ঢাকা ১০:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারও করবে পুলিশ: আইজিপি

গাজার ধ্বংসস্তূপে আটকে আছে ৮ হাজারের বেশি মরদেহ

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

ইসরায়েলের দুই বছরের সামরিক অভিযানে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজা উপত্যকায় এখনও অন্তত আট হাজার ফিলিস্তিনির মরদেহ কংক্রিটের নিচে চাপা পড়ে আছে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) এক কর্মকর্তার বরাতে ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত গাজার মোট ধ্বংসাবশেষের মধ্যে ১ শতাংশেরও কম সরানো সম্ভব হয়েছে। বর্তমানের গতিতে কাজ চললে পুরো গাজা পরিষ্কারে সাত বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিধ্বস্ত ভবনগুলোর নিচে হাজারো মরদেহ চাপা পড়ে থাকায় স্বজনের অনেকেই এখনও প্রিয়জনদের দাফন করতে পারেননি। গাজার সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভারী যন্ত্রপাতি ও জনবলের সংকটের কারণে উদ্ধার ও পরিষ্কার কার্যক্রম অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে।

গত অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরও গাজায় ইসরায়েলের অভিযান কখনোই পুরোপুরি থামেনি। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর থেকে নতুন করে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৮২৮ ফিলিস্তিনি নিহত এবং দুই হাজার ৩৪২ জন আহত হয়েছেন। দুই বছরের যুদ্ধে মোট নিহতের সংখ্যা ৭২ হাজার ছাড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন প্রায় এক লাখ ৭২ হাজার মানুষ।

ইসরায়েলের হামলায় গাজার ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে বলেও জানিয়েছে জাতিসংঘ। উপত্যকাটির পুনর্গঠনে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে বলে হিসাব দিয়েছে সংস্থাটি।

ইসরায়েলের আদালতে তোলা হবে সুমুদ ফ্লোটিলার দুই অ্যাক্টিভিস্টকে

গাজা অভিমুখী মানবিক ত্রাণবহর সুমুদ ফ্লোটিলা থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইসরায়েলে নিয়ে যাওয়া দুজন বিদেশি অ্যাক্টিভিস্টকে রোববার আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে। দুই বিদেশি অ্যাক্টিভিস্টকে আটকের ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। স্পেনের সাইফ আবু কেশেক ও ব্রাজিলের থিয়াগো আভিলাকে রোববার ইসরায়েলের আশকেলন আদালতে হাজির করা হয়। তাদের আইনগত সহায়তা দেওয়া সংগঠন আদালাহ জানিয়েছে, ইসরায়েল চার দিনের জন্য তাদের আটকাদেশ বাড়ানোর আবেদন করেছে।

ভূমধ্যসাগরে গাজা অভিমুখী ৫০টির বেশি নৌযানের বহরটি ফ্রান্স, স্পেন ও ইতালি থেকে যাত্রা করেছিল। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক জলসীমায় গ্রিস উপকূলের কাছে ইসরায়েলি বাহিনী বহরটি থামিয়ে দেয়। আটক দুই কর্মী অভিযোগ করেছেন, জিজ্ঞাসাবাদের আগে তাদের মারধর, চোখ বেঁধে রাখা ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। তবে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা হামাস-সংশ্লিষ্ট একটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত।

এদিকে ইসরায়েলি সহিংসতা বাড়ছে পশ্চিম তীরেও। সেখানে স্কুল ও শিক্ষার্থীদের ওপর প্রায়ই হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও সেনারা। গত ২১ এপ্রিল রামাল্লাহর কাছে মুগাইয়ির গ্রামে সশস্ত্র ইসরায়েলি রিজার্ভ সেনারা পাহাড়ের ওপর থেকে স্কুল লক্ষ্য করে গুলি চালালে ১৪ বছর বয়সী ছাত্র আওস আল-নাসান নিহত হয়। একই ঘটনায় আরও একজন ফিলিস্তিনি নিহত হন।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৮ হাজার ৬৩৯ শিক্ষার্থী ও ৭৯২ শিক্ষক নিহত হয়েছেন। ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৯০ শতাংশ স্কুল ভবন। ইউনিসেফ বলছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ধারাবাহিক হামলা শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক জীবনকে গভীর সংকটে ফেলছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

