রাজধানীসহ দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় যাত্রীপরিবহনের শৃঙ্খলা ফেরাতে ব্যাটারিচালিত রিকশা বা ই-রিকশা চলাচলের জন্য একটি নতুন নীতিমালা প্রকাশ করেছে সরকার।
স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯-এর ক্ষমতাবলে প্রণীত এই বিধিমালার নাম ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে এই নীতিমালা প্রকাশ করে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, লাইসেন্স বা নিবন্ধন ছাড়া ঢাকা বা অন্য কোনো সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করতে পারবে না।
নিবন্ধন ও আবেদন প্রক্রিয়া
- আবেদনের নিয়ম: ই-রিকশা নিবন্ধনের জন্য নির্ধারিত তফসিল অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফি জমা দিয়ে আবেদন করতে হবে।
- সময়সীমা ও যাচাই: আবেদন পাওয়ার পর কর্তৃপক্ষ তা যাচাই-বাছাই করবে এবং সন্তোষজনক বিবেচিত হলে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধন প্রদান করা হবে।
- মেয়াদ ও নম্বর প্লেট: প্রতিটি নিবন্ধনের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। নিবন্ধিত রিকশায় কিউআর কোডযুক্ত ইউনিক নম্বর প্লেট বাধ্যতামূলকভাবে দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে।
- আপিল ব্যবস্থা: আবেদন নামঞ্জুর হলে সাত কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত কারণ জানানো হবে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করার সুযোগ থাকবে।
নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে একজন ব্যক্তি অনধিক পাঁচটি ই-রিকশার নিবন্ধন নিতে পারবেন। তবে এক সিটি করপোরেশনে নিবন্ধিত রিকশা অন্য এলাকায় বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে চালানো যাবে না। বুয়েট নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড অনুযায়ী ফিটনেস সার্টিফিকেট এবং ট্রাফিক বিভাগের প্রতিস্বাক্ষর না থাকলে কোনো ই-রিকশা নিবন্ধিত হবে না। এছাড়া প্রতিটি রিকশার ইকোনমিক লাইফটাইম বা অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল হবে নিবন্ধনের তারিখ থেকে ১২ বছর।
ই-রিকশার নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতিটি যানে স্পিডোমিটার বা ওডোমিটার থাকা বাধ্যতামূলক। ত্রুটিযুক্ত ও নিবন্ধনবিহীন অবৈধ রিকশা রাস্তায় চলাচল করতে পারবে না এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এই ধরনের যান বন্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবেন। এছাড়া মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, প্রধান বাস করিডর এবং নিষেধাজ্ঞা থাকা সড়কে ই-রিকশা চালানো নিষিদ্ধ।
চালনার নিয়মের মধ্যে রয়েছে ফুটপাতে ই-রিকশা না চালানো এবং সব সময় সড়কের বাঁ লেন অনুসরণ করা। ড্রাইভিং অবস্থায় চালক মুঠোফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। এছাড়া ওভারটেকিং ও লেন পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নিয়ম কঠোরভাবে মানতে হবে। আকারভেদে চালক ছাড়া সর্বোচ্চ দুই বা চারজন যাত্রী বহন করা যাবে এবং যাত্রী ছাড়া অন্য কোনো বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আপিলের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
পরিবেশ ও জননিরাপত্তার খাতিরে হর্নের তীব্রতা ৪০ ডেসিবেলের মধ্যে সীমিত রাখতে হবে। স্কুল, হাসপাতাল বা ধর্মীয় উপাসনালয়ের মতো জনবহুল এলাকায় ই-রিকশার গতি ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটারের বেশি হতে পারবে না। ট্রাফিক বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে রুট নির্ধারণ করে দেবে এবং এক জোনের রিকশা অন্য জোনে চলাচল করতে পারবে না। সরকার পর্যায়ক্রমে সব ই-রিকশাকে বিমার আওতায় নিয়ে আসবে।
পার্কিং ও চার্জিং ব্যবস্থা সম্পর্কে নীতিমালায় বলা হয়েছে, ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রতিটি ওয়ার্ডে নির্দিষ্ট পার্কিং এলাকা নির্ধারণ করা হবে। ই-রিকশা শুধু অনুমোদিত ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত গ্যারেজ বা চার্জিং পয়েন্টে চার্জ দেওয়া যাবে। চার্জিং স্টেশনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বা সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়াতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে চার্জ দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। অনিয়ন্ত্রিত ও নিয়মবহির্ভূত চার্জিং পরিহার করতে হবে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 






















