ঢাকা ১০:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারও করবে পুলিশ: আইজিপি ব্যবসায়ীকে আটকে চাঁদা দাবি: ডিজিএফআই সদস্যসহ কারাগারে ৬ দেশে হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজিপি: চাঁদাবাজির অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করার ক্ষমতা পাচ্ছে পুলিশ জাপান সফরে তারেক রহমান: অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন গতির আশা

হুতিদের সহিংসতা কমাতে ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব সৌদি আরবের

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের চলমান হামলা থামিয়ে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশাল অংকের আর্থিক সহায়তা প্রদানের প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরব। ইসরাইল হায়োমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের অবকাঠামো লক্ষ্য করে হুতিদের ধারাবাহিক আক্রমণ বন্ধ করার শর্তে রিয়াদ প্রায় ১০০ কোটি ডলারের একটি আর্থিক প্যাকেজ নিয়ে আলোচনা করেছে। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে এতে ইরান ভূমিকা রাখছে বলে জানা গেছে। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ইসরাইল হায়োমের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে বলে খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।

এই আলোচনার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের তেহরান সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে দাবি করা হয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী যে হারকিউলিস সামরিক পরিবহন বিমানে ইরান পৌঁছান, সেই বিমানেই তিনি সশরীরে নগদ ১০০ কোটি ডলার নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে এই বিশাল অংকের অর্থ শেষ পর্যন্ত হুতিদের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যমতে, প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের এই সফর এবং মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা জোটের সদস্যদেশগুলোর প্রতিনিধিদের বৈঠকটি মূলত চলমান সংকটে উত্তেজনা কমানো ও কূটনৈতিক সমাধানের একটি অংশ। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকে সমর্থন করতেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় এই বৈঠক আয়োজিত হয়, যেখানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের গোয়েন্দা প্রধান ইব্রাহিম কালিন উপস্থিত ছিলেন।

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির বাধ্যবাধকতা থাকলেও পাকিস্তান ও তুরস্ক সরাসরি যুদ্ধে বা সেনা মোতায়েনের পরিবর্তে সামরিক উপদেষ্টা সহায়তার ওপরই গুরুত্ব দিয়েছে। তেহরানে আয়োজিত এই বৈঠকে ইরানের প্রতিনিধিত্ব করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি এবং আইআরজিসির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে কোনো সদস্যদেশ আক্রান্ত হলে অন্য সদস্যদের সম্মিলিত সামরিক সহায়তার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল অবকাঠামোর ওপর হুতিদের হামলায় দেশটি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারের ওপর ইরানের হামলার জেরে তেল রপ্তানি বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনাও উদ্বেগের কারণ। হুতিদের হামলার কারণে রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ সম্মেলন বাতিল করতে হয়েছিল সৌদি আরবকে।

এই আর্থিক সহায়তার যৌক্তিকতা সম্পর্কে সৌদি কর্মকর্তারা বলছেন, তিন বছর আগের চুক্তি বাস্তবায়নে ব্যর্থতাই বর্তমান সংঘাতের মূল কারণ। প্রস্তাবিত এই প্যাকেজটি হুতি নিয়ন্ত্রিত এলাকার বেসামরিক অবকাঠামো পুনর্গঠন ও সরকারি কর্মীদের বেতন পরিশোধের জন্য ব্যবহারের কথা ছিল। বিনিময়ে হুতিদের ওপর যুদ্ধবিরতি এবং সৌদি আরবে হামলা বন্ধের শর্ত ছিল। তবে হুতিদের দাবি, সৌদি আরব চুক্তি ভঙ্গ করেছে এবং এই অভিযোগকে সামনে রেখেই তারা হামলার পক্ষে যুক্তি দিচ্ছে, যা ইরান সমর্থিত বলে মনে করা হচ্ছে। তবে বর্তমানে হুতিরা দাবি করছে, সৌদি আরব তাদের সঙ্গে হওয়া চুক্তি থেকে সরে এসেছে।

আপলোডকারীর তথ্য

শিশুদের ছাড়িয়ে চীনে বেড়েছে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা

হুতিদের সহিংসতা কমাতে ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব সৌদি আরবের

আপডেট সময় ০৯:৫২:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের চলমান হামলা থামিয়ে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশাল অংকের আর্থিক সহায়তা প্রদানের প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরব। ইসরাইল হায়োমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের অবকাঠামো লক্ষ্য করে হুতিদের ধারাবাহিক আক্রমণ বন্ধ করার শর্তে রিয়াদ প্রায় ১০০ কোটি ডলারের একটি আর্থিক প্যাকেজ নিয়ে আলোচনা করেছে। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে এতে ইরান ভূমিকা রাখছে বলে জানা গেছে। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ইসরাইল হায়োমের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে বলে খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।

এই আলোচনার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের তেহরান সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে দাবি করা হয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী যে হারকিউলিস সামরিক পরিবহন বিমানে ইরান পৌঁছান, সেই বিমানেই তিনি সশরীরে নগদ ১০০ কোটি ডলার নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে এই বিশাল অংকের অর্থ শেষ পর্যন্ত হুতিদের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যমতে, প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের এই সফর এবং মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা জোটের সদস্যদেশগুলোর প্রতিনিধিদের বৈঠকটি মূলত চলমান সংকটে উত্তেজনা কমানো ও কূটনৈতিক সমাধানের একটি অংশ। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকে সমর্থন করতেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় এই বৈঠক আয়োজিত হয়, যেখানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের গোয়েন্দা প্রধান ইব্রাহিম কালিন উপস্থিত ছিলেন।

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির বাধ্যবাধকতা থাকলেও পাকিস্তান ও তুরস্ক সরাসরি যুদ্ধে বা সেনা মোতায়েনের পরিবর্তে সামরিক উপদেষ্টা সহায়তার ওপরই গুরুত্ব দিয়েছে। তেহরানে আয়োজিত এই বৈঠকে ইরানের প্রতিনিধিত্ব করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি এবং আইআরজিসির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে কোনো সদস্যদেশ আক্রান্ত হলে অন্য সদস্যদের সম্মিলিত সামরিক সহায়তার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল অবকাঠামোর ওপর হুতিদের হামলায় দেশটি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারের ওপর ইরানের হামলার জেরে তেল রপ্তানি বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনাও উদ্বেগের কারণ। হুতিদের হামলার কারণে রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ সম্মেলন বাতিল করতে হয়েছিল সৌদি আরবকে।

এই আর্থিক সহায়তার যৌক্তিকতা সম্পর্কে সৌদি কর্মকর্তারা বলছেন, তিন বছর আগের চুক্তি বাস্তবায়নে ব্যর্থতাই বর্তমান সংঘাতের মূল কারণ। প্রস্তাবিত এই প্যাকেজটি হুতি নিয়ন্ত্রিত এলাকার বেসামরিক অবকাঠামো পুনর্গঠন ও সরকারি কর্মীদের বেতন পরিশোধের জন্য ব্যবহারের কথা ছিল। বিনিময়ে হুতিদের ওপর যুদ্ধবিরতি এবং সৌদি আরবে হামলা বন্ধের শর্ত ছিল। তবে হুতিদের দাবি, সৌদি আরব চুক্তি ভঙ্গ করেছে এবং এই অভিযোগকে সামনে রেখেই তারা হামলার পক্ষে যুক্তি দিচ্ছে, যা ইরান সমর্থিত বলে মনে করা হচ্ছে। তবে বর্তমানে হুতিরা দাবি করছে, সৌদি আরব তাদের সঙ্গে হওয়া চুক্তি থেকে সরে এসেছে।