ঢাকা ০৪:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

ইউক্রেনকে সহায়তা কমিয়ে দেওয়ার ঘোষণা ট্রাম্পের

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তার নতুন প্রশাসনের আমলে ইউক্রেন খুব বেশি সহায়তা পাবে না। তার আমলে দেশটি বাইডেন প্রশাসনের তুলনায় অনেক কম সহায়তা পাবে। এ সময় তিনি, ইউরোপের তরফ থেকে ইউক্রেনকে দেওয়া তুলনামূলক কম সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন।

রোববার মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’—অনুষ্ঠানে একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর ইউক্রেন সম্ভবত কম সামরিক সাহায্য পাবে। তিনি বলেন, আমরা ৩৫০ বিলিয়ন ডলারের জন্য দায়বদ্ধ, আর ইউরোপ ১০০ বিলিয়ন ডলারের! কেন ইউরোপ আমাদের সমান ভূমিকা রাখছে না?

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটির জন্য দেওয়া ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার প্রসঙ্গে ট্রাম্প উল্লিখিত মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি ইউক্রেনে ইউরোপীয় দেশগুলোকে আরও বেশি সামরিক সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘একটা বিষয় হওয়া উচিত, আর তা হলো ইউরোপ.সমতা আনবে।’

এদিকে শনিবার মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন ইউক্রেনের জন্য ৯৮৮ মিলিয়ন ডলারের একটি নতুন অস্ত্র ও সরঞ্জাম সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। যা ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের পর চলমান সংঘাত মোকাবিলায় সাহায্য করবে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে মোট ৬২ বিলিয়ন ডলারের বেশি সহায়তা দিয়েছে।

জুন মাসে ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে সবচেয়ে বড় বিক্রয় কুশলী বা সেলসম্যান বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, আমি মনে করি (ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি) সম্ভবত এমন একজন রাজনীতিবিদ, পৃথিবীর ইতিহাসে জীবিতদের মধ্যে সবচেয়ে সেরা সেলসম্যান।

তার এ মন্তব্য ইঙ্গিত করে যে, ইউক্রেনের প্রকৃত চাহিদার পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা প্যাকেজে লাখ লাখ ডলার অনুমোদনের ক্ষেত্রে জেলেনস্কির কূটনৈতিক দক্ষতাই মূল ভূমিকা রেখেছে।

প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট থাকার সময় ইউক্রেন ইস্যুতে ট্রাম্পের যেমন অবস্থান ছিল, এবারও তাই থাকবে। ট্রাম্প বলেছেন, ন্যাটোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বজায় রাখার শর্ত হিসেবে ‘তাদের (সদস্য দেশগুলোকে) বিল মেটাতে হবে।’ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে কার্যকর থাকা এই সামরিক জোট থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে আনার হুমকিও তিনি একাধিকবার দিয়েছেন। ন্যাটোর মূল লক্ষ্য হলো রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান শক্তি মোকাবিলা করা।

ট্রাম্প বলেন, ইউরোপ তুলনামূলকভাবে অনেক কম করছে, অথচ রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ ইউরোপের জন্য আমাদের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের মধ্যে একটা ছোট বিষয় আছে, যার নাম সমুদ্র।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন কিনা—জানতে চাইলে ট্রাম্প সরাসরি তা অস্বীকার করেননি আবার কোনো জবাবও দেননি।

এর আগে, গত শনিবার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর আমন্ত্রণে প্যারিসে ৩৫ মিনিটের এক বৈঠকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে দেখা করেন ট্রাম্প। ফ্রান্সে জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনা শেষে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউক্রেন সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানান।

ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে আলোচনার শুরু হওয়া উচিত। যুদ্ধটা কখনোই শুরু হওয়া উচিত ছিল না এবং এটা চিরকাল চলতে পারে।

ট্রাম্প আগেও একাধিকবার বলেছেন, পুতিনের সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক থাকায় দায়িত্ব নেওয়ার এক দিনের মধ্যেই তিনি রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের সমাধান করবেন। তারই প্রতিফলন তার গতকালের পোস্টে ঘটেছে। ট্রাম্প বলেন, আমি ভ্লাদিমিরকে ভালোভাবে চিনি। এটি তার কাজ করার সময়। চীন সাহায্য করতে পারে। বিশ্ব অপেক্ষায় আছে!

