ঢাকা ১২:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারও করবে পুলিশ: আইজিপি

বিএনপি-জামায়াত দ্বন্দ্বে নতুন মোড়: আওয়ামী লীগ আঁতাতের পালটা অভিযোগ

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর মধ্যকার পুরনো বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে এখন ফাটল দেখা দিয়েছে। এর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের তথাকথিত গোপন আঁতাতের বিতর্ক। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াত মিলে সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করছে বিএনপি। অন্যদিকে, জামায়াত এসব দাবিকে ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক চক্রান্ত হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। এটি কি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফিরে আসার আশঙ্কা থেকে, নাকি জামায়াতকে সমঝোতায় আনার পরোক্ষ কোনো রাজনৈতিক চাপ এটি। তাহলে এ অভিযোগের পেছনে কী আছে, আর বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগকে ঘিরে বিতর্কই বা কেন আবার সামনে আসছে। সারা দেশে কোথাও কোনো অফিস খুলতে পারি নাই।

১৯৯১ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করতে জামায়াতের সমর্থন নিয়েছিল। এরপর ২০০১ সালের চারদলীয় জোট সরকারেও জামায়াত ছিল বিএনপির প্রধান অংশীদার। দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থেকেও দুই দলকে রাজপথে আওয়ামী লীগবিরোধী আন্দোলনে একসঙ্গে দেখা গেছে। সেই সুদীর্ঘ রাজনৈতিক সহযাত্রার পর বর্তমানে বিএনপির ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় এই নতুন অবিশ্বাসের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। পরে ২০০১ সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারে জামায়াত ছিলো গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।

সম্প্রতি রাজশাহীতে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জামায়াতের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ তোলেন। তিনি গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে বলেন, দেশে শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টির পেছনে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারের অর্থায়ন রয়েছে। তিনি দাবি করেন, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল যারা ভ্রান্তি ছড়ায়, তারা সীমান্তের ওপার থেকে আসা অর্থের বিনিময়ে এখানে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরিতে সহায়তা করছে। আপনারা নিশ্চয়ই দেখেছেন দেশের কয়েকটি জায়গায় কয়েকটি কল-কারখানায় কিছু শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়েছে। পরিষ্কার গোয়েন্দাদের তথ্য আছে- যে স্বৈরাচার পালিয়ে গিয়েছে, তারা সেখানে অর্থ সরবরাহ করছে। এটা তো আপনারা জানেন যে প্রাইম মিনিস্টার নিজে বলেছেন।

বিএনপির শীর্ষ নেতাদের এমন বক্তব্যের পর জামায়াত তীব্র প্রতিক্রিয়ায় এটি প্রত্যাখ্যান করেছে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, যেসব নেতার ফাঁসি কার্যকর হয়েছে এবং যারা জামায়াতের অফিস দীর্ঘ সময় বন্ধ রেখেছিল, তাদের সঙ্গে আঁতাতের কথা কোনো সুস্থ বিবেকসম্পন্ন মানুষ বিশ্বাস করবে না। তিনি বরং বিএনপির দিকে আঙুল তুলে বলেন, তারাই বরং স্বৈরাচারের সঙ্গে আঁতাত করে আগে থেকেই সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছে। জামায়াতের নাম উল্লেখ করে সরকারি দলের বক্তব্যের পর অবশ্য জামায়াতও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায়। যে আওয়ামী লীগ আমাদের অফিস বন্ধ রাখল।