অক্টোবরের ২৮ দিনে ৩২ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা রেমিট্যান্স

গাজার ধ্বংসস্তূপে আটকে আছে ৮ হাজারের বেশি মরদেহ

আপডেট সময় ১০:৩০:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

ইসরায়েলের দুই বছরের সামরিক অভিযানে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজা উপত্যকায় এখনও অন্তত আট হাজার ফিলিস্তিনির মরদেহ কংক্রিটের নিচে চাপা পড়ে আছে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) এক কর্মকর্তার বরাতে ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত গাজার মোট ধ্বংসাবশেষের মধ্যে ১ শতাংশেরও কম সরানো সম্ভব হয়েছে। বর্তমানের গতিতে কাজ চললে পুরো গাজা পরিষ্কারে সাত বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিধ্বস্ত ভবনগুলোর নিচে হাজারো মরদেহ চাপা পড়ে থাকায় স্বজনের অনেকেই এখনও প্রিয়জনদের দাফন করতে পারেননি। গাজার সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভারী যন্ত্রপাতি ও জনবলের সংকটের কারণে উদ্ধার ও পরিষ্কার কার্যক্রম অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে।

গত অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরও গাজায় ইসরায়েলের অভিযান কখনোই পুরোপুরি থামেনি। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর থেকে নতুন করে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৮২৮ ফিলিস্তিনি নিহত এবং দুই হাজার ৩৪২ জন আহত হয়েছেন। দুই বছরের যুদ্ধে মোট নিহতের সংখ্যা ৭২ হাজার ছাড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন প্রায় এক লাখ ৭২ হাজার মানুষ।

ইসরায়েলের হামলায় গাজার ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে বলেও জানিয়েছে জাতিসংঘ। উপত্যকাটির পুনর্গঠনে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে বলে হিসাব দিয়েছে সংস্থাটি।

ইসরায়েলের আদালতে তোলা হবে সুমুদ ফ্লোটিলার দুই অ্যাক্টিভিস্টকে

গাজা অভিমুখী মানবিক ত্রাণবহর সুমুদ ফ্লোটিলা থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইসরায়েলে নিয়ে যাওয়া দুজন বিদেশি অ্যাক্টিভিস্টকে রোববার আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে। দুই বিদেশি অ্যাক্টিভিস্টকে আটকের ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। স্পেনের সাইফ আবু কেশেক ও ব্রাজিলের থিয়াগো আভিলাকে রোববার ইসরায়েলের আশকেলন আদালতে হাজির করা হয়। তাদের আইনগত সহায়তা দেওয়া সংগঠন আদালাহ জানিয়েছে, ইসরায়েল চার দিনের জন্য তাদের আটকাদেশ বাড়ানোর আবেদন করেছে।

ভূমধ্যসাগরে গাজা অভিমুখী ৫০টির বেশি নৌযানের বহরটি ফ্রান্স, স্পেন ও ইতালি থেকে যাত্রা করেছিল। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক জলসীমায় গ্রিস উপকূলের কাছে ইসরায়েলি বাহিনী বহরটি থামিয়ে দেয়। আটক দুই কর্মী অভিযোগ করেছেন, জিজ্ঞাসাবাদের আগে তাদের মারধর, চোখ বেঁধে রাখা ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। তবে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা হামাস-সংশ্লিষ্ট একটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত।

এদিকে ইসরায়েলি সহিংসতা বাড়ছে পশ্চিম তীরেও। সেখানে স্কুল ও শিক্ষার্থীদের ওপর প্রায়ই হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও সেনারা। গত ২১ এপ্রিল রামাল্লাহর কাছে মুগাইয়ির গ্রামে সশস্ত্র ইসরায়েলি রিজার্ভ সেনারা পাহাড়ের ওপর থেকে স্কুল লক্ষ্য করে গুলি চালালে ১৪ বছর বয়সী ছাত্র আওস আল-নাসান নিহত হয়। একই ঘটনায় আরও একজন ফিলিস্তিনি নিহত হন।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৮ হাজার ৬৩৯ শিক্ষার্থী ও ৭৯২ শিক্ষক নিহত হয়েছেন। ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৯০ শতাংশ স্কুল ভবন। ইউনিসেফ বলছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ধারাবাহিক হামলা শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক জীবনকে গভীর সংকটে ফেলছে।