সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় ঢাকা-সৌদি আরব আকাশপথে যাতায়াত ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) গত ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সরাসরি ও ট্রানজিট মিলিয়ে মোট ১৪৪টি ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করতে হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে সরাসরি ফ্লাইট ৬৭টি এবং ট্রানজিট ফ্লাইটের সংখ্যা ৭৭টি। এই ফ্লাইট বিপর্যয়ের কারণে প্রায় ২২ হাজার ২১ জন যাত্রী অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন, যাদের মধ্যে বড় একটি অংশ প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মী।
ফ্লাইট বাতিলের এই তালিকায় বিভিন্ন দেশি-বিদেশি এয়ারলাইনস অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ৩০টি ফ্লাইট ইন্ডিগোর। এছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ২৮টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ১৯টি, এমিরেটস এয়ারলাইনসের ১৪টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের ১০টি ফ্লাইট স্থগিত বা বাতিল হয়েছে। পাশাপাশি কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাইদুবাই ও এয়ার ইন্ডিয়ার ৮টি করে, সালামএয়ারের ৭টি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইট এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত।
ফ্লাইট চলাচলে এই বিঘ্নের ফলে সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসী, নতুন করে কাজে যোগ দিতে ইচ্ছুক যাত্রী এবং ছুটি কাটিয়ে ফিরতে চাওয়া ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। ট্রানজিট ফ্লাইটগুলো বন্ধ থাকায় বিকল্প গন্তব্যের যাত্রীরাও জটিলতায় পড়েছেন। ফ্লাইটগুলোর সময়সূচি বারবার পরিবর্তনের কারণে যাত্রীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমতাবস্থায় যাত্রীদের বিমানবন্দর রওনা দেওয়ার আগে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বেবিচক সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করছে। তবে শনিবার রাত পর্যন্ত সংগৃহীত এই তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে ফ্লাইটের সংখ্যা ও সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে। সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা ও ফ্লাইট কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হওয়ার ওপরই নির্ভর করছে এই অচলাবস্থা কাটানোর বিষয়টি। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 




















