ঢাকা ০৬:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারও করবে পুলিশ: আইজিপি

চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে ৮ বছরের শিশু ঐশীর মৃত্যু

চট্টগ্রাম নগরীর উত্তর কাট্টলী এলাকায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ঐশী দাস নামে আট বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বায়েজিদ এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শুক্রবার সকালে উত্তর কাট্টলী সনদ দত্ত মহাশ্মশানে শিশুটির শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। ‘অনেক প্রার্থনা করেছি, মেয়েটা যেন সুস্থ হয়ে যায়। কিন্তু পুতুলের মতো মেয়েটা আমাদের ছেড়ে চলে গেল। কোনোভাবেই মেয়েটাকে বাঁচাতে পারলাম না।’। ঐশী ও সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া আরেক মেয়ে রুহি দাসকে নিয়ে কাট্টলীর বাড়িটিতে থাকেন মা লিপি দাস।

শিশুটির পারিবারিক সূত্র জানায়, গত সোমবার ঐশীর জ্বর শুরু হয় এবং তা ১০৩ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠেছিল। মা লিপি দাস তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার পর চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে বাসায় রেখে চিকিৎসা শুরু করা হয়। তবে বাসায় ফেরার পর শিশুটি বমি করতে শুরু করলে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। পরিবারের সদস্যরা জানান, গত সোমবার ঐশীর জ্বর দেখা দেয়। জ্বরের মাত্রা ছিল ১০৩ ডিগ্রি।

এরপর ঐশীকে নগরীর জিইসি মোড় এলাকার রয়েল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দুই দিন চিকিৎসার পর অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তরের প্রয়োজন পড়ে। ঐশীর চাচা মিটন দাস জানান, ওই হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা খালি না থাকায় শেষ পর্যন্ত তাকে বায়েজিদের সাজিনাস হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সে মারা যায়।

নিহত ঐশীর বাবা লিটন দাস কুয়েত প্রবাসী। মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি শুক্রবার সকালে দেশে ফেরেন। শোকার্ত পরিবারটি বর্তমানে চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মিটন দাস জানান, ঐশীর বাবা, মা ও তার বোন রুহি দাস শোকে স্তব্ধ হয়ে আছেন। স্বজন ও প্রতিবেশীদের কান্নায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়। মেয়েকে হারিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন তার মা লিপি দাস।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ গত কয়েক মাসে বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরের গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৬ হাজার ৯২৪ জন। এর মধ্যে কেবল সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসেই আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৩৬৬ জন। ঘরের সামনে জড়ো হয়েছেন আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা।

এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা ৩৫ জন। এর মধ্যে শুধু চলতি অক্টোবর মাসেই মারা গেছেন ১৪ জন। ঐশী দাসের মৃত্যুর পর এই সংখ্যা ১৫-তে দাঁড়িয়েছে। পাঁচ বছরের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরটি ডেঙ্গু সংক্রমণের দিক থেকে জেলায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। ২০২৩ সালে চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ৮৭ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছিল।

আপলোডকারীর তথ্য

পাবনায় বজ্রপাতে ৬ কিশোর ও তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু

চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে ৮ বছরের শিশু ঐশীর মৃত্যু

আপডেট সময় ০৫:৪১:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরীর উত্তর কাট্টলী এলাকায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ঐশী দাস নামে আট বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বায়েজিদ এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শুক্রবার সকালে উত্তর কাট্টলী সনদ দত্ত মহাশ্মশানে শিশুটির শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। ‘অনেক প্রার্থনা করেছি, মেয়েটা যেন সুস্থ হয়ে যায়। কিন্তু পুতুলের মতো মেয়েটা আমাদের ছেড়ে চলে গেল। কোনোভাবেই মেয়েটাকে বাঁচাতে পারলাম না।’। ঐশী ও সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া আরেক মেয়ে রুহি দাসকে নিয়ে কাট্টলীর বাড়িটিতে থাকেন মা লিপি দাস।

শিশুটির পারিবারিক সূত্র জানায়, গত সোমবার ঐশীর জ্বর শুরু হয় এবং তা ১০৩ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠেছিল। মা লিপি দাস তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার পর চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে বাসায় রেখে চিকিৎসা শুরু করা হয়। তবে বাসায় ফেরার পর শিশুটি বমি করতে শুরু করলে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। পরিবারের সদস্যরা জানান, গত সোমবার ঐশীর জ্বর দেখা দেয়। জ্বরের মাত্রা ছিল ১০৩ ডিগ্রি।

এরপর ঐশীকে নগরীর জিইসি মোড় এলাকার রয়েল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দুই দিন চিকিৎসার পর অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তরের প্রয়োজন পড়ে। ঐশীর চাচা মিটন দাস জানান, ওই হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা খালি না থাকায় শেষ পর্যন্ত তাকে বায়েজিদের সাজিনাস হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সে মারা যায়।

নিহত ঐশীর বাবা লিটন দাস কুয়েত প্রবাসী। মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি শুক্রবার সকালে দেশে ফেরেন। শোকার্ত পরিবারটি বর্তমানে চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মিটন দাস জানান, ঐশীর বাবা, মা ও তার বোন রুহি দাস শোকে স্তব্ধ হয়ে আছেন। স্বজন ও প্রতিবেশীদের কান্নায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়। মেয়েকে হারিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন তার মা লিপি দাস।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ গত কয়েক মাসে বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরের গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৬ হাজার ৯২৪ জন। এর মধ্যে কেবল সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসেই আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৩৬৬ জন। ঘরের সামনে জড়ো হয়েছেন আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা।

এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা ৩৫ জন। এর মধ্যে শুধু চলতি অক্টোবর মাসেই মারা গেছেন ১৪ জন। ঐশী দাসের মৃত্যুর পর এই সংখ্যা ১৫-তে দাঁড়িয়েছে। পাঁচ বছরের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরটি ডেঙ্গু সংক্রমণের দিক থেকে জেলায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। ২০২৩ সালে চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ৮৭ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছিল।