছিল। অথচ বর্তমান সময়ে এসেও বিএনপির একটি অংশ সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে এবং বিচারের পথ রুদ্ধ করে আবার ফ্যাসিবাদের পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জাতি বিএনপিকে যে ম্যান্ডেট দিয়েছিল, বাংলাদেশকে মানবিক, ইনসাফপূর্ণ নতুন বাংলাদেশে রূপান্তরিত করার সেই দায়িত্ব তারা ভুলে গেছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২৮ অক্টোবরের আত্মত্যাগের মাধ্যমে শহীদরা যে মুক্ত দেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, আওয়ামী লীগ জোরপূর্বক তা বাস্তবায়ন হতে দেয়নি। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমেই সেই ফ্যাসিবাদের চূড়ান্ত পতন ঘটেছে এবং মানুষ এখন নতুন একটি গণতান্ত্রিক দেশের প্রত্যাশা করছে। তিনি আরও বলেন, ২৮ অক্টোবরের রক্তদানের মধ্য দিয়ে শহীদরা বাংলাদেশকে যে পথে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন, আওয়ামী লীগ তা হতে দেয়নি; বরং ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটিয়েছিল।