ঢাকা ১২:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারও করবে পুলিশ: আইজিপি ব্যবসায়ীকে আটকে চাঁদা দাবি: ডিজিএফআই সদস্যসহ কারাগারে ৬ দেশে হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজিপি: চাঁদাবাজির অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করার ক্ষমতা পাচ্ছে পুলিশ জাপান সফরে তারেক রহমান: অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন গতির আশা

বলিউডে অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শুটিংয়ে এখন ইনটিমেসি কো-অর্ডিনেটরের কদর বাড়ছে

সিনেমা বা ওটিটি প্ল্যাটফর্মের পর্দায় ঘনিষ্ঠ দৃশ্য নিয়ে বিতর্ক ও আলোচনা দীর্ঘদিনের। কখনো সেন্সর বোর্ডের বিধিনিষেধ, আবার কখনো শুটিং সেটে সহ-অভিনেতার অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের অভিযোগ বিনোদন জগতে নতুন নয়। তবে #মিটু আন্দোলনের পর এই পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। ভারতের চলচ্চিত্র শিল্পেও এখন শুটিংয়ের সময় ‘ইনটিমেসি কো-অর্ডিনেটর’ বা অন্তরঙ্গ দৃশ্য সমন্বয়কের উপস্থিতি ক্রমশ বাড়ছে, যা শিল্পীদের নিরাপত্তা ও সম্মতির বিষয়টি সুনিশ্চিত করছে। ‘অন্তরঙ্গ দৃশ্য’—এই শব্দ দুটিই আলোচনার জন্য যথেষ্ট। পরিচিত এই পেশার নাম ‘ইনটিমেসি কো-অর্ডিনেটর’। বিনোদনশিল্পে যৌন হয়রানির ঘটনা নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা তৈরি করেছিল #মিটু আন্দোলন। স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের বিস্তারে গল্প বলার ধরনে এসেছে সূক্ষ্মতা ও বৈচিত্র্য। আর ‘ট্যাবু’ নয় বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ চলচ্চিত্র নির্মাণশিল্প বলিউডে কয়েক দশক ধরে পর্দায় শারীরিক ঘনিষ্ঠতা অনেকটাই এড়িয়ে চলা হয়েছে। চলচ্চিত্রশিল্পের বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবর্তনটির প্রধান চালিকা শক্তি স্ট্রিমিং সেবাগুলো। নির্মাতাদের কেউ কেউ এসব সীমা অতিক্রম করার চেষ্টা করলেও ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের শুটিংয়ের পদ্ধতি দীর্ঘদিন ছিল অনেকটাই অনিয়মতান্ত্রিক। ধীরে ধীরে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের জন্য নির্মিত অন্যান্য ছবিতেও এ পদ্ধতি ছড়িয়ে পড়ে। অন্তরঙ্গ দৃশ্য ধারণের আগে ভয় কাটাতে যা করছিলেন রবি।

প্রথাগতভাবে বলিউডে ঘনিষ্ঠ দৃশ্য ধারণ করা হতো অভিনেতা ও পরিচালকদের পারস্পরিক বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে। বদলাচ্ছে পরিস্থিতি ভারতের চলচ্চিত্রশিল্পে নগ্নতা কিংবা যৌনদৃশ্যের শুটিংয়ে এত দিন অনেকটাই নির্ভর করা হতো তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত ও অভিনয়শিল্পীদের পারস্পরিক বিশ্বাসের ওপর। চুম্বন কিংবা যৌনসম্পর্কের দৃশ্য সরাসরি না দেখিয়ে প্রতীকীভাবে বোঝানো হতো। ফুলে ফুলে ঘষা লাগা, পরস্পরের দিকে ধেয়ে আসা ঢেউ কিংবা দাউ দাউ করে জ্বলা আগুন দিয়ে প্রকাশ করা হতো আকাঙ্ক্ষা ও যৌনমিলনের ইঙ্গিত।

নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম বা সুরক্ষাকবচ না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে শিল্পীরা অস্বস্তিতে পড়তেন।

