ঢাকা ১০:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারও করবে পুলিশ: আইজিপি

সূর্যোদয়ের দেশ থেকে আমাদের প্রত্যাশা: প্রধানমন্ত্রীর সফর

বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক জাপান সফর দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের ক্ষেত্রে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ উঠে এসেছে, যা আগামীতে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে বাণিজ্য ও বিনিয়োগকেন্দ্রিক বিভিন্ন খাতে উভয় দেশের পারস্পরিক সমঝোতা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করবার বিষয়গুলোই আলোচনায় এসেছে। পারস্পরিক সহযোগিতার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র বিগ-বি, যার ব্যাপারে জাপানের আগ্রহ রয়েছে। এর পাশাপাশি বিগ বি-কে কেন্দ্র করে উদ্যোগে সার্বিক ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় আনা প্রয়োজন।

জাপানি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের একটি বড় প্রতিফলন পাওয়া গেছে আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনায়। আলোচনায় জানা গেছে, জাপানি উদ্যোক্তারা বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের বিভিন্ন প্রকল্পে ৬ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহী। এর মধ্যে অটোমোবাইল শিল্প, অন্যান্য ম্যানুফ্যাকচারিং খাত এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাত রয়েছে। এই বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে দেশে প্রায় দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

দুই দেশের মধ্যে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত ‘বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট’ (ইপিএ) নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে।

এটি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

একই সঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার করিডোরকে কেন্দ্র করে ‘বিগ-বি’ (বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট) উদ্যোগের মাধ্যমে গভীর সমুদ্রবন্দর এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৩৪০টি জাপানি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে, যাদের অনেকেই বাংলাদেশে ব্যবসার পরিধি বাড়াতে আগ্রহী। তবে এই বিনিয়োগের পূর্ণ সুফল পেতে হলে প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা ও অবকাঠামোগত কাঠামোগত সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা অপরিহার্য। ব্যবসায়িক পরিবেশ সহজতর না করলে জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা কঠিন হতে পারে। বর্তমানের বিনিয়োগকে সম্প্রসারণ করতে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের খাতভিত্তিক সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধানের জন্য কাজ করা প্রয়োজন।

রপ্তানির ক্ষেত্রেও জাপান বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে জাপানে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির হার ৩ দশমিক ২৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। প্রথাগত বাজারের বাইরে নতুন এই গন্তব্যে পোশাক ছাড়াও চামড়াজাত পণ্য, হিমায়িত খাদ্য, কৃষিপণ্য ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের চাহিদা বাড়ছে। এসব পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক সনদ অর্জনে জাপান কারিগরি সহায়তা দিতে পারে।

অর্থনৈতিক সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো জাপানের শ্রমবাজার। বয়স্ক জনসংখ্যার কারণে জাপান বর্তমানে শ্রমিক-সংকটে ভুগছে, যা তরুণ জনগোষ্ঠীর দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সুযোগ। তবে ভাষাগত দক্ষতা ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের অভাবে এই সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণকে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট জেলায় সুলভ ও সহজলভ্য করা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন ও আন্তব্যক্তিক যোগাযোগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে একটি সুশৃঙ্খল অভিবাসন ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে হবে।

এক্ষেত্রে সরকারি তদারকি বাড়ানো জরুরি যাতে স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করা যায়। মধ্যস্বত্বভোগী ও দালালদের তৎপরতা কমিয়ে অভিবাসন খরচ সাশ্রয়ী করা না গেলে জাপানের শ্রমবাজার ধরা কঠিন হবে। জাপানের শ্রমবাজারের চাহিদা বিশ্লেষণ করে দক্ষ কর্মী পাঠানোর ওপর আমাদের কৌশল সাজাতে হবে। পুরোনো কূটনৈতিক সম্পর্ককে পুঁজি করে অর্থনৈতিক সুবিধা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাই ত্বরিত কর্মপরিকল্পনা ও প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধিই এখন সময়ের দাবি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশার মতে, এই সম্পর্কের সুফল পেতে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত ও সহজে ব্যবসার অনুমোদন, দক্ষ বন্দর ও কাস্টমস ব্যবস্থাপনা, সুষ্ঠু অবকাঠামো ব্যবস্থা ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি বিষয়গুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিশ্চিত করতে হবে।

