ঢাকা ০৬:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারও করবে পুলিশ: আইজিপি ব্যবসায়ীকে আটকে চাঁদা দাবি: ডিজিএফআই সদস্যসহ কারাগারে ৬ দেশে হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজিপি: চাঁদাবাজির অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করার ক্ষমতা পাচ্ছে পুলিশ জাপান সফরে তারেক রহমান: অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন গতির আশা রাষ্ট্রদূতকে আনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়: শামা ওবায়েদ সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক চলছে

কমিউনিস্ট স্লোগান কি ‘জয় বাংলা’? জেনে নিন সঠিক ইতিহাস

রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে স্লোগান কেবল উচ্চবাচ্য নয়, বরং এটি শ্রেণি সংগ্রাম, বিপ্লব কিংবা জাতীয় মুক্তির প্রতীকী ভাষা। সময়ের আবর্তে নির্দিষ্ট পরিস্থিতির প্রয়োজনে জন্ম নেওয়া এসব স্লোগান কখনো দলীয় গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকে, আবার কখনো জাতীয় আবেগের সাথে মিশে যায়। কমিউনিস্ট বা বামপন্থী রাজনীতির মূল সুর বুঝতে হলে কেবল পরিচিত স্লোগানগুলো মুখস্থ করলেই হবে না, বরং সেগুলোর পেছনের আদর্শিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট অনুধাবন করা জরুরি। এগুলো সব একই দলের আনুষ্ঠানিক স্লোগান নয়।

কমিউনিস্ট আন্দোলনের সবচেয়ে স্বীকৃত আন্তর্জাতিক স্লোগান হলো ‘দুনিয়ার মজদুর এক হও’। ১৮৪৮ সালে কার্ল মার্কস ও ফ্রিডরিখ এঙ্গেলসের লেখা ‘কমিউনিস্ট ইশতেহার’-এর সমাপ্তিতে এই আহ্বানটি উচ্চারিত হয়, যা ইংরেজিতে ‘Workers of the world, unite!’ নামে সুপরিচিত। এই স্লোগানের মূল দর্শন হলো শ্রমিকের মুক্তিকে জাতীয় সীমান্তের গণ্ডিতে আটকে রাখা সম্ভব নয়; পুঁজি যেহেতু আন্তর্জাতিক, তাই শ্রমিকের সংহতির প্রশ্নটিও বৈশ্বিক।

অবশ্য বামপন্থী রাজনীতির পরিসর কেবল একটি স্লোগানে সীমাবদ্ধ নয়। শ্রমিক সংগঠন, কৃষকের জমির দাবি, সাম্রাজ্যবাদবিরোধিতা এবং শোষণমুক্ত সমাজ গঠনের আকাঙ্ক্ষাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে নানা স্লোগান তৈরি হয়েছে। ‘শ্রমিক-কৃষক এক হও’ তাদেরই একটি বহুল পরিচিত আহ্বান। যদিও শ্রমিক ও কৃষকের সমস্যা ও স্বার্থ ভিন্ন, তবুও উৎপাদন ও সম্পদের বণ্টনের প্রশ্নে তাদের অভিজ্ঞতা অভিন্ন। এই মিলের ভিত্তিতে ঐক্য গড়ে তোলাই স্লোগানটির মূল রাজনৈতিক লক্ষ্য। তবু উৎপাদন, শ্রমের মূল্য এবং সম্পদের বণ্টনের প্রশ্নে তাঁদের অভিজ্ঞতার মধ্যে কিছু মিল রয়েছে।

বাংলাদেশের বামপন্থী আন্দোলনের ইতিহাসে ‘কৃষক শ্রমিক অস্ত্র ধর, জনগণতন্ত্র কায়েম কর’ এবং ‘মুক্তির এই পথ, সশস্ত্র বিপ্লব’-এর মতো স্লোগানগুলো ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এগুলো তৎকালীন বিপ্লবী রাজনীতির একটি ধারাকে প্রতিফলিত করে, যা সব কমিউনিস্ট সংগঠনের অভিন্ন অবস্থান নয়। এছাড়া ‘শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি চাই’ বা ‘ভোটের আগে ভাত চাই’-এর মতো দাবিগুলো শ্রমিক ও কৃষকের অধিকারের লড়াইয়ে অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভা-সমাবেশে ‘ভোটের আগে ভাত চাই’ স্লোগানটি বিশেষ গুরুত্বের সাথে ব্যবহৃত হতো। ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান ছিল নানা রাজনৈতিক ধারা ও সামাজিক শক্তির অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা একটি বৃহৎ আন্দোলন। বৈষম্যের অবসান চাই, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করো।