এখন সেই দৃশ্যপট পাল্টাচ্ছে। ইনটিমেসি কো-অর্ডিনেটররা এখন শুটিং শুরুর অনেক আগেই শিল্পীদের সঙ্গে কথা বলেন। আস্থা খান্না নামক একজন ইনটিমেসি কো-অর্ডিনেটর জানান, স্ট্রিমিং সেবাগুলোর বিস্তারের ফলে বাস্তবসম্মত সম্পর্কের উপস্থাপনা জরুরি হয়ে পড়েছে, যা পেশাদার সহায়তাকে অনিবার্য করে তুলেছে। যৌনতা ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বাস্তবসম্মত উপস্থাপনার চাহিদাও বেড়েছে। বলিউডের ইনটিমেসি কো-অর্ডিনেটরদের ছোট হলেও ক্রমবর্ধমান দলের একজন আস্থা খান্না। আস্থা খান্না বলেন, ‘এমন ঘটনাও ঘটেছে, যেখানে কোনো অভিনেতা তাঁর সহ-অভিনেত্রীর সম্মতি ছাড়াই তাঁকে চুমু দিয়েছেন।

আস্থা খান্না তাঁর কাজের ধরনা সম্পর্কে বলেন, একজন স্টান্ট পরিচালক যেমন মারপিটের দৃশ্যের পরিকল্পনা করেন, তেমনি আমরা ঠিক করে দিই হাত কোথায় থাকবে বা শারীরিক ভঙ্গি কেমন হবে। এতে শুটিংয়ে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা এড়ানো যায়। অনেক সময় অভিনয়ের সময় শালীনতা রক্ষায় ‘মডেস্টি টুলস’ বা বিশেষ উপকরণ ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে রয়েছে গোপনাঙ্গ ঢাকার বিশেষ সরঞ্জাম, স্তনবৃন্ত ঢাকার প্যাচ ও ডোনাটের মতো কুশন, যা শিল্পীদের মধ্যে নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে সাহায্য করে। যেভাবে বদল এই পরিবর্তনের পেছনে আরও একটি কারণ রয়েছে। যাতে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু ঠিক করতে না হয়।’। এগুলোর সাহায্যে অভিনয়শিল্পীরা অপ্রয়োজনীয় শারীরিক সংস্পর্শ কমিয়ে ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের অভিনয় করতে পারেন।

চুক্তি স্বাক্ষরের আগেই শিল্পীদের চিত্রনাট্যের ঘনিষ্ঠ দৃশ্য সম্পর্কে অবহিত করার বিষয়টি এখন গুরুত্ব পায়। এর ফলে শিল্পী কাজটিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন কি না, তা ভেবে দেখার সুযোগ পান। মূলত ২০২২ সালে অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওতে মুক্তি পাওয়া করণ জোহরের ‘গেহরাইয়াঁ’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে ইনটিমেসি কো-অর্ডিনেটরের পেশাগত চর্চা আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে আসে। সেখানে আস্থা খান্না এবং শারীরিক সম্পর্কের গতিবিধি নিয়ে কর্মশালা পরিচালনাকারী নেহা ব্যাসোর মতো বিশেষজ্ঞরা কাজ করেছেন।

নেহা ব্যাসোর মতে, বর্তমানে সেন্সরশিপের শিথিলতা এবং বিষয়বস্তুর গভীরতা বৃদ্ধির ফলে অনেক নির্মাতা এখন খোলামেলা গল্প বলতে আগ্রহী। জনপ্রিয় সিরিজ ‘মির্জাপুর’-এর প্রথম মৌসুমগুলোতে এই পেশাজীবীদের অভাব ছিল। সিরিজের অভিনয়শিল্পী রসিকা দুগ্গাল জানান, আগে শিল্পীদের নিজেদের স্বাচ্ছন্দ্য ও সীমারেখা একা সামলাতে হতো। এখন ইনটিমেসি কো-অর্ডিনেটর থাকায় সীমা লঙ্ঘনের ঝুঁকি কমেছে এবং সবার উদ্বেগের বিষয়টি যথাযথভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। নেহা ব্যাসো বলেন, ‘এখন সেন্সরশিপ অনেক কম, আর নিষিদ্ধ বা স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে গল্প বলার ক্ষেত্রেও আগ্রহ ও উন্মুক্ততা বেড়েছে।’।

