ঢাকা ১২:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারও করবে পুলিশ: আইজিপি ব্যবসায়ীকে আটকে চাঁদা দাবি: ডিজিএফআই সদস্যসহ কারাগারে ৬

যুদ্ধ বন্ধে ইউক্রেনের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিচ্ছে রাশিয়া: জেলেনস্কি

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার সামরিক অভিযানের সমালোচনা করে বলেছেন, পূর্ব ইউক্রেনের ডনবাস অঞ্চল দখলের জন্য গত চার বছরেরও বেশি সময়ে ক্রেমলিন ১৫ বার সময়সীমা নির্ধারণ করেছে, কিন্তু প্রতিবারই তা পিছিয়ে দিতে হয়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি এসব কথা বলেন। এর মাধ্যমে তিনি একদিন আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দেওয়া বক্তব্যেরও জবাব দেন। খবর আল আরাবিয়ার।

রোববার এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে পুতিন দাবি করেছিলেন, ইউক্রেন দূরপাল্লার হামলা বন্ধ এবং যুদ্ধের তীব্রতা কমানোর একটি প্রস্তাব দিয়েছে। তবে তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এটি কিয়েভের সামরিক বাহিনীর ওপর চাপ কমানোর কৌশল মাত্র।

জেলেনস্কি বলেন, পুতিনের বক্তব্য প্রমাণ করে তিনি সাধারণ রুশ নাগরিকদের বাস্তব পরিস্থিতি থেকে বিচ্ছিন্ন। ইউক্রেনের ড্রোন হামলার কারণে রাশিয়ার তেল শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটির বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানির সংকট তৈরি হয়েছে এবং মানুষকে পেট্রোলপাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, তেল উৎপাদনকারী দেশ হয়েও, যাকে অনেক সময় ‘গ্যাস স্টেশন’ বলা হয়, সেই রাশিয়াই এখন জ্বালানি সংকটে ভুগছে। এটি যুদ্ধের সরাসরি পরিণতি। এমন বহু পরিণতির মধ্যে এটি একটি মাত্র উদাহরণ।

জেলেনস্কির দাবি, ইউক্রেন বেসামরিক জনগণকে লক্ষ্য করে সন্ত্রাস নয়, বরং নির্ভুল সামরিক হামলার মাধ্যমে জবাব দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার রাজনৈতিক নেতৃত্ব এখনও ডনবাস দখলের লক্ষ্যেই আচ্ছন্ন। তবে রাশিয়া যদি যুদ্ধ বন্ধ না করে, তাহলে ডনবাস পুরোপুরি দখলের নির্ধারিত সময়সীমা আবারও পিছিয়ে দিতে হবে।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর প্রথমে রাশিয়া রাজধানী কিয়েভ দখলের চেষ্টা চালায়। সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে তারা সেনা প্রত্যাহার করে পূর্বাঞ্চলীয় ডনবাস অঞ্চলে অভিযান জোরদার করে।

বর্তমানে রাশিয়া পুরো লুহানস্ক অঞ্চল এবং দোনেৎস্ক ও জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের বড় অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। যদিও মস্কোর বাহিনী ধীরে ধীরে দোনেৎস্কের পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে সেই অগ্রযাত্রার গতি অনেকটাই কমে এসেছে। একই সঙ্গে ইউক্রেন মাঝারি ও দূরপাল্লার ড্রোন হামলা আরও বাড়িয়েছে।

এ মাসের শুরুতে জেলেনস্কি পুতিনকে একটি খোলা চিঠি লিখে মুখোমুখি বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে পুতিন যে নতুন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের কথা বলেছেন, সে বিষয়ে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।

জেলেনস্কি বলেন, যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইউক্রেন ইতোমধ্যেই একাধিক প্রস্তাব দিয়েছে, কিন্তু রাশিয়া প্রতিবারই সেগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে।

রুশ নাগরিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা এখনও সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত হননি এবং বর্তমানে জ্বালানির লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন, তাদের সামনে কী অপেক্ষা করছে, তা নিয়ে এখনই ভাবা উচিত।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি

