মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং আমদানি দায় মেটানোর চাপের মুখে দেশের বাজারে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ঊর্ধ্বমুখী। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলারের দর বেড়ে ১২৩ টাকা ৮৭ পয়সায় দাঁড়িয়েছে, যা আগের দিন সোমবার ছিল ১২৩ টাকা ৭৫ পয়সা। ডলারের এই ক্রমবর্ধমান দর রোববার ছিল ১২৩ টাকা ৭৩ পয়সা এবং ঠিক এক সপ্তাহ আগে ছিল ১২৩ টাকা ৪৫ পয়সা।
বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতেও ডলারের দাম বৃদ্ধির প্রভাব স্পষ্ট। ইস্টার্ন ব্যাংক গতকাল প্রতি ডলারের বিক্রয়মূল্য ১২৩ টাকা ৯৮ পয়সা এবং ক্রয়মূল্য ১২২ টাকা ৯৮ পয়সা নির্ধারণ করেছে, যেখানে আগের দিন বিক্রয়মূল্য ছিল ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সা। একইভাবে, রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক নগদ লেনদেনে ডলারের বিক্রয়মূল্য ১২৩ টাকা ৯০ পয়সা এবং ক্রয়মূল্য ১২২ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে ১২২ টাকা ৯০ পয়সার মধ্যে নির্ধারণ করেছে।
জ্বালানি তেল ও গ্যাস আমদানির বকেয়া দায় পরিশোধের চাপকে ডলার সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন ব্যাংক কর্মকর্তারা। রাষ্ট্রায়ত্ত একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানি আমদানির বড় অংকের অর্থ পরিশোধের ফলে বাজারে ডলারের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতির কারণে অনেক ব্যাংকই ডলারের সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে।
সরকারি তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে মোট আমদানি ব্যয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ শতাংশ বেড়ে ১২ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এর মধ্যে কেবল জ্বালানি পণ্য আমদানিতেই ব্যয় দ্বিগুণ হয়ে ২ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানিতে বাড়তি বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন হচ্ছে। এর মধ্যে শুধু জ্বালানি পণ্য আমদানি ব্যয় দ্বিগুণ হয়ে ২ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ডলারের চাহিদার বিপরীতে যোগান প্রায় সমান হলেও মাসের শেষদিকে এলসি নিষ্পত্তি বা আমদানি বিল পরিশোধের চাপ বেড়ে যায়। এছাড়া, মাসের শেষদিকে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রবাহ কিছুটা কমে যাওয়ায় বাজারে সাময়িকভাবে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়। তবে স্বস্তির খবর হলো, চলতি বছরের ১ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ২ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা গত বছরের একই সময়ের ২ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় কিছুটা বেশি।
মুদ্রাবাজারে কিছুটা অস্থিরতা থাকলেও দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। আইএমএফের বিপিএম৬ পদ্ধতি অনুসরণ করে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩১ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ২৬ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলার।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























