ঢাকা ০৮:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

শাহ আমানত বিমানবন্দরে ধারাবাহিক সম্পদ সংক্রান্ত ঘটনায়, নিরাপত্তা নিয়ে

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্পর্শকাতর এলাকা থেকে বারবার রানওয়ের লাইট, ভূগর্ভস্থ বৈদ্যুতিক ক্যাবল ও নেভিগেশন সরঞ্জামের মতো গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনা ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, গত এক মাসে অন্তত নয় দফা চুরির ঘটনায় প্রায় অর্ধকোটি টাকার সরঞ্জাম খোয়া গেছে। চুরি হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রানওয়ের আলোকব্যবস্থার বিভিন্ন যন্ত্র, ট্রান্সফরমারের সেকেন্ডারি কিট, তামার তার এবং ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ সরবরাহের তার রয়েছে। বিশেষ করে রানওয়ের অ্যাপ্রোচ লাইট উড্ডয়ন ও অবতরণের ক্ষেত্রে দিক নির্দেশনার জন্য অত্যন্ত জরুরি, যা চুরি হওয়ার ফলে বিমানবন্দরের নিরাপদ পরিচালন ব্যবস্থা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এ সময় শাহ আমানতসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনা করা হবে।

ঘটনার ধারাবাহিকতা পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিমানবন্দরের ০৫ নম্বর অ্যাপ্রোচ এলাকার নিরাপত্তাবাতির ক্যাবল চুরি হয়, যার ফলে দুই দিন আলোকব্যবস্থা বন্ধ ছিল। এরপর ৬ অক্টোবর রাতে রানওয়ের ২৩ থেকে ০৫ নম্বর অ্যাপ্রোচ এলাকার লাইট বন্ধ থাকার তথ্য পাওয়ার পর বৈদ্যুতিক বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন সেখানে ২০টি ট্রান্সফরমারের সেকেন্ডারি কিটসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নেই। এর ঠিক কয়েকদিন পর ৯ অক্টোবর রানওয়ের ২৩ নম্বর অ্যাপ্রোচ এলাকায় মাটির প্রায় পাঁচ ফুট নিচে থাকা বৈদ্যুতিক ক্যাবল কেটে তামার তার চুরি হওয়ার ঘটনা ঘটে। সূত্রের দাবি, ক্যাবল চুরির কারণে কিছু উড়োজাহাজ বাধ্য হয়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করতে হয়েছিল। এছাড়া নেভিগেশন-সংশ্লিষ্ট ভিওআর এলাকার ক্যাবলও একাধিকবার চুরি হয়েছে। বিকল্প হিসেবে ওপর দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হলেও সেখান থেকেও ক্যাবল চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

বিমানবন্দরটিতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক), বিমানবাহিনী, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও আনসার সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকলেও ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন ইউনিটের কাজের সমন্বয় ও নজরদারি নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় পর্যায়ে মালামালসহ একজনকে আটক করার পর ছেড়ে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে, যদিও এসব দাবির নিরপেক্ষ যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) নিরাপত্তা অডিট হওয়ার কথা রয়েছে। এই অডিটের আগে বিমানবন্দরের এমন নাজুক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বেবিচকের মেম্বার সেক্রেটারি এয়ার কমোডর মো. আসিফ ইকবাল চুরির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। প্রতিদিন প্রায় সাড়ে চার হাজার যাত্রী চলাচলকারী এই গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরে দ্রুত নিরাপত্তা নজরদারি বাড়ানো ও অবকাঠামো সুরক্ষার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শাহ আমানত বিমানবন্দরে ধারাবাহিক সম্পদ সংক্রান্ত ঘটনায়, নিরাপত্তা নিয়ে

শাহ আমানত বিমানবন্দরে ধারাবাহিক সম্পদ সংক্রান্ত ঘটনায়, নিরাপত্তা নিয়ে

আপডেট সময় ০৮:৫৩:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্পর্শকাতর এলাকা থেকে বারবার রানওয়ের লাইট, ভূগর্ভস্থ বৈদ্যুতিক ক্যাবল ও নেভিগেশন সরঞ্জামের মতো গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনা ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, গত এক মাসে অন্তত নয় দফা চুরির ঘটনায় প্রায় অর্ধকোটি টাকার সরঞ্জাম খোয়া গেছে। চুরি হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রানওয়ের আলোকব্যবস্থার বিভিন্ন যন্ত্র, ট্রান্সফরমারের সেকেন্ডারি কিট, তামার তার এবং ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ সরবরাহের তার রয়েছে। বিশেষ করে রানওয়ের অ্যাপ্রোচ লাইট উড্ডয়ন ও অবতরণের ক্ষেত্রে দিক নির্দেশনার জন্য অত্যন্ত জরুরি, যা চুরি হওয়ার ফলে বিমানবন্দরের নিরাপদ পরিচালন ব্যবস্থা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এ সময় শাহ আমানতসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনা করা হবে।

ঘটনার ধারাবাহিকতা পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিমানবন্দরের ০৫ নম্বর অ্যাপ্রোচ এলাকার নিরাপত্তাবাতির ক্যাবল চুরি হয়, যার ফলে দুই দিন আলোকব্যবস্থা বন্ধ ছিল। এরপর ৬ অক্টোবর রাতে রানওয়ের ২৩ থেকে ০৫ নম্বর অ্যাপ্রোচ এলাকার লাইট বন্ধ থাকার তথ্য পাওয়ার পর বৈদ্যুতিক বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন সেখানে ২০টি ট্রান্সফরমারের সেকেন্ডারি কিটসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নেই। এর ঠিক কয়েকদিন পর ৯ অক্টোবর রানওয়ের ২৩ নম্বর অ্যাপ্রোচ এলাকায় মাটির প্রায় পাঁচ ফুট নিচে থাকা বৈদ্যুতিক ক্যাবল কেটে তামার তার চুরি হওয়ার ঘটনা ঘটে। সূত্রের দাবি, ক্যাবল চুরির কারণে কিছু উড়োজাহাজ বাধ্য হয়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করতে হয়েছিল। এছাড়া নেভিগেশন-সংশ্লিষ্ট ভিওআর এলাকার ক্যাবলও একাধিকবার চুরি হয়েছে। বিকল্প হিসেবে ওপর দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হলেও সেখান থেকেও ক্যাবল চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

বিমানবন্দরটিতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক), বিমানবাহিনী, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও আনসার সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকলেও ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন ইউনিটের কাজের সমন্বয় ও নজরদারি নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় পর্যায়ে মালামালসহ একজনকে আটক করার পর ছেড়ে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে, যদিও এসব দাবির নিরপেক্ষ যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) নিরাপত্তা অডিট হওয়ার কথা রয়েছে। এই অডিটের আগে বিমানবন্দরের এমন নাজুক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বেবিচকের মেম্বার সেক্রেটারি এয়ার কমোডর মো. আসিফ ইকবাল চুরির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। প্রতিদিন প্রায় সাড়ে চার হাজার যাত্রী চলাচলকারী এই গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরে দ্রুত নিরাপত্তা নজরদারি বাড়ানো ও অবকাঠামো সুরক্ষার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।