যুদ্ধ বন্ধে ইউক্রেনের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিচ্ছে রাশিয়া: জেলেনস্কি

আপডেট সময় ০৩:৪০:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার সামরিক অভিযানের সমালোচনা করে বলেছেন, পূর্ব ইউক্রেনের ডনবাস অঞ্চল দখলের জন্য গত চার বছরেরও বেশি সময়ে ক্রেমলিন ১৫ বার সময়সীমা নির্ধারণ করেছে, কিন্তু প্রতিবারই তা পিছিয়ে দিতে হয়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি এসব কথা বলেন। এর মাধ্যমে তিনি একদিন আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দেওয়া বক্তব্যেরও জবাব দেন। খবর আল আরাবিয়ার।

রোববার এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে পুতিন দাবি করেছিলেন, ইউক্রেন দূরপাল্লার হামলা বন্ধ এবং যুদ্ধের তীব্রতা কমানোর একটি প্রস্তাব দিয়েছে। তবে তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এটি কিয়েভের সামরিক বাহিনীর ওপর চাপ কমানোর কৌশল মাত্র।

জেলেনস্কি বলেন, পুতিনের বক্তব্য প্রমাণ করে তিনি সাধারণ রুশ নাগরিকদের বাস্তব পরিস্থিতি থেকে বিচ্ছিন্ন। ইউক্রেনের ড্রোন হামলার কারণে রাশিয়ার তেল শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটির বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানির সংকট তৈরি হয়েছে এবং মানুষকে পেট্রোলপাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, তেল উৎপাদনকারী দেশ হয়েও, যাকে অনেক সময় ‘গ্যাস স্টেশন’ বলা হয়, সেই রাশিয়াই এখন জ্বালানি সংকটে ভুগছে। এটি যুদ্ধের সরাসরি পরিণতি। এমন বহু পরিণতির মধ্যে এটি একটি মাত্র উদাহরণ।

জেলেনস্কির দাবি, ইউক্রেন বেসামরিক জনগণকে লক্ষ্য করে সন্ত্রাস নয়, বরং নির্ভুল সামরিক হামলার মাধ্যমে জবাব দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার রাজনৈতিক নেতৃত্ব এখনও ডনবাস দখলের লক্ষ্যেই আচ্ছন্ন। তবে রাশিয়া যদি যুদ্ধ বন্ধ না করে, তাহলে ডনবাস পুরোপুরি দখলের নির্ধারিত সময়সীমা আবারও পিছিয়ে দিতে হবে।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর প্রথমে রাশিয়া রাজধানী কিয়েভ দখলের চেষ্টা চালায়। সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে তারা সেনা প্রত্যাহার করে পূর্বাঞ্চলীয় ডনবাস অঞ্চলে অভিযান জোরদার করে।

বর্তমানে রাশিয়া পুরো লুহানস্ক অঞ্চল এবং দোনেৎস্ক ও জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের বড় অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। যদিও মস্কোর বাহিনী ধীরে ধীরে দোনেৎস্কের পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে সেই অগ্রযাত্রার গতি অনেকটাই কমে এসেছে। একই সঙ্গে ইউক্রেন মাঝারি ও দূরপাল্লার ড্রোন হামলা আরও বাড়িয়েছে।

এ মাসের শুরুতে জেলেনস্কি পুতিনকে একটি খোলা চিঠি লিখে মুখোমুখি বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে পুতিন যে নতুন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের কথা বলেছেন, সে বিষয়ে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।

জেলেনস্কি বলেন, যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইউক্রেন ইতোমধ্যেই একাধিক প্রস্তাব দিয়েছে, কিন্তু রাশিয়া প্রতিবারই সেগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে।

রুশ নাগরিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা এখনও সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত হননি এবং বর্তমানে জ্বালানির লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন, তাদের সামনে কী অপেক্ষা করছে, তা নিয়ে এখনই ভাবা উচিত।