ঢাকা ১০:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আইজিপি: চাঁদাবাজির অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করার ক্ষমতা পাচ্ছে পুলিশ জাপান সফরে তারেক রহমান: অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন গতির আশা রাষ্ট্রদূতকে আনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়: শামা ওবায়েদ সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক চলছে স্মরণকালের সেরা দুর্গাপূজা উপহার দিলেন দেশনায়ক  তারেক রহমান ঢাকার বাস টার্মিনাল ও অটোরিকশা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সোহেল গরিবের বিচার, ধনীর বিচার এক করতে হবে —এটাই তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশ আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ বাংলাদেশ কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহাসিক বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি দ্বিগুণ যাত্রী সামলাতে হিমশিম দেশের বিমানবন্দরগুলো

ডর্টমুন্ডের অভিনব উদ্যোগ: ফোন ব্যবহার কমলে মিলবে পুরস্কার

ফুটবল ম্যাচ চলাকালীন গ্যালারিতে দর্শকদের ফোনের পর্দায় বুঁদ হয়ে থাকার দৃশ্য এখন নিয়মিত ঘটনা। গোল বা দারুণ কোনো মুহূর্তের আনন্দ উপভোগের চেয়ে সেটির ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করতেই যেন সবার বেশি আগ্রহ। দর্শকদের এই অভ্যাস থেকে কিছুটা ফিরিয়ে আনতেই অভিনব এক উদ্যোগ নিয়েছে জার্মান ক্লাব বরুসিয়া ডর্টমুন্ড। ফোনের ব্যবহার কমালে দর্শকদের পুরস্কার জেতার সুযোগ করে দিচ্ছে তারা। কেউ চিৎকার করছেন, কেউ জড়িয়ে ধরছেন পাশের মানুষটিকে; কিন্তু এর মধ্যেও কিছু দর্শকের চোখ আটকে আছে মুঠোফোনের পর্দায়। প্রযুক্তির এই যুগে মাঠের ফুটবলের সঙ্গে যেন সমানতালে চলছে মুঠোফোনের ফুটবলও। কখনো কখনো তো মনে হয়, খেলা দেখতে নয়, খেলা দেখছেন, সেটা অন্যদের দেখাতেই মাঠে এসেছেন কেউ কেউ। ব্যাপারটা অনেকটা এমন—মুঠোফোন যত কম ঘাঁটবেন, পুরস্কার জেতার সম্ভাবনা তত বেশি। অর্থাৎ ফোনের পর্দা থেকে চোখ সরিয়ে মাঠের দিকে তাকালেই মিলতে পারে উপহার। এল ক্লাসিকোর ফল ঠিক করে দিতে পারে যে পাঁচ প্রশ্নের উত্তর। ডর্টমুন্ডের যুক্তি, গ্যালারিতে সেলফি তোলা, সরাসরি ভিডিও সম্প্রচার কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য কনটেন্ট তৈরিতে এতটাই ব্যস্ত থাকেন কিছু দর্শক, মাঠের ফুটবল উপভোগের আসল আনন্দটাই হারিয়ে যায়। অথচ ফুটবল মাঠের গ্যালারির আনন্দটাই অন্য রকম। এই মাঠের দক্ষিণ গ্যালারির বিখ্যাত ‘ইয়েলো ওয়াল’ তো ফুটবল দুনিয়ারই এক বিস্ময়। মেসিকে পুরস্কার ও ‘সর্বকালের সবচেয়ে সফল ফুটবলারে’র স্বীকৃতি দিল স্পেন।

এই কার্যক্রমের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ফ্যান মোড’। ডর্টমুন্ডের নিজস্ব অ্যাপের মাধ্যমে এই সুবিধাটি পরিচালনা করা হচ্ছে। শনিবার আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্টের বিপক্ষে নিজেদের মাঠে হওয়া বুন্দেসলিগার ম্যাচটিতেই এটি প্রথমবারের মতো কার্যকর করা হয়েছে। ম্যাচটিতে ডর্টমুন্ড ১-০ গোলে জয় লাভ করেছে। বিশেষ করে ডর্টমুন্ডের সিগন্যাল ইদুনা পার্কের মতো স্টেডিয়ামে।

