দীর্ঘ ৪৮ বছর পর প্রথমবারের মতো কোনো ওমানি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে চীন সফরে গেছেন সুলতান হাইথাম বিন তারিক আল সাইদ। গত ১ নভেম্বর তিনি বেইজিংয়ে পৌঁছান। ১৯৭৮ সালের মে মাসে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হওয়ার পর এটিই ওমানের কোনো সুলতানের প্রথম চীন সফর। এই সফর দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক সম্পর্ক এবং ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার নতুন অধ্যায় উন্মোচন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সুলতানের এই সফরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে এই রাষ্ট্রীয় সফরে গেছেন সুলতান হাইথাম। সোমবার ২ নভেম্বর বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে তাকে আনুষ্ঠানিক স্বাগত জানানোর কথা রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে সুলতানের এই বেইজিং সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান অস্থিরতার মাঝে কৌশলগত ও কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নয়ন এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য। এমন এক সময়ে সফরটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত চলছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ওয়াশিংটন ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও ওমান ও চীনের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর।
চীন বর্তমানে ওমানের জ্বালানি খাতের অন্যতম বড় ক্রেতা। ওমান দেশটির অপরিশোধিত তেলের পঞ্চম বৃহত্তম সরবরাহকারী দেশ হিসেবে পরিচিত। একই সঙ্গে আরব অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে ওমান চীনের চতুর্থ বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছে। ২০২৪ সালে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ পৌঁছেছে ৩৬ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। সুলতানের এই সফরের মাধ্যমে অর্থনৈতিক এই অংশীদারিত্ব আরও দৃঢ় করার প্রত্যাশা রয়েছে উভয় দেশের।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























