ঢাকা ০৪:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

ইস! হাওরের এ সড়ক দেখতে যে কবে যাব?

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

কিশোরগঞ্জের হাওরের দৃষ্টিনন্দন অলওয়েদার সড়ক উদ্বোধনকালে হাওরবাসীর উদ্দেশে কথা বলার এক ফাঁকে হাওরের বিস্ময় খ্যাত পর্যটন সম্ভাবনার এ অলওয়েদার সড়কপথ দেখতে নিজের ব্যাকুল আগ্রহের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভিডিওচিত্রে হাওর উপজেলা ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামের গভীর হাওর ও দিগন্ত বিস্তৃত পানির বুক চিড়ে সরীসৃপের মতো এঁকেবেঁকে চলা এ অলওয়েদার সড়কের ভিডিওচিত্র দেখানো হয় প্রধানমন্ত্রীকে।

এ সময় বিস্ময়কর এ সড়ক ও সড়কপথের অপরূপ নৈসর্গিক সৌন্দর্য দেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলে উঠলেন, ‘ইস! কবে যে যাব এ সড়ক দেখতে? আমার মনটা পড়ে থাকল। এ সড়ক দিয়ে গাড়িতে কবে যাব। রাষ্ট্রপতিও চান আমি যেন সরাসরি যাই’। করোনা পরিস্থিতি উন্নতি হলে এ সড়ক দেখতে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, হাওরে যে এমন সড়কপথ করা যায় সেটাও মহামান্য রাষ্ট্রপতি শিখিয়েছেন। মহামান্য রাষ্ট্রপতির ইচ্ছানুযায়ীই হাওরবাসীর এ স্বপ্ন পূরণে আমরা কাজ শুরু করি।

২০১৬ সালের ২১ এপ্রিল ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রামের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপনকারী এ সড়ক প্রকল্পের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের তত্ত্বাবধানে এ সড়কপথ নির্মাণে ব্যয় হয় ৮৭৪.০৮ কোটি টাকা। এ সড়কপথের বাউলাই ও ধনু নদীতে ৩টি দৃষ্টিনন্দন সেতুসহ ও অসংখ্য বক্সকালভার্ট নির্মাণ হয়েছে।

এ অলওয়েদার সড়কপথের তৈরি শেষ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী সরেজমিনে গিয়ে উদ্বোধনের কথা ছিল। কিন্তু বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাব ঘটার কারণে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক উদ্বোধনের অপেক্ষায় ছিল।

এ করোনা মহামারীর দীর্ঘ স্থায়ীত্বের কারণে শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমেই এ সড়ক উদ্বোধনের পথ বেছে নেন।

এবার বর্ষার শুরু থেকেই হাওরের বিস্ময় খ্যাত এ অলওয়েদার সেতু ও চারপাশে দিগন্ত বিস্তৃত অপরূপ নৈসর্গিক সৌন্দর্য দেখতে করোনা ভীতিকে উপেক্ষা করে ভিড় করে দেশ-বিদেশের হাজারো নারী-পুরুষ দর্শনার্থী-পর্যটক।

ইতিমধ্যেই অনির্ধারিত সফরে এসে হাওরের বিস্ময় খ্যাত এ দৃষ্টিনন্দন অলওয়েদার সড়কপথ ও দু’পাশের দিগন্তবিস্তৃত জলরাশির অপরূপ নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করে গেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা।

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত বৃহত্তর হাওরাঞ্চলের গেটওয়ে হিসেবে পরিচিত কিশোরগঞ্জের পশ্চাৎপদ এ হাওর জনপদের আগের মধ্যযুগীয় যোগাযোগ ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব নির্বাচনের সময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লঞ্চ ও নৌকায় এ হাওরাঞ্চলে এসে প্রত্যেকটা এলাকায় রাতযাপন করে সভা-সমাবেশ করেছেন। আমিও এই এলাকার সে রূপ দেখেছি।

আর এ কারণে মহামান্য রাষ্ট্রপতির অভিপ্রায় এবং হাওরবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণে আওয়ামী লীগ সরকার এ অঞ্চলের ব্যাপক উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নেয়।

এ সময় করোনা দূর হলে প্রধানমন্ত্রী হাওরের এ অলওয়েদার সড়কপথ ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সরেজমিন পরিদর্শনেরও ইচ্ছা ব্যক্ত করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

ইস! হাওরের এ সড়ক দেখতে যে কবে যাব?

