ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত নেগেভ মরুভূমির দুটি বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের ১০টি সামরিক কার্গো বিমান পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কানের এক প্রতিবেদনে এই আলোড়ন সৃষ্টিকারী তথ্য সামনে আনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নেগেভ মরুভূমির ঘাটিতে অবতরণ ও আঞ্চলিক সামরিক বিস্তার
ইসরায়েলি সংবাদ মাধ্যমটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আমেরিকার সামরিক বিমানগুলো সরাসরি ইসরায়েলের ওভদা ও নেভাতিম নামের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে অবতরণ সম্পন্ন করেছে। কেবল ইসরায়েলই নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্য রক্ষায় জর্ডান, সৌদি আরব এবং কাতারের বিভিন্ন ঘাটিতেও মার্কিন সামরিক বিমানের উপস্থিতি সম্প্রতি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
- টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট ব্লিস সামরিক কেন্দ্র থেকে এসব বিমান আমেরিকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে।
- ফোর্ট ব্লিসে আমেরিকার অন্যতম বৃহৎ আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র নিরোধক সরঞ্জামের বিশাল সংগ্রহ সংরক্ষিত রয়েছে।
- তবে পৌঁছানো কার্গো বিমানগুলোতে সুনির্দিষ্টভাবে কী ধরনের অস্ত্র বা প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আনা হয়েছে, সে বিষয়ে আমেরিকান প্রশাসনের স্পষ্ট বক্তব্য মেলেনি।
হোয়াইট হাউস ও তেল আবিবের যৌথ প্রস্তুতি ও সমন্বয়
আমেরিকান সরকারের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো ইরানে হামলা চালানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা হয়নি। তবে ইসরায়েলের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা কান-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, উভয় দেশের মধ্যে সার্বিক সামরিক কৌশল নিয়ে সার্বক্ষণিক ও নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে।
উক্ত কর্মকর্তা মন্তব্য করেন যে, ওয়াশিংটন এবং তেল আবিব সমন্বিতভাবে এগোচ্ছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও না হলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেকোনো ধরণের সামরিক নির্দেশ দিলে তা বাস্তবায়নের উপযুক্ত সামরিক সক্ষমতা বজায় রাখতে কাজ করা হচ্ছে। তবে তিনি সম্ভাব্য অভিযানের ধরন কিংবা সুনির্দিষ্ট সময়সূচি নিয়ে বিস্তারিত বিবরণ দিতে রাজি হননি। তবে সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের ধরন বা সময় সম্পর্কে ওই কর্মকর্তা বিস্তারিত কিছু জানাননি।
উপসাগরীয় দেশগুলোকে সতর্কবার্তা ও প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থার মোতায়েন
চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে কানের অন্য এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ওয়াশিংটন ইতিমধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র দেশগুলোকে ইরানের ওপর সীমিত পরিসরে স্বল্পমেয়াদি অভিযানের বিষয়ে পূর্ব সতর্কবার্তা দিয়ে রেখেছে। একই সঙ্গে আকাশসীমার সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিতে টেক্সাস থেকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মধ্যপ্রাচ্যে স্থানান্তর করা হয়েছে। সেখানে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন সরঞ্জামও সংরক্ষিত আছে।
সৈন্যদের ঘাঁটি ত্যাগ ও নৌবহরের নতুন মেরুকরণ
চলমান সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় নিরাপত্তার খাতিরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটিতে নিয়োজিত আমেরিকান সেনাসদস্যদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে কান। অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি উত্তরোত্তর বাড়াতে আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যে একটি বাড়তি বিমানবাহী রণতরি এবং মেরিন কোরের একটি সুসজ্জিত ইউনিট যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
ট্রাম্পকে সেন্টকম প্রধানের ব্রিফিং ও সিনেটরের প্রতিক্রিয়া
অন্য এক আলোড়ন সৃষ্টিকারী প্রতিবেদনে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল নিশ্চিত করেছে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) দায়িত্বরত প্রধান জেনারেল ব্র্যাড কুপার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ইরানে সম্ভাব্য অভিযানের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছেন। এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা ব্রিফিং প্রমাণ করে যে আমেরিকা ইরানে সামরিক পদক্ষেপের চূড়ান্ত ধাপে অবস্থান করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অসন্তোষ
অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটিক দলের প্রভাবশালী সিনেটর ক্রিস মারফি প্রকাশ করেছেন যে, ইরানে আগ্রাসনের সম্ভাব্য ছক নিয়ে তাকেসহ একাধিক সিনেটরকে বিস্তারিত ব্রিফ করা হয়েছে। এই সামরিক রূপরেখাকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও ‘উন্মাদনাপূর্ণ’ অভিহিত করে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মারফি হুঁশিয়ারি দেন যে, ইরানে সামরিক অভিযান শুরু হলে তা মধ্যপ্রাচ্যে এক দীর্ঘমেয়াদি ও ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্ম দেবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার ঐতিহ্যকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাবে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 






















