ঢাকা ০৮:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারও করবে পুলিশ: আইজিপি ব্যবসায়ীকে আটকে চাঁদা দাবি: ডিজিএফআই সদস্যসহ কারাগারে ৬

তিন বিমানবন্দরে সোনা চোরাচালান: মূল হোতাদের খোঁজে কাস্টমস ও গোয়েন্দা

দেশের তিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর—হযরত শাহজালাল, শাহ আমানত ও ওসমানীকে ঘিরে সোনা চোরাচালানের অভিযোগগুলো এখন বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিমানবন্দরগুলোর যাত্রী টার্মিনাল, উড়োজাহাজের আসন, শৌচাগার এমনকি কার্গো হোল থেকেও প্রায়ই বিপুল পরিমাণ সোনা জব্দ করছেন কাস্টমস ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। এসব ঘটনায় কেবল বাহক হিসেবে যাত্রী বা বিমানকর্মীদের আটক করা হলেও, ঘটনার নেপথ্যে থাকা অর্থদাতা ও মূল পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি বড় চালান ধরা পড়েছে। গত ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জেদ্দা থেকে আসা এক যাত্রীর কাছ থেকে দেড় কেজি সোনার চুড়ি জব্দ করা হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এর কয়েক দিন আগেই হযরত শাহজালালে মালদ্বীপ থেকে আসা দুই যাত্রীর শরীরের ভেতর থেকে ২ কেজি ৭৩৪ গ্রাম সোনার পেস্ট উদ্ধার করা হয়, যার মূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা। এছাড়াও ৪ অক্টোবর এমিরেটসের দুই বিমানকর্মীর জুতার ভেতর থেকে ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা মূল্যের ৯ দশমিক ৩৪ কেজি সোনার বার উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে ২১ সেপ্টেম্বর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজের টয়লেট থেকে ৫ দশমিক ৮৩২ কেজি, ফ্লাইদুবাইয়ের আসনের নিচ থেকে ৯ দশমিক ৩৩ কেজি এবং জুলাই মাসে বিমানের কার্গো থেকে ১৮ কেজির বেশি সোনা উদ্ধার হয়েছে।

চোরাচালানের এই নেটওয়ার্কগুলোর পেছনে বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনো যোগসাজশ আছে কি না, তা নিয়ে নিয়মিতই অভিযোগ উঠছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কেবল বাহকদের গ্রেপ্তার করাই যথেষ্ট নয়; বরং এই চোরাচালান কোথা থেকে শুরু হচ্ছে, কার অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে এবং গন্তব্যে পৌঁছানোর পর কাদের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে, তা নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা জরুরি। এক্ষেত্রে উড়োজাহাজের নিরাপত্তা নথি, সিসিটিভি ফুটেজ, কর্মীদের প্রবেশাধিকার ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা কাস্টম হাউসের কমিশনার মো. রইচ উদ্দিন খান জানিয়েছেন, অবৈধ পণ্য পাচার নিয়ন্ত্রণে নজরদারি উল্লেখযোগ্য হারে জোরদার করা হয়েছে এবং কর্মকর্তাদের সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের অভিমত, কার্যকর প্রতিরোধের জন্য কেবল উদ্ধার অভিযান যথেষ্ট নয়। পুরো সরবরাহশৃঙ্খল বা সাপ্লাই চেইন ভেঙে দিয়ে মূল দায়ীদের আইনের আওতায় আনা না গেলে বিমানবন্দরকেন্দ্রিক এই অপরাধ পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হবে না। নিয়মিত তথ্য সমন্বয় ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই হবে দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের উপায়।

আপলোডকারীর তথ্য

আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র কখনো একসঙ্গে চলে না: গোলাম পরওয়ার

তিন বিমানবন্দরে সোনা চোরাচালান: মূল হোতাদের খোঁজে কাস্টমস ও গোয়েন্দা

আপডেট সময় ০৭:৩৬:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

দেশের তিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর—হযরত শাহজালাল, শাহ আমানত ও ওসমানীকে ঘিরে সোনা চোরাচালানের অভিযোগগুলো এখন বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিমানবন্দরগুলোর যাত্রী টার্মিনাল, উড়োজাহাজের আসন, শৌচাগার এমনকি কার্গো হোল থেকেও প্রায়ই বিপুল পরিমাণ সোনা জব্দ করছেন কাস্টমস ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। এসব ঘটনায় কেবল বাহক হিসেবে যাত্রী বা বিমানকর্মীদের আটক করা হলেও, ঘটনার নেপথ্যে থাকা অর্থদাতা ও মূল পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি বড় চালান ধরা পড়েছে। গত ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জেদ্দা থেকে আসা এক যাত্রীর কাছ থেকে দেড় কেজি সোনার চুড়ি জব্দ করা হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এর কয়েক দিন আগেই হযরত শাহজালালে মালদ্বীপ থেকে আসা দুই যাত্রীর শরীরের ভেতর থেকে ২ কেজি ৭৩৪ গ্রাম সোনার পেস্ট উদ্ধার করা হয়, যার মূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা। এছাড়াও ৪ অক্টোবর এমিরেটসের দুই বিমানকর্মীর জুতার ভেতর থেকে ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা মূল্যের ৯ দশমিক ৩৪ কেজি সোনার বার উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে ২১ সেপ্টেম্বর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজের টয়লেট থেকে ৫ দশমিক ৮৩২ কেজি, ফ্লাইদুবাইয়ের আসনের নিচ থেকে ৯ দশমিক ৩৩ কেজি এবং জুলাই মাসে বিমানের কার্গো থেকে ১৮ কেজির বেশি সোনা উদ্ধার হয়েছে।

চোরাচালানের এই নেটওয়ার্কগুলোর পেছনে বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনো যোগসাজশ আছে কি না, তা নিয়ে নিয়মিতই অভিযোগ উঠছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কেবল বাহকদের গ্রেপ্তার করাই যথেষ্ট নয়; বরং এই চোরাচালান কোথা থেকে শুরু হচ্ছে, কার অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে এবং গন্তব্যে পৌঁছানোর পর কাদের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে, তা নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা জরুরি। এক্ষেত্রে উড়োজাহাজের নিরাপত্তা নথি, সিসিটিভি ফুটেজ, কর্মীদের প্রবেশাধিকার ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা কাস্টম হাউসের কমিশনার মো. রইচ উদ্দিন খান জানিয়েছেন, অবৈধ পণ্য পাচার নিয়ন্ত্রণে নজরদারি উল্লেখযোগ্য হারে জোরদার করা হয়েছে এবং কর্মকর্তাদের সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের অভিমত, কার্যকর প্রতিরোধের জন্য কেবল উদ্ধার অভিযান যথেষ্ট নয়। পুরো সরবরাহশৃঙ্খল বা সাপ্লাই চেইন ভেঙে দিয়ে মূল দায়ীদের আইনের আওতায় আনা না গেলে বিমানবন্দরকেন্দ্রিক এই অপরাধ পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হবে না। নিয়মিত তথ্য সমন্বয় ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই হবে দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের উপায়।