স্লোগান ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। শ্রমিকের অধিকার বা কৃষকের ন্যায্য মূল্যের দাবি কেবল কমিউনিস্টরাই তোলে না, বিভিন্ন মতাদর্শের সংগঠনও এসব দাবি করে থাকে। কোনো ইস্যু বামপন্থী রাজনীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেই সেটি একান্ত কমিউনিস্ট স্লোগান হয়ে যায় না। একইভাবে, ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ (বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক) স্লোগানটি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে উপমহাদেশের বিভিন্ন বিপ্লবী ধারার কর্মসূচিতে ব্যবহৃত হয়েছে। এটিকে শুধু কমিউনিস্টদের নিজস্ব স্লোগান হিসেবে চিহ্নিত করা ইতিহাসকে সংকীর্ণ করার শামিল।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ‘জয় বাংলা’ একটি অত্যন্ত প্রভাবশালী স্লোগান, যা বাঙালি জাতীয়তাবাদ, স্বাধিকার এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এর ঐতিহাসিক তাৎপর্য এবং কমিউনিস্ট আন্দোলনের শ্রেণিভিত্তিক স্লোগানের মূল জায়গা আলাদা। ‘দুনিয়ার মজদুর এক হও’ মূলত আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতির বার্তা দেয়, যেখানে ‘জয় বাংলা’ জাতীয় মুক্তি ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ। যদিও মহান মুক্তিযুদ্ধে অনেক বামপন্থী রাজনৈতিক কর্মী সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন, তবুও সেই অংশগ্রহণ কোনোভাবেই ‘জয় বাংলা’কে কমিউনিস্ট মতাদর্শের নিজস্ব স্লোগান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে না। নির্দিষ্ট কোনো দল দীর্ঘসময় একটি স্লোগান ব্যবহার করলেই তার অর্থ কেবল দলীয় পরিচয়ে সীমাবদ্ধ করা সমীচীন নয়।

বর্তমান সময়ে বামপন্থী রাজনীতির সামনে বড় প্রশ্ন হলো, এসব স্লোগানের বক্তব্য বাস্তব জীবনে কতটা প্রতিফলিত হচ্ছে। আদর্শের বাস্তবতা যাচাই করা হয় শ্রমিক ও কৃষকের প্রকৃত অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক জবাবদিহির মতো বিষয়গুলোতে রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর অবস্থানের ভিত্তিতেই।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রচলিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্লোগান হলো: ‘সকল দেশের শ্রমিক এক হও’, ‘শ্রমিক শ্রেণির মুক্তি দীর্ঘজীবী হোক’, ‘সমাজতন্ত্র দীর্ঘজীবী হোক’ এবং ‘আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দীর্ঘজীবী হোক’। এছাড়া স্থানীয়ভাবে ‘শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি চাই’, ‘কৃষকের ফসলের ন্যায্য দাম চাই’, ‘শোষণমুক্ত সমাজ চাই’ এবং ‘সাম্রাজ্যবাদ নিপাত যাক’-এর মতো স্লোগানগুলো বামপন্থী রাজনীতির অবিচ্ছেদ্য আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ হিসেবে বিবেচিত হয়।

আপলোডকারীর তথ্য

জাতিসংঘের তদন্ত: যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় জাতিগত নিধন চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল

কমিউনিস্ট স্লোগান কি ‘জয় বাংলা’? জেনে নিন সঠিক ইতিহাস

আপডেট সময় ০৫:৩৯:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে স্লোগান কেবল উচ্চবাচ্য নয়, বরং এটি শ্রেণি সংগ্রাম, বিপ্লব কিংবা জাতীয় মুক্তির প্রতীকী ভাষা। সময়ের আবর্তে নির্দিষ্ট পরিস্থিতির প্রয়োজনে জন্ম নেওয়া এসব স্লোগান কখনো দলীয় গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকে, আবার কখনো জাতীয় আবেগের সাথে মিশে যায়। কমিউনিস্ট বা বামপন্থী রাজনীতির মূল সুর বুঝতে হলে কেবল পরিচিত স্লোগানগুলো মুখস্থ করলেই হবে না, বরং সেগুলোর পেছনের আদর্শিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট অনুধাবন করা জরুরি। এগুলো সব একই দলের আনুষ্ঠানিক স্লোগান নয়।

কমিউনিস্ট আন্দোলনের সবচেয়ে স্বীকৃত আন্তর্জাতিক স্লোগান হলো ‘দুনিয়ার মজদুর এক হও’। ১৮৪৮ সালে কার্ল মার্কস ও ফ্রিডরিখ এঙ্গেলসের লেখা ‘কমিউনিস্ট ইশতেহার’-এর সমাপ্তিতে এই আহ্বানটি উচ্চারিত হয়, যা ইংরেজিতে ‘Workers of the world, unite!’ নামে সুপরিচিত। এই স্লোগানের মূল দর্শন হলো শ্রমিকের মুক্তিকে জাতীয় সীমান্তের গণ্ডিতে আটকে রাখা সম্ভব নয়; পুঁজি যেহেতু আন্তর্জাতিক, তাই শ্রমিকের সংহতির প্রশ্নটিও বৈশ্বিক।

