বাংলাদেশ রেলওয়ের মোট জমির পরিমাণ ৬৩ হাজার ৭২ একর।
এর মধ্যে ৩ হাজার ২৪ একর জমি বর্তমানে বেদখল অবস্থায় রয়েছে বলে রেলপথ মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে জানানো হয়েছে। সোমবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে রেলওয়ের ভূমি ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বেদখল হওয়া এসব জমি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে নিয়মিত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সুষ্ঠু ভূমি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে রেলওয়ে স্টেট ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার ব্যবহার শুরু হয়েছে, যা অব্যবহৃত জায়গায় পরিকল্পিত ব্যবহার এবং জমি উদ্ধারে বিশেষ সহায়ক হবে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, রেলওয়ের ২৫ হাজার ৮৩ একর জমি বর্তমানে ইজারা দেওয়া আছে। গত অর্থবছরে এই ইজারা খাত থেকে ৮৭ কোটি ৭২ লাখ টাকা আয় হয়েছে। আবেদনের ধরন ও বিদ্যমান ভূমি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুসরণ করে রেলওয়ের অব্যবহৃত জায়গা লিজ বা লাইসেন্সের মাধ্যমে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলের আওতাধীন পাকশী ও লালমনিরহাট বিভাগে বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে, যারা আগামী তিন মাসের মধ্যে বেদখল জমি চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কাজ পরিচালনা করবে। এছাড়াও সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও পুলিশের সহায়তায় রেলভূমিতে মাদক সংক্রান্ত অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান চালানো হবে বলে বৈঠকে জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈঠকে অনলাইনে রেলের টিকিট বিক্রি নিয়ে আলোচনা হয়।
অনলাইন টিকিট ব্যবস্থাপনা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়টিও সভায় গুরুত্ব পেয়েছে। বর্তমানে সহজ ডটকম রেলওয়ের অনলাইন টিকিট বিক্রির দায়িত্বে রয়েছে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাদের সাথে চুক্তি শেষ হওয়ার আগেই নতুন ভেন্ডর নিয়োগের লক্ষ্যে দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া চলছে। ই-টিকিটের কালোবাজারি রোধে যাত্রী সাধারণের সুবিধার কথা বিবেচনা করে প্রতিদিন ১০ শতাংশ করে টিকিট ছাড়ার একটি পরামর্শও কমিটির পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে। ই–টিকিটে কালোবাজারি বন্ধ করতে যাত্রার ১০ দিন আগে একই দিনে সব টিকিট অনলাইনে না ছেড়ে প্রতিদিন ১০ শতাংশ করে টিকিট ছাড়ার পরামর্শ দেন একজন সদস্য।
মালবাহী ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধির পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নতুন লোকোমোটিভ সংগ্রহের তথ্য জানানো হয়। বর্তমানে মিটারগেজ লোকোমোটিভের সংকটে মালবাহী ট্রেন চলাচলে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এই সংকট কাটাতে ৩০টি নতুন মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের প্রকল্পের ডিপিপি অনুমোদিত হয়েছে এবং আরও ৩০টির টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। ২০২৯ সাল নাগাদ মোট ৬০টি লোকোমোটিভ যুক্ত হলে কনটেইনার ও জ্বালানি পরিবহনের সক্ষমতা বাড়বে। পাশাপাশি রেলবহরে পর্যায়ক্রমে ২০০টি ব্রডগেজ কোচ যুক্ত করা হচ্ছে, যার মধ্যে ইতিমধ্যে ১৮টি এসে পৌঁছেছে। ব্রডগেজ কোচগুলো পাওয়া গেলে মোংলা-ঢাকা রুটে ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সংসদীয় কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলি আসগারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, আবদুল মহিত তালুকদার, ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো এবং মুহাম্মাদ আজীজুর রহমান। ৪ অক্টোবরের বৈঠকের চাহিদার প্রেক্ষিতে এই প্রতিবেদনগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 