আপডেট সময় ১০:৫৪:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

কিশোরগঞ্জের হাওরের দৃষ্টিনন্দন অলওয়েদার সড়ক উদ্বোধনকালে হাওরবাসীর উদ্দেশে কথা বলার এক ফাঁকে হাওরের বিস্ময় খ্যাত পর্যটন সম্ভাবনার এ অলওয়েদার সড়কপথ দেখতে নিজের ব্যাকুল আগ্রহের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভিডিওচিত্রে হাওর উপজেলা ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামের গভীর হাওর ও দিগন্ত বিস্তৃত পানির বুক চিড়ে সরীসৃপের মতো এঁকেবেঁকে চলা এ অলওয়েদার সড়কের ভিডিওচিত্র দেখানো হয় প্রধানমন্ত্রীকে।

এ সময় বিস্ময়কর এ সড়ক ও সড়কপথের অপরূপ নৈসর্গিক সৌন্দর্য দেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলে উঠলেন, ‘ইস! কবে যে যাব এ সড়ক দেখতে? আমার মনটা পড়ে থাকল। এ সড়ক দিয়ে গাড়িতে কবে যাব। রাষ্ট্রপতিও চান আমি যেন সরাসরি যাই’। করোনা পরিস্থিতি উন্নতি হলে এ সড়ক দেখতে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, হাওরে যে এমন সড়কপথ করা যায় সেটাও মহামান্য রাষ্ট্রপতি শিখিয়েছেন। মহামান্য রাষ্ট্রপতির ইচ্ছানুযায়ীই হাওরবাসীর এ স্বপ্ন পূরণে আমরা কাজ শুরু করি।

২০১৬ সালের ২১ এপ্রিল ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রামের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপনকারী এ সড়ক প্রকল্পের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের তত্ত্বাবধানে এ সড়কপথ নির্মাণে ব্যয় হয় ৮৭৪.০৮ কোটি টাকা। এ সড়কপথের বাউলাই ও ধনু নদীতে ৩টি দৃষ্টিনন্দন সেতুসহ ও অসংখ্য বক্সকালভার্ট নির্মাণ হয়েছে।

এ অলওয়েদার সড়কপথের তৈরি শেষ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী সরেজমিনে গিয়ে উদ্বোধনের কথা ছিল। কিন্তু বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাব ঘটার কারণে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক উদ্বোধনের অপেক্ষায় ছিল।

এ করোনা মহামারীর দীর্ঘ স্থায়ীত্বের কারণে শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমেই এ সড়ক উদ্বোধনের পথ বেছে নেন।

এবার বর্ষার শুরু থেকেই হাওরের বিস্ময় খ্যাত এ অলওয়েদার সেতু ও চারপাশে দিগন্ত বিস্তৃত অপরূপ নৈসর্গিক সৌন্দর্য দেখতে করোনা ভীতিকে উপেক্ষা করে ভিড় করে দেশ-বিদেশের হাজারো নারী-পুরুষ দর্শনার্থী-পর্যটক।

ইতিমধ্যেই অনির্ধারিত সফরে এসে হাওরের বিস্ময় খ্যাত এ দৃষ্টিনন্দন অলওয়েদার সড়কপথ ও দু’পাশের দিগন্তবিস্তৃত জলরাশির অপরূপ নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করে গেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা।

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত বৃহত্তর হাওরাঞ্চলের গেটওয়ে হিসেবে পরিচিত কিশোরগঞ্জের পশ্চাৎপদ এ হাওর জনপদের আগের মধ্যযুগীয় যোগাযোগ ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব নির্বাচনের সময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লঞ্চ ও নৌকায় এ হাওরাঞ্চলে এসে প্রত্যেকটা এলাকায় রাতযাপন করে সভা-সমাবেশ করেছেন। আমিও এই এলাকার সে রূপ দেখেছি।

আর এ কারণে মহামান্য রাষ্ট্রপতির অভিপ্রায় এবং হাওরবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণে আওয়ামী লীগ সরকার এ অঞ্চলের ব্যাপক উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নেয়।

এ সময় করোনা দূর হলে প্রধানমন্ত্রী হাওরের এ অলওয়েদার সড়কপথ ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সরেজমিন পরিদর্শনেরও ইচ্ছা ব্যক্ত করেন।