ঢাকা ০৬:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারও করবে পুলিশ: আইজিপি

উখিয়ায় নলকূপের গ্যাসে আগুন: ১৪৪ ধারা জারি, পর্যবেক্ষণ চলছে

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে একটি বসতবাড়িতে গভীর নলকূপ বসানোর সময় ভূগর্ভ থেকে বেরিয়ে আসা গ্যাসে লাগা আগুন চার দিন পার হলেও নেভানো সম্ভব হয়নি। গত ২৭ অক্টোবর সকালে জালিয়াপালং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ছোটখাল সেতুসংলগ্ন এলাকায় মোহাম্মদ আবদুল্লাহর বাড়িতে নলকূপ খননকালে হঠাৎ মাটির গভীর থেকে প্রচণ্ড বেগে গ্যাস বের হতে শুরু করে এবং দ্রুতই তাতে আগুন ধরে যায়। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন জননিরাপত্তার স্বার্থে ঘটনাস্থলের ২০০ মিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান এবং প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) থেকে ওই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘিরে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরির পাশাপাশি লাল পতাকা টানানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পান্না আক্তারের জারি করা নির্দেশনায়, এলাকাটিতে আগুন জ্বালানো, ধূমপান করা, দিয়াশলাই বা লাইটার ব্যবহারসহ যেকোনো ধরনের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ তৈরি হতে পারে এমন কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় পেট্রোবাংলার সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে, আপাতত আগুনের শিখা নেভানোর কোনো চেষ্টা করা হবে না। বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন, গ্যাসের প্রবাহ কৃত্রিমভাবে বন্ধ করার চেষ্টা করলে ভূগর্ভে গ্যাস জমে উচ্চচাপে বিস্ফোরণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যার ফলে মাটির অন্য কোনো দুর্বল অংশ দিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে। তাই প্রাথমিকভাবে অন্তত ১৫ দিন গ্যাসের এই স্বাভাবিক প্রবাহ পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিকে গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করে অন্তত ১৫ দিন এর প্রবাহ পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স)। এ সময়ের মধ্যে প্রবাহ না কমলে বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলাকাটিকে তিনটি বলয়ে ভাগ করা হয়েছে। উৎসস্থল থেকে ৫০ মিটার এলাকা ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে যেখানে জনসাধারণের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ১০০ মিটার ব্যাসার্ধের এলাকা ‘নো ফায়ার জোন’ হিসেবে ঘোষিত, যেখানে কোনো ধরনের অগ্নিশিখা সৃষ্টি করা যাবে না। এছাড়া ২০০ মিটার পর্যন্ত এলাকা ‘অবজারভেশন জোন’ হিসেবে রাখা হয়েছে যেখানে বাপেক্সের বিশেষজ্ঞরা সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাবেন। এ ছাড়া নো ফায়ার জোনের মধ্যে বৈদ্যুতিক লাইন সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বাপেক্সের ব্যবস্থাপক (ভূতত্ত্ব) ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের প্রধান এস এম নাফিফুন আরহাম জানিয়েছেন, প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী নলকূপটি প্রায় এক হাজার ফুট গভীরে খনন করা হয়েছিল, যা হয়তো গ্যাসের স্তরের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। সেখান থেকেই ভূগর্ভস্থ ফাটল দিয়ে গ্যাস ভূপৃষ্ঠে উঠে আসছে। গ্যাসের প্রকৃত উপাদান ও মজুতের ধরন সম্পর্কে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার আগে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। বাপেক্সের কারিগরি দল ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল থেকে নমুনাসংগ্রহ করেছে এবং অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।

তীব্র আগুন ও বৈদ্যুতিক লাইনে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকির কারণে মনখালী থেকে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে প্রায় চার হাজার পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছিল। তবে উখিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী কাইজার নুর জানিয়েছেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি যাচাই করে বুধবার রাতেই বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করা হয়েছে। ঘটনা ঘটার পর থেকেই ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে কাজ করেছে, তবে অবিরাম গ্যাস নির্গমনের কারণে আগুন নেভানো সম্ভব হয়নি। নো ফায়ার জোনে আগুন জ্বালানোসহ অগ্নিস্ফুলিঙ্গ সৃষ্টিকারী কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হবে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও অবিরাম গ্যাস নির্গত হওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