আপলোডকারীর তথ্য

ইউক্রেনের কাছে ৫০০ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের

সূর্যোদয়ের দেশ থেকে আমাদের প্রত্যাশা: প্রধানমন্ত্রীর সফর

আপডেট সময় ০৮:০৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক জাপান সফর দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের ক্ষেত্রে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ উঠে এসেছে, যা আগামীতে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে বাণিজ্য ও বিনিয়োগকেন্দ্রিক বিভিন্ন খাতে উভয় দেশের পারস্পরিক সমঝোতা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করবার বিষয়গুলোই আলোচনায় এসেছে। পারস্পরিক সহযোগিতার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র বিগ-বি, যার ব্যাপারে জাপানের আগ্রহ রয়েছে। এর পাশাপাশি বিগ বি-কে কেন্দ্র করে উদ্যোগে সার্বিক ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় আনা প্রয়োজন।

জাপানি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের একটি বড় প্রতিফলন পাওয়া গেছে আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনায়। আলোচনায় জানা গেছে, জাপানি উদ্যোক্তারা বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের বিভিন্ন প্রকল্পে ৬ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহী। এর মধ্যে অটোমোবাইল শিল্প, অন্যান্য ম্যানুফ্যাকচারিং খাত এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাত রয়েছে। এই বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে দেশে প্রায় দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

দুই দেশের মধ্যে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত ‘বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট’ (ইপিএ) নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে।

এটি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

একই সঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার করিডোরকে কেন্দ্র করে ‘বিগ-বি’ (বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট) উদ্যোগের মাধ্যমে গভীর সমুদ্রবন্দর এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৩৪০টি জাপানি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে, যাদের অনেকেই বাংলাদেশে ব্যবসার পরিধি বাড়াতে আগ্রহী। তবে এই বিনিয়োগের পূর্ণ সুফল পেতে হলে প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা ও অবকাঠামোগত কাঠামোগত সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা অপরিহার্য। ব্যবসায়িক পরিবেশ সহজতর না করলে জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা কঠিন হতে পারে। বর্তমানের বিনিয়োগকে সম্প্রসারণ করতে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের খাতভিত্তিক সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধানের জন্য কাজ করা প্রয়োজন।

রপ্তানির ক্ষেত্রেও জাপান বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে জাপানে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির হার ৩ দশমিক ২৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। প্রথাগত বাজারের বাইরে নতুন এই গন্তব্যে পোশাক ছাড়াও চামড়াজাত পণ্য, হিমায়িত খাদ্য, কৃষিপণ্য ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের চাহিদা বাড়ছে। এসব পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক সনদ অর্জনে জাপান কারিগরি সহায়তা দিতে পারে।

অর্থনৈতিক সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো জাপানের শ্রমবাজার। বয়স্ক জনসংখ্যার কারণে জাপান বর্তমানে শ্রমিক-সংকটে ভুগছে, যা তরুণ জনগোষ্ঠীর দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সুযোগ। তবে ভাষাগত দক্ষতা ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের অভাবে এই সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণকে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট জেলায় সুলভ ও সহজলভ্য করা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন ও আন্তব্যক্তিক যোগাযোগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে একটি সুশৃঙ্খল অভিবাসন ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে হবে।

এক্ষেত্রে সরকারি তদারকি বাড়ানো জরুরি যাতে স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করা যায়। মধ্যস্বত্বভোগী ও দালালদের তৎপরতা কমিয়ে অভিবাসন খরচ সাশ্রয়ী করা না গেলে জাপানের শ্রমবাজার ধরা কঠিন হবে। জাপানের শ্রমবাজারের চাহিদা বিশ্লেষণ করে দক্ষ কর্মী পাঠানোর ওপর আমাদের কৌশল সাজাতে হবে। পুরোনো কূটনৈতিক সম্পর্ককে পুঁজি করে অর্থনৈতিক সুবিধা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাই ত্বরিত কর্মপরিকল্পনা ও প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধিই এখন সময়ের দাবি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশার মতে, এই সম্পর্কের সুফল পেতে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত ও সহজে ব্যবসার অনুমোদন, দক্ষ বন্দর ও কাস্টমস ব্যবস্থাপনা, সুষ্ঠু অবকাঠামো ব্যবস্থা ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি বিষয়গুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিশ্চিত করতে হবে।