ঢাকা ০৯:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারও করবে পুলিশ: আইজিপি

নিষেধাজ্ঞা শেষে পদ্মা-মেঘনায় ইলিশের ঢল, কমেনি দাম

ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পরপরই চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনা নদীর ৭০ কিলোমিটার নৌসীমায় মাছ শিকারে নেমেছেন হাজার হাজার জেলে। গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকেই নদীতে জাল ফেলছেন তারা। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল থেকে মেঘনার তীরবর্তী মাছঘাটগুলোতে তাজা ইলিশ ও অন্যান্য মাছের আমদানি বাড়ায় কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে ব্যবসায়ী ও জেলেদের মাঝে। তবে সরবরাহ বাড়লেও বাজারে রুপালি ইলিশের দাম কমেনি, যা ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা হতাশা তৈরি করেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে অনেক জেলে ইলিশ ধরতে পদ্মা-মেঘনায় নেমেছেন।

চাঁদপুর সদর উপজেলার হরিণা মাছঘাটে শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত জেলেদের মাছ নিয়ে ফেরার ব্যস্ত চিত্র দেখা গেছে। হরিণা ফেরিঘাটসংলগ্ন মাছঘাটে একের পর এক জেলে নৌকা এসে ভিড়ছে।

ঘাটের প্রায় ২০টি আড়তে মাছ বিক্রির জন্য হাঁকডাকে সরগরম হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। জেলেরা প্লাস্টিকের ট্রেতে ভরে মাছ নিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে খুচরা ব্যবসায়ী ও বড় স্টেশন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবসায়ীরা তাজা মাছ কিনতে ভিড় করছেন। স্থানীয় গোবিন্দপুর গ্রামের জেলে লিটন তপাদার জানান, রাতে নদীতে নেমে ভোরের দিকে তিনি প্রায় ১২ হাজার টাকার ইলিশ বিক্রি করেছেন। একইভাবে সাতজনের একটি দল ১৫ হাজার টাকার মাছ বিক্রি করেছেন বলে জানিয়েছেন জেলে আবুল কালাম খান। তাদের প্রত্যাশা, আগামী কয়েক দিন ইলিশের সরবরাহ ভালো থাকলে তারা গত কয়েক সপ্তাহের লোকসান পুষিয়ে নিতে পারবেন। কিছু জেলে ইলিশ, পাঙাশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ নিয়ে আড়তে ফিরছেন। এতে সরগরম হয়ে উঠেছে নদীতীরবর্তী মাছের আড়তগুলো। তিন সপ্তাহ অবসর কাটানোর পর ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা আবারও ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন। জেলেরা এসব আড়তে মাছ এনে স্তূপ করে রাখছেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই হাঁকডাকে জমে উঠছে কেনাবেচা। এ ঘাটে মাছ সংরক্ষণ করে বিক্রির ঘটনা খুবই কম।

বাজারে মাছের উচ্চমূল্য বজায় থাকার পেছনে চাহিদাকেই মূল কারণ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা। হরিণা মাছঘাটের আড়তদার জাহাঙ্গীর হোসেনের তথ্যমতে, বর্তমানে প্রতি কেজি এক কেজি ওজনের ইলিশ ২৫০০ থেকে ২৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম প্রতি কেজি ১৩০০ থেকে ১৫০০ টাকা এবং ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি হালি ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে। আড়তদার মো. সেলিম ও ইব্রাহীম মিয়া জানান, বড় আকারের ইলিশের আমদানি তুলনামূলক বেশি হলেও মাছের দাম নাগালের বাইরেই রয়েছে। তবে ইলিশের পাশাপাশি পাঙাশ মাছ পাওয়ায় জেলেরা বাড়তি আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন। বাজারে বড় পাঙাশ প্রতি কেজি ১২০০ টাকা এবং ছোট আকারের পাঙাশ ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা, ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি হালি ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সরবরাহ ও দামের বিষয়ে আড়তদাররা সতর্ক মন্তব্য করে বলছেন, বিগত বছরগুলোর অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার দুই দিন পর মাছের সরবরাহ হঠাৎ কমে যেতে পারে। তাই আগামী দু-এক দিন পর্যবেক্ষণ করলেই ইলিশের প্রকৃত প্রাপ্যতা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। এদিকে প্রবীণ মৎস্য ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম সৈয়াল কিছুটা ভিন্নমত পোষণ করে বলেন, এ সময়ে নদীতে ইলিশের প্রাচুর্য থাকার কথা থাকলেও অভিযানের সুফল পুরোপুরি পাওয়া যায়নি, কারণ অনেক অসাধু জেলে মা ইলিশ শিকার থেকে বিরত থাকেনি।

অপরদিকে চাঁদপুর সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক সরকারি অভিযানের সাফল্য দাবি করে জানান, জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষার দুটি অভিযানই কঠোরভাবে পরিচালিত হয়েছে, যার সুফল জেলেরা পাচ্ছেন। ইলিশের সঙ্গে পাঙাশের চাহিদাও বাড়ছে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারি উদ্যোগে পাঙাশের উৎপাদন বৃদ্ধির প্রকল্প নেওয়া হলে ইলিশের মতো এই মাছটিও জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