আপলোডকারীর তথ্য

পাবনায় বজ্রপাতে ৬ কিশোর ও তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু

উখিয়ায় নলকূপের গ্যাসে আগুন: ১৪৪ ধারা জারি, পর্যবেক্ষণ চলছে

আপডেট সময় ০৪:১৪:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে একটি বসতবাড়িতে গভীর নলকূপ বসানোর সময় ভূগর্ভ থেকে বেরিয়ে আসা গ্যাসে লাগা আগুন চার দিন পার হলেও নেভানো সম্ভব হয়নি। গত ২৭ অক্টোবর সকালে জালিয়াপালং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ছোটখাল সেতুসংলগ্ন এলাকায় মোহাম্মদ আবদুল্লাহর বাড়িতে নলকূপ খননকালে হঠাৎ মাটির গভীর থেকে প্রচণ্ড বেগে গ্যাস বের হতে শুরু করে এবং দ্রুতই তাতে আগুন ধরে যায়। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন জননিরাপত্তার স্বার্থে ঘটনাস্থলের ২০০ মিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান এবং প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) থেকে ওই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘিরে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরির পাশাপাশি লাল পতাকা টানানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পান্না আক্তারের জারি করা নির্দেশনায়, এলাকাটিতে আগুন জ্বালানো, ধূমপান করা, দিয়াশলাই বা লাইটার ব্যবহারসহ যেকোনো ধরনের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ তৈরি হতে পারে এমন কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় পেট্রোবাংলার সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে, আপাতত আগুনের শিখা নেভানোর কোনো চেষ্টা করা হবে না। বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন, গ্যাসের প্রবাহ কৃত্রিমভাবে বন্ধ করার চেষ্টা করলে ভূগর্ভে গ্যাস জমে উচ্চচাপে বিস্ফোরণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যার ফলে মাটির অন্য কোনো দুর্বল অংশ দিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে। তাই প্রাথমিকভাবে অন্তত ১৫ দিন গ্যাসের এই স্বাভাবিক প্রবাহ পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিকে গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করে অন্তত ১৫ দিন এর প্রবাহ পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স)। এ সময়ের মধ্যে প্রবাহ না কমলে বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলাকাটিকে তিনটি বলয়ে ভাগ করা হয়েছে। উৎসস্থল থেকে ৫০ মিটার এলাকা ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে যেখানে জনসাধারণের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ১০০ মিটার ব্যাসার্ধের এলাকা ‘নো ফায়ার জোন’ হিসেবে ঘোষিত, যেখানে কোনো ধরনের অগ্নিশিখা সৃষ্টি করা যাবে না। এছাড়া ২০০ মিটার পর্যন্ত এলাকা ‘অবজারভেশন জোন’ হিসেবে রাখা হয়েছে যেখানে বাপেক্সের বিশেষজ্ঞরা সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাবেন। এ ছাড়া নো ফায়ার জোনের মধ্যে বৈদ্যুতিক লাইন সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বাপেক্সের ব্যবস্থাপক (ভূতত্ত্ব) ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের প্রধান এস এম নাফিফুন আরহাম জানিয়েছেন, প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী নলকূপটি প্রায় এক হাজার ফুট গভীরে খনন করা হয়েছিল, যা হয়তো গ্যাসের স্তরের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। সেখান থেকেই ভূগর্ভস্থ ফাটল দিয়ে গ্যাস ভূপৃষ্ঠে উঠে আসছে। গ্যাসের প্রকৃত উপাদান ও মজুতের ধরন সম্পর্কে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার আগে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। বাপেক্সের কারিগরি দল ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল থেকে নমুনাসংগ্রহ করেছে এবং অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।

তীব্র আগুন ও বৈদ্যুতিক লাইনে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকির কারণে মনখালী থেকে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে প্রায় চার হাজার পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছিল। তবে উখিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী কাইজার নুর জানিয়েছেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি যাচাই করে বুধবার রাতেই বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করা হয়েছে। ঘটনা ঘটার পর থেকেই ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে কাজ করেছে, তবে অবিরাম গ্যাস নির্গমনের কারণে আগুন নেভানো সম্ভব হয়নি। নো ফায়ার জোনে আগুন জ্বালানোসহ অগ্নিস্ফুলিঙ্গ সৃষ্টিকারী কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হবে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও অবিরাম গ্যাস নির্গত হওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।