পুরস্কারের তালিকায় রয়েছে প্রিয় খেলোয়াড়দের সই করা জার্সি ও ক্লাব পণ্য কেনার ভাউচার। নিয়মটি বেশ সহজ—ম্যাচ চলাকালীন দর্শক তাদের ফোনে অ্যাপটি চালু রেখে যত কমবার ফোন আনলক করবেন, তাদের পয়েন্ট তত বেশি জমা হবে। বিরতির সময় ফোন ব্যবহারে কোনো বিধিনিষেধ রাখা হয়নি। ম্যাচ শেষে সর্বোচ্চ পয়েন্টধারীরা পুরস্কার জেতার সুযোগ পাচ্ছেন। অবশ্য এই উদ্যোগটি পুরোপুরি স্বেচ্ছামূলক, কেউ চাইলে আগের মতোই ছবি বা ভিডিও ধারণ করতে পারবেন। তবে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে নয়, পুরস্কারের লোভ দেখিয়ে।

ক্লাবটির প্রধান নির্বাহী কার্স্টেন ক্রেমার স্টেডিয়ামের পরিবেশ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জানান, ৮১ হাজারের বেশি মানুষের সম্মিলিত গান, উল্লাস ও উত্তেজনার যে অভিজ্ঞতা, তার কোনো বিকল্প নেই। দর্শকেরা যেন ফোনের মাধ্যমে সেই মুহূর্ত ধারণের চেয়ে নিজেরাই সেই অভিজ্ঞতার অংশ হয়ে ওঠেন, ডর্টমুন্ড মূলত সেটাই চায়। এছাড়া গ্যালারিতে বারবার ফোন ব্যবহারের ফলে আশপাশের দর্শকদের খেলা দেখার আনন্দও বিঘ্নিত হয়। শুধু তা নয়, তাঁদের কর্মকাণ্ডে বিরক্ত হন আশপাশের দর্শকেরাও। হলুদ জার্সি পরা হাজার হাজার সমর্থকের সম্মিলিত গর্জন, গান আর উল্লাসে তৈরি হয় এক আশ্চর্য পরিবেশ।

জার্মান ফুটবলে গ্যালারিতে স্মার্টফোন ও ক্যামেরার অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই বিতর্ক চলছে।

বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ভ্লগ তৈরি করা অনেক ইনফ্লুয়েন্সারের কর্মকাণ্ড ক্লাবের সম্প্রচারস্বত্বকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

এই প্রেক্ষিতেই বিভিন্ন ক্লাব কঠোর হতে শুরু করেছে। আবারও ভিলা পার্কে হোঁচট, মৌসুমে প্রথম হার ম্যানচেস্টার সিটির।

যেমন, জার্মানির দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব হার্থা বার্লিন জানিয়েছে, পেশাদার সরঞ্জাম ব্যবহার করে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ভিডিও তৈরির অনুমতি আর দেওয়া হবে না। তবে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য ছবি বা ভিডিও ধারণে কোনো বাধা থাকবে না। অনেকেই পেশাদার ক্যামেরা নিয়ে মাঠে আসেন।

আগস্ট মাসে একই ধরনের কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছিল দিনামো ড্রেসডেন। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল দর্শকদের খেলা দেখার অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা এবং সম্প্রচারস্বত্ব রক্ষা করা। ডর্টমুন্ড অবশ্য নিষেধাজ্ঞার কঠোর পথে না হেঁটে বরং দর্শকদের পুরস্কৃত করার মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তনের চেষ্টা চালাচ্ছে। মাঠের ফুটবল মাঠেই উপভোগ করার এই আহ্বান কতটুকু সফল হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। প্রতিপক্ষের কাছে যা রীতিমতো আতঙ্কের, ফুটবলপ্রেমীদের কাছে সেটিই অপার মুগ্ধতার। বরং দর্শকদের সামনে ঝুলিয়ে দিয়েছে পুরস্কারের হাতছানি।