তবে এই পেশাজীবীদের উপস্থিতি এখনো সর্বজনীন হয়ে ওঠেনি। ভারতে সব মিলিয়ে এমন পেশাজীবীর সংখ্যা ডজনের কিছু বেশি। বড় বাজেটের বাণিজ্যিক সিনেমায় এখনো তাঁদের সব ক্ষেত্রে কাজে লাগানো হয় না, অনেক পরিচালক নিজেই দৃশ্য পরিচালনা করেন। এ ক্ষেত্রে কোনো কঠোর সরকারি নির্দেশিকা বা বাধ্যবাধকতা নেই। তবে চলচ্চিত্র সংগঠনগুলো ভবিষ্যতে পুরো শিল্পের জন্য অভিন্ন মানদণ্ড চালু করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আস্থা খান্না জোর দিয়ে বলেন, ঘনিষ্ঠ দৃশ্য মানেই কেবল উত্তেজনাকর বা রোমান্টিক মুহূর্ত নয়। এর পরিসর অনেক বিস্তৃত, যার মধ্যে সহিংসতা, আধিপত্য বা হয়রানির মতো বিষয়ও থাকতে পারে। তিনি মনে করেন, একজন শিল্পীকে শুটিংয়ের সময় যেসব মানসিক ক্ষতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়, যার জন্য হয়তো পরে থেরাপির প্রয়োজন পড়ে, সেই স্থায়ী ক্ষত এড়াতে পেশাদার সমন্বয়কের কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কলকাতার অভিনেত্রী পাওলি দাম অভিনীত শ্রীলঙ্কান সিনেমার ক্লিপ ফাঁস হওয়ার পর কী ঘটেছিল, তা নিশ্চয়ই অনেক সিনেমাপ্রেমীর মনে আছে।

আপলোডকারীর তথ্য

শক্তিশালী ডানপন্থি সরকার গঠনের ডাক দিলেন নেতানিয়াহু

বলিউডে অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শুটিংয়ে এখন ইনটিমেসি কো-অর্ডিনেটরের কদর বাড়ছে

আপডেট সময় ১১:৩৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

সিনেমা বা ওটিটি প্ল্যাটফর্মের পর্দায় ঘনিষ্ঠ দৃশ্য নিয়ে বিতর্ক ও আলোচনা দীর্ঘদিনের। কখনো সেন্সর বোর্ডের বিধিনিষেধ, আবার কখনো শুটিং সেটে সহ-অভিনেতার অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের অভিযোগ বিনোদন জগতে নতুন নয়। তবে #মিটু আন্দোলনের পর এই পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। ভারতের চলচ্চিত্র শিল্পেও এখন শুটিংয়ের সময় ‘ইনটিমেসি কো-অর্ডিনেটর’ বা অন্তরঙ্গ দৃশ্য সমন্বয়কের উপস্থিতি ক্রমশ বাড়ছে, যা শিল্পীদের নিরাপত্তা ও সম্মতির বিষয়টি সুনিশ্চিত করছে। ‘অন্তরঙ্গ দৃশ্য’—এই শব্দ দুটিই আলোচনার জন্য যথেষ্ট। পরিচিত এই পেশার নাম ‘ইনটিমেসি কো-অর্ডিনেটর’। বিনোদনশিল্পে যৌন হয়রানির ঘটনা নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা তৈরি করেছিল #মিটু আন্দোলন। স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের বিস্তারে গল্প বলার ধরনে এসেছে সূক্ষ্মতা ও বৈচিত্র্য। আর ‘ট্যাবু’ নয় বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ চলচ্চিত্র নির্মাণশিল্প বলিউডে কয়েক দশক ধরে পর্দায় শারীরিক ঘনিষ্ঠতা অনেকটাই এড়িয়ে চলা হয়েছে। চলচ্চিত্রশিল্পের বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবর্তনটির প্রধান চালিকা শক্তি স্ট্রিমিং সেবাগুলো। নির্মাতাদের কেউ কেউ এসব সীমা অতিক্রম করার চেষ্টা করলেও ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের শুটিংয়ের পদ্ধতি দীর্ঘদিন ছিল অনেকটাই অনিয়মতান্ত্রিক। ধীরে ধীরে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের জন্য নির্মিত অন্যান্য ছবিতেও এ পদ্ধতি ছড়িয়ে পড়ে। অন্তরঙ্গ দৃশ্য ধারণের আগে ভয় কাটাতে যা করছিলেন রবি।