এই অবিশ্বাসের পেছনে সংবিধান সংস্কার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিরোধ বড় কারণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। জামায়াতসহ এগারোটি দল জুলাই সনদের হুবহু বাস্তবায়ন এবং সংবিধানের আমূল সংস্কার দাবি করছে। কিন্তু বিএনপি এই দাবির বিপরীতে দাঁড়িয়ে আছে এবং বিষয়গুলো নিয়ে সমঝোতার পথে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। দলের নীতিনির্ধারকদের আশঙ্কা, রাজনৈতিক ঐকমত্য ছাড়া সরকার একতরফাভাবে সংবিধান সংশোধনের পথে হাঁটলে তা নৈতিক বৈধতার সংকটে পড়বে। কিন্তু তারা (বিএনপি) বছরের পর বছর দলীয় কার্যালয়ে বসে বসে সাংবাদিক সম্মেলন করল, অনুমতি নিয়ে মিছিল করল, মিটিং করল।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী জানান, তারা আশঙ্কা করছেন যে একটি গণতান্ত্রিক শক্তিকে দুর্বল করে পরাজিত শক্তির পুনর্বাসনের পথ তৈরি করা হচ্ছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, তারা (জামায়াত) প্রথমেই বলেছে যে, আমরা তাদের (আওয়ামী লীগকে) মাফ করে দেব।…৫ আগস্টের পর দুই তিন মাসের মধ্যেই তারা বলেছে। রুহুল কবির রিজভী বলেন, এই যে পয়েন্ট অফ নো রিটার্নের অবস্থায় যদি এভাবে চলে আসে যে, আমরা যেটা বলেছি ওটাই মানতে হবে।

তার মতে, জামায়াত সরকারবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে যে সক্রিয়তা দেখাচ্ছে, তার আড়ালে আওয়ামী লীগের এজেন্ডা থাকতে পারে। তবে বিএনপির এই দাবির বিপরীতে জামায়াত নেতাদের পাল্টা যুক্তি হলো, সরকার দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ হওয়ার কারণেই জনগণের দৃষ্টি ফেরাতে এসব বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

জুলাই সনদের সুরাহা এবং আইনি ভিত্তি দেওয়ার বিষয়ে বিএনপি যে ধীরগতি দেখাচ্ছে, তা নিয়ে বিরোধী জোটের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। জামায়াত সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিলেও বিএনপি তা নিয়ে ভিন্নমতে অটল। এই মতবিরোধ থেকেই মূলত মাঠের রাজনীতির সমীকরণে পরিবর্তন আসছে।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা দেশ ছাড়লেও তাদের রাজনৈতিক প্রভাব ও অর্থায়নের যে গুঞ্জন, তা বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যকার সম্পর্কের মেরুকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে। একদিকে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন, অন্যদিকে রাজনীতির মাঠে আধিপত্য ধরে রাখার লড়াই—সব মিলিয়ে দুই দলের সম্পর্ক এখন অনেকটা পয়েন্ট অব নো রিটার্নের কাছাকাছি এসে পৌঁছেছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় স্থান পান জামায়াতের শীর্ষ দুই নেতা।

জামায়াত দাবি করেছে, তারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো সমঝোতা বা আঁতাত করছে না। তাদের মতে, এসব অভিযোগ তুলে বিএনপি আসলে জনগণের কাছে তাদের অবস্থানকে স্বচ্ছ করার পরিবর্তে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে চাইছে। একইসঙ্গে তারা সংবিধান সংস্কারের দাবি থেকে সরে আসবে না বলেও জানিয়েছে।

আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো সমঝোতার সুযোগ নেই বলে দাবি করে বাহাউদ্দীন নাসিম বলেন, সরকার কোনো দলের সঙ্গেই এমন কোনো আঁতাত বা গোপন সমঝোতা করছে না। ফলে মাঠ পর্যায়ে বিএনপি ও জামায়াতের এই পালটাপালটি অভিযোগ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরিশেষে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশে রাজনৈতিক মেরুকরণ যেভাবে দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, তাতে বিএনপি-জামায়াতের এই দূরত্ব জাতীয় রাজনীতির জন্য নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। এই দ্বন্দ্ব নিছক রাজনৈতিক কৌশল নাকি গোয়েন্দা তথ্যের বাস্তব ভিত্তি, সেটি সময় সাপেক্ষ হলেও বর্তমানে তা জনমনে ব্যাপক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