আপলোডকারীর তথ্য

সৌদিতে হামলায় নিহত প্রবাসী শাহেদের মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি দেশে ফেরত

ডর্টমুন্ডের অভিনব উদ্যোগ: ফোন ব্যবহার কমলে মিলবে পুরস্কার

আপডেট সময় ০৮:৫৬:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

ফুটবল ম্যাচ চলাকালীন গ্যালারিতে দর্শকদের ফোনের পর্দায় বুঁদ হয়ে থাকার দৃশ্য এখন নিয়মিত ঘটনা। গোল বা দারুণ কোনো মুহূর্তের আনন্দ উপভোগের চেয়ে সেটির ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করতেই যেন সবার বেশি আগ্রহ। দর্শকদের এই অভ্যাস থেকে কিছুটা ফিরিয়ে আনতেই অভিনব এক উদ্যোগ নিয়েছে জার্মান ক্লাব বরুসিয়া ডর্টমুন্ড। ফোনের ব্যবহার কমালে দর্শকদের পুরস্কার জেতার সুযোগ করে দিচ্ছে তারা। কেউ চিৎকার করছেন, কেউ জড়িয়ে ধরছেন পাশের মানুষটিকে; কিন্তু এর মধ্যেও কিছু দর্শকের চোখ আটকে আছে মুঠোফোনের পর্দায়। প্রযুক্তির এই যুগে মাঠের ফুটবলের সঙ্গে যেন সমানতালে চলছে মুঠোফোনের ফুটবলও। কখনো কখনো তো মনে হয়, খেলা দেখতে নয়, খেলা দেখছেন, সেটা অন্যদের দেখাতেই মাঠে এসেছেন কেউ কেউ। ব্যাপারটা অনেকটা এমন—মুঠোফোন যত কম ঘাঁটবেন, পুরস্কার জেতার সম্ভাবনা তত বেশি। অর্থাৎ ফোনের পর্দা থেকে চোখ সরিয়ে মাঠের দিকে তাকালেই মিলতে পারে উপহার। এল ক্লাসিকোর ফল ঠিক করে দিতে পারে যে পাঁচ প্রশ্নের উত্তর। ডর্টমুন্ডের যুক্তি, গ্যালারিতে সেলফি তোলা, সরাসরি ভিডিও সম্প্রচার কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য কনটেন্ট তৈরিতে এতটাই ব্যস্ত থাকেন কিছু দর্শক, মাঠের ফুটবল উপভোগের আসল আনন্দটাই হারিয়ে যায়। অথচ ফুটবল মাঠের গ্যালারির আনন্দটাই অন্য রকম। এই মাঠের দক্ষিণ গ্যালারির বিখ্যাত ‘ইয়েলো ওয়াল’ তো ফুটবল দুনিয়ারই এক বিস্ময়। মেসিকে পুরস্কার ও ‘সর্বকালের সবচেয়ে সফল ফুটবলারে’র স্বীকৃতি দিল স্পেন।

এই কার্যক্রমের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ফ্যান মোড’। ডর্টমুন্ডের নিজস্ব অ্যাপের মাধ্যমে এই সুবিধাটি পরিচালনা করা হচ্ছে। শনিবার আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্টের বিপক্ষে নিজেদের মাঠে হওয়া বুন্দেসলিগার ম্যাচটিতেই এটি প্রথমবারের মতো কার্যকর করা হয়েছে। ম্যাচটিতে ডর্টমুন্ড ১-০ গোলে জয় লাভ করেছে। বিশেষ করে ডর্টমুন্ডের সিগন্যাল ইদুনা পার্কের মতো স্টেডিয়ামে।