প্রথাগতভাবে বলিউডে ঘনিষ্ঠ দৃশ্য ধারণ করা হতো অভিনেতা ও পরিচালকদের পারস্পরিক বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে। বদলাচ্ছে পরিস্থিতি ভারতের চলচ্চিত্রশিল্পে নগ্নতা কিংবা যৌনদৃশ্যের শুটিংয়ে এত দিন অনেকটাই নির্ভর করা হতো তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত ও অভিনয়শিল্পীদের পারস্পরিক বিশ্বাসের ওপর। চুম্বন কিংবা যৌনসম্পর্কের দৃশ্য সরাসরি না দেখিয়ে প্রতীকীভাবে বোঝানো হতো। ফুলে ফুলে ঘষা লাগা, পরস্পরের দিকে ধেয়ে আসা ঢেউ কিংবা দাউ দাউ করে জ্বলা আগুন দিয়ে প্রকাশ করা হতো আকাঙ্ক্ষা ও যৌনমিলনের ইঙ্গিত।

নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম বা সুরক্ষাকবচ না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে শিল্পীরা অস্বস্তিতে পড়তেন।

এখন সেই দৃশ্যপট পাল্টাচ্ছে। ইনটিমেসি কো-অর্ডিনেটররা এখন শুটিং শুরুর অনেক আগেই শিল্পীদের সঙ্গে কথা বলেন। আস্থা খান্না নামক একজন ইনটিমেসি কো-অর্ডিনেটর জানান, স্ট্রিমিং সেবাগুলোর বিস্তারের ফলে বাস্তবসম্মত সম্পর্কের উপস্থাপনা জরুরি হয়ে পড়েছে, যা পেশাদার সহায়তাকে অনিবার্য করে তুলেছে। যৌনতা ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বাস্তবসম্মত উপস্থাপনার চাহিদাও বেড়েছে। বলিউডের ইনটিমেসি কো-অর্ডিনেটরদের ছোট হলেও ক্রমবর্ধমান দলের একজন আস্থা খান্না। আস্থা খান্না বলেন, ‘এমন ঘটনাও ঘটেছে, যেখানে কোনো অভিনেতা তাঁর সহ-অভিনেত্রীর সম্মতি ছাড়াই তাঁকে চুমু দিয়েছেন।

আস্থা খান্না তাঁর কাজের ধরনা সম্পর্কে বলেন, একজন স্টান্ট পরিচালক যেমন মারপিটের দৃশ্যের পরিকল্পনা করেন, তেমনি আমরা ঠিক করে দিই হাত কোথায় থাকবে বা শারীরিক ভঙ্গি কেমন হবে। এতে শুটিংয়ে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা এড়ানো যায়। অনেক সময় অভিনয়ের সময় শালীনতা রক্ষায় ‘মডেস্টি টুলস’ বা বিশেষ উপকরণ ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে রয়েছে গোপনাঙ্গ ঢাকার বিশেষ সরঞ্জাম, স্তনবৃন্ত ঢাকার প্যাচ ও ডোনাটের মতো কুশন, যা শিল্পীদের মধ্যে নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে সাহায্য করে। যেভাবে বদল এই পরিবর্তনের পেছনে আরও একটি কারণ রয়েছে। যাতে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু ঠিক করতে না হয়।’। এগুলোর সাহায্যে অভিনয়শিল্পীরা অপ্রয়োজনীয় শারীরিক সংস্পর্শ কমিয়ে ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের অভিনয় করতে পারেন।