চাকরি বাঁচানোর লড়াইয়ে মাইকেল ক্যারিক: আজ চেলসির মুখোমুখি ইউনাইটেড

বিএনপি-জামায়াত দ্বন্দ্বে নতুন মোড়: আওয়ামী লীগ আঁতাতের পালটা অভিযোগ

আপডেট সময় ১০:৪০:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর মধ্যকার পুরনো বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে এখন ফাটল দেখা দিয়েছে। এর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের তথাকথিত গোপন আঁতাতের বিতর্ক। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াত মিলে সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করছে বিএনপি। অন্যদিকে, জামায়াত এসব দাবিকে ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক চক্রান্ত হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। এটি কি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফিরে আসার আশঙ্কা থেকে, নাকি জামায়াতকে সমঝোতায় আনার পরোক্ষ কোনো রাজনৈতিক চাপ এটি। তাহলে এ অভিযোগের পেছনে কী আছে, আর বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগকে ঘিরে বিতর্কই বা কেন আবার সামনে আসছে। সারা দেশে কোথাও কোনো অফিস খুলতে পারি নাই।

১৯৯১ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করতে জামায়াতের সমর্থন নিয়েছিল। এরপর ২০০১ সালের চারদলীয় জোট সরকারেও জামায়াত ছিল বিএনপির প্রধান অংশীদার। দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থেকেও দুই দলকে রাজপথে আওয়ামী লীগবিরোধী আন্দোলনে একসঙ্গে দেখা গেছে। সেই সুদীর্ঘ রাজনৈতিক সহযাত্রার পর বর্তমানে বিএনপির ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় এই নতুন অবিশ্বাসের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। পরে ২০০১ সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারে জামায়াত ছিলো গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।

সম্প্রতি রাজশাহীতে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জামায়াতের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ তোলেন। তিনি গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে বলেন, দেশে শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টির পেছনে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারের অর্থায়ন রয়েছে। তিনি দাবি করেন, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল যারা ভ্রান্তি ছড়ায়, তারা সীমান্তের ওপার থেকে আসা অর্থের বিনিময়ে এখানে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরিতে সহায়তা করছে। আপনারা নিশ্চয়ই দেখেছেন দেশের কয়েকটি জায়গায় কয়েকটি কল-কারখানায় কিছু শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়েছে। পরিষ্কার গোয়েন্দাদের তথ্য আছে- যে স্বৈরাচার পালিয়ে গিয়েছে, তারা সেখানে অর্থ সরবরাহ করছে। এটা তো আপনারা জানেন যে প্রাইম মিনিস্টার নিজে বলেছেন।

বিএনপির শীর্ষ নেতাদের এমন বক্তব্যের পর জামায়াত তীব্র প্রতিক্রিয়ায় এটি প্রত্যাখ্যান করেছে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, যেসব নেতার ফাঁসি কার্যকর হয়েছে এবং যারা জামায়াতের অফিস দীর্ঘ সময় বন্ধ রেখেছিল, তাদের সঙ্গে আঁতাতের কথা কোনো সুস্থ বিবেকসম্পন্ন মানুষ বিশ্বাস করবে না। তিনি বরং বিএনপির দিকে আঙুল তুলে বলেন, তারাই বরং স্বৈরাচারের সঙ্গে আঁতাত করে আগে থেকেই সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছে। জামায়াতের নাম উল্লেখ করে সরকারি দলের বক্তব্যের পর অবশ্য জামায়াতও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায়। যে আওয়ামী লীগ আমাদের অফিস বন্ধ রাখল।

