বর্তমান কর্মক্ষেত্রে কেবল স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি যথেষ্ট নয়। নিয়োগদাতারা এখন প্রার্থীর একাডেমিক যোগ্যতার বাইরেও ব্যবহারিক দক্ষতা ও নতুন কিছু শেখার আগ্রহকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেন। গ্রামীণফোনের চিফ হিউম্যান রিসোর্সেস অফিসার (সিএইচআরও) সৈয়দা তাহিয়া হোসেনের মতে, প্রথাগত পাঠ্যক্রম অনেক সময় দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারে না। এ ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা অ্যানালিটিকস, ডিজিটাল মার্কেটিং বা সমসাময়িক প্রযুক্তি নিয়ে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের সার্টিফিকেট অর্জন প্রার্থীকে নিয়োগের প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রাখে।
অনলাইন সার্টিফিকেশন মূলত একজন প্রার্থীর প্রযুক্তিগত সচেতনতার প্রমাণ দেয়। তবে ইন্টারভিউ বোর্ডে কেবল সার্টিফিকেটের নাম দেখে বিচার করা হয় না। নিয়োগকর্তারা যাচাই করেন, প্রার্থী সেই দক্ষতা বাস্তবে কতটুকু প্রয়োগ করতে সক্ষম। কোনো আন্তর্জাতিক বা স্থানীয় প্ল্যাটফর্ম থেকে কোর্স করার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো, অর্জিত জ্ঞান দিয়ে কোনো সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা। উদাহরণস্বরূপ, ভিডিও এডিটিংয়ের একটি কোর্স করার চেয়ে সেই কাজের একটি বাস্তব পোর্টফোলিও উপস্থাপন করা নিয়োগদাতার কাছে বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখে।
নিয়োগকর্তাদের কাছে অনলাইন সার্টিফিকেটগুলো একজন প্রার্থীর নিজস্ব উদ্যোগ ও শেখার আগ্রহের প্রতীক। পড়াশোনা শেষ করার পরও ঘরে বসে না থেকে নিজের দক্ষতা বাড়াতে সচেষ্ট থাকা একজন প্রার্থীকে নিয়োগকর্তারা ইতিবাচকভাবে দেখেন। এর মাধ্যমে প্রার্থীর কৌতূহল ও নতুন বিষয়ে অভিযোজনের ক্ষমতা ফুটে ওঠে। এছাড়াও, এই সনদগুলো এখন কেবল দেশের সীমানার ভেতরে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বিশ্বব্যাপী ফ্রিল্যান্সিং বা রিমোট ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রেও অনন্য ভূমিকা পালন করছে।
বর্তমানে অনেকেই বিভিন্ন কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করেন। তবে বিশেষজ্ঞ সৈয়দা তাহিয়া হোসেন সতর্ক করে বলেছেন, শুধু সার্টিফিকেটের ওপর নির্ভর না করে বিষয়ের মূল মেকানিজম বা ভেতরের গঠন বুঝতে হবে। ইন্টারভিউ বোর্ডে একজন অভিজ্ঞ নিয়োগকর্তা সহজেই বুঝে ফেলতে পারেন প্রার্থীর আইডিয়া বা কাজের দক্ষতা কতখানি মৌলিক। তাই যেকোনো অনলাইন কোর্স বা সার্টিফিকেশন অর্জনের সময় মূল বিষয়বস্তু আত্মস্থ করার দিকেই সর্বোচ্চ নজর দেওয়া উচিত।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 