চুক্তি স্বাক্ষরের আগেই শিল্পীদের চিত্রনাট্যের ঘনিষ্ঠ দৃশ্য সম্পর্কে অবহিত করার বিষয়টি এখন গুরুত্ব পায়। এর ফলে শিল্পী কাজটিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন কি না, তা ভেবে দেখার সুযোগ পান। মূলত ২০২২ সালে অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওতে মুক্তি পাওয়া করণ জোহরের ‘গেহরাইয়াঁ’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে ইনটিমেসি কো-অর্ডিনেটরের পেশাগত চর্চা আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে আসে। সেখানে আস্থা খান্না এবং শারীরিক সম্পর্কের গতিবিধি নিয়ে কর্মশালা পরিচালনাকারী নেহা ব্যাসোর মতো বিশেষজ্ঞরা কাজ করেছেন।

নেহা ব্যাসোর মতে, বর্তমানে সেন্সরশিপের শিথিলতা এবং বিষয়বস্তুর গভীরতা বৃদ্ধির ফলে অনেক নির্মাতা এখন খোলামেলা গল্প বলতে আগ্রহী। জনপ্রিয় সিরিজ ‘মির্জাপুর’-এর প্রথম মৌসুমগুলোতে এই পেশাজীবীদের অভাব ছিল। সিরিজের অভিনয়শিল্পী রসিকা দুগ্গাল জানান, আগে শিল্পীদের নিজেদের স্বাচ্ছন্দ্য ও সীমারেখা একা সামলাতে হতো। এখন ইনটিমেসি কো-অর্ডিনেটর থাকায় সীমা লঙ্ঘনের ঝুঁকি কমেছে এবং সবার উদ্বেগের বিষয়টি যথাযথভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। নেহা ব্যাসো বলেন, ‘এখন সেন্সরশিপ অনেক কম, আর নিষিদ্ধ বা স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে গল্প বলার ক্ষেত্রেও আগ্রহ ও উন্মুক্ততা বেড়েছে।’।

তবে এই পেশাজীবীদের উপস্থিতি এখনো সর্বজনীন হয়ে ওঠেনি। ভারতে সব মিলিয়ে এমন পেশাজীবীর সংখ্যা ডজনের কিছু বেশি। বড় বাজেটের বাণিজ্যিক সিনেমায় এখনো তাঁদের সব ক্ষেত্রে কাজে লাগানো হয় না, অনেক পরিচালক নিজেই দৃশ্য পরিচালনা করেন। এ ক্ষেত্রে কোনো কঠোর সরকারি নির্দেশিকা বা বাধ্যবাধকতা নেই। তবে চলচ্চিত্র সংগঠনগুলো ভবিষ্যতে পুরো শিল্পের জন্য অভিন্ন মানদণ্ড চালু করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আস্থা খান্না জোর দিয়ে বলেন, ঘনিষ্ঠ দৃশ্য মানেই কেবল উত্তেজনাকর বা রোমান্টিক মুহূর্ত নয়। এর পরিসর অনেক বিস্তৃত, যার মধ্যে সহিংসতা, আধিপত্য বা হয়রানির মতো বিষয়ও থাকতে পারে। তিনি মনে করেন, একজন শিল্পীকে শুটিংয়ের সময় যেসব মানসিক ক্ষতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়, যার জন্য হয়তো পরে থেরাপির প্রয়োজন পড়ে, সেই স্থায়ী ক্ষত এড়াতে পেশাদার সমন্বয়কের কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কলকাতার অভিনেত্রী পাওলি দাম অভিনীত শ্রীলঙ্কান সিনেমার ক্লিপ ফাঁস হওয়ার পর কী ঘটেছিল, তা নিশ্চয়ই অনেক সিনেমাপ্রেমীর মনে আছে।