পুরস্কারের তালিকায় রয়েছে প্রিয় খেলোয়াড়দের সই করা জার্সি ও ক্লাব পণ্য কেনার ভাউচার। নিয়মটি বেশ সহজ—ম্যাচ চলাকালীন দর্শক তাদের ফোনে অ্যাপটি চালু রেখে যত কমবার ফোন আনলক করবেন, তাদের পয়েন্ট তত বেশি জমা হবে। বিরতির সময় ফোন ব্যবহারে কোনো বিধিনিষেধ রাখা হয়নি। ম্যাচ শেষে সর্বোচ্চ পয়েন্টধারীরা পুরস্কার জেতার সুযোগ পাচ্ছেন। অবশ্য এই উদ্যোগটি পুরোপুরি স্বেচ্ছামূলক, কেউ চাইলে আগের মতোই ছবি বা ভিডিও ধারণ করতে পারবেন। তবে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে নয়, পুরস্কারের লোভ দেখিয়ে।

ক্লাবটির প্রধান নির্বাহী কার্স্টেন ক্রেমার স্টেডিয়ামের পরিবেশ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জানান, ৮১ হাজারের বেশি মানুষের সম্মিলিত গান, উল্লাস ও উত্তেজনার যে অভিজ্ঞতা, তার কোনো বিকল্প নেই। দর্শকেরা যেন ফোনের মাধ্যমে সেই মুহূর্ত ধারণের চেয়ে নিজেরাই সেই অভিজ্ঞতার অংশ হয়ে ওঠেন, ডর্টমুন্ড মূলত সেটাই চায়। এছাড়া গ্যালারিতে বারবার ফোন ব্যবহারের ফলে আশপাশের দর্শকদের খেলা দেখার আনন্দও বিঘ্নিত হয়। শুধু তা নয়, তাঁদের কর্মকাণ্ডে বিরক্ত হন আশপাশের দর্শকেরাও। হলুদ জার্সি পরা হাজার হাজার সমর্থকের সম্মিলিত গর্জন, গান আর উল্লাসে তৈরি হয় এক আশ্চর্য পরিবেশ।

জার্মান ফুটবলে গ্যালারিতে স্মার্টফোন ও ক্যামেরার অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই বিতর্ক চলছে।

বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ভ্লগ তৈরি করা অনেক ইনফ্লুয়েন্সারের কর্মকাণ্ড ক্লাবের সম্প্রচারস্বত্বকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

এই প্রেক্ষিতেই বিভিন্ন ক্লাব কঠোর হতে শুরু করেছে। আবারও ভিলা পার্কে হোঁচট, মৌসুমে প্রথম হার ম্যানচেস্টার সিটির।

যেমন, জার্মানির দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব হার্থা বার্লিন জানিয়েছে, পেশাদার সরঞ্জাম ব্যবহার করে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ভিডিও তৈরির অনুমতি আর দেওয়া হবে না। তবে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য ছবি বা ভিডিও ধারণে কোনো বাধা থাকবে না। অনেকেই পেশাদার ক্যামেরা নিয়ে মাঠে আসেন।

আগস্ট মাসে একই ধরনের কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছিল দিনামো ড্রেসডেন। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল দর্শকদের খেলা দেখার অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা এবং সম্প্রচারস্বত্ব রক্ষা করা। ডর্টমুন্ড অবশ্য নিষেধাজ্ঞার কঠোর পথে না হেঁটে বরং দর্শকদের পুরস্কৃত করার মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তনের চেষ্টা চালাচ্ছে। মাঠের ফুটবল মাঠেই উপভোগ করার এই আহ্বান কতটুকু সফল হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। প্রতিপক্ষের কাছে যা রীতিমতো আতঙ্কের, ফুটবলপ্রেমীদের কাছে সেটিই অপার মুগ্ধতার। বরং দর্শকদের সামনে ঝুলিয়ে দিয়েছে পুরস্কারের হাতছানি।