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সিরাজগঞ্জে মিছিলের প্রস্তুতি: আ.লীগের চার কর্মী গ্রেপ্তার

ইউক্রেনকে সহায়তা কমিয়ে দেওয়ার ঘোষণা ট্রাম্পের

আপডেট সময় ০৭:১৪:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৪

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তার নতুন প্রশাসনের আমলে ইউক্রেন খুব বেশি সহায়তা পাবে না। তার আমলে দেশটি বাইডেন প্রশাসনের তুলনায় অনেক কম সহায়তা পাবে। এ সময় তিনি, ইউরোপের তরফ থেকে ইউক্রেনকে দেওয়া তুলনামূলক কম সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন।

রোববার মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’—অনুষ্ঠানে একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর ইউক্রেন সম্ভবত কম সামরিক সাহায্য পাবে। তিনি বলেন, আমরা ৩৫০ বিলিয়ন ডলারের জন্য দায়বদ্ধ, আর ইউরোপ ১০০ বিলিয়ন ডলারের! কেন ইউরোপ আমাদের সমান ভূমিকা রাখছে না?

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটির জন্য দেওয়া ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার প্রসঙ্গে ট্রাম্প উল্লিখিত মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি ইউক্রেনে ইউরোপীয় দেশগুলোকে আরও বেশি সামরিক সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘একটা বিষয় হওয়া উচিত, আর তা হলো ইউরোপ.সমতা আনবে।’

এদিকে শনিবার মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন ইউক্রেনের জন্য ৯৮৮ মিলিয়ন ডলারের একটি নতুন অস্ত্র ও সরঞ্জাম সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। যা ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের পর চলমান সংঘাত মোকাবিলায় সাহায্য করবে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে মোট ৬২ বিলিয়ন ডলারের বেশি সহায়তা দিয়েছে।

জুন মাসে ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে সবচেয়ে বড় বিক্রয় কুশলী বা সেলসম্যান বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, আমি মনে করি (ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি) সম্ভবত এমন একজন রাজনীতিবিদ, পৃথিবীর ইতিহাসে জীবিতদের মধ্যে সবচেয়ে সেরা সেলসম্যান।

তার এ মন্তব্য ইঙ্গিত করে যে, ইউক্রেনের প্রকৃত চাহিদার পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা প্যাকেজে লাখ লাখ ডলার অনুমোদনের ক্ষেত্রে জেলেনস্কির কূটনৈতিক দক্ষতাই মূল ভূমিকা রেখেছে।

প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট থাকার সময় ইউক্রেন ইস্যুতে ট্রাম্পের যেমন অবস্থান ছিল, এবারও তাই থাকবে। ট্রাম্প বলেছেন, ন্যাটোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বজায় রাখার শর্ত হিসেবে ‘তাদের (সদস্য দেশগুলোকে) বিল মেটাতে হবে।’ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে কার্যকর থাকা এই সামরিক জোট থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে আনার হুমকিও তিনি একাধিকবার দিয়েছেন। ন্যাটোর মূল লক্ষ্য হলো রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান শক্তি মোকাবিলা করা।

ট্রাম্প বলেন, ইউরোপ তুলনামূলকভাবে অনেক কম করছে, অথচ রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ ইউরোপের জন্য আমাদের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের মধ্যে একটা ছোট বিষয় আছে, যার নাম সমুদ্র।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন কিনা—জানতে চাইলে ট্রাম্প সরাসরি তা অস্বীকার করেননি আবার কোনো জবাবও দেননি।

এর আগে, গত শনিবার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর আমন্ত্রণে প্যারিসে ৩৫ মিনিটের এক বৈঠকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে দেখা করেন ট্রাম্প। ফ্রান্সে জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনা শেষে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউক্রেন সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানান।

ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে আলোচনার শুরু হওয়া উচিত। যুদ্ধটা কখনোই শুরু হওয়া উচিত ছিল না এবং এটা চিরকাল চলতে পারে।

ট্রাম্প আগেও একাধিকবার বলেছেন, পুতিনের সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক থাকায় দায়িত্ব নেওয়ার এক দিনের মধ্যেই তিনি রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের সমাধান করবেন। তারই প্রতিফলন তার গতকালের পোস্টে ঘটেছে। ট্রাম্প বলেন, আমি ভ্লাদিমিরকে ভালোভাবে চিনি। এটি তার কাজ করার সময়। চীন সাহায্য করতে পারে। বিশ্ব অপেক্ষায় আছে!