ঢাকা ০৪:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারও করবে পুলিশ: আইজিপি ব্যবসায়ীকে আটকে চাঁদা দাবি: ডিজিএফআই সদস্যসহ কারাগারে ৬ দেশে হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজিপি: চাঁদাবাজির অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করার ক্ষমতা পাচ্ছে পুলিশ জাপান সফরে তারেক রহমান: অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন গতির আশা রাষ্ট্রদূতকে আনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়: শামা ওবায়েদ সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক চলছে

ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ বিপর্যয়: সচিবালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকে সরবরাহ বন্ধ

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর পৌনে একটার দিকে হঠাৎ করে ঢাকার পূর্বাঞ্চলসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের এই ঘটনায় সচিবালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎহীনতার কারণে ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ আধঘণ্টা স্থগিত রাখার পরও পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় আজকের মতো কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম জানান, এর আগে কখনো বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার কথা তার মনে পড়ছে না। সচিবালয়, বাংলাদেশ ব্যাংকেও বিদ্যুৎ নেই। দেশের বড় একটি অঞ্চলে বিদ‍্যুৎ বিপর্যয় ঘটেছে। ধীরে ধীরে বিদ‍্যুৎ ফেরানোর চেষ্টা চলছে।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি জানিয়েছে, বিভ্রাটের কবলে পড়া এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে গুলশান, রামপুরা, মতিঝিল, মগবাজার, খিলগাঁও, বনশ্রী এবং ভুলতা ও সিদ্ধিরগঞ্জের মতো ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। তাৎক্ষণিকভাবে এই বিপর্যয়ের নির্দিষ্ট কোনো কারণ বা উৎস সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কোনো মন্তব্য করতে পারেননি। তবে গ্রিড প্রকৌশলীরা ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে জাতীয় লোড ডেসপ্যাচ সেন্টারের (এনএলডিসি) মাধ্যমে পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। দেশের উত্তরাঞ্চলসহ অন্যান্য এলাকাগুলোতে সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, এদিন বেলা ১১টার দিকে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৬০১ মেগাওয়াট, যার বিপরীতে উৎপাদন হয়েছিল ১৪ হাজার ৩০৩ মেগাওয়াট। অর্থাৎ, সেই সময় চাহিদার তুলনায় ঘাটতির পরিমাণ ছিল ২৯৮ মেগাওয়াট। যদিও এই ঘাটতির সঙ্গে চলমান বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের সরাসরি কোনো সংযোগ রয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। কারিগরি ত্রুটির মাত্রা বুঝে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কয়েক ঘণ্টা সময় লেগে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এই ঘাটতির সঙ্গে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।

উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশে জাতীয় গ্রিডে বড় ধরনের বিপর্যয়ের নজির এটিই প্রথম নয়। এর আগে ২০২২ সালের ৪ অক্টোবর বেলা ২টা ৫ মিনিটে পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিডে ভয়াবহ বিপর্যয় শুরু হয়েছিল, যা ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চলকে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন করে রেখেছিল। এছাড়াও ২০১৪ সালের ১ নভেম্বর গ্রিড বিপর্যয়ের ফলে সারা দেশে প্রায় ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। প্রকৌশলীদের চেষ্টায় সেবার বিভিন্ন ধাপে তিন থেকে আট ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছিল। দেশে এর আগেও জাতীয় গ্রিডে বড় বিপর্যয় ঘটেছে।

আপলোডকারীর তথ্য

পেছাল এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ

ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ বিপর্যয়: সচিবালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকে সরবরাহ বন্ধ

আপডেট সময় ০৩:২৩:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর পৌনে একটার দিকে হঠাৎ করে ঢাকার পূর্বাঞ্চলসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের এই ঘটনায় সচিবালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎহীনতার কারণে ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ আধঘণ্টা স্থগিত রাখার পরও পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় আজকের মতো কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম জানান, এর আগে কখনো বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার কথা তার মনে পড়ছে না। সচিবালয়, বাংলাদেশ ব্যাংকেও বিদ্যুৎ নেই। দেশের বড় একটি অঞ্চলে বিদ‍্যুৎ বিপর্যয় ঘটেছে। ধীরে ধীরে বিদ‍্যুৎ ফেরানোর চেষ্টা চলছে।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি জানিয়েছে, বিভ্রাটের কবলে পড়া এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে গুলশান, রামপুরা, মতিঝিল, মগবাজার, খিলগাঁও, বনশ্রী এবং ভুলতা ও সিদ্ধিরগঞ্জের মতো ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। তাৎক্ষণিকভাবে এই বিপর্যয়ের নির্দিষ্ট কোনো কারণ বা উৎস সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কোনো মন্তব্য করতে পারেননি। তবে গ্রিড প্রকৌশলীরা ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে জাতীয় লোড ডেসপ্যাচ সেন্টারের (এনএলডিসি) মাধ্যমে পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। দেশের উত্তরাঞ্চলসহ অন্যান্য এলাকাগুলোতে সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, এদিন বেলা ১১টার দিকে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৬০১ মেগাওয়াট, যার বিপরীতে উৎপাদন হয়েছিল ১৪ হাজার ৩০৩ মেগাওয়াট। অর্থাৎ, সেই সময় চাহিদার তুলনায় ঘাটতির পরিমাণ ছিল ২৯৮ মেগাওয়াট। যদিও এই ঘাটতির সঙ্গে চলমান বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের সরাসরি কোনো সংযোগ রয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। কারিগরি ত্রুটির মাত্রা বুঝে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কয়েক ঘণ্টা সময় লেগে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এই ঘাটতির সঙ্গে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।

উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশে জাতীয় গ্রিডে বড় ধরনের বিপর্যয়ের নজির এটিই প্রথম নয়। এর আগে ২০২২ সালের ৪ অক্টোবর বেলা ২টা ৫ মিনিটে পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিডে ভয়াবহ বিপর্যয় শুরু হয়েছিল, যা ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চলকে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন করে রেখেছিল। এছাড়াও ২০১৪ সালের ১ নভেম্বর গ্রিড বিপর্যয়ের ফলে সারা দেশে প্রায় ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। প্রকৌশলীদের চেষ্টায় সেবার বিভিন্ন ধাপে তিন থেকে আট ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছিল। দেশে এর আগেও জাতীয় গ্রিডে বড় বিপর্যয় ঘটেছে।