এই অবিশ্বাসের পেছনে সংবিধান সংস্কার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিরোধ বড় কারণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। জামায়াতসহ এগারোটি দল জুলাই সনদের হুবহু বাস্তবায়ন এবং সংবিধানের আমূল সংস্কার দাবি করছে। কিন্তু বিএনপি এই দাবির বিপরীতে দাঁড়িয়ে আছে এবং বিষয়গুলো নিয়ে সমঝোতার পথে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। দলের নীতিনির্ধারকদের আশঙ্কা, রাজনৈতিক ঐকমত্য ছাড়া সরকার একতরফাভাবে সংবিধান সংশোধনের পথে হাঁটলে তা নৈতিক বৈধতার সংকটে পড়বে। কিন্তু তারা (বিএনপি) বছরের পর বছর দলীয় কার্যালয়ে বসে বসে সাংবাদিক সম্মেলন করল, অনুমতি নিয়ে মিছিল করল, মিটিং করল।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী জানান, তারা আশঙ্কা করছেন যে একটি গণতান্ত্রিক শক্তিকে দুর্বল করে পরাজিত শক্তির পুনর্বাসনের পথ তৈরি করা হচ্ছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, তারা (জামায়াত) প্রথমেই বলেছে যে, আমরা তাদের (আওয়ামী লীগকে) মাফ করে দেব।…৫ আগস্টের পর দুই তিন মাসের মধ্যেই তারা বলেছে। রুহুল কবির রিজভী বলেন, এই যে পয়েন্ট অফ নো রিটার্নের অবস্থায় যদি এভাবে চলে আসে যে, আমরা যেটা বলেছি ওটাই মানতে হবে।

তার মতে, জামায়াত সরকারবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে যে সক্রিয়তা দেখাচ্ছে, তার আড়ালে আওয়ামী লীগের এজেন্ডা থাকতে পারে। তবে বিএনপির এই দাবির বিপরীতে জামায়াত নেতাদের পাল্টা যুক্তি হলো, সরকার দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ হওয়ার কারণেই জনগণের দৃষ্টি ফেরাতে এসব বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

জুলাই সনদের সুরাহা এবং আইনি ভিত্তি দেওয়ার বিষয়ে বিএনপি যে ধীরগতি দেখাচ্ছে, তা নিয়ে বিরোধী জোটের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। জামায়াত সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিলেও বিএনপি তা নিয়ে ভিন্নমতে অটল। এই মতবিরোধ থেকেই মূলত মাঠের রাজনীতির সমীকরণে পরিবর্তন আসছে।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা দেশ ছাড়লেও তাদের রাজনৈতিক প্রভাব ও অর্থায়নের যে গুঞ্জন, তা বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যকার সম্পর্কের মেরুকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে। একদিকে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন, অন্যদিকে রাজনীতির মাঠে আধিপত্য ধরে রাখার লড়াই—সব মিলিয়ে দুই দলের সম্পর্ক এখন অনেকটা পয়েন্ট অব নো রিটার্নের কাছাকাছি এসে পৌঁছেছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় স্থান পান জামায়াতের শীর্ষ দুই নেতা।

জামায়াত দাবি করেছে, তারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো সমঝোতা বা আঁতাত করছে না। তাদের মতে, এসব অভিযোগ তুলে বিএনপি আসলে জনগণের কাছে তাদের অবস্থানকে স্বচ্ছ করার পরিবর্তে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে চাইছে। একইসঙ্গে তারা সংবিধান সংস্কারের দাবি থেকে সরে আসবে না বলেও জানিয়েছে।

আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো সমঝোতার সুযোগ নেই বলে দাবি করে বাহাউদ্দীন নাসিম বলেন, সরকার কোনো দলের সঙ্গেই এমন কোনো আঁতাত বা গোপন সমঝোতা করছে না। ফলে মাঠ পর্যায়ে বিএনপি ও জামায়াতের এই পালটাপালটি অভিযোগ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরিশেষে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশে রাজনৈতিক মেরুকরণ যেভাবে দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, তাতে বিএনপি-জামায়াতের এই দূরত্ব জাতীয় রাজনীতির জন্য নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। এই দ্বন্দ্ব নিছক রাজনৈতিক কৌশল নাকি গোয়েন্দা তথ্যের বাস্তব ভিত্তি, সেটি সময় সাপেক্ষ হলেও বর্তমানে তা জনমনে ব্যাপক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।