ঢাকা ০৮:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারও করবে পুলিশ: আইজিপি

রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রের উৎপাদন শুরুর ছাড়পত্র পেল বায়েরা

দেশের বৃহৎ বিদ্যুৎ প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কার্যক্রম শুরুর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন মিলেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা) এই গুরুত্বপূর্ণ ছাড়পত্রটি প্রদান করে। এর মাধ্যমে প্রকল্পটি বাণিজ্যিক উৎপাদনের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। এদিকে প্রকল্পটির সামগ্রিক কার্যক্রম গতিশীল রাখতে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। রোসাটমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা রূপপুর কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টরের প্রাথমিক লোডিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ কার্যক্রম শুরু করেছে। এর আগে, ইউনিটের-১-এর প্রথম রিফুয়েলিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ফ্রেশ জ্বালানির সব চালান সাইবেরিয়া থেকে বাংলাদেশে পৌঁছে। বৃহস্পতিবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় রোসাটম।

জ্বালানি সরবরাহ ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি

  • রোসাটমের ফুয়েল ডিভিশনের অধীন নাভআসিবিরস্ক কেমিক্যাল কনসেন্ট্রেট প্ল্যান্টে প্রস্তুতকৃত জ্বালানির চালান বিশেষ কার্গো বিমানের মাধ্যমে বাংলাদেশে পৌঁছেছে।
  • এর আগে প্রথম ইউনিটের রিফুয়েলিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি চালান সাইবেরিয়া থেকে সফলভাবে দেশে পৌঁছানো হয়েছে।
  • প্ল্যান্ট সাইটে পৌঁছানোর পর প্রতিটি জ্বালানি কন্টেইনার কঠোর নিরাপত্তার মাধ্যমে নির্ধারিত ফ্রেশ নিউক্লিয়ার ফুয়েল স্টোরেজে স্থানান্তর করা হয়েছে।
  • নিরাপত্তা বিধি নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ, ঠিকাদার ও জ্বালানি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি যৌথ কমিশন গঠিত হয়েছে, যারা প্রতিটি অ্যাসেম্বলি পরিদর্শন ও পরীক্ষা করবেন।

২০২৬ সালে রসাটমের ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশন প্রথম ইউনিটের ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর কোরে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিংয়ের কাজ সম্পন্ন করেছিল।

এরপর চলতি মাসেই রিঅ্যাক্টরটি তার সর্বনিম্ন নিয়ন্ত্রণযোগ্য শক্তি স্তরে উপনীত হয়, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক।

জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযোগ ও বাণিজ্যিক উৎপাদনের আগে ইউনিটটিকে বেশ কিছু পাওয়ার অ্যাসেনশন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরই চূড়ান্ত অনুমোদন সাপেক্ষে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে। বাংলাদেশের প্রথম এই পারমাণবিক কেন্দ্রে রাশিয়ান প্রযুক্তির দুটি জেনারেশন ৩+ ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হয়েছে, যার সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। প্রকল্পটির প্রধান ডিজাইনার ও ঠিকাদার হিসেবে রাশিয়ার রসাটমের ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশন পুরো কাজের দেখভাল করছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই প্রক্রিয়াটি জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রতিটি ধাপে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করছে। প্রতিটি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি যথাযথ ভিজ্যুয়াল ও ইন্সট্রুমেন্টাল পরীক্ষার পর রিঅ্যাক্টরে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত ঘোষণা করা হবে। এই প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় অভিজ্ঞ প্রকৌশলী ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতেই সমস্ত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে রূপপুর কেন্দ্রটি আগামীতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আপলোডকারীর তথ্য

আশকোনা হজ ক্যাম্পে বিমানের টিকিট বিক্রির নতুন সময় ঘোষণা

রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রের উৎপাদন শুরুর ছাড়পত্র পেল বায়েরা

আপডেট সময় ০৬:৪০:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

দেশের বৃহৎ বিদ্যুৎ প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কার্যক্রম শুরুর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন মিলেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা) এই গুরুত্বপূর্ণ ছাড়পত্রটি প্রদান করে। এর মাধ্যমে প্রকল্পটি বাণিজ্যিক উৎপাদনের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। এদিকে প্রকল্পটির সামগ্রিক কার্যক্রম গতিশীল রাখতে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। রোসাটমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা রূপপুর কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টরের প্রাথমিক লোডিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ কার্যক্রম শুরু করেছে। এর আগে, ইউনিটের-১-এর প্রথম রিফুয়েলিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ফ্রেশ জ্বালানির সব চালান সাইবেরিয়া থেকে বাংলাদেশে পৌঁছে। বৃহস্পতিবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় রোসাটম।

জ্বালানি সরবরাহ ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি

  • রোসাটমের ফুয়েল ডিভিশনের অধীন নাভআসিবিরস্ক কেমিক্যাল কনসেন্ট্রেট প্ল্যান্টে প্রস্তুতকৃত জ্বালানির চালান বিশেষ কার্গো বিমানের মাধ্যমে বাংলাদেশে পৌঁছেছে।
  • এর আগে প্রথম ইউনিটের রিফুয়েলিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি চালান সাইবেরিয়া থেকে সফলভাবে দেশে পৌঁছানো হয়েছে।
  • প্ল্যান্ট সাইটে পৌঁছানোর পর প্রতিটি জ্বালানি কন্টেইনার কঠোর নিরাপত্তার মাধ্যমে নির্ধারিত ফ্রেশ নিউক্লিয়ার ফুয়েল স্টোরেজে স্থানান্তর করা হয়েছে।
  • নিরাপত্তা বিধি নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ, ঠিকাদার ও জ্বালানি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি যৌথ কমিশন গঠিত হয়েছে, যারা প্রতিটি অ্যাসেম্বলি পরিদর্শন ও পরীক্ষা করবেন।

২০২৬ সালে রসাটমের ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশন প্রথম ইউনিটের ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর কোরে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিংয়ের কাজ সম্পন্ন করেছিল।

এরপর চলতি মাসেই রিঅ্যাক্টরটি তার সর্বনিম্ন নিয়ন্ত্রণযোগ্য শক্তি স্তরে উপনীত হয়, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক।

জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযোগ ও বাণিজ্যিক উৎপাদনের আগে ইউনিটটিকে বেশ কিছু পাওয়ার অ্যাসেনশন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরই চূড়ান্ত অনুমোদন সাপেক্ষে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে। বাংলাদেশের প্রথম এই পারমাণবিক কেন্দ্রে রাশিয়ান প্রযুক্তির দুটি জেনারেশন ৩+ ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হয়েছে, যার সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। প্রকল্পটির প্রধান ডিজাইনার ও ঠিকাদার হিসেবে রাশিয়ার রসাটমের ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশন পুরো কাজের দেখভাল করছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই প্রক্রিয়াটি জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রতিটি ধাপে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করছে। প্রতিটি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি যথাযথ ভিজ্যুয়াল ও ইন্সট্রুমেন্টাল পরীক্ষার পর রিঅ্যাক্টরে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত ঘোষণা করা হবে। এই প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় অভিজ্ঞ প্রকৌশলী ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতেই সমস্ত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে রূপপুর কেন্দ্রটি আগামীতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।