২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই বিতরণ ও সংশোধন নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা। ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে ‘দাঁড়িপাল্লা’র ছবি ব্যবহারের জেরে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনসিটিবি। এই বিতর্কের প্রেক্ষাপটে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) ৯ জন বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাকে বিভিন্ন সরকারি কলেজে বদলি করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্দেশ দিয়েছে, বদলিকৃতদের আগামী ২৯শে অক্টোবরের মধ্যে কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হতে হবে, অন্যথায় তারা তাৎক্ষণিক অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন। কিন্তু এরই মধ্যে পাঠ্য বই নিয়ে বেধেছে তালগোল। এনিয়ে অস্থিরতা বিরাজ করছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি)। আগের দিন বদলি করা হয়েছিল আরেক কর্মকর্তাকে।
এর আগে রোববার ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বই সম্পাদনার দায়িত্বে থাকা এনসিটিবির গবেষণা কর্মকর্তা মু. আব্দুল্লাহ আল জোবায়েরকে খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রভাষক হিসেবে বদলি করা হয়েছিল। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিতরণ করা প্রায় ২০ লাখ বই ফেরত আনা হচ্ছে সংশোধনের জন্য। প্রতিটি পাঠ্যবই ছাপাতে বর্তমানে প্রায় ৫৭ টাকা খরচ হয়। বই সংশোধন ও পুনর্মুদ্রণ প্রক্রিয়ার কারণে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১৭ কোটি টাকা গচ্চা যাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হতে দুই মাসেরও কম সময় বাকি থাকলেও আগামী ৩০শে নভেম্বরের মধ্যে সংশোধিত বই মাঠপর্যায়ে পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা এনসিটিবির জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। বিতর্ক তৈরি করা ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের ‘উপাত্ত ও তথ্য’ পাঠে পিরামিডের চারটি স্তরে ২০২৫ সালে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক ব্যবহার করা হলেও ২০২৬ সালে সেখানে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি দেওয়া হয়। তবে ২০২৭ সালের সংস্করণে আবারও ‘দাঁড়িপাল্লা’ ফেরত আনায় রাজনৈতিক বিতর্ক দেখা দেয়, কারণ এটি একটি রাজনৈতিক দলের নিবন্ধিত নির্বাচনী প্রতীক। এনসিটিবির সদস্য এ কে এম শওকত আলী খান জানান, এ বছর চারটি স্তরের নাম বহাল থাকলেও কোনো আইকন রাখা হবে না এবং পরবর্তীতে বিষয়টি আরও পরিমার্জন করা হবে। নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে এই সংশোধন কার্যক্রম শেষ করা এনসিটিবি’র জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিষয়গুলো আরও পরিমার্জন করা হবে।
আইসিটি বইয়ের পাশাপাশি প্রাথমিক স্তরের বাংলা, ইংরেজি ও বিজ্ঞান বইয়ে ব্যবহৃত ‘নৌকা’র ছবি নিয়েও আপত্তি উঠেছে। বিশেষ করে প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ে মোট ৮২টি নৌকার ছবি রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণির বইয়ে ৩৪টি, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ২৩টি এবং তৃতীয় শ্রেণিতে ২৫টি ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই ছবিগুলো ২০২৫ ও ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বইয়েও বিদ্যমান ছিল।
এদিকে নৌকার ছবি ব্যবহারের ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত মূল বিশেষজ্ঞদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় এনসিটিবির ভেতর ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। কর্মকর্তাদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, বিতর্কিত ছবি যুক্ত করার পেছনে যুক্ত থাকা সত্ত্বেও অনেক বিশেষজ্ঞকে কেন ছাড় দেওয়া হলো। এ বিষয়ে এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা জানান, বদলির পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, এতে তাঁর কোনো ভূমিকা নেই এবং ঠিক কী কারণে কর্মকর্তাদের বদলি করা হয়েছে তা-ও তিনি জানেন না।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 






