আপলোডকারীর তথ্য

উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরএসও সদস্যের প্রাণহানি

নিষেধাজ্ঞা শেষে পদ্মা-মেঘনায় ইলিশের ঢল, কমেনি দাম

আপডেট সময় ০৮:১৪:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পরপরই চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনা নদীর ৭০ কিলোমিটার নৌসীমায় মাছ শিকারে নেমেছেন হাজার হাজার জেলে। গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকেই নদীতে জাল ফেলছেন তারা। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল থেকে মেঘনার তীরবর্তী মাছঘাটগুলোতে তাজা ইলিশ ও অন্যান্য মাছের আমদানি বাড়ায় কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে ব্যবসায়ী ও জেলেদের মাঝে। তবে সরবরাহ বাড়লেও বাজারে রুপালি ইলিশের দাম কমেনি, যা ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা হতাশা তৈরি করেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে অনেক জেলে ইলিশ ধরতে পদ্মা-মেঘনায় নেমেছেন।

চাঁদপুর সদর উপজেলার হরিণা মাছঘাটে শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত জেলেদের মাছ নিয়ে ফেরার ব্যস্ত চিত্র দেখা গেছে। হরিণা ফেরিঘাটসংলগ্ন মাছঘাটে একের পর এক জেলে নৌকা এসে ভিড়ছে।

ঘাটের প্রায় ২০টি আড়তে মাছ বিক্রির জন্য হাঁকডাকে সরগরম হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। জেলেরা প্লাস্টিকের ট্রেতে ভরে মাছ নিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে খুচরা ব্যবসায়ী ও বড় স্টেশন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবসায়ীরা তাজা মাছ কিনতে ভিড় করছেন। স্থানীয় গোবিন্দপুর গ্রামের জেলে লিটন তপাদার জানান, রাতে নদীতে নেমে ভোরের দিকে তিনি প্রায় ১২ হাজার টাকার ইলিশ বিক্রি করেছেন। একইভাবে সাতজনের একটি দল ১৫ হাজার টাকার মাছ বিক্রি করেছেন বলে জানিয়েছেন জেলে আবুল কালাম খান। তাদের প্রত্যাশা, আগামী কয়েক দিন ইলিশের সরবরাহ ভালো থাকলে তারা গত কয়েক সপ্তাহের লোকসান পুষিয়ে নিতে পারবেন। কিছু জেলে ইলিশ, পাঙাশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ নিয়ে আড়তে ফিরছেন। এতে সরগরম হয়ে উঠেছে নদীতীরবর্তী মাছের আড়তগুলো। তিন সপ্তাহ অবসর কাটানোর পর ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা আবারও ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন। জেলেরা এসব আড়তে মাছ এনে স্তূপ করে রাখছেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই হাঁকডাকে জমে উঠছে কেনাবেচা। এ ঘাটে মাছ সংরক্ষণ করে বিক্রির ঘটনা খুবই কম।

বাজারে মাছের উচ্চমূল্য বজায় থাকার পেছনে চাহিদাকেই মূল কারণ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা। হরিণা মাছঘাটের আড়তদার জাহাঙ্গীর হোসেনের তথ্যমতে, বর্তমানে প্রতি কেজি এক কেজি ওজনের ইলিশ ২৫০০ থেকে ২৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম প্রতি কেজি ১৩০০ থেকে ১৫০০ টাকা এবং ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি হালি ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে। আড়তদার মো. সেলিম ও ইব্রাহীম মিয়া জানান, বড় আকারের ইলিশের আমদানি তুলনামূলক বেশি হলেও মাছের দাম নাগালের বাইরেই রয়েছে। তবে ইলিশের পাশাপাশি পাঙাশ মাছ পাওয়ায় জেলেরা বাড়তি আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন। বাজারে বড় পাঙাশ প্রতি কেজি ১২০০ টাকা এবং ছোট আকারের পাঙাশ ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা, ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি হালি ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সরবরাহ ও দামের বিষয়ে আড়তদাররা সতর্ক মন্তব্য করে বলছেন, বিগত বছরগুলোর অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার দুই দিন পর মাছের সরবরাহ হঠাৎ কমে যেতে পারে। তাই আগামী দু-এক দিন পর্যবেক্ষণ করলেই ইলিশের প্রকৃত প্রাপ্যতা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। এদিকে প্রবীণ মৎস্য ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম সৈয়াল কিছুটা ভিন্নমত পোষণ করে বলেন, এ সময়ে নদীতে ইলিশের প্রাচুর্য থাকার কথা থাকলেও অভিযানের সুফল পুরোপুরি পাওয়া যায়নি, কারণ অনেক অসাধু জেলে মা ইলিশ শিকার থেকে বিরত থাকেনি।

অপরদিকে চাঁদপুর সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক সরকারি অভিযানের সাফল্য দাবি করে জানান, জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষার দুটি অভিযানই কঠোরভাবে পরিচালিত হয়েছে, যার সুফল জেলেরা পাচ্ছেন। ইলিশের সঙ্গে পাঙাশের চাহিদাও বাড়ছে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারি উদ্যোগে পাঙাশের উৎপাদন বৃদ্ধির প্রকল্প নেওয়া হলে ইলিশের মতো এই মাছটিও জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।