ঢাকা ০৮:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

মালয়েশিয়ায় ২৬৫ বাংলাদেশি পাসপোর্টসহ ২০ জন আটক

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ দেশটির তামান দাতুক আহমাদ রাজালি এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। বিদেশি কর্মী নিয়োগের কোটা অপব্যবহার ও বড় ধরনের জালিয়াতির অভিযোগে পরিচালিত এই অভিযানে মোট ৩৪১টি পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৬৫টিই বাংলাদেশি পাসপোর্ট। এছাড়া অভিযানে ইন্দোনেশিয়ার ৬৩টি, পাকিস্তানের ১২টি এবং ভারতের একটি পাসপোর্ট জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত পাসপোর্টের পাশাপাশি গ্রাহকদের কাছ থেকে সংগৃহীত ৬ হাজার ৭০০ মালয়েশীয় রিঙ্গিতও জব্দ করা হয়েছে।

অভিযানে মোট ২০ জনকে আটক করা হয়েছে, যাদের বয়স ২৩ থেকে ৪৭ বছরের মধ্যে। আটককৃতদের মধ্যে ১১ জন বাংলাদেশি, ছয়জন স্থানীয় নারী কর্মী এবং ১২ জন বিদেশি গ্রাহক রয়েছেন। বিদেশি গ্রাহকদের মধ্যে নয়জন বাংলাদেশি পুরুষ ও তিনজন ইন্দোনেশীয় নারী অন্তর্ভুক্ত। মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, এই চক্রটি অনুমোদনহীনভাবে কর্মী নিয়োগের কোটা ব্যবহার করে অবৈধ মুনাফা করছিল।

অভিবাসন বিভাগের গোয়েন্দা ও বিশেষ অভিযান শাখার সাথে এই অভিযানে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তারাও অংশ নেন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, চক্রটি মূলত অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভিজিট পাসের (পিএলকেএস) আওতায় শ্রমিকদের মালয়েশিয়ায় নিয়ে আসত। এরপর মূল নিয়োগকর্তার পরিবর্তে অর্থের বিনিময়ে অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে তাদের অবৈধভাবে সরবরাহ করা হতো। এই অবৈধ কার্যক্রমের মাধ্যমে জনপ্রতি ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৫ হাজার মালয়েশীয় রিঙ্গিত মুনাফা করা হতো বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ। কর্মীদের বিষয়ে আরও অনুসন্ধানে দেখা গেছে, যেসব প্রতিষ্ঠান তাদের নিয়োগের কোটা পেয়েছিল, সেখানে তারা কাজ করতেন না।

তদন্তে চক্রটির বিরুদ্ধে ব্যাপক কর ফাঁকির তথ্যও পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রকৃত আর্থিক হিসাব গোপন করে এবং ২০২০ থেকে ২০২৩ করবর্ষ পর্যন্ত কোনো ব্যক্তিগত আয় ঘোষণা করেনি। কোটা পাওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো যে তথ্য দিয়েছিল, তার সাথে তাদের প্রকৃত অবস্থার কোনো মিল নেই বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। মূলত গোয়েন্দা তথ্য ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে এই সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়। এ ছাড়া কোটা অনুমোদন পেতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত অবস্থা ও পরিচিতির সঙ্গে মিল নেই—এমন তথ্য জমা দেয়ার অভিযোগও তদন্ত করা হচ্ছে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মালয়েশিয়ায় ২৬৫ বাংলাদেশি পাসপোর্টসহ ২০ জন আটক

মালয়েশিয়ায় ২৬৫ বাংলাদেশি পাসপোর্টসহ ২০ জন আটক

আপডেট সময় ০৮:৩১:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ দেশটির তামান দাতুক আহমাদ রাজালি এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। বিদেশি কর্মী নিয়োগের কোটা অপব্যবহার ও বড় ধরনের জালিয়াতির অভিযোগে পরিচালিত এই অভিযানে মোট ৩৪১টি পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৬৫টিই বাংলাদেশি পাসপোর্ট। এছাড়া অভিযানে ইন্দোনেশিয়ার ৬৩টি, পাকিস্তানের ১২টি এবং ভারতের একটি পাসপোর্ট জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত পাসপোর্টের পাশাপাশি গ্রাহকদের কাছ থেকে সংগৃহীত ৬ হাজার ৭০০ মালয়েশীয় রিঙ্গিতও জব্দ করা হয়েছে।

অভিযানে মোট ২০ জনকে আটক করা হয়েছে, যাদের বয়স ২৩ থেকে ৪৭ বছরের মধ্যে। আটককৃতদের মধ্যে ১১ জন বাংলাদেশি, ছয়জন স্থানীয় নারী কর্মী এবং ১২ জন বিদেশি গ্রাহক রয়েছেন। বিদেশি গ্রাহকদের মধ্যে নয়জন বাংলাদেশি পুরুষ ও তিনজন ইন্দোনেশীয় নারী অন্তর্ভুক্ত। মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, এই চক্রটি অনুমোদনহীনভাবে কর্মী নিয়োগের কোটা ব্যবহার করে অবৈধ মুনাফা করছিল।

অভিবাসন বিভাগের গোয়েন্দা ও বিশেষ অভিযান শাখার সাথে এই অভিযানে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তারাও অংশ নেন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, চক্রটি মূলত অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভিজিট পাসের (পিএলকেএস) আওতায় শ্রমিকদের মালয়েশিয়ায় নিয়ে আসত। এরপর মূল নিয়োগকর্তার পরিবর্তে অর্থের বিনিময়ে অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে তাদের অবৈধভাবে সরবরাহ করা হতো। এই অবৈধ কার্যক্রমের মাধ্যমে জনপ্রতি ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৫ হাজার মালয়েশীয় রিঙ্গিত মুনাফা করা হতো বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ। কর্মীদের বিষয়ে আরও অনুসন্ধানে দেখা গেছে, যেসব প্রতিষ্ঠান তাদের নিয়োগের কোটা পেয়েছিল, সেখানে তারা কাজ করতেন না।

তদন্তে চক্রটির বিরুদ্ধে ব্যাপক কর ফাঁকির তথ্যও পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রকৃত আর্থিক হিসাব গোপন করে এবং ২০২০ থেকে ২০২৩ করবর্ষ পর্যন্ত কোনো ব্যক্তিগত আয় ঘোষণা করেনি। কোটা পাওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো যে তথ্য দিয়েছিল, তার সাথে তাদের প্রকৃত অবস্থার কোনো মিল নেই বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। মূলত গোয়েন্দা তথ্য ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে এই সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়। এ ছাড়া কোটা অনুমোদন পেতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত অবস্থা ও পরিচিতির সঙ্গে মিল নেই—এমন তথ্য জমা দেয়ার অভিযোগও তদন্ত করা হচ্ছে।