পদ্মা-মেঘনা নদীতে মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে সরকার ঘোষিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা গত ২৯ অক্টোবর শেষ হয়েছে। এই সময়ে আইন অমান্য করে মাছ ধরার দায়ে চাঁদপুরে মোট ৬৪৬ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে। জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স এবং নৌ পুলিশের যৌথ অভিযানে এই জেলেরা ধরা পড়েন।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে মোট ২৩৮টি অভিযান পরিচালিত হয়। এর মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৮৩ জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়েছে। অভিযানে উদ্ধার হওয়া মাছ এবং জালের হিসাব দিতে গিয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম জানান, এ সময় ২ দশমিক ৭৫৩ টন ইলিশ জব্দ করা হয়, যা পরে স্থানীয় মাদ্রাসা, এতিমখানা ও দুস্থদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ১২ লাখ ১ হাজার ৯৯ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ ও ধ্বংস করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৭১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এসব ঘটনায় মোট ১৬১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় ও চাঁদপুর নৌ থানা থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তি ও প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। জরিমানা হিসেবে আদায় করা হয় ৩ লাখ ৯৬ হাজার ২০০ টাকা।
অন্যদিকে, নৌ পুলিশের পৃথক অভিযানে ৪৬৩ জন জেলেকে আটক করা হয়। এদের মধ্যে ১২০ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি ৩৪৩ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা হয়েছে। চাঁদপুর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজমগীর হোসেন জানান, অভিযানের সময় নৌ পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় দুটিসহ মোট ১৩২টি মামলা দায়ের হয়েছে। এছাড়া ৩০ লাখ ৯০ হাজার ৫৮৫ মিটার কারেন্ট জাল ও ৭৭টি মাছ ধরার নৌকা জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে এবং উদ্ধার হওয়া ১ দশমিক ৩২০ টন ইলিশ এতিম ও দুস্থদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ৮ অক্টোবর রাত ১২টা থেকে ২৯ অক্টোবর রাত ১২টা পর্যন্ত চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচরের চরভৈরবী পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার এলাকায় ইলিশ আহরণ, পরিবহন ও বিপণনে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে জেলার নিবন্ধিত প্রায় ৪৪ হাজার জেলে পুনরায় নদীতে মাছ ধরতে নেমেছেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 






