অবশ্য বামপন্থী রাজনীতির পরিসর কেবল একটি স্লোগানে সীমাবদ্ধ নয়। শ্রমিক সংগঠন, কৃষকের জমির দাবি, সাম্রাজ্যবাদবিরোধিতা এবং শোষণমুক্ত সমাজ গঠনের আকাঙ্ক্ষাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে নানা স্লোগান তৈরি হয়েছে। ‘শ্রমিক-কৃষক এক হও’ তাদেরই একটি বহুল পরিচিত আহ্বান। যদিও শ্রমিক ও কৃষকের সমস্যা ও স্বার্থ ভিন্ন, তবুও উৎপাদন ও সম্পদের বণ্টনের প্রশ্নে তাদের অভিজ্ঞতা অভিন্ন। এই মিলের ভিত্তিতে ঐক্য গড়ে তোলাই স্লোগানটির মূল রাজনৈতিক লক্ষ্য। তবু উৎপাদন, শ্রমের মূল্য এবং সম্পদের বণ্টনের প্রশ্নে তাঁদের অভিজ্ঞতার মধ্যে কিছু মিল রয়েছে।

বাংলাদেশের বামপন্থী আন্দোলনের ইতিহাসে ‘কৃষক শ্রমিক অস্ত্র ধর, জনগণতন্ত্র কায়েম কর’ এবং ‘মুক্তির এই পথ, সশস্ত্র বিপ্লব’-এর মতো স্লোগানগুলো ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এগুলো তৎকালীন বিপ্লবী রাজনীতির একটি ধারাকে প্রতিফলিত করে, যা সব কমিউনিস্ট সংগঠনের অভিন্ন অবস্থান নয়। এছাড়া ‘শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি চাই’ বা ‘ভোটের আগে ভাত চাই’-এর মতো দাবিগুলো শ্রমিক ও কৃষকের অধিকারের লড়াইয়ে অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভা-সমাবেশে ‘ভোটের আগে ভাত চাই’ স্লোগানটি বিশেষ গুরুত্বের সাথে ব্যবহৃত হতো। ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান ছিল নানা রাজনৈতিক ধারা ও সামাজিক শক্তির অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা একটি বৃহৎ আন্দোলন। বৈষম্যের অবসান চাই, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করো।

স্লোগান ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। শ্রমিকের অধিকার বা কৃষকের ন্যায্য মূল্যের দাবি কেবল কমিউনিস্টরাই তোলে না, বিভিন্ন মতাদর্শের সংগঠনও এসব দাবি করে থাকে। কোনো ইস্যু বামপন্থী রাজনীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেই সেটি একান্ত কমিউনিস্ট স্লোগান হয়ে যায় না। একইভাবে, ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ (বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক) স্লোগানটি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে উপমহাদেশের বিভিন্ন বিপ্লবী ধারার কর্মসূচিতে ব্যবহৃত হয়েছে। এটিকে শুধু কমিউনিস্টদের নিজস্ব স্লোগান হিসেবে চিহ্নিত করা ইতিহাসকে সংকীর্ণ করার শামিল।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ‘জয় বাংলা’ একটি অত্যন্ত প্রভাবশালী স্লোগান, যা বাঙালি জাতীয়তাবাদ, স্বাধিকার এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এর ঐতিহাসিক তাৎপর্য এবং কমিউনিস্ট আন্দোলনের শ্রেণিভিত্তিক স্লোগানের মূল জায়গা আলাদা। ‘দুনিয়ার মজদুর এক হও’ মূলত আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতির বার্তা দেয়, যেখানে ‘জয় বাংলা’ জাতীয় মুক্তি ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ। যদিও মহান মুক্তিযুদ্ধে অনেক বামপন্থী রাজনৈতিক কর্মী সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন, তবুও সেই অংশগ্রহণ কোনোভাবেই ‘জয় বাংলা’কে কমিউনিস্ট মতাদর্শের নিজস্ব স্লোগান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে না। নির্দিষ্ট কোনো দল দীর্ঘসময় একটি স্লোগান ব্যবহার করলেই তার অর্থ কেবল দলীয় পরিচয়ে সীমাবদ্ধ করা সমীচীন নয়।

বর্তমান সময়ে বামপন্থী রাজনীতির সামনে বড় প্রশ্ন হলো, এসব স্লোগানের বক্তব্য বাস্তব জীবনে কতটা প্রতিফলিত হচ্ছে। আদর্শের বাস্তবতা যাচাই করা হয় শ্রমিক ও কৃষকের প্রকৃত অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক জবাবদিহির মতো বিষয়গুলোতে রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর অবস্থানের ভিত্তিতেই।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রচলিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্লোগান হলো: ‘সকল দেশের শ্রমিক এক হও’, ‘শ্রমিক শ্রেণির মুক্তি দীর্ঘজীবী হোক’, ‘সমাজতন্ত্র দীর্ঘজীবী হোক’ এবং ‘আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দীর্ঘজীবী হোক’। এছাড়া স্থানীয়ভাবে ‘শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি চাই’, ‘কৃষকের ফসলের ন্যায্য দাম চাই’, ‘শোষণমুক্ত সমাজ চাই’ এবং ‘সাম্রাজ্যবাদ নিপাত যাক’-এর মতো স্লোগানগুলো বামপন্থী রাজনীতির অবিচ্ছেদ্য আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ হিসেবে বিবেচিত হয়।