ইন্দোনেশিয়ার বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানলের বিষাক্ত ধোঁয়া ও কুয়াশার কবলে পড়েছে পুরো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া। দীর্ঘস্থায়ী এই দাবানলের প্রভাবে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ফিলিপাইনের জনজীবন বিপর্যয়ের মুখে। বায়ুদূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করায় মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে শত শত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ফাধলিনা সিদেক জানিয়েছেন, বায়ু দূষণ সূচক বা এপিআই ১৮০ ছাড়িয়ে গেলেই সংশ্লিষ্ট এলাকার স্কুলগুলো বন্ধ রাখা হবে। সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর মন্ত্রীদের নিয়ে জরুরি বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, সিঙ্গাপুরে বার্ষিক ফর্মুলা ওয়ান (এফ-১) গ্র্যান্ড প্রিক্স শুরুর দিনেই দেশটির বায়ুর মান চলতি বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ও বিপজ্জনক পর্যায়ে নেমে এসেছে। দেশটির জাতীয় পরিবেশ সংস্থা জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় অঞ্চলে বাতাসে ক্ষতিকর ধূলিকণার মাত্রা বেড়ে পলিউশন স্ট্যান্ডার্ডস ইনডেক্স বা পিএসআই ১৭০-এ পৌঁছেছে, যা অস্বাস্থ্যকর। সিঙ্গাপুরের পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, প্রতিযোগীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিয়মিত পরামর্শ ও মাস্ক সরবরাহ করা হচ্ছে। ঘন ধোঁয়ায় শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো ঢেকে যাওয়ায় মানুষ মাস্ক পরে চলাফেরা করছেন।
ইন্দোনেশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দাবানল ও ধোঁয়াজনিত সমস্যায় প্রায় এক লাখ ৭৫ হাজার মানুষ শ্বাসতন্ত্রের জটিলতায় আক্রান্ত হয়েছেন। কৃষি জমি ও পাম বাগান তৈরির লক্ষ্যে অবৈধভাবে বন পোড়ানোর কারণে প্রতি বছরই এই সংকট তৈরি হয়। তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, শক্তিশালী ‘সুপার এল নিনো’র প্রভাবে তীব্র খরায় ২০১৫ সালের পর এবারই সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রিনপিস জানিয়েছে, বোর্নিও, সুমাত্রার পাশাপাশি পাপুয়া অঞ্চলেও আগুনের অনেক হটস্পট শনাক্ত হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তো বনাঞ্চলে আগুন দেয়ার অভিযোগে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করেছেন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় আগামী নভেম্বর পর্যন্ত এই দাবানলের প্রভাব বজায় থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 




















