ঢাকা ১১:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আইজিপি: চাঁদাবাজির অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করার ক্ষমতা পাচ্ছে পুলিশ জাপান সফরে তারেক রহমান: অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন গতির আশা রাষ্ট্রদূতকে আনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়: শামা ওবায়েদ সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক চলছে স্মরণকালের সেরা দুর্গাপূজা উপহার দিলেন দেশনায়ক  তারেক রহমান ঢাকার বাস টার্মিনাল ও অটোরিকশা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সোহেল গরিবের বিচার, ধনীর বিচার এক করতে হবে —এটাই তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশ আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ বাংলাদেশ কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহাসিক বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি দ্বিগুণ যাত্রী সামলাতে হিমশিম দেশের বিমানবন্দরগুলো

সংবিধান সংশোধন কমিটিতে সর্বোচ্চ অর্জন প্রত্যাশা আসিফ নজরুলের

সংবিধান সংশোধন বিষয়ক সংসদীয় বিশেষ কমিটির কাছ থেকে দেশের জন্য সর্বোচ্চ অর্জন প্রত্যাশা করছেন বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত এক বিশেষ বৈঠকে সংবিধান ও আইন বিশেষজ্ঞ এবং শিক্ষাবিদদের সাথে আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন। আসিফ নজরুল বলেন, সংবিধান বর্তমানে যে অবস্থায় রয়েছে, তার চেয়ে অনেক উন্নত ও কার্যকর একটি সংবিধান পাওয়ার আশা করছি। অর্জিত যেকোনো ইতিবাচক পরিবর্তনই দেশের জন্য লাভজনক হবে বলে মনে করেন তিনি। আসিফ নজরুল বলেন, আমরা আশা করব যে, সংবিধান যে পর্যায়ে আছে এখন তার চেয়ে যেন আমরা অনেক অ্যাডভান্সড একটা সংবিধান পাই এবং যতটুক অর্জন হবে সেটাই আমাদের লাভ। আমি বিশ্বাস করি আল্টিমেটলি আমরা লক্ষ্যটা অ্যাচিভ করতে পারছি কিনা, আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি সেটা হচ্ছে বেশি ইম্পর্ট্যান্ট। যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ হবে নাকি সংবিধান সংশোধন কমিটি হবে, আর কি এটা একটা রাজনৈতিক বিরোধ এটার মধ্যে আমি যেতে চাচ্ছি না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের এই অধ্যাপক স্মরণ করিয়ে দেন যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্বকালে আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে প্রয়োজনীয় সংস্কারের লক্ষ্য নিয়ে তারা কাজ করেছেন। সংবিধানে যেকোনো ইতিবাচক পরিবর্তনই একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার হিসেবে গণ্য হওয়া উচিত। বিশেষ করে কেয়ারটেকার বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার ধরন, নির্বাচন পদ্ধতি এবং সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা চলছে এবং এগুলোতে যেন কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসে সে বিষয়ে তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আমরা কি চেয়েছিলাম আইনের মধ্যেই আপনারা বুঝতে পারেন। নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে কথা হয়েছে, আর্টিকেল ৭০ নিয়ে কথা হয়েছে।

২০১১ সালে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নেতৃত্বে গঠিত সংবিধান সংশোধন কমিটির অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সে সময় অনেক আশা থাকলেও শেষ পর্যন্ত বিতর্কিত পঞ্চদশ সংশোধনী পাশ হওয়ায় তারা হতাশ হয়েছিলেন। এবার যেন তেমনটি না ঘটে এবং গণঅভ্যুত্থানের মূল প্রত্যাশাগুলো যেন সংবিধানে প্রতিফলিত হয়, সেই আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সভায় তিনি সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ আইন ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় আইন বাতিলের বিষয়ে নিজের গভীর হতাশা ব্যক্ত করেন। এ সময় বিএনপির পক্ষ থেকেও এই আইনগুলোর সমর্থনের বিষয়টি তিনি তুলে ধরেন। পরে আইনমন্ত্রী তাকে আশ্বস্ত করেন যে, সরকার পরবর্তী সময়ে এসব আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেবে। তিনি বলেন, আর হচ্ছে আপনার কেয়ারটেকার গভর্মেন্ট কি ফর্মে গঠন করা হবে, সেটা নিয়ে অনেক কথা হয়েছে, কথা হচ্ছে এখনো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের এই অধ্যাপক বলেন, এর আগে আওয়ামী লীগ আমলে সম্ভবত ২০১১ সুরঞ্জিত সেনগুপ্তদের নেতৃত্বে যে সংসদীয় সংবিধান সংশোধন কমিটির মিটিং হয়েছিল সেখানেও আমি ইনভাইটেড হয়েছিলাম, কথা বলেছিলাম। তখন মাননীয় আইনমন্ত্রী আমাকে বলেছেন যে এটা ওনারা আইন করবেন পরে।

সংসদের স্থায়ী কমিটিগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে সভায় গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন সাবেক এই আইন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থায়ী কমিটির প্রধান হিসেবে বিরোধী দলের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ করেছিলেন, যদিও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সাড়া পাননি। এছাড়া সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্থায়ী কমিটিগুলোর কাজের সুবিধার্থে আইন প্রণয়নের বিষয়টি উত্থাপন করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সংবিধানে গতানুগতিক পরিবর্তনের চেয়ে জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানোই এবার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আপলোডকারীর তথ্য

সংবিধান সংশোধন কমিটিতে সর্বোচ্চ অর্জন প্রত্যাশা আসিফ নজরুলের

সংবিধান সংশোধন কমিটিতে সর্বোচ্চ অর্জন প্রত্যাশা আসিফ নজরুলের

আপডেট সময় ১১:১২:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

সংবিধান সংশোধন বিষয়ক সংসদীয় বিশেষ কমিটির কাছ থেকে দেশের জন্য সর্বোচ্চ অর্জন প্রত্যাশা করছেন বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত এক বিশেষ বৈঠকে সংবিধান ও আইন বিশেষজ্ঞ এবং শিক্ষাবিদদের সাথে আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন। আসিফ নজরুল বলেন, সংবিধান বর্তমানে যে অবস্থায় রয়েছে, তার চেয়ে অনেক উন্নত ও কার্যকর একটি সংবিধান পাওয়ার আশা করছি। অর্জিত যেকোনো ইতিবাচক পরিবর্তনই দেশের জন্য লাভজনক হবে বলে মনে করেন তিনি। আসিফ নজরুল বলেন, আমরা আশা করব যে, সংবিধান যে পর্যায়ে আছে এখন তার চেয়ে যেন আমরা অনেক অ্যাডভান্সড একটা সংবিধান পাই এবং যতটুক অর্জন হবে সেটাই আমাদের লাভ। আমি বিশ্বাস করি আল্টিমেটলি আমরা লক্ষ্যটা অ্যাচিভ করতে পারছি কিনা, আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি সেটা হচ্ছে বেশি ইম্পর্ট্যান্ট। যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ হবে নাকি সংবিধান সংশোধন কমিটি হবে, আর কি এটা একটা রাজনৈতিক বিরোধ এটার মধ্যে আমি যেতে চাচ্ছি না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের এই অধ্যাপক স্মরণ করিয়ে দেন যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্বকালে আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে প্রয়োজনীয় সংস্কারের লক্ষ্য নিয়ে তারা কাজ করেছেন। সংবিধানে যেকোনো ইতিবাচক পরিবর্তনই একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার হিসেবে গণ্য হওয়া উচিত। বিশেষ করে কেয়ারটেকার বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার ধরন, নির্বাচন পদ্ধতি এবং সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা চলছে এবং এগুলোতে যেন কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসে সে বিষয়ে তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আমরা কি চেয়েছিলাম আইনের মধ্যেই আপনারা বুঝতে পারেন। নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে কথা হয়েছে, আর্টিকেল ৭০ নিয়ে কথা হয়েছে।

২০১১ সালে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নেতৃত্বে গঠিত সংবিধান সংশোধন কমিটির অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সে সময় অনেক আশা থাকলেও শেষ পর্যন্ত বিতর্কিত পঞ্চদশ সংশোধনী পাশ হওয়ায় তারা হতাশ হয়েছিলেন। এবার যেন তেমনটি না ঘটে এবং গণঅভ্যুত্থানের মূল প্রত্যাশাগুলো যেন সংবিধানে প্রতিফলিত হয়, সেই আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সভায় তিনি সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ আইন ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় আইন বাতিলের বিষয়ে নিজের গভীর হতাশা ব্যক্ত করেন। এ সময় বিএনপির পক্ষ থেকেও এই আইনগুলোর সমর্থনের বিষয়টি তিনি তুলে ধরেন। পরে আইনমন্ত্রী তাকে আশ্বস্ত করেন যে, সরকার পরবর্তী সময়ে এসব আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেবে। তিনি বলেন, আর হচ্ছে আপনার কেয়ারটেকার গভর্মেন্ট কি ফর্মে গঠন করা হবে, সেটা নিয়ে অনেক কথা হয়েছে, কথা হচ্ছে এখনো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের এই অধ্যাপক বলেন, এর আগে আওয়ামী লীগ আমলে সম্ভবত ২০১১ সুরঞ্জিত সেনগুপ্তদের নেতৃত্বে যে সংসদীয় সংবিধান সংশোধন কমিটির মিটিং হয়েছিল সেখানেও আমি ইনভাইটেড হয়েছিলাম, কথা বলেছিলাম। তখন মাননীয় আইনমন্ত্রী আমাকে বলেছেন যে এটা ওনারা আইন করবেন পরে।

সংসদের স্থায়ী কমিটিগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে সভায় গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন সাবেক এই আইন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থায়ী কমিটির প্রধান হিসেবে বিরোধী দলের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ করেছিলেন, যদিও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সাড়া পাননি। এছাড়া সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্থায়ী কমিটিগুলোর কাজের সুবিধার্থে আইন প্রণয়নের বিষয়টি উত্থাপন করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সংবিধানে গতানুগতিক পরিবর্তনের চেয়ে জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানোই এবার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।