ঢাকা ০৫:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক শক্তিশালী প্রবাহে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও উল্লেখযোগ্য অবস্থানে পৌঁছেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম–৬ হিসাব পদ্ধতিতে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩০,৩৬৬ দশমিক ২৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ৩০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রমের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করেছে। একই সময়ে দেশের মোট (গ্রস) রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫,০৩৮ মিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বৈদেশিক মুদ্রার এই উন্নত অবস্থান মূলত রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলার সরবরাহ স্থিতিশীল থাকার ফল।

চলতি এপ্রিল মাসেও রেমিট্যান্স প্রবাহে ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত প্রবাসী আয় এসেছে ১,৭৮৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। একই সময়ে ১৫ এপ্রিল একদিনেই এসেছে ১৮১ মিলিয়ন ডলার।

গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। ২০২৫ সালের ১–১৫ এপ্রিল সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ১,৪৭২ মিলিয়ন ডলার। সে হিসেবে চলতি বছরের একই সময়ে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২১ দশমিক ৫ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরে রেকর্ড প্রবাহ-

চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত প্রবাসী আয়ের মোট প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ২৭,৯৯৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ২৩,২৫৭ মিলিয়ন ডলার। ফলে অর্থবছর ভিত্তিক প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০ দশমিক ৪ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, প্রবাসী আয়ের এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ায় ডলার সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে এবং হুন্ডি নির্ভরতা কিছুটা কমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার কেনা অব্যাহত

বাজারে অতিরিক্ত ডলার সরবরাহ পরিস্থিতি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ব্যাংক আবারও বৈদেশিক মুদ্রা কিনেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে চারটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্রয় করা হয়েছে, যার কাট-অফ রেট ছিল ১২২ দশমিক ৭৫ টাকা।

এতে চলতি এপ্রিল মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট ডলার ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২০ মিলিয়ন ডলার। আর চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত মোট ক্রয়ের পরিমাণ পৌঁছেছে ৫,৬১৩ দশমিক ৫০ মিলিয়ন ডলারে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, বাজারে অতিরিক্ত তারল্য শোষণ এবং বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে এই ধরনের ডলার ক্রয় কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

সামগ্রিক অর্থনৈতিক চিত্র:

বিশ্লেষকদের মতে, রেমিট্যান্স প্রবাহ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাজার ব্যবস্থাপনার কারণে বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও চ্যালেঞ্জ এখনও বিদ্যমান। আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ভবিষ্যতে চাপ তৈরি করতে পারে।

তাদের মতে, রফতানি আয় বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং বৈদেশিক আয়ের উৎস বহুমুখীকরণ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা কঠিন হবে।

সব মিলিয়ে, রেমিট্যান্সে ভর করে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন ডলারের ওপরে অবস্থান ধরে রেখেছে, যা অর্থনীতিতে আপাত স্বস্তির বার্তা দিলেও টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এনেছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

চট্টগ্রামে চাঁদা চেয়ে হুমকি দেওয়া সন্ত্রাসী সাব্বির গ্রেপ্তার

রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

আপডেট সময় ০৮:১৫:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক শক্তিশালী প্রবাহে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও উল্লেখযোগ্য অবস্থানে পৌঁছেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম–৬ হিসাব পদ্ধতিতে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩০,৩৬৬ দশমিক ২৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ৩০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রমের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করেছে। একই সময়ে দেশের মোট (গ্রস) রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫,০৩৮ মিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বৈদেশিক মুদ্রার এই উন্নত অবস্থান মূলত রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলার সরবরাহ স্থিতিশীল থাকার ফল।

চলতি এপ্রিল মাসেও রেমিট্যান্স প্রবাহে ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত প্রবাসী আয় এসেছে ১,৭৮৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। একই সময়ে ১৫ এপ্রিল একদিনেই এসেছে ১৮১ মিলিয়ন ডলার।

গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। ২০২৫ সালের ১–১৫ এপ্রিল সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ১,৪৭২ মিলিয়ন ডলার। সে হিসেবে চলতি বছরের একই সময়ে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২১ দশমিক ৫ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরে রেকর্ড প্রবাহ-

চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত প্রবাসী আয়ের মোট প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ২৭,৯৯৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ২৩,২৫৭ মিলিয়ন ডলার। ফলে অর্থবছর ভিত্তিক প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০ দশমিক ৪ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, প্রবাসী আয়ের এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ায় ডলার সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে এবং হুন্ডি নির্ভরতা কিছুটা কমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার কেনা অব্যাহত

বাজারে অতিরিক্ত ডলার সরবরাহ পরিস্থিতি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ব্যাংক আবারও বৈদেশিক মুদ্রা কিনেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে চারটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্রয় করা হয়েছে, যার কাট-অফ রেট ছিল ১২২ দশমিক ৭৫ টাকা।

এতে চলতি এপ্রিল মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট ডলার ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২০ মিলিয়ন ডলার। আর চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত মোট ক্রয়ের পরিমাণ পৌঁছেছে ৫,৬১৩ দশমিক ৫০ মিলিয়ন ডলারে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, বাজারে অতিরিক্ত তারল্য শোষণ এবং বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে এই ধরনের ডলার ক্রয় কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

সামগ্রিক অর্থনৈতিক চিত্র:

বিশ্লেষকদের মতে, রেমিট্যান্স প্রবাহ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাজার ব্যবস্থাপনার কারণে বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও চ্যালেঞ্জ এখনও বিদ্যমান। আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ভবিষ্যতে চাপ তৈরি করতে পারে।

তাদের মতে, রফতানি আয় বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং বৈদেশিক আয়ের উৎস বহুমুখীকরণ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা কঠিন হবে।

সব মিলিয়ে, রেমিট্যান্সে ভর করে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন ডলারের ওপরে অবস্থান ধরে রেখেছে, যা অর্থনীতিতে আপাত স্বস্তির বার্তা দিলেও টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